গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !
জিজে রাইটারদের জন্য সুঃখবর ! এবারের বই মেলায় আমরা জিজের গল্পের বই বের করতেছি ! আর সেই বইয়ে থাকবে আপনাদের লেখা দেওয়ার সুযোগ! থাকবে লেখক লিস্টে নামও ! খুব তারাতারি আমাদের লেখা নির্বাচন কার্যক্রম শুরু হবে

গল্পেরঝুড়িতে স্বাগতম ...

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

হিমু দ্যা বেস্ট; আমি হিমু।

"রহস্য" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান আহমেদ মূসা[EAGLES OFTHE SEA] (৩০ পয়েন্ট)



হিমু দ্যা বেস্ট; আমি হিমু। ................. সকাল হতে না হতেই আমার চিরচেনা সেই শহরে হাটা শুরু করলাম। হিমুরা সাধারণত এত সকালে উঠেনা। ফুপা জরুরি তলব করেছেন তার অফিসে তাই সেদিকেই যাচ্ছি। আজকের আকাশটাও যেন কেমন হালকা সাদা তারমধ্যে নীল রং উকিযুকি করছে।শহরের বড় বড় বিল্ডিং এর জন্যে সূর্য ব্যাচারাকে দেখা যাচ্ছেনা। আমি ভাবছি কী অদ্ভুদ এই পৃথিবী। সকাল থেকে সূর্য বিল্ডিংগুলোর উপর উঠার জন্যে প্রাণপন চেষ্টা করে যাচ্ছে দুপুরের দিকে হয়ত সূর্যের রাগ চরমে উঠে যায় তাই তখন বিল্ডিংগুলোর উপর থেকে রাগের জন্যে প্রচন্ড উও্বাপ দিতে শুরু করে। আমি আকাশের দিকে তাকিয়ে হাটছি কারণ আকাশটা আজ মুগ্ধ করেছে আমায়। হঠাৎই কারওর সাথে ধাক্কা খেলাম কিন্তুু তাতে আমার কিছুনা আমি যথারিতি আকাশের দিকে তাকিয়ে আছি। চোখ ফেরালাম লোকটির চেচামেচিতে। আমি বললাম ধুর দিলেন তো আকাশের সৌন্দর্যতাটাকে নষ্ট করে। লোকটি রাগান্বিত ভঙ্গিতে আমার দিকে তাকিয়ে বলল ফাইজলামি করেন আমার সাথে? আকাশের দিকে তাকিয়ে হাটছেন কেন? আমি রহস্যময় হাসি হেসে লোকটিকে পাশ কাটিয়ে চলে আসলাম। পিছনে লোকটির রিয়েক্ট দেখার জন্যে পিছনে ঘুরতে ইচ্ছে করল না আমার তাই আবারও আকাশের দিকে তাকিয়ে হাটা ধরলাম। আমি চলেছি জগলু ভাইয়ের এলাকার পাশ দিয়ে। শহরে মাফিয়াদের ডনকা ডন যাকে বলে তিনি হলেন জগলু ভাই। তার এলাকায় ভুলেও কোন অচেনা লোক ডুকে পরলে তাকে জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করার একটা সুখ্যাতি আছে জগলু ভাইয়ের। জগলু ভাই আমার পরিচিত আমার হাফ ভক্তও বলা যায়। তাই এলাকাটা সম্পূর্ণ নিরাপদ আমার জন্যে। হঠাৎই আবিষ্কার করলাম আমাকে কেউ ফলো করছে। বেশ কয়েকদিন ধরেই দেখছি লোকটি আমার পিছু পিছু ঘুড়ে।বেশ ভালোই লাগছে আমার। নিজেকে খুব গুরুত্বপূর্ণ কেউ মনে হচ্ছে। তবে আমার ইন্টিউশন ক্ষমতা বলছে এটা ফুপার নিয়োজিত সোর্স। লোকটির সাথে একটু খেলা করার জন্যে আমি ঠাস করে পিছনে ফিরে তাকালাম সাথে সাথে লোকটিও। মনে হচ্ছে এ যেন আমার প্রতিবিম্ব। আচ্ছা মানুষেরও কী কোন প্রতিবিম্ব হয়? এটা ভাবার সময়ও এখন আমার হাতে নেই তবে ফুপার সোর্সকে উচিৎ একটা শিক্ষা দেওয়ার প্রয়োজন।তাই ঠাস করে আমি জগলু ভাইয়ের এলাকায় ডুকে পরলাম। কিছুক্ষণ হাটার পরেই আমি জগলু ভাইয়ের এলাকা ছেড়ে বের হয়ে পিছনে আর ঐ লোকটিকে আবিষ্কার করতে পারলাম না। তারমানে নিশ্চই ধরা খেয়েছে জগলু ভাইয়ের লোকদের কাছে এবার ফুপার জন্যে একটা চমক অপেক্ষা করছে। আমি এখন হাটছি বড় একটি রাস্তা ধরে। ইতিমধ্যে শহরটাও ব্যস্ত নগরীতে পরিণত হয়েছে। পাখির মতো মানুষের কিচিরমিচির শব্দ শোনা যাচ্ছে তাছাড়াও ফ্রী হিসাবে গাড়িন ট্যা ট্যা শব্দ তো আছেই। তবে হিমুরা যেকোন কিছুর সাথে মানিয়ে নিতে পারে। এমনসময় হঠাৎ করে একটি গাড়ি প্রায় আমাকে ধাক্কা মেরেছিল আমার সামনেই এসে ব্রেক কষল গাড়িটি। এক্ষেএে গাড়ির চালক রীতিমতো পাক্কা মনে হচ্ছে। গাড়ির কালো কাচ তুলে একটি মেয়ে মুখবাড়িয়ে রাগান্বিত ভঙ্গিতে আমাকে ডাকল। মেয়েটি আর কেউ নয় রুপা। আমি দাড়িয়ে রইলাম কারণ রুপার কাছে যেতে হলে আমাকে একটু পিছনে যেতে হবে কিন্তুু হিমুরা কখনও পিছু যায়না। বিষয়টা রুপা হয়ত বুঝতে পেরে ঠোট নেড়ে ড্রাইবারকে যেন কী বলল ড্রাইবার আরেকটু এগিয়ে আমার পাশ ঘেসেই গাড়িটা দাড় করাল। রুপা বলল এই রোদের মাঝে কোথায় যাচ্ছ তুমি? এখনো তুমার হিমুগিরি ছাড়ো নি? আমি বললাম ফুপার অফিসে যাচ্ছি। রুপা এবার হেসে জবাব দিল ওহ আচ্ছা গাড়িতে উঠ লিব দেই আমি। আমি গাড়িতে উঠে পরলাম রুপার হাসিটা খুব ভালো লাগে আমার।যেই গাড়িতে উঠলাম রুপা ড্রাইবারকে আদেশ দিল ড্রাইবার পিছন দিকে সোজা চল। আমি বললাম পিছন দিকে কেন? ফুপার বাসা তো সামনে? রুপা আমার দিকে তাকিয়ে বলল কী ভেবেছ তুমি তুমাকে আমি গাড়িতে তুলেছি তুমার ফুপার অফিসে পৌছে দিতে? আমি ড্রাইবারের উদ্ধেশ্য বললাম গাড়ি থামাও। রুপা বলল না থামাবে না যাও তুমি। গাড়ির ড্রাইবার রুপার আদেশেই চলবে নিয়মনুযায়ী এক্ষেএেও তাই ব্যতিক্রম হলোনা। আমি বললাম তুমি মিথ্যা বলে আমাকে গাড়িতে তুললে কেন? আচ্ছা কিছু বলবে? রুপা বলল কী বলব? আমি বললাম তাহলে গাড়ি দাড় করাও নেমে পরি আমি। রুপা বলল আচ্ছা তুমি কী বুঝনা তুমাকে কত ভালোবাসি আমি! এসব হিমুগিরি ছেড়ে কিছু একটা কর।আমি বললাম রুপা এসব কী পরেছ? নীল শাড়ি আর নীল চূড়ি পরলে খুব ভালো দেখাত তুমায়।রুপা রাগান্বিত হয়ে বলল তুমি কী আমাকে ভালোবাস? আমি বললাম হয়ত! রুপা বলল তাহলে এসব হিমুগিরি ছাড়। আমি বললাম রুপা আমাকে নামিয়ে দাও দেড়ি হয়ে যাচ্ছে।আচ্ছা এখন তো পূর্ণিমা চলছে কাল আমরা গাজীপুর জঙ্গলে যাব চাদনী রাত দেখতে।তুমি নীল শাড়ি আর চুড়ি পরে রেডি হয়ে থেকো। রুপা বলল না আমি আর তুমার কোন কথাই বিশ্বাস করব না কাল তুমার দেখাই পাবনা আমি জানি। আমি শান্তনা দেওয়ার ভঙ্গিতে বললাম না সত্যিই যাব কাল। তুমি ড্রাইবারকে গাড়ি থামাতে বল এখন। রুপার কথামতো ড্রাইবার গাড়ি থামাল আমি নেমে পরলাম। সূর্যের প্রকান্ড তাপ আমাকে স্বাগতম জানাচ্ছে রুপার সাথে আরেকটু থাকলেই আমিও ইমোশনাল হয়ে যেতাম।আর মহাপূরুষরা কখনো ইমোশনাল হয়না।আমার বাবা তার উপদেশ বানির বইয়ে লিখে গেছেন- পুএ তুমি জাগতিক কোন বিষয়ে কখনও নিজেকে জড়িয়ে ফেলনা, কখনও জাগতিক কোন বিষয়ে ভেবে দুঃখ পেওনা। যেদিন তুমি এতে নিজেকে আচ্ছন্ন করে ফেলবে সেদিন তুমি মহাপূরুষ হওয়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে। আমি ভাবছি পৃথিবীটা কতটাই রহস্যময়।আমার মতো হিমুর চেয়েও রহস্যময়। যতই আমরা এই মায়া-মমতা থেকে বের হতে চাই ততই এটা আমাদের ঘিরে ধরে। এসব ভাবতে ভাবতে আমি ফুপার অফিসের গেইটের সামনে এসে হাজির হলাম। দাড়োয়ান আমাকে দেখেই গেইট খুলে দিল হয়ত ফুপা আদেশ দিয়েই রেখেছেন। সামান্যে একটা হিমুকে হয়ত এতটা মূল্য দেওয়া মানায় না। হিমুদের সবাইকে ঘৃণা করা উচিৎ অবজ্ঞা করা উচিৎ।কিন্তুু রুপা তা করেনা। আমি ফুপার অফিস রুমে ডুকার সময় ম্যানেজারকে বললাম এক কাপ কফি পাঠিয়ে দেন তো।ফুপার থেকে একটু দূরে দাড়িয়ে বললাম ফুপা আসব? ফুপা দাত কিড়মিড় করে বলল এসেই তো পরেছ আবার জিজ্ঞাস কর কেন? এদিকে এস! তখনি কফি চলে এল।ফুপা রাগান্বিত কণ্ঠে বলল এখন কফি কেন?ম্যানেজার অসহায় কণ্ঠে বলল হিমু ভাই দিতে বলেছে। ফুপা বললেন এই অফিসের মালিক কে? আমি তখনি ম্যানেজার হাত থেকে কফিটা নিয়ে এক চুমোক দিয়ে বললাম ধুর এটা কোন কফি হলো? থানার বাজে কফিও এর চেয়ে ভালো।ফুপার অফিসে আর কোনসময় কফি খাওয়া যাবে না! যেদিন ভালো করে বানাতে পারবেন সেদিন ফুপাকে বলবেন ফুপা আমাকে বলে দিবে। ফুপা এবার অগ্নিঝরা চোখে আমার দিকে তাকিয়ে আছেন কিন্তুু কিছু বলছেন না কারণ কথায় আছে অল্প শোকে কাতর অধিক শোকে পাথর। আমি ফুপাকে বললাম তা ফুপা কেন ডেকেছেন ঝেড়ে কাশেন তো।ফুপা নিজেকে সামলিয়ে বললেন ওহ হ্যা কেন ডেকেছি। পিছনে ফিরে তাকিয়ে দেখ। আমি পিছনে ফিরতেই দেখলাম বাদল সোফার এক পাশে পরে ঘুমাচ্ছে। আমি ফুপাকে বললাম একি ফুপা বাদল এখানে এই ভরদুপুরে ঘুমাচ্ছে।ফুপা বললেন ঘুমাচ্ছেনা ঘুমানোর ইন্জেকশন দিয়ে ঘুম পারানো হয়েছে।আমি বললাম কেন ফুপা? ফুপা বললেন আচ্ছা বাদলের থেকে দূরে থাকার জন্যে প্রতিমাসে আমি তুমাকে টাকা দেই ঠিক?আমি বললাম হুম ঠিক। ফুপা বললেন কিন্তুু সে তুমার পাগলামি করেই যাচ্ছে সারাদিন শুধু হিমু হবো, হিমু হবো। আমার ইন্টিউশন ক্ষমতা বলছে জগলু ভাইয়ের ফোন এখনি আসবে আর বাদলকে যতই ঘুম পারানোর ইন্জেকশন দেওয়া হোক সে এখন উঠে পরবে কারণ আমি এখানে সে আমার একান্ত অন্ধভক্ত।আমার কথা সত্যি হয়ে গেল ফুপার ফোন বাজতে শুরু করল। ফোনের ঐপাশ থেকে কী কী যেন বলল এদিকে ফুপা মারাত্নকভাবে গালাগালি আর হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। কিছুক্ষণ পরে ফোন কেটে দিল ফুপা রাগে ফুপাচ্ছে আমার দিকে তাকিয়ে বলল ওকে তুমার পিছনে পাঠিয়েছিলাম তুমিই এটা করেছ তাইনা? তুমাকে পরে দেখে নিচ্ছি আগে ঐ জগলুকে মজাটা দেখাচ্ছি ১০ ঘণ্টার মধ্যে যদি আমি ওকে এরেস্ট করাতে না পারি তাহলে আমি কাউকে এই মুখ আর দেখাব না।আমার কাছে টাকা চাওয়া? বাদলের কথা ভুলে গিয়ে ফুপা হনহনিয়ে অফিস ছেড়ে চলে গেল। এদিকে বাদল চোখ খুলে লাফ দিয়ে উঠে পরে বলল আরে হিমু ভাইয়া? স্বপ্ন দেখছি না তো আমি? আমাকে একটা চিমটি কাটো তো? আমি বললাম চিমটি কাটতে হবেনা চল।বাদল কোন কথা না বলে আমার সাথে চলা শুরু করল। ততক্ষণে সন্ধা হয়ে গেছে। ল্যামপোস্টের আলোগুলো ইতিমধ্যে জ্বলে উঠেছে। আমি আর বাদল শহরের রাস্তা দিয়ে হেটে চলেছি। বাদল বলল ভাইয়া খুব ক্ষুদা লেগেছে কিছু খাওয়াও।আমি বললাম কী খাবি বল? বাদল বলল চলো বিরিয়ানী খাওয়া যাক কিন্তুু আমার কাছে তো টাকা নেই আর তুমার কাছেও। আমি রহস্যময় হাসি হেসে বললাম আরে হিমুদের টাকা লাগেনা। কিন্তুু একটা কাজ করতে হবে আগে তোর এই ভালো প্যান্ট আর শার্টটাকে ছিড়তে হবে একটু।বাদল কোন প্রশ্ন না করে ল্যামপোস্টের ধারালো এক অংশ দিয়ে তার প্যান্ট আর শার্টটা একটু ছিড়ে আনল।আমি বললাম এবার চল বিরিয়ানির দোকানে যাওয়া যাক।আমরা দোকানের ভিতরে ডুকতেই বিরিয়ানি দেওয়া হলো একটা বাক্সে করে।আমি বিরিয়ানির প্যাকেটটা টেবিলের উপরে ছিড়ে ফেললাম আমাকে সর্বদা অনুসরণ করা বাদলও।টেবিলে করে আমরা বিরিয়ানি খাচ্ছি। দোকানের মালিকসহ সবাই আমাদের দিকে হা করে তাকিয়ে আছে। খাওয়ার পর উঠে পরলাম।ওয়ার্ড বয় অবাকের ভঙ্গিতে তাকিয়ে বলল পানি? আমি বললাম আমরা পানি খাইনা। দোকান থেকে বের হতে যাব অমনি দোকানের মালিক বলল টাকা? আমি রহস্যময় হাসি হেসে বললাম টাকা দিবে গৌড়িসেন। এভাবে আরও তিনবার বললাম টাকা দিবে গৌড়িসেন। দোকানের মালিক আর কিছু বলছে না শুধু হা করে তাকিয়ে আছে।আমি বাদলকে নিয়ে চলে এলাম।বাদল বলল ভাইয়া তুমি অমন করলে কেন? আর গৌড়ি সেন কে? আমি বললাম তুই না হিমু হতে চাস? ধর এটা একটা হিমু হওয়ার প্র্যাক্টিক্যাল ক্লাস।অমন করাতে সবাই আমাদের পাগল ভেবেছে এজন্যেই তোকে শার্ট, প্যান্ট ছিড়তে বলেছিলাম।আর গৌড়িসেন কে আমি চিনিনা।এবার চল চা খাওয়া যাক।তোদের অফিসে চা, টাও খেতে পারিনি। বাদল বিমর্ষ কণ্ঠে বলল কিন্তুু চা কিভাবে টেবিলে ঢেলে খাব? আমি আবারও রহস্যময় হাসি হেসে বললাম আমি যা করব তুই শুধু আমাকে অনুসরণ কর। বাদল হাসিমুখে বলল আচ্ছা চলো। আমি বাদলকে নিয়া সামনেই একটা চায়ের দোকানে গিয়ে দোকানদারকে বললাম এই চা দে দুই কাপ। এই বলে সেখানে দাড়িয়ে রইলাম।দোকানদার হাতে চা দেওয়ার পর চায়ের কাপ নিয়ে মাটিতে বসে পরলাম আর চায়ের টেস্ট নিতে থাকলাম। যথারিতি দোকানদার আর এখানে থাকা সব মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করলাম।চায়ে চুমোক দিয়ে আমি বললাম বাহ আপনি তো ভালো চা বানাতে পারেন। আপনি থানায় চা বানানোর চাকরী নিয়ে নেন ওসি সাহেবকে আমি বলে দিবনি।তাহলে অন্তত থানার ঐ বিশ্রি চা আর খেতে হবেনা। দোকানদার হা করে তাকিয়ে আছে আমার দিকে। চা খেয়ে কাপটা সামনের ফ্লোরে আছাড় মেরে ভেঙে বললাম ধুর এই কাপে করে কেউ চা খায়? এর পর থেকে সবাইকে হাতে চা দিবেন।হাতে করে চা খাওয়ার ফিলিঙ্সটাই অন্যরকম।আমি বাদলের উদ্ধেশ্য বললাম চল তো যাওয়া যাক। দোকানদারের আশ্চার্য ভঙ্গি তখনও যায়নি আমি বাদলকে নিয়ে চলে আসলাম কেউ কিছু বলল না। শহরের ছোট একটি রাস্তা ধরে আমি আর বাদল হাটছি। বাদলের চোখ-মুখে খুশির একটা ছাপ দেখা যাচ্ছে। রাতও হয়ত ২-৩ টা বেজে গেছে।আমি বাদলকে বললাম তুই এবার বাসায় ফিরে যা।বাদল বিমর্ষ কণ্ঠে বলল না বাসায় যাবনা আজ সারা রাত তুমার সাথে হাটব।আমিও হিমু হতে চাই।আমি বাদলকে বললাম আজ তোর হিমু হওয়ার প্র্যাক্টিক্যাল ক্লাস গেল অন্যদিন আবার তোকে নিয়ে বের হব সেদিন তুই ফুল হিমু হয়ে যাবি এখন তুই বাসায় যা ফুপু হয়ত চিন্তা করছে। বাদল আমার কথায় সায় দিল কারণ আমার অবাধ্য হওয়ার ক্ষমতা তার নেই। যাওয়ার আগে বাদল বলে গেল ভাইয়া হিমু দ্যা বেস্ট।আমিও একদিন তুমার মতো হিমু হব আর সবাইকে অবাক করে বেড়াবো। শহরের ল্যামপোস্টের আলোগুলো বিরক্ত করছে আমায় রাতকেও দিন মনে হচ্ছে।আজ আর ঘুমোতে ইচ্ছা করছে না আমার।আজ সারা রাতই হাটব ভেবে সামনের একটা অন্ধকার গলিতে ডুকে পরলাম।আমি অন্ধকারে হেটে চলেছি আর ভাবছি হিমুরা কী কখনও বেস্ট হয়।পৃথিবীর সমস্ত কিছু থেকে দূরে এরা। রহস্যময় পৃথিবীতে আরও রহস্য করাই কাজ এদের। হিমুদের জন্যে রুপারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে কিন্তুু কখনও দেখা পায়না। জাগতিক কোন বিষয়ে তাদের খেয়াল নেই।বাদলের মতো একান্ত ভক্তও থাকে হিমুদের।কিন্তুু সর্বদা হিমুরা এসব মায়া-মমতা আর স্নেহ ভালোবাসার উর্দ্ধে। মহাপূরুষ আমাকে হতেই হবে।এই ভাবতে ভাবতে শহরের কোন এক অচেনা গলিতে অন্ধাকারচ্ছন্ন শেষ রাএিতে পথ চলছি আমি। ®


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৬২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ দ্যা হাইস্যকর কিছুমিছু লিমিটেড!!! ধামাকা পর্ব--০১
→ যখন আমি মােটা ছিলাম
→ ঘুষ আমি খাই না ঘুষেই আমারে খায়।
→ আমি এখনও তোমায় ভালোবাসি
→ জিজেতে আমি
→ আইনস্টাইন,নিউটন,হকিং এবং আমি।
→ আমি যখন ঘুমাব
→ আমি "গল্প" লিখতে পারি না...
→ মৃত আমি

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...