বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বিবাহপূর্ব প্রেম ইসলামের দৃষ্টিতে হালাল নাকি হারাম

"ইসলামিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ★ রোদেলা রিদা ‎★ (০ পয়েন্ট)



X একটি মেয়ে যে কতটা সহজে একজন পুরুষের জীবনকে ধ্বংস করে দিতে পারে তা সেই মেয়েটি নিজেও কল্পনা করতে পারে না। গুনাহের শুরুটা অনেক মিষ্টি, কিন্তু শেষটা অনেক তিক্ত। ঘুড়ি যখন লাটাই থেকে ছুটে যায়, তখন তাকে সামাল দেওয়া খুবই কষ্টকর হয়ে যায়। একজন মেয়ের হাসি, কান্না, চাহনি- সবকিছুতেই রয়েছে পুরুষের জন্য আকর্ষণ। সেই আকর্ষণে মুগ্ধ হয়ে কখন যে তা পুরুষের অন্তরে ভালোবাসার আল্পনা একেঁ দেয় তা হয়তো মেয়েটিও বুঝতে পারে না। আর এভাবেই শুরু হয় দুটি নর-নারীর গুনাহের পথে পথ চলা। আর সে পথ-চলা, হাসি-কান্নায় কখন যে একজন পুরুষের ভবিষ্যত্‍ কল্পনার সাগরে অন্ধকারে হারিয়ে যায়, তা সেই পুরুষটি বুঝতে পারে খুবই পরে। তাই বলি নারীর পর্দা শুধু তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ঢাকার মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং একজন নারীর জন্য আবশ্যক তার কন্ঠ, কথা, লেখা,পুরুষের মনে আকর্ষণ তৈরী করে এমন সবকিছু থেকে নিজেকে বিরত রাখা। যাতে একজন নারীর দ্বারা কখনো কোনো পুরুষের জীবন, তার ভবিষ্যত্‍ গুনাহের সাগরে অন্ধকার হয়ে না যায়। যাই হোক, বিবাহপূর্ব বা বিবাহবহির্ভূত প্রেম ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ হারাম। আল্লাহ বলেন -"তোমাদের জন্য হালাল সতী-সাধ্বী মুসলমান নারী এবং তাদের সতী-সাধ্বী নারী, যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে তোমাদের পূর্বে, যখন তোমরা তাদেরকে মোহরানা প্রদান করো তাদেরকে স্ত্রী করার জন্যে, কামবাসনা চরিতার্থ করার জন্যে কিংবা গুপ্ত প্রেমে লিপ্ত হওয়ার জন্যে নয়। " (সূরা আল-মায়িদা : ৫)সুতরাং, তারা স্বাধীনভাবে লালসা পূরণ কিংবা গোপনে লুকিয়ে প্রেমলীলা করবে না। পর্দার আয়াতে আল্লাহ বলেন - "মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের লজ্জা স্থানের হেফাজত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয়ই তারা যা করে আল্লাহ তা সম্পর্কে অবগত আছেন। " (সূরা নূর : ৩০) এখানে পুরুষদের চোখ নিচু রাখতে এবং লজ্জা স্থান হিফাজত করতে বলা হয়েছে। আল্লাহ আরো বলেন - "ইমানদার নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং যৌন অঙ্গের হেফাজত করে। তারা যেন যা সাধারণত প্রকাশমান,তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য্যকে প্রদর্শন না করে এবং তারা যেন তাদের মাথার ওড়না বক্ষদেশে ফেলে রাখে এবং তারা যেন তাদের স্বামী,পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুষ্পুত্র, ভগ্নিপুত্র, স্ত্রীলোক অধিকারভুক্ত বাদী, যৌনকামনামুক্ত পুরুষ ও বালক, যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ, তাদের ব্যতীত কারো কাছে তারা যেন তাদের সৌন্দর্য্য প্রকাশ না করে, তারা যেন তাদের গোপন সাজ-সজ্জা প্রকাশ করার জন্যে জোরে পদচারনা না করে। মুমিনগন, তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তওবা করো যাতে তোমরা সফলকাম হও। "(সূরা নুর : ৩১) এখানে নারীদেরও একই কথা বলা হয়েছে,পর্দা করার কথা বলা হয়েছে আর নারীরা কাদের সাথে সাক্ষাত করতে পারবে তার একটি তালিকা দেওয়া হয়েছে। "হে, নবী পত্নীগন! তোমরা অন্য নারীদের মতো নও; যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, তবে পরপুরুষের সাথে কোমল ও আকর্ষণীয় ভঙ্গিতে কথা বলো না, ফলে সেই ব্যক্তি (পরপুরুষ) কুবাসনা করে,যার অন্তরে ব্যাধি রয়েছে, তোমরা সঙ্গত কথাবার্তা বলবে। "(সূরা আল-আহযাব : ৩২) আল্লাহ আরো বলেন- "হে নবী, আপনি আপনার পত্নীগনকে ও কন্যাগনকে এবং মুমিনদের স্ত্রীগনকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজ হবে। ফলে তাদেরকে উত্ত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। "(সূরা আল-আহযাব : ৫৯) এখানে, পর্দা করার নির্দেশ আরো পরিষ্কার ভাষায় দেওয়া হয়েছে। নবীপত্নীদের উল্লেখ করা হলেও তা সকল মুসলিম নারীর উপর প্রযোজ্য। যেখানে দৃষ্টি নিচু ও সংযত রাখা, কোমলভাবে কথা না বলা, লজ্জা স্থান হিফাজত করার কথা এবং পর্দা করার কথা বলা হয়েছে আর সূরা মায়িদাতে গোপন প্রেমলীলাকে নিষেধ করা হয়েছে সেখানে বিবাহপূর্ব প্রেম বৈধ হতে পারে কি করে? এটি একটি সুস্পষ্ট হারাম সম্পর্ক যেখানে আস্থা, বিশ্বাস, শ্রদ্ধাবোধ, প্রশান্তির চেয়ে বেশি থাকে সন্দেহ, শরীরকেন্দ্রিক ভোগবাদী চিন্তা, মানসিক উত্তেজনা আর ধীরে ধীরে আত্নিক অবক্ষয়। আমরা আমাদের চারপাশে এগুলোই দেখে এসেছি, এখনো দেখছি এবং ভবিষ্যতেও দেখবো। আর তাই ইসলাম দুইজন নারী পুরুষকে বিয়ের পবিত্র বন্ধনে বেধে তাদের শারীরিক, আত্নিক পবিত্রতা নিশ্চিত করে। একজন স্ত্রী ও একজন স্বামী একে অপরের প্রতি শ্রদ্বাবোধ, আস্থা, বিশ্বাসে যে সম্পর্ক তৈরী করে সেখানেই রয়েছে যথার্থ প্রশান্তি। একজন গার্লফ্রেন্ড তার বয়ফ্রেন্ডের হাত ধরে যতটা অনিশ্চয়তা নিয়ে ভাবে,"ও কি সত্যি আমাকে ভালোবাসে?" একজন স্ত্রী তার স্বামীর হাত ধরে ততটাই আস্থা আর বিশ্বাসের সাথে বলতে পারে,"সে আমার"। একজন গার্লফ্রেন্ড যতটা অনিশ্চয়তা, ভয় আর আত্নসম্মানের হুমকি নিয়ে একজন বয়ফ্রেন্ডের সাথে অবৈধ শারীরিক সম্পর্কের দিকে যায়, একজন স্ত্রী ঠিক ততটাই আস্থায়ার আত্নবিশ্বাস নিয়ে ভাবতে পারে তার স্বামী তার পবিত্রতার সঙ্গী,তার স্বামী তার অনাগত সন্তানের বাবা। ইসলাম এভাবেই সুন্দর, এভাবেই পবিত্র, এভাবেই শরীর ও মনের ক্ষতি রোধ করে। এভাবেই দু'জন নারী ও পুরুষকে একেবারে আপন করে দেয়। তার জন্য কোনো হারাম সম্পর্কের দরকার পরে না, মিথ্যার মায়ায় সান্ত্বনা খোঁজার দরকার পরে না। তাছাড়া প্রেম বা ভালোবাসা হচ্ছে জিনা ব্যভিচারের প্রবেশপথ। ব্যভিচারের ব্যাপারে আল্লাহ বলেন - "আর ব্যভিচারের কাছেও যেও না। নিশ্চয় এটা আশ্লীল কাজ ও মন্দ পথ"। (সূরা বনী-ইসরাইল : ৩২) জিনার নিকট যাওয়াই নিষেধ অর্থাত্‍ যেসকল জিনিস জিনার নিকটবর্তী করে দেয় তার কাছে যাওয়াই নিষেধ। বিবাহপূর্ব প্রেম নর-নারীকে জিনার নিকটবর্তী করে দেয় আর জিনা হচ্ছে একটি মারাত্মক কবিরা গুনাহ। আল্লাহ বলেন - "এবং যারা আল্লাহ তায়ালার সাথে অন্য উপাস্যর ইবাদত করে না, আল্লাহ যার হত্যা অবৈধ করেছেন, সঙ্গত কারন ব্যতিত তাকে হত্যা করে না এবং ব্যভিচার করে না। যারা একাজ করে তারা শাস্তির সম্মুখীন হবে। কেয়ামতের দিন তাদের শাস্তি দ্বিগুন হবে এবং তথায় লাঞ্ছিত অবস্থায় চিরকাল বসবাস করবে। " (সূরা ফুরকান : ৬৮-৬৯) "নষ্ট নারীরা হচ্ছে নষ্ট পুরুষদের জন্য, নষ্ট পুরুষরা হচ্ছে নষ্ট নারীদের জন্য, (আবার)ভালো নারীরা হচ্ছে ভালো পুরুষদের জন্য, ভালো পুরুষরা হচ্ছে ভালো নারীদের জন্য, (মোনাফেক) লোকেরা (এদের সম্পর্কে) যা কিছু বলে তারা তা থেকে পাক ও পবিত্র ; (আখিরাতে) এদের জন্যই রয়েছে ক্ষমা ও সম্মানজনক রেযেক।"(সূরা আন-নূর : ২৬) "বেভিচারি পুরুষ কেবল বেভাচারিনী নারী অথবা মুশরিক নারীকে বিয়ে করে এবং বেভিচারিনীকে কেবল বেভিচারি অথবা মুশরিক পুরুষ বিয়ে করে এবং এদেরকে মুমিনদের জন্য হারাম করা হয়েছে। "(সূরা আন-নূর : ৩) বিবাহপূর্ব প্রেম অনেক সময় বান্দাকে শিরকের নিকটবর্তী করে দেয়। কারন অনেকসময় তারা একে অপরকে এতটাই ভালোবাসা শুরু করে দেয় যে প্রকার ভালোবাসা পাওয়ার দাবীদার একমাত্র আল্লাহ। আল্লাহ বলেন - "আর কোনো লোক এমনও রয়েছে যারা অন্যান্যকে আল্লাহ-তায়ালার সমকক্ষ সাব্যস্ত করে এবং তাদের প্রতি তেমনি ভালোবাসা পোষন করে, যেমন আল্লাহ-তায়ালার প্রতি ভালোবাসা হয়ে থাকে। কিন্তু যারা আল্লাহ-তায়ালার প্রতি ঈমানদার তাদের ভালোবাসা ওদের তুলনায় বহুগুণ বেশি। আর কতইনা উত্তম হতো যদি এ জালেমরা পার্থিব কোনো কোনো আযাব প্রত্যক্ষ করেই উপলব্ধি করে নিত যে, যাবতীয় ক্ষমতা শুধুমাত্র আল্লাহ-তায়ালারই জন্যে এবং আল্লাহ-তায়ালার আযাবই সবচেয়ে কঠিনতর। "(সূরা আল-বাক্বারা : ১৬৫) উমর (রাঃ) হতে বর্নিত, রাসূল (সাঃ) বলেছেন, কোনো পুরুষ যখন কোনো নারীর সাথে একান্তে থাকে, তখন তাদের মাঝে তৃতীয় জন হিসেবে উপস্থিত হয় স্বয়ং শয়তান, তাদের মাঝে ভাবাবেগকে উত্‍সাহিত করে এবং উভয়ের মাঝে খারাপ কুমন্ত্রণা দিতে থাকে এবং সর্বশেষে লজ্জাকর পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটায়। সুতরাং বোঝা যায় যে, নিভৃতে বেগানা নারী-পুরুষ এক সাথে নির্জন স্থানে বসা জায়েয নেই। হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত আলী রাঃ কে লক্ষ্য করে বলেনঃ 'হে আলী, তুমি একবার তাকাবার পর পুনর্বার তাকাবে না। তোমার প্রথম দৃষ্টিপাত ক্ষমার যোগ্য কিন্তু দ্বিতীয়বার নয়।" অনেকেই মনে করেন যে কোন নারী হিজাব অবস্থায় থাকলে (মুখ ও কব্জি যদি খোলা থাকে) তখন বারবার তাকানোতে দোষ নেই। এই হাদীস থেকে আশা করি তারা শিক্ষা নিতে পারবেন। আবদুল্লাহ ইবনু মাসুদ (রাঃ) হতে বর্নিত, রাসুল (সাঃ) বলেছেন, "হে যুবসমাজ, তোমাদের মধ্যে যারা বিয়ের সামর্থ্য রাখে, তাদের বিয়ে করা কর্তব্য। কেননা বিয়ে দৃষ্টি নিয়ন্ত্রণকারী, যৌনাঙ্গের পবিত্রতা রক্ষাকারী। আর যাদের সামর্থ্য নেই তারা যেন সিয়াম পালন করে। কেননা সিয়াম হচ্ছে যৌবনকে দমন করার মাধ্যম।" (বুখারী, মুসলিম, মিশতাক হা/৩০৮০ নিকাহ অধ্যায়) অনেকেই মনে করেন মোবাইলে কথা বললে তো ব্যভিচারের আশংকা অনেক কমে যায়। তাদের জন্য নিম্নোক্ত হাদিসটি প্রণিধানযোগ্যঃ হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ 'লালসার দৃষ্টি চোখের ব্যভিচার, লালসার বাক্যালাপ জিহবার ব্যভিচার, কামভাবে স্পর্শ করা হাতের ব্যভিচার, এ উদ্দেশ্যে হেঁটে যাওয়া পায়ের ব্যভিচার, অশ্লীল কথাবার্তা শুনা কানের ব্যভিচার, কামনা বাসনা মনের ব্যভিচার, গুপ্তাঙ্গ-যা বাস্তবে রূপদান করে কিংবা দমন করে।'(বোখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযি) এই হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, ব্যভিচার অনেক রকম হতে পারে। এবং প্রত্যেক ব্যভিচারই হারাম। এছাড়া যদি প্রয়োজন মোতাবেক কোনো কথা বলতেই হয় সেক্ষেত্রে কর্কশ ভাষায় কথা বলতে হবে। এক্ষেত্রে কুরআনের নিম্নোক্ত আয়াত প্রণিধানযোগ্য। আল্লাহ বলেন - " তোমরা যদি আল্লাহকে ভয় করো, তাহলে পরপুরুষদের সাথে কোমল কন্ঠে কথা বলবে না। তা হলে যার অন্তরে রোগ আছে, সে প্রলুব্ধ হয়ে পড়বে। তোমরা স্বাভাবিক ভাবে কথা বল।' (সুরা আল-আহযাব : ৩২ অনেকেই বলতে পারেন যে আমরা প্রেম করলে তো স্বাভাবিক ভাবে কথা বলবো। কন্ঠ কোমল করবো না। তাদেরকে বলতে চাই, এই আয়াতের দ্বারা তাফসীরবিদগণ প্রয়োজনীয় কথাবার্তা ছাড়া অন্যান্য কথাবার্তা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন। যেমন আল্লামা আলুসী (রাঃ) বলেন,'ভিন্ন পুরুষদের কথার জবাব দেয়ার সময় তোমরা বিনয় ও নম্রতাপূর্ণ এবং নারীসুলভ কোমল ও নরম স্বরে কথা বলবে না, যেমন করে সংশয়পূর্ণ মানসিকতাসম্পন্ন ও চরিত্রহীনা মেয়েলোকেরা বলে থাকে। এছাড়া সাহাবীগণ, তাবেয়ীগণ এবং তাবে তাবেয়ীগণদের সময়ে বর্তমান সময়ের প্রচলিত ধরণের প্রেমকে জায়েয বলা হয়নি এবং কেউ করেনওনি। এছাড়া আলিমগণ এসকল দলিলের ভিত্তিতে একযোগে এই ধরণের প্রেমকে হারাম বলেছেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে , আপনি এখনও মেনে নিতে পারছেন না যে বিবাহবহির্ভূত প্রেম ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ হারাম। এটা শুধু আপনি নয়, নামাজ-রোজা করা মুসলিম ছেলেমেয়েদেরও মেনে নিতে কষ্ট হয়। তার নিদর্শন তো আপনি আপনার চারপাশে অহরহই দেখছেন। আমরা কেনো ইসলামটাকে একটা পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা হিসেবে মেনে নিয়ে তা জীবনে প্রয়োগ করে দেখাতে পারিনা? তার অন্যতম কারন হচ্ছে, আমরা ইসলামটাকে দেখি একটা হালাল-হারামের তালিকা হিসেবে। আমরা যখন আমাদের প্রবৃত্তির পূজা করতে যাই এবং যখন সেখানে ইসলামের বাধা আসে তখনই আমরা অন্যকিছু চিন্তা না করে শুধু প্রশ্ন করি "হোয়াই এন্ড হোয়াই, ইজ দিস হারাম ইন ইসলাম?" কিন্তু আপনি নিজেকে একবার প্রশ্ন করে দেখুনতো এই প্রেম করা নিয়ে কি কোনো প্রশ্ন ছোটবেলা থেকে এসেছে? না, আসেনি। আমরা সবাই একটা নির্দিষ্ট বয়স পার করি, যে বয়সটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং একই সাথে খুবই ভয়ংকর। যে বয়সটাতে আবেগ, ভালোলাগা, সবকিছু পজিটিভ ভাবা, বিপরীত লিঙ্গের প্রতি সীমাহীন আকর্ষণ- সবকিছু আমাদের চারপাশে গিজগিজ করে। আর এই বয়সের সরলতা আর ভালোলাগার সুযোগ নেয় শয়তান আর তা কাজে রুপান্তর করে দেখায় কাফির আর ইসলামের বিরুদ্ধ শক্তি যারা আল্লাহর নয় নিজেদের প্রবৃত্তির পূজা করে। আর তাই তো আজকের সমাজে স্কুলে প্রেম, কলেজে প্রেম, ভার্সিটিতে প্রেম, নাটক, সিনেমা, গল্প-উপন্যাসে প্রেম। আর এসব দেখে শুধু আপনি নয় অনেকের মনে সেই একই প্রশ্ন, "হোয়াই এন্ড হোয়াই, ইজ লাভ হারাম ইন ইসলাম?" যাই হোক, উত্তরটা না হয় আমিই দিচ্ছি। কারন আল্লাহ মহা পরিকল্পনাকারী। তিনি তার সৃষ্টির জন্য মঙ্গলজনক পন্থাই পরিকল্পনা করেছেন। তিনি মানুষের শরীর আর আত্নিক ক্ষতির আশংকা থেকে মানুষকে মুক্ত রাখার ব্যবস্থা করেছেন। অতি সসীম এই মস্তিষ্ক নিয়ে আমরা কখনও অসীম মহান আল্লাহর পরিকল্পনা বুঝতে পারবনা। কিন্তু আমরা এই দুনিয়াতেই তার পরিকল্পনার বাস্তবায়ন আর আদেশ অমান্যকারীদের পরিণতি দেখেছি, দেখছি এবং দেখবো ইনশাআল্লাহ! আমরা একটা হারামকে শুধু হারাম হিসেবে দেখি কিন্তু একটা হারাম শুধু হারাম নয় এটা অনেকগুলো ভালো পথকেও বন্ধ করে দেয়। ইসলামে মদ হারাম। কিন্তু মদ তো মানুষ ভালো লাগে বলেই খায়। তাহলে হারাম হবে কেনো? এটা বোঝা আমার আপনার কাছে তো দুরূহ বটেই এমনকি হজরত ওমর (রাঃ) পর্যন্ত বুঝতে পারেননি। তার প্রার্থনার প্রেক্ষিতে আল্লাহ তিনবার আয়াত নাযিল করার পর হজরত ওমর (রাঃ) বুঝতে পেরেছিলেন যে কেনো মদ হারাম হলো। আর আমরা এখন জানতে পেরেছি যে, বর্তমানে বিশ্বে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারন হলো অ্যালকোহল, মদপান। যেটা আল্লাহ ১৪০০ বছর আগেই হারাম করেছেন। ইসলামে এরকম অনেকগুলো হারামের একটি হলো বিয়ে বাদ দিয়ে কিংবা বিয়ের আগে নারী পুরুষের মধ্যকার প্রেমের সম্পর্ক। আর বরাবরের মতই ইসলামকে অন্তরে ধারণ না করে বরং পাশ্চাত্য আর কুফরি সিস্টেমের আধুনিকতা অন্তরে ধারণ করে আজকের তরুণ-তরুণী সেই হারামের ধার ধারে না। অনেকের কাছে এই হারামের জন্য ইসলাম হয়ে যায় সেকেলে। তার পরিণতিও হয় হাতে নাতে। পেটে অবৈধ বাচ্চা নিয়ে হাসপাতালে গর্ভপাত, রিকশা, সিএন জিতে মূল্যবোধ আর নৈতিকতা বিসর্জন, বয়ফ্রেন্ডের লালসার শিকার হয়ে বন্ধুবান্ধব নিয়ে গণধর্ষণ, বাজারে সেক্স ভিডিও, নিজের অসম্মান, পরিবারের অসম্মান আর সবশেষে এত এত অসম্মান সইতে না পেরে গলায় ফাঁস। না না না। হ্যাঁ আমি জানি! শুধু আপনি না, সবাই, এমনকি যারা এই পরিণতিগুলো বরণ করেছে তারাও বলেছিল,' না না আমরা তো সত্যিই ভালোবাসি, আমরা এসব করবো না!' সেজন্যেই প্রথমে বলেছিলাম ইসলামে কোনো একটা হারাম শুধু হারাম নয় এটা অনেকগুলো ক্ষতির পথও রুদ্ধ করে। যে পরিণতিগুলোর কথা বললাম নিজের প্রতি সত্‍ থেকে বলুনতো এই পথগুলো কে উন্মুক্ত করেছে? এই প্রশ্নের সঠিক ও সহজ উত্তর হচ্ছে নারী-পুরুষের অবৈধ সম্পর্ক যেটা ইসলাম হারাম করার পরও তারা মানতে চায়না। ইসলাম হচ্ছে সেই জীবন ব্যবস্থা যা মানুষকে নৈতিকতা আর মূল্যবোধ শিক্ষা দেয়, মানুষকে নিজের শরীর আর মনের পবিত্রতা ও নিরাপত্তা দান করে। আর তাই ইসলামে নিজের শরীর আর মনের পবিত্রতা ও নিরাপত্তা এসেছে পবিত্র বিয়ের মাধ্যমে। আল্লাহ বলেন- "আল্লাহ তোমাদের (মানব জাতির) মধ্য থেকেই সৃষ্টি করেছেন তোমাদের জন্য (বিপরীত লিঙ্গের) জুড়ি, যাতে করে তোমরা বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে তাদের কাছে প্রশান্তি লাভ করতে পারো। এ উদ্দেশ্যে তিনি তোমাদের মধ্যে সৃষ্টি করেছেন হৃদ্যতা- বন্ধুতা আর দয়া-অনুগ্রহ-অনুকম্পা। এতে রয়েছে বিপুল নিদর্শন চিন্তাশীল লোকদের জন্য। '(সূরা আর-রুম : ২১) সুবাহানাল্লাহ! আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন বিবাহের মাধ্যমেই নারী-পুরুষ পাবে প্রশান্তি, সৃষ্টি হবে হৃদ্যতা-বন্ধুতা, দয়া-অনুগ্রহ-অনুকম্পা। আর এটা চিন্তাশীলদের জন্য নিদর্শনস্বরূপ! কিন্তু আমরা কেউ চিন্তাশীল নই। আমরা মানুষের হারাম সম্পর্ক দেখে স্বপ্নের বীজ বুনি। হলিউড- বলিউড তারকাদের 'রিলেশনশিপ উইথ অমুক' দেখে ভাবি হ্যা 'আমারও চাই'। সেলিনা-বিবার, এঞ্জেলিনা- ব্রযাড পিট লিভ টুগেদার দেখে ভাবি,'আহা! তারা কতই না সুখে আছে। কেনো যে ইসলামে এসব হারাম করল বুঝি না।' এসব আধুনিকতার "আর্ট অব লিভিং" এর রঙিন পর্দাটাই আমরা শুধু দেখি। পর্দার আড়ালের কঙ্কালসার, কুড়ে কুড়ে ধ্বংস হওয়া জীবনবোধের গল্প আমরা কেউ জানিনা। আসুন কয়েকটা গল্প শুনি..... শুধু আমেরিকাতেই একজন পুরুষ বিয়ের আগে গড়ে ৮ জন নারীর সাথে সম্পর্কে জড়ায়। তাদের সবার সাথেই অবাধ যৌনসম্পর্ক থাকে। এরপর সে একটা বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সারে এবং বিয়ের পরও দুই তিনটা অবৈধ যৌনসম্পর্ক থাকে একজন আমেরিকানের। ভারতের একটি পরিসংখ্যান ব্যুরো বলছে,(৮-১০ বছর আগের, জাকির নায়েকের লেকচার থেকে) শুধু মুম্বাই শহরেই ৫০% মেয়ে স্কুল জীবন শেষ করার আগেই তাদের কুমারিত্ত হারায়। এখন ২০১৬। তাহলে একবার ভেবে দেখুন যে, সেই শতকরা হার এই মূহুর্তে কতটুকু বাড়তে পারে। হয়তো ১০০% বা তার কাছাকাছি। প্রিয় ভাই ও বোনেরা, হিসাবটা খুব সোজা। মহান আল্লাহ আমাদের জন্য যা নির্ধারণ করেছেন, সেখানেই কল্যাণ আর প্রশান্তি লুকায়িত আছে। আর যা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন তা অমান্য করায় আছে এই দুনিয়ায় ক্ষতি, লাঞ্ছনা, অসম্মান আর আখিরাতেও কঠিন শাস্তি। ছেলে ও মেয়েদের মধ্যে প্রেম তৈরি হবে তখনই যখন তারা দুজনই হিজাব ভঙ্গ করবে । কোনো একজন যদি হিজাব ভঙ্গ না করে, তবে কোনোমতেই দু'জনের মধ্যে প্রেম সংঘটিত হবে না । যেসব ছেলে মেয়েদের অন্তরে আল্লাহর ভয় আছে তারা হিজাব কোনোমতেই ভঙ্গ করে না । মনে মনে কাউকে ভাল লাগলেও তারা হিজাব ভঙ্গ করে পথচ্যুত হয় না। হিজাব মানে শুধু পোশাক নয় । পোশাক থেকে আচার-আচরণ পর্যন্ত সব কিছুই এর অন্তর্ভূক্ত । তারা বিয়ের প্রস্তাব দেয় তা না হলে সবর করে ।মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের মুসলিম ভাই ও বোনদের এই হারাম কাজ থেকে হিফাজত করুন। যদি আপনি কাউকে ভালোবেসেই থাকেন বা আপনাকে কেউ ভালোবেসে থাকে তবে সে বা আপনি উভয়ই প্রেম নিবেদন না করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। অনেক কথা বলে ফেলেছি । হয়তো আপনি আমার সব কথা বুঝতে পেরেছেন, হয়তো বুঝতে পারেননি (কেননা আপনি বুঝতে চেষ্টা করেন নি), হয়তো একদিন বুঝতে পারবেন ইনশাআল্লাহ। কিন্ত তবুও যারা সঠিক পথে ফিরে আসছেন না তাদের উদ্দেশ্য আল্লাহ বলেন- "(এদের অবস্থা হচ্ছে) এরা (কানেও) শোনে না, (চোখেও) দেখে না,(মুখ দিয়ে) কথাও বলতে পারে না, অতএব এসব লোক (সঠিক পথের দিকে) ফিরে আসবে না । (সূরা আল-বাক্বারা : ১৮ আল্লাহ যেন আমাদেরকে ইসলামের সমাধান মেনে নেওয়ার আর এতে আস্থা রেখে হেফাজতে থাকার তৌফিক দান করেন । আমিন!!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৩৫৫ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...