গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !

গল্পেরঝুড়িতে স্বাগতম ...

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

একুশের চেতনা ও সাম্প্রদায়িক মনোভাব

"স্মৃতির পাতা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান বি এম ইউসুফ আলী (guest) (১০২৭ পয়েন্ট)



একুশের চেতনা ও সাম্প্রদায়িক মনোভাব ......................................................... গত রোববার ছিল মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। সারাবিশ্বে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনটি পালিত হয়েছে। তবে করোনার কারণে অন্যান্য বছরের তুলনায় একটু ঘাটতি ছিল। অবশ্য এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যম ছিল সরব। বেশিরভাগ মানুষ ফেসবুকে একুশের গান,কবিতা আর শহিদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের ছবি পোস্ট করেছেন। আমিও এই দলভুক্ত ছিলাম। আমার কলেজের একুশের প্রোগ্রাম এবং ইএফটি সংক্রান্ত কাজ শেষ করে বাসায় ফিরতে দেরি হয়েছিল। বাসায় ফিরে রেস্ট নিলাম। মাগরিবের পর আমার ছোটবেলার বন্ধু মফিজকে ফোন দিলাম। সেও একজন শিক্ষক। আমাদের নূরপুর গ্রামে প্যাসিফিক কিন্ডারগার্টেন নামে একটি স্কুল আছে। ওই স্কুলের সে অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। ফোন দেওয়ার পেছনে একটি উদ্দেশ্য ছিল। আর তা হলো মফিজের স্কুলে এবং আমাদের গ্রামে একুশের দিনটি কীভাবে উৎযাপিত হলো তা জানা । কিন্তু আমি তার কাছ থেকে যতটুকু তথ্য পেলাম, তা আমাকে হতাশ করেছে। বন্ধু মফিজকে জিজ্ঞেস করেছিলাম আমরা তো কৈশোরে একুশে ফেব্রুয়ারি পালন করতাম এখন কি সেভাবে পালিত হয়? সে আমাকে জানিয়েছে বর্তমান সময়ের ছেলেমেয়েরা মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত। তারা এ নিয়ে ভাবে না। আমার প্রশ্ন হলো, তাহলে কি তাদের মধ্যে একুশের চেতনার ঘটতি আছে? না কি জাতির গুরুত্বপূর্ণ এই ইতিহাস জেনেও এড়িয়ে যেতে চাই? অথচ আমরা কৈশোরে সহপাঠী, জুনিয়র ও সিনিয়ররা মিলে এই দিবসটি পালন করতাম। ফেব্রুয়ারি মাস থেকে চাঁদা সংগ্রহ করতাম। এনিয়ে অনেক স্মৃতি আছে। ১৯৮৭ কিংবা ১৯৮৮ সাল হবে । আমরা শানতলার পেপসি কোম্পানির কাছে যশোর- ঝিনাইদহ সড়কে একুশে ফেব্রুয়ারির জন্য চাঁদা তুলছি। চৌগাছা লাইনের একটি বাসকে থামালাম। বাসের হেল্পার বা ড্রাইভার কিছু একটা বলে গাড়ি ছেড়ে দিল। কী বলেছিলেন তা জানি না। বন্ধু হারুন রেগে গিয়ে গাড়ির গ্লাসে সজোরে দিল থাপ্পড়। যা হবার তাই হলো। জানালার কাঁচ ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। সেইসাথে গ্লাসে হারুনের হাতও কেটে গেল এবং অঝোরে রক্ত পড়তে শুরু করলো। আমরা ভয় পেয়ে গেলাম। কিছুদূর আগানো বাস থেমে গেল। দেখলাম কয়েকজন আমাদের দিকেই এগিয়ে আসছে। বুঝতে পারলাম এই অঘটনের জন্য মাশুল গুনতে হবে। আমরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করলাম। কিন্তু সোহরাবের বাইসাইকেলটি তারা নিয়ে গেল। পরে অবশ্য হারুনের বাবা বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে তা ফেরত নিয়ে আসেন। তৎকালীন সময়ে আমাদের গ্রামে কোনো শহিদ মিনার ছিল না। তাই স্কুলের মাঠে ইট সাজিয়ে অস্থায়ীভাবে শহিদ মিনার তৈরি করতাম। রঙিন কাগজ দিয়ে মাঠ সাজানো হত। মাইকে বাজানো হত একুশের গান। সকালে প্রভাতফেরি করে সেই শহিদ মিনারে আমরা পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করতাম। ছোট একটি আলোচনা এবং শহিদদের জন্য দোয়া করা হত। আর সবশেষে জিলাপি বিতরণ। কিন্তু ধর্মীয় ভাবাবেগের কারণে এই মাঠে একুশের অনুষ্ঠান পরবর্তীতে বন্ধ হয়ে যায়। একটি গোষ্ঠী ফতোয়া জারি করে যে এই মাঠে যেহেতু ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় তাই একুশের অনুষ্ঠান করে শহিদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য দিলে ঈদের জামাত করা যাবে না। আমাদের মুক্ত চেতনায় তারা আঘাত করেছিল। যা ছিল আমাদের এক ধরনের পরাজয়। যুগে যুগে সমাজে এই শ্রেণিটি ছিল এবং আছে। অদূর ভবিষ্যতেও থাকবে বলে মনে হয়। পাশেই আলাদা ঈদগাঁ হলেও সেই মাঠে এ বছরও কেউ একুশের অনুষ্ঠান আয়োজন করেনি। প্রিয় পাঠক। ধর্মীয় ভাবাবেগের কারণেই কিন্তু পাকিস্তানি শাসক উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ষড়যন্ত্র শুরু করে। ৫৬% ভাগ মানুষের ভাষা বাংলা হওয়ার সত্ত্বেও মাত্র ৩-৪% জনগণের ভাষা উর্দুকে কেন তারা রাষ্ট্রভাষা করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিল? কী সেই ইসলামি আবেগ? এটি জানার জন্য একটু পেছনে যেতে হবে। ১৮৬৭ সালে বেনারসে হিন্দু নেতৃবৃন্দের একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভায় তারা সিদ্ধান্ত নেন যে,হিন্দি হবে ভারতে একমাত্র ভাষা। সেই ভাষায় সব মানুষকে বলতে ও লিখতে হবে। তারপর লক্ষ্য করা যায় যে, মুসলমান নেতৃবৃন্দ প্রতিক্রিয়া হিসেবে মুসলমানদের ভাষা হিসেবে উর্দুকে গ্রহণ করলেন। অর্থাৎ সেই থেকে ভাষার রাজনীতিকরণ ও সাম্প্রদায়িকীকরণ শুরু হয়ে গেল। "এখন প্রশ্ন হলো, হিন্দুর ভাষা হিন্দি আর মুসলমানদের ভাষা উর্দু কী করে হলো? মূলত, উর্দু ও হিন্দি উভয় ভাষাই মোঘল ও সেনাবাহিনীর ব্যবহৃত মিশ্র ভাষা হিন্দুস্তানি থেকে উৎসারিত। হিন্দুস্তানি ভাষায় আরবি, ফার্সি, সংস্কৃত ও অন্যান্য ভারতীয় ভাষার শব্দ ছিল। মধ্য উনিশ শতক থেকে হিন্দু-মুসলমান সাম্প্রদায়িক চেতনা থেকে হিন্দুস্তানি ভাষার সংস্কার শুরু করে। প্রথমত হিন্দুরা হিন্দুস্তানি ভাষা থেকে আরবি ও ফার্সি শব্দ বাদ দিয়ে সংস্কৃতসহ ভারতীয় শব্দসমূহ সংরক্ষণ করে; আর এ ভাষায় লেখা হয় বেদনাগরী লিপিতে। অর্থাৎ এখন ভাষাটি সম্পূর্ণ হিন্দুয়ানি হয়ে যায়। অন্যদিকে মুসলমানরাও একই ধরনের কাজ করতে গিয়ে হিন্দুস্তানি ভাষা থেকে সংস্কৃত ও ভারতীয় শব্দ বিদায় করে; লিখতে শুরু করে আরবি লিপিতে। আর এভাবেই তৈরি হলো উর্দু ভাষা। সুতরাং হিন্দি ভাষা যে হিন্দুর— তার পেছনে ধর্মীয় আবেগ কাজ করেছে; একইভাবে ধর্মীয় আবেগের কারণেই উর্দু ভাষা মুসলমানের ভাষা হয়ে যায়। সুতরাং আমরা দেখবো যে, বেনারসের সিদ্ধান্তের পর থেকেই হিন্দু-মুসলমান নেতৃবৃন্দ নিজ নিজ সম্প্রদায়ের ভাষা হিসেবে হিন্দু ও উর্দুকে প্রচার করতে শুরু করেছিলেন। এমনই একটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. জিয়াউদ্দিন ১৯৪৭-এর জুলাই মাসে মন্তব্য করেছিলেন যে, পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু। লক্ষ্যণীয় যে, তার এই মন্তব্যের পেছনে যুক্তি নয়, ধর্মীয় আবেগই কাজ করেছিল। অভিন্ন প্রেক্ষাপটেই ধর্মীয় আবেগকে প্রাধান্য দিয়ে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ সিদ্ধান্তে এসে গেলেন। সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে, পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা হবে উর্দু।" (সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক ; ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬) বাহ! কী দারুণ! ধর্মের জন্যেও আলাদা ভাষা। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের বয়স সত্তরে পদার্পণ করেছে। আজও আমাদের গ্রামের সরকারি প্রাইমারি স্কুলে শহিদ মিনার নির্মিত হয়নি। সর্বস্তরে পুরোপুরি বাংলা ভাষার ব্যবহার করাও যায়নি । "ঐতিহাসিক রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের রক্তাক্ত সংগ্রামের ভেতর দিয়ে বাঙালির জাতিসত্তায় যে চেতনার জন্ম হয়েছিল, তা ছিল এক অবিনাশী চেতনা।"( নয়া দিগন্ত) এই চেতনার পথ ধরে ৫৪ এর নির্বাচনে জয়লাভ, ৬২'র শিক্ষা আন্দোলন, ছেষট্টির ছয় দফা, ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান ও সত্তরের নির্বাচন এবং ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা পেয়েছি স্বাধীন সার্বভৌম আমাদের এই প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ। এই গর্বের একুশ হয়েছে আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। আসুন আমরা একুশের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করি।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৬০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ স্যাটানিজম:-পর্ব-২(কুরআন ও হাদিসের আলোকে ব্যাখ্যা)
→ স্যাটানিজম:-পর্ব-১(কুরআন ও হাদিসের আলোকে ব্যাখ্যা)
→ আত্মহত্যার কথা শুনলে একটা নাম মাথায় ঘুরে। জুনকো ফুরুতা। যদিও জুনকোর সাথে আত্মহত্যার কোন সম্পর্ক ছিল না।
→ কাবায় খালি পায়ে তাওয়াফ করলেও কেন পা পোড়ে না
→ তোমার আমার গল্পটা এমন না হলেও পারতো
→ মধ্যবিত্ত পরিবারে ছেলেদের জীবনে বয়ে যাওয়া কিছু কথা:- ...
→ দি বস ইজ অলওয়েজ রাইট
→ বস ইজ অলওয়েজ রাইট ২
→ স্বাধীনতা হে ক্ষমা করে দাও আমাদের।

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...