গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !

গল্পেরঝুড়িতে স্বাগতম ...

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

রাজকুমারীর অভিশাপ

"ছোটদের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান স্নিগ্ধা আফসানা রোশনী (১৭৫ পয়েন্ট)



রাজকুমারীর অভিশাপ অনেক অনেক কাল আগে পাহাড়ী এক রাজ্যে বাস ছিল এক অপূর্ব সুন্দর রাজকন্যার।যেমন সুন্দর রাজকন্যা তেমনি সুন্দর তার ব্যবহার।রাজকন্যার রূপে-গুণে মুগ্ধ ছিল রাজ্যের বাসিন্দারা। রাজকুমারী প্রতিদিন সন্ধ্যায় প্রাসাদের বারান্দায় দাঁড়িয়ে সন্ধ্যা উপভোগ করে।বারান্দা থেকে নিচে ছড়িয়ে দেয় তার দীঘল চুল।সেই চুল বাগানের মাটি স্পর্শ করে।রাজকণ্যার চুলে আছে বিশেষ গুন।লাল রঙের অসম্ভব সুন্দর চুল তার।এই লাল চুল যাই স্পর্শ করুক তা তাজা হয়ে ওঠে।প্রাণ ফিরে পায় নতুন করে।রাজকন্যার চুলের ছোঁয়ায় বাগানের ঘাসগুলো আরো সবুজ এবং সতেজ হয়ে ওঠে।গোলাপ বাগানে ফোটে অজস্র টকটকে লাল গোলাপ। গাছ-গাছালির মতো পাখিরাও রাজকুমারীকে খুব ভালবাসে।সন্ধ্যায় রাজকুমারী বারান্দায় দাঁড়ায়,দাঁড়িয়ে দু’বার হাততালি দেও।হাততালির শব্দে সন্ধ্যায় নীড়ে ফিরতে থাকা পাখিরা জড়ো হয় প্রাসাদের বারান্দায়।ঘিরে ধরে রাজকুমারীকে।রাজকুমারী তখন তার গোলাপরাঙ্গা ঠোটে সুর তোলে।কি মধুর সে সুর।পাখিরাও যেন মুগ্ধ হয়ে শোনে।শেষ বিকেলের আলোয় রাজকুমারীর লাল চুল ঝলমল করে উঠে সদ্য ফোটা গোলাপের মতো।রাজ্যের লোকেরা তাই তাকে রাজকুমারী রোজ বলেও ডাকে। রাজকুমারী রোজের গানে সুর মিলিয়ে অন্য পাখিরাও সুর তোলে।মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শোনে গোটা রাজ্য।সুরের অপূর্ব মূর্ছনায় পাহাড় রাজ্যের সবার চোখে শান্তির ঘুম নামে।অসম্ভব সুন্দর সব স্বপ্ন দেখে ভোরের আলোয় তাদের ঘুম ভাঙ্গে।এভাবেই সুখে কেটে যাচ্ছিল রাজকুমারী রোজ আর পাহাড় রাজ্যের বাসিন্দাদের দিন। এই পাহাড় রাজ্যে বাস এক ডাইনি বুড়িরও।জাদুবলে পাহাড়ের গায়ে গর্ত করে সে ঘর বানিয়ে থাকে।দিনের পর দিন কাটে,বছরের পর বছর পেরিয়ে যায় ডাইনি বুড়ি পাহাড়ের গুহা থেকে বের হয়না।অন্ধকারে তার চেহারা আরো কুৎসিত হতে থাকে।নিজের চেহারা নিয়ে বেজায় আফসোস ডাইনি বুড়ির।বুড়ো হওয়ার সাথে সাথে বেশিরভাগ মন্ত্রই সে ভুলে যেতে বসেছে বলে নিজের চেহারা ভাল করে ফেলতে পারে না।এক বিশাল ঈগল পাখিকে ডাইনি বুড়ি বহুকাল আগে মন্ত্রবলে বশ করে নিয়েছিল সে।সেই ঈগল পাখিই এখন ডাইনির খাবারের জোগান দেয়। একদিন ঈগল খবর আনল,রাজ্যের সব পাখিরা সন্ধ্যা হতেই প্রাসাদের দিকে উড়ে যায়।প্রাসাদে বাস এক রূপবতী রাজকন্যার।সব পাখিরা সেই রাজাকুমারির গান শুনতে যায়। সব শুনে ডাইনি ঈগলকে পাঠালো বিস্তারিত খোঁজ খবর নিয়ে আসতে।কেমন সেই মেয়ে যার জন্য সব পাখি উড়ে যায় গান শুনতে? ডাইনি বুড়ি ভীষণ হিংসুটে।ঈগলের কাছে রাজকুমারি রোজের লাল রঙা লম্বা চুলের কথা শুনে হিংসায় জ্বলে-পুড়ে গেল তার মন।কিভাবে এই রাজকুমারির চুল কেড়ে নেওয়া যায় তাই ভাবতে বসল। বহু ভেবে-চিন্তে একটা বিশেষ মন্ত্র পড়ল। অমাবস্যার রাতে একশ একটা কালো ইঁদুর মেরে রাজকুমারি রোজকে অভিশাপ দিল সে। রোজ প্রতিদিনের মত ঘুম থেকে উঠে আয়নার সামনে দাঁড়ায়। তার বুকের ভেতর এক ভীষণ ব্যথায় কুঁকড়ে ওঠে।কোথায় গেল তার লাল চুল!এ যে আলকাতরার থেকেও কালো।রাজকন্যা কাঁদতে বসল।প্রিয় রোজের দুঃখে কাঁদল রাজ্যবাসী,বাগানের ফুল-পাখি-গোলাপেরা। ওদিকে ডাইনি বুড়ি বেজায় খুশি।রাজকুমারি কাঁদে আর সে হাসে। সন্ধ্যায় রোজ বারান্দায় দাঁড়িয়ে হাততালি দিল,জড়ো হল সব পাখি।একসাথে করুন সুরে গান গাইল তারা।ঘুমিয়ে পড়ল রাজ্যের সবাই।কিন্তু তাদের সুখের স্বপ্ন সব দুঃস্বপ্নে রুপান্তরিত হল।সারারাত তারা ছটফট করতে করতে দুঃস্বপ্ন দেখল। রাজকুমারি সারাদিন,সারারাত ভাবল কিভাবে এই অভিশাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।কিছুতেই কিছু ভেবে পেলনা। ফের রাজকুমারী বারান্দায় এসে দাঁড়িয়ে গান গাইল।খুব করুন সে সুর।রোজের দু;খের গানে বারান্দায় এসে বসল এক নীল ডানার পাখি।মানুষের মতো গলায় কথা বলে এই পাখি। “ কেন গো রাজকুমারি,তোমার মনে কিসের এত দুঃখ?এত বিষাদের সুর তোমার গলায়?” চোখে জল চলে আসে রোজের।সে কাঁদতে কাঁদতে বলে- “কি বলি গো নীল ডানার পাখি,কিসের অভিশাপে আমার লাল চুল হল কালো?আমার রাজ্যবাসীরা স্বপ্ন দেখে খারাপ?” নীল ডানার পাখি বলে, “এ যে ডাইনি বুড়ির অভিশাপ ছাড়া কিছু নয়”। “তবে কি নেই কোন উপায়?” পাখি ভেবে বলে, “নেই চিন্তা গো কন্যে,চুলে ঢালো গোলাপের জল,হবে তা ফের টকটকে লাল”। পরেরদিন সকালেই মালিরা লেগে গেল সব গোলাপ তুলতে,তিন রাত তিন দিন শুদ্ধ জলে গোলাপ পাপড়ি ভিজিয়ে রেখে চুলে ঢালে রোজ।চুল হয় ঝকঝকে লাল।খুশিতে নেচে ওঠে রাজ্য। এই সংবাদ কানে আসে ডাইনি বুড়ির।সে তখন আরো কঠিন অভিশাপ দেও।এই অভিশাপে রাজ্যের সব গোলাপ কালো হয়ে যায়।কালো হয় রাজকুমারির চুল।আবার সবাই দুঃস্বপ্ন দেখতে শুরু করে। নীল ডানার পাখি এসে আবার সেই একই উত্তর দিয়ে উড়ে গেল।চিন্তায় রোজের নাওয়া-খাওয়া সব বন্ধ।রাজা-রানী কন্যার কষ্টে অস্থির।কিন্তু কেউ কোন উপায় করতে পারল না। মনের দুঃখে বাগানের কাঠগোলাপ গাছের তলায় বসে চোখের পানি ফেলছে রাজকুমারী।ঐ পথ্ দিয়ে হেঁটে বেড়াচ্ছিল পাশের রাজ্যের রাজকুমার।সে এই রাজ্যে ঘুরতে এসেছে কিছুকালের জন্য। রাজকুমারির কান্নার আওয়াজে রাজকুমার থমকে দাঁড়াল,রাজকুমারিকে জিজ্ঞেস করতেই সব খুলে বলল। রাজকুমারের হাতে ছিল ছোট্ট একটা কাঠের কারুকাজ করা বাক্স।বাক্সের ভেতরে রাখা একগাছি লাল চুল।রাজকুমার রোজের চোখের পানি সেই চুলগাছিতে ছোঁয়াতেই তা অসম্ভব সুন্দর এক লাল গোলাপের পরিনত হল।রাজকন্যা সাথে সাথে কান্না থামালো। গোলাপটি ভিজিয়ে রেখে চুলে গোলাপ পানি লাগাতেই রাজকুমারি রোজের চুল হল আবার আগের মত সুন্দর,লাল টকটকে।ডাইনির অভিশাপ কেটে গেল। রাজ্যবাসী এই ঘটনায় অবাক হয়ে গেল।সবার প্রশ্ন হল রাজকুমার এই চুল গাছি কোথায় পেয়েছে।রাজকন্যার সব মনে পরে গেল তখন।খুব ছোটবেলায় হয়েছিল রাজকুমার টমাস আর রোজের বন্ধুত্ব।রাজ্য ভাগ হয়ে গেলেও সারাজীবন পরষ্পরকে মনে রাখবে এই কথা দিয়েছিল দুই বন্ধু।বন্ধুত্বে নমুনা হিসেবে রাজকুমারী টমাসকে উপহার দিয়েছিল তার মাথায় এক গাছি চুল।রাজকুমারির কাছেও আছে টমাসের চুল। এই বিনিময়ই আর বন্ধুত্বই আজ এই পাহাড়রাজ্য রক্ষা করল। রাজামশাই খুব খুশি হয়ে রোজ আর টমাসের বিয়ের প্রস্তাব দিলেন।সবাই আনন্দের সাথে যোগ দিল এই রাজ-বিয়েতে। আর ডাইনি বুড়ি?অভিশাপ কেটে যাওয়ার রাগে-দু;খে নিজের মাথার সব চুল ছিড়ে ফেলল।আর তাতেই রাজ্য ভরে উঠল অজস্র গোলাপে,লাল-নীল-গোলাপী।কত বাহারী রঙ্গে। প্রতিসন্ধ্যায় এখনো রাজকুমারি বারান্দায় দাঁড়িয়ে গান গায়,তার সাথে যোগ দেয় নীল ডানার পাখি আর রাজকুমার টমাস।আর রাজ্যবাসীরা?তারা পরম নিশ্চিন্তের ঘুমে সুখের স্বপ্ন দেখে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৫৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অভিশাপ (part-1)
→ অভিশাপ (part-2)
→ রহস্যময় মমি তেতুন খামেন এবং এর অভিশাপ:
→ অভিশাপ
→ অবান্তর অভিশাপ....
→ ফেলুদা সিরিজের ছিন্নমস্তার অভিশাপ (১০)শেষপর্ব
→ ফেলুদা সিরিজের ছিন্নমস্তার অভিশাপ (০৯)
→ ফেলুদা সিরিজের ছিন্নমস্তার অভিশাপ (০৮)
→ ফেলুদা সিরিজের ছিন্নমস্তার অভিশাপ (০৭)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...