গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !
জিজে রাইটারদের জন্য সুঃখবর ! এবারের বই মেলায় আমরা জিজের গল্পের বই বের করতেছি ! আর সেই বইয়ে থাকবে আপনাদের লেখা দেওয়ার সুযোগ! থাকবে লেখক লিস্টে নামও ! খুব তারাতারি আমাদের লেখা নির্বাচন কার্যক্রম শুরু হবে

গল্পেরঝুড়িতে স্বাগতম ...

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

শূন্য থেকে শুরু।পর্ব-৪

"ইসলামিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান আহমেদ মূসা[EAGLES OFTHE SEA] (৩০ পয়েন্ট)



সালাহউদ্দীন আয়ুবির দেশে- সর্য পশ্চিম আকাশে হেলে পরেছে। নতুন রুপে পৃথিবী সজ্জিত হচ্ছে। সারাদিনের কাজ শেষে পাখিরা আনন্দ চিওে আকাশের বুক চিড়ে নিজ গৃহে ফিরে যাচ্ছে।শেষ বিকালের মায়া ভরা রোদের উপর দিয়ে ক্লান্তিহীন কাফেলা চলেছে সিরিয়ার পথে, সালাহউদ্দীন আয়ুবির দেশে, খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. এর মতো বীরের ছোয়া লাগা মাটিতে। কাফেলাটির নেতৃত্ব দিচ্ছে খালিদ আব্দুল্লাহর আদেশক্রেমে। মরুভূমির বালুকণার উওাপ যেন বারবার তাদের স্বাগতম জানাচ্ছে। দূর থেকে দূরান্তে যে পর্যন্ত চোখ যায় শুধু মরুভূমির বালুকনাই চোখে পরে। কাফেলাতে চলা প্রতিটি মানুষের চোখে উজ্জল একটি রেখা দেখা যাচ্ছে সকলের মনে একটাই ভাসনা হয়ত সে এবার মুসলিমদের পবিএভূমি জেরুজালেম তথা মসজিদাতুল আকসা দু-চোখ ভরে দেখতে পারবে। এই স্বপ্ন পূরণের জন্যে মরুভূমির উও্বাপ বালুকনাও তাদের কাছে কিছুনা। যদি অগ্নিঝরা পথেও চলতে হয় তবুও স্বপ্নের জেরুজালেম শহরে পৌছবে তারা মনে মনে একথা ভাবছে আব্দুল্লাহ।কিন্তুু সারদিনের সূর্যের এই উও্বাপ আর মরুভূমির বালু কনাকে কত সহ্য করা যায়। পানির পিপাসায় যেন হৃদস্পন্দনও থেমে যাচ্ছে সবার। কিছুক্ষণ বিশ্রামের জন্যে কাফেলাটি থামল আব্দুল্লাহর আদেশক্রমে। সন্ধার ছায়া তখন নেমে পরেছে। আকাশ জুড়ে তারার মেলায় নীল আকাশটাকেও অপরুপ দেখাচ্ছে আজ। মরুভূমির বালুর একটি স্তুুপের নীচেই বসে আছে আব্দুল্লাহ, খালিদ, উমরসহ আরও কয়েকজন। ঠিক মাঝখানেই একটু পর পর বসে ঝিমুচ্ছে আব্দুল্লাহ। চাদের স্নিগ্ধ মায়াবি আলোতে আব্দুল্লাহর চোখ মুখ উজ্জল হয়ে যাচ্ছে খুব অপরুপ দেখাচ্ছে।সেদিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে খালিদ একথাই ভাবছে। কিছুক্ষণের নীরবতা ভাঙল উমরের কথায়। সে খালিদকে বলল আচ্ছা ভাই আমাদের প্রিয় নবী সা. মরুর দেশ সৌদি আরব তথা মক্কাতেই জন্মগ্রহন করেছিলেন। মদিনায় হিজরতের পর আর নবী সা. এর ওফাতের পর সাহাবিদের দ্বারা এসমস্ত দেশ বিজিত হয়েছিল। আজ সারাদিনের অভিজ্ঞতায় আমি যা বুঝলাম এই মরুভূমির বুকে ইসলামের পতাকাকে উওলিত করতে কম কষ্ট হয়নি মুসলিমদের। মরুঝড়, প্রচন্ড উওাব কিনা সহ্য করতে হয়েছে তাদের। আমি ভাবতেই শিউরে উঠি। তখন চোখ খুলে আব্দুল্লাহ দৃঢ় কন্ঠে জবাব দিল শুন আমি এখন যার কথা বলতে যাচ্ছি তিনি হলেন নবী সা. এর একজন অন্যতম সাহাবি তার নাম আবু বাছির রা.। তখনকার যুগে মক্কা-মদিনার সমস্ত লোকদের জীবিকার অন্যতম উৎস ছিল ব্যবসা করা বিশেষত আবু সুফিয়ানদের মতো প্রসিদ্ধ ব্যবসায়ীদের। সেসময়কার পন্যগুলো মক্কা হতে রোমান এলাকাগুলোতেও সরবরাহ করা হত।ঠিক এইসময় আবু বাছির রা. মক্কা হতে ব্যবহৃত পথে কাফেরদের কাফেলা আসার অপেক্ষা করতেন উওাপ এই মরুভূমিতে। ঐ মরুর পথ দিয়ে যাতায়াতের এমন কোন কাফেলা ছিলনা যা আবু বাছির রা. এর দৃষ্টিগোচরে যেত পারত। আবু সুফিয়ান তথা মক্কা হতে কাফেরদের যত পণ্য আসত সব পণ্যের কাফেলাগুলোতে আবু বাছির রা. আক্রমন করে মুসলিমদের গনিমত অর্জন করতেন। তার কারণে আবু সুফিয়ানসহ মক্কার প্রখ্যাত নেতারাও ভীত হয়ে যেত। এজন্যে তাকে ডাকা হত মরুর ঈগল। এখন ভাব তুমরা ইসলাম ধর্ম এমনি এমনি প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়নি।দিনের পর দিন মাসের পর মাস আবু সুফিয়ানের কাফেলা কখন আসবে সে অপেক্ষায় সময় কাটাত আবু বাছির রা. এমন মরুভূমির বুকে বসেই। আজ আমরা এই মরুভূমিতে একটি দিনও কাটাইনি এখনো তাতেই আমরা ভেঙে পরেছি আর বছরের পর বছরের ঈমানের বলে সমস্ত কষ্ট সহ্য করে ইসলামকে বিজিত করতে সেসব সাহাবি বীর সমরবিদরা সময় কাটিয়েছেন। আমরা সেই জাতিই কিন্তুু আমাদের তাদর মত ইস্পাতের চেয়েও কঠিন হৃদয় আর বিশ্বাস নেই। সবার আগে আমাদের এটা অর্জন করতে হবে। মনে রেখ আজ তুমরা পৃথিবীতে যাই করবে কিয়ামতের দিন সেই ফলই তুমরা পাবে।তুমাদের প্রত্যেককে একেকটা মরুভূমির ঈগল হতে হবে যারা আবারও এই মরুর বুকে ইসলামের আলোকে ছড়িয়ে দিবে। পরক্ষণেই আব্দুল্লাহর কন্ঠ থেমে গেল। কী এক অজানা ভাবনা যেন তাকে আচ্ছন্ন করে ফেলল। আজ কেমন যেন তার আচরণ অদ্ভুদ ঠেকছে খালিদের কাছে। কী এক অজানা বিষণ্নতা যেন খালিদের হৃদয় চেপে বসতে চাচ্ছে। আবারও আব্দুল্লাহ মাথা তুলে বলল আমাদের কাফেলা আজ এ পর্যন্তই থাক ইনশাল্লাহ কাল আমরা সিরিয়া পৌছব। পরক্ষণেই দূর থেকে কারও দৃষ্টি আকর্ষণ করল খালিদ। চাদের আলোতে মরুভূমির ভালোকণা আয়নার মতো প্রতিফলিত হচ্ছে। মরুভূমির চাদনী রাত যে এত সুন্দর হয় তা আজই প্রথম অবলোক করল খালিদ। লোকটা কিছুটা কাছে আসতেই ঘোড়ার ঢক,ঢক আওয়াজ শুনতে পাচ্ছে সবাই। মরুর বুকে একজন ঘোড়া সাওয়ারি দেখে খালিদ ফিরে গেল মুসলিমদের সেই স্বর্ণযুগে যখন এই ঘোড়া দিয়ে বিশ্ব জয় করত মুসলিমরা। সময়ের ব্যবধানে আজ এই প্রাণিতে হারিয়েই গেছে প্রায়। ততক্ষণে লোকটি তাদের কাছে এসে ঘোড়া থেকে নেমে সালাম দিয়েছে। লোকটির সালামের জবাব আব্দুল্লাহ নিল। আব্দুল্লাহ তাকে উদ্ধেশ্য করে বলল কে তুমি? লোকটি শান্ত গলায় জবাব দিল কমান্ডার এনজিম আমাকে পাঠিয়েছে। এখানে আমাদের কমান্ডার ফ্রান্সিস আমাকে পাঠিয়েছে তিনি খালিদের সাথে একান্তে কথা বলতে চান। আব্দুল্লাহ বলল ফ্রান্সিস? লোকটি উওর দিল জ্বী ফ্রান্সিস ছদ্দনাম।যাইহোক এখনি আমাদের রওনা দিতে হবে আপনি অনুমতি দিলে। তবেই সকাল নাগাত আমরা পৌছে যাব।আব্দুল্লাহ কিছুটা দ্বিধাজড়িত কন্ঠে বলল এই রাতে? লোকটি আবারও শান্তভঙ্গিতে জবাব দিল জ্বি! পূর্ণিমা রাএি যেতে কোন অসুবিধা হবেনা একটু সামনেই আরও দুটি ঘোড়া অপেক্ষা করছে সাথে আরেকজনকে দিতে পারেন। লোকালয়ে পৌছানোর পর আমাদের জন্যে গাড়ি অপেক্ষা করছে সে পর্যন্ত ঘোড়াতেই যেতে হবে!আব্দুল্লাহর অনুমতি নিয়ে খালিদ, উমর আর ঐ লোকটি কিছুক্ষণ পরেই মরুভূমিতে অদৃশ্য হয়ে গেল। সারা রাত পেরিয়ে তারা এখন একটি গাড়িতে বসে আছে। আকাবাকা রাস্তা দিয়ে সবুজ অরণ্যর ভিতর দিয়ে চলছে তারা কেউ কোন কথা বলছে না। ভুরের আলো তখন ফুটতে শুরু করেছে। কিছুক্ষণ পরেই অচেনা এক জায়গায় থামল গাড়িটি। লোকটি সবার আগে নেমে হাটা শুরু করে দিল কোন কথা না বলেই। খালিদ, উমর লোকটিকে অনুসরণ করে চলেছে। উমর বলল ভাই আমার কিন্তুু সন্ধেহ হচ্ছে। পুরোটা সময় জুড়ে লোকটি একদম চুপচাপ ছিল। খালিদের চোখে মুখেও কিছুটা চিন্তার ছাপ দেখা যাচ্ছে। তবুও সে বলল চলো দেখি কী হয়। একটু পরেই তারা ছোট একটি ভাঙা চূড়া বাড়ির সামনে উপস্হিত হলো। লোকটি তাদের বলল ঐ বাড়ির ভিতরে তিনি তুমাদের জন্যে অপেক্ষা করছে। এই বলে লোকটি তৎক্ষনাৎ চলে গেল। খালিদ কিছুটা ভেবে বাড়ির ভিতরে ডুকে পরল পিছনে পিছনে উমরও। বাড়িটির ভিতরে পুরো অন্ধকার কিছুই দেখা যাচ্ছেনা। অন্ধকারের মাঝেই কারও গম্ভীর কন্ঠে শুনা গেল সিরিয়ার ভূমিতে স্বাগতম তুমাদের। খালিদ কিছুই বুঝতে পারছেনা। কোমড়ের কাছে পিস্তলে হাত দিতেই দেখল সেখানে খালি কিছুই নেই বুঝতে বাকি রইল না যাএাপথে লোকটি কোনভাবে তাদের থেকে নিয়ে নিয়েছে খেয়ালও করেনি সে। উমরেরও সেই একই অবস্হা। কিছুক্ষণ পরেই রুমে লাইট জ্বলে উঠল। সামনে কাচা- পাকা হালকা হালকা দাড়ি বিশিষ্ট একটি লোক দাড়িয়ে হাসছে সাথেই 20-22 বছরের একটি তরুনী দাড়িয়ে আছে। এক পলকেই খালিদ আবিষ্কার করল এমন মেয়ে সে জীবনেও দেখেনি চুলগুলো এলোমেলোভাবে ছড়ানো এটা যেন মেয়েটার সৌন্দর্যটাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। খালিদ বলল কে আপনি? লোকটি আবারও বিশাল হাসি দিয়ে বলল আমার পরিচয়ে পরে আসি। এই ভূমিতে MFF এর আগমন হবে আর আমি জানব না? এখানে আসার সাহস কী করে পেলে তুমরা? তুমাদের উদ্ধেশ্য কী? খালিদ কিছু বলছে না। লোকটি বলল তুমাদের মুখ থেকে কী করে কথা বের করতে হয় তা আমি খুব ভালো করেই জানি। একথা বলেই লোকটি খালিদের দিকে ak47 এর একটি রাইফেল তাক করে বলল আমি জাস্ট ১০ সেকেন্ড অপেক্ষা করব। যদি এর মাঝে তুমাদের উদ্ধেশ্য বলো তবে আমি তুমাদের দুইজনকেই ছেড়ে দিব। দুইজনেই নিশ্চুপ লোকটি 9,8 এভাবে সেকেন্ড গননা করছে কিন্তুু 7 বলার সাথে সাথেই রাইফেল গর্জে উঠল। তাদের দিকে রাইফেল তাক করা লোকটি মাটিতে লুটিয়ে পরল। পিছন থেকে সেই তরুনির অকৃএিম হাসিমাখানো মুখ ফুটে উঠল। অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে খালিদ। তরুনীকে উদ্ধেশ্য করে সে বলল এ তুমাদের লোক নয়? কে তুমি? মেয়েটি শান্তভঙ্গিতে উওর দিল আমি msi এর একজন সদস্য। আমার নাম সুয়াদ। খালিদ কিছুটা লজ্জিতভঙ্গিতে উওর দিল ওহ! তাহলে এখন কোথায় যাবে তুমি? সুয়াদের মুখে আবারও হাসি ফুটে উঠল সে বলল এখন আমার আর এখানে গুপ্তচর হয়ে থাকা সম্ভব নয় এ খবর খুব দ্রুতই ছড়িয়ে যাবে তুমাদের বাচাতে গিয়েই এমন হলো। খালিদ বলল তুমি আমাদের ক্যাম্পে চল আব্দুল্লাহ ভাইয়ের সাথেও দেখা হবে। এতক্ষণ উমর একদম চুপ ছিল। এবার সে বলল কিন্তুু...? মেয়েটা তার প্রতিউওরে বলল কোন কিন্তুু নয় তাই হোক। নতুন গন্তব্য খুজে পাওয়ার আগে তুমাদের ক্যাম্পই নিরাপদ হবে বলে মনে করি। ততক্ষণ সকাল গড়িয়ে প্রায় দুপুর হয়ে গিয়েছে। খালিদ, সোয়াদ আর উমর চলেছে তাদের কাম্পে গিয়ে যোগ দিতে............ [চলবে ইনশাল্লাহ] অনুপ্রেরনায়- সাইমুম সিরিজ গল্পটির ঘটনা,চরিএ,স্হান সম্পূর্ণ কাল্পনিক ধারায় বানানো।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ১০২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ কীভাবে হারাম সম্পর্ক থেকে বের হয়ে আসবো? এও কি সম্ভব?
→ ৪২ তম বিসিএস এ জিজে থেকে যে প্রশ্নগুলো আসবে!
→ ২০১৮ থেকে ২০২১ পযন্ত আমার অবস্থা
→ গল্পের ঝুড়িতে ২০১৮ থেকে ২০২১ পর্যন্ত আমার অবস্থা
→ জঙ্গি থেকে বাচার উপায়
→ মুসলীমদের বীরত্বগাথা ইতিহাসের সোনালি অধ্যায় থেকে
→ শূন্য থেকে শুরু-৩
→ শূন্য থেকে শুরু-০২
→ শূন্য থেকে শুরু-০১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...