গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !
জিজে রাইটারদের জন্য সুঃখবর ! এবারের বই মেলায় আমরা জিজের গল্পের বই বের করতেছি ! আর সেই বইয়ে থাকবে আপনাদের লেখা দেওয়ার সুযোগ! থাকবে লেখক লিস্টে নামও ! খুব তারাতারি আমাদের লেখা নির্বাচন কার্যক্রম শুরু হবে

গল্পেরঝুড়িতে স্বাগতম ...

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

নিউরাল কম্পিউটার

"সাইন্স ফিকশন" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান আবিরুল ইসলাম আবির (১০৯ পয়েন্ট)



বিজ্ঞাপনটি শরীফ আকন্দের খুব পছন্দ হল। ছােট টাইপে লেখাঃ সব সমস্যার সমাধান থাকে না- কিন্তু যদি থাকে আমরা সেটা বের করে দেব! পাশে একটা চিন্তিত মানুষের ছবি। মানুষটিকে ঘিরে পটভূমিতে কিছু কঠিন সমীকরণ, কিছু যন্ত্রপাতি। একটা ভাস্কর্য, কয়েকটা খােলা বই। কঠোর চেহারার একজন সৈনিক এবং কিছু ক্ষুধার্ত শিশুর ছবি। বিজ্ঞাপনটি দেখলেই বােঝা যায় 'সমস্যা বলতে শুধু বিজ্ঞান বা গণিতের সমস্যা বােঝানাে হচ্ছে না, শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতি এমনকি রাজনীতির সমস্যও বােঝানাে হচ্ছে। শরীফ আকন্দ জিভ দিয়ে পরিতৃপ্তির একটা শব্দ করে চেয়ারে হেলান দিয়ে সামনে বসে থাকা নজীবউল-হককে জিজ্ঞেস করল, “কী মনে হয় তােমার নজীব? এইবারে কী হবে?" কথার মাঝে জোর থাকল 'হবে' কথাটির মাঝে। নজীব আঙ্গুল দিয়ে টেবিলে ঠোকা দিয়ে বলল, "কেমন করে বলি? এর আগেরবারও তাে ভেবেছিলাম হয়ে যাবে- সেবারেও তাে হল না।” শরীফ ভুরু কুঁচকে বলল, "কোনটা ন্যায় কোনটা অন্যায় তার সংজ্ঞা নিয়ে সমস্যা! এবারে অন্তত সেরকম কিছু তাে নেই।” "তা নেই। কিন্তু কোনাে ঝুঁকি নেব না। যখনই আমাদের কাছে জানতে চেয়েছে আমাদের সিস্টেম কী? প্ল্যাটফর্ম কী? আমরা মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছি। বড়জোর বলা হবে নিজস্ব সুপার কম্পিউটার, আলট্রা কম্পিউটার আর নিউরাল কম্পিউটার!" "নিউরাল কম্পিউটার!" শরীফ দরাজ-গলায় হা হা করে হেসে উঠল, “এই নামটা খুব ভালাে দেয়া হয়েছে।” নজীব ভ্রুকুটি করে বলল, “কেন? নিউরাল কম্পিউটার কি ভুল হল?" "না না - ভুল হবে কেন?" শরীফ আকন্দ দুলে দুলে হেসে বলল, "ভুল নয় বলেই তাে তােমাকে বলছি।" শরীফ টেবিলে রাখা গ্লাসের তরল পদার্থে একটা চুমুক দিয়ে বলল, “তােমার এই বিজ্ঞাপনের রি-একশান কী?” "ভালাে। খুব ভালাে। কাল পর্যন্ত তেতাল্লিশটা খোঁজ এসেছে।" "কারা কারা সমস্যার সমাধান চাইছে?" "সব রকম আছে। দুজন মন্ত্রী, তিনটা কর্পোরেশনের সি.ই.ও. থেকে শুরু করে স্মাগলিং সিণ্ডিকেটের মাস্তান এবং ব্যর্থ প্রেমিকও আছে।" "কী মনে হয় তােমার! পারব তাে করতে?" "কেন পারব না?" নজীব সােজা হয়ে বসে বলল, "আমরা কয়টা টেস্ট কেস করলাম? কমপক্ষে দুই ডজন, সবগুলাে ঠিক হয়েছে।" শরীফের মুখটা গম্ভীর হয়ে গেল, বলল, "ঠিকই বলেছ। কয়েকটা কেস দেখে ভয় লেগে যায়। বিশেষ করে সেই-যে আত্মহত্যার কেসটা মনে আছে?" “হ্যাঁ। দিন তারিখ সময় থেকে শুরু করে কিভাবে আত্মহত্যা করবে সেটাও বলে দিল।" "চিন্তা করলেই গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠে। এই দেখ।" শরীফ তার হাতটা এগিয়ে দেয়। সত্যিই তার গায়ের লােমগুলাে দাঁড়িয়ে গেছে। নজীব আঙ্গুল দিয়ে টেবিলে ঠোকা দিয়ে বলল, "আমাদের সবচেয়ে বড় কাস্টমার হবে পুলিশ ডিপার্টমেন্ট। চিন্তা করতে পার আমাদের এই 'নিউরাল কম্পিউটার কীভাবে ক্রাইম সলভ করবে?" “হ্যাঁ।” শরীফের চোখ চকচক করে উঠে, "ঠিকই বলেছ।" "তবে আমাদের খুব সাবধান থাকতে হবে। বাঘে ছুঁলে আঠার ঘা আর পুলিশে ছুঁলে বত্রিশ হঠাৎ করে শরীফ সােজা হয়ে বসে বলল, "আচ্ছা নজীব" “কী হল?” "আমাদের এই প্রােজেক্ট কাজ করবে কি না সেটা আমাদের নিউরাল কম্পিউটারকে জিজ্ঞেস করলে কেমন হয়?” নজীব চিন্তিত-মুখে শরীফের দিকে তাকাল, বলল, "হ্যাঁ তুমি ঠিকই বলেছ। আমরা জিজ্ঞেস করতে পারি। কিন্তু-" “এর মাঝে আবার কিন্তু কি? এত টাকাপয়সা খরচ করে এত হৈ চৈ করে একটা প্রােজেক্ট শুরু করেছি, সেটা যদি কাজ না করে খামােখা তার পিছনে সময় দেব কেন?” "ঠিকই বলেছ।" নজীব চিন্তিত-মুখে বলল, "কিন্তু" "কিন্তু কি?” "আমাদের এই নিউরাল কম্পিউটার সমস্যার সমাধান করে দিতে পারে, কখনাে কখনাে কি হবে তার ভবিষ্যৎবাণীও করে দিতে পারে কিন্তু সেগুলাের সাথে তার নিজের ভবিষ্যত জড়িত থাকে না। কিন্তু এটার সাথে নিউরাল কম্পিউটারের নিজের ভবিষ্যত জড়িত।" “তাতে কী হয়েছে।” "এটা একটা প্রকৃতির সূত্র, কেউ যদি নিজে একটা সিস্টেমের ভেতরে থাকে তাহলে তারা সেই সিস্টেমকে বিশ্লেষণ করতে পারবে না। অনেকটা হাইজেনবার্গের অনিশ্চয়তার সূত্রের মতাে।" "রাখাে তােমার বড় বড় কথা। গিয়ে চলাে জিজ্ঞেস করে দেখি।" "সত্যি জিজ্ঞেস করতে চাও? আমার মন বলছে কাজটা ঠিক হবে না।” "কেন ঠিক হবে না? চলাে যাই। ওঠো।” "এখনই?" “অসুবিধে কি? জিজ্ঞেসই যদি করতে হয় পুরােপুরি শুরু করার আগেই জিজ্ঞেস করা যাক।" "ঠিক আছে।" নজীবউল্লাহ খানিকটা অনিচ্ছা নিয়ে উঠে দাঁড়াল। টেবিলে রাখা পানীয়টা এক ঢােকে শেষ করে দিয়ে হাতের পেছন দিয়ে মুখ মুছে বলল, "চলাে।" দুজন বিল্ডিঙের সংরক্ষিত লিফটে করে সাততলায় উঠে যায়। লিফটের দরজা খােলার আগে দুজনকেই রেটিনা স্কেন করে নিশ্চিত হতে হল যে তারা সত্যিই নিউরাল কম্পিউটিং-এর মালিক শরীফ আকন্দ এবং চীফ এক্সিকিউটিভ অফিসার নজীবউল্লাহ। ধাতব দরজাটি খােলার সাথে সাথে সার্ভেলেন্স ক্যামেরাগুলাে তাদের দুজনের উপরে স্থির হল। শরীফ আকন্দ মাইক্রোফোনে মুখ লাগিয়ে বলল, “সিকিউরিটি, দরজা খুলাে।" "কিছু মনে করবেন না স্যার। পাসওয়ার্ডটি বলতে হবে।" বাড়াবাড়ি সিকিউরিটি দেখে শরীফ আকন্দ বিরক্ত না হয়ে বরং একটু খুশি হয়ে উঠল, হা হা করে হেসে উঠে বলল, “এই কোম্পানিটি আমার ব্যাক্তিগত সম্পত্তি।” "হতে পারে স্যার। কিন্তু আমরা প্রফেশনাল।" "আজকের পাসওয়ার্ড হচ্ছে, 'ব্ল্যাক হােল'। কালাে গহ্বর।” খুট করে একটা শব্দ হতেই ঘরঘর শব্দ করে দরজা খুলে গেল, দেখা গেল অন্যপাশে অনেকগুলাে মনিটরের সামনে দুজন সিকিউরিটির মানুষ বসে আছে। একজন উঠে দাঁড়িয়ে বলল, “ওয়েলকাম স্যার আমাদের এই নির্জন কারাবাসে আমন্ত্রণ।" "নির্জন বলছ কেন?” শরীফ আকন্দ হেসে বলল, “তােমার এই ফ্লোরে সবচেয়ে বেশি মানুষ। সব মিলিয়ে চৌদ্দজন।" সিকিউরিটির দায়িত্বে থাকা মানুষটি বলল, "আপনি যদি ব্যাপারটা এভাবে দেখেন তাহলে অবশ্যি আমার কিছু বলার নেই।” খুব উঁচুদরের একটা রসিকতা করা হয়েছে এরকম ভঙ্গি করে শরীফ আকন্দ এগিয়ে গেল। নজীবউল্লাহ পকেট থেকে ছােট একটা কার্ড বের করে দরজায় প্রবেশ করাতেই একটা ছােট শব্দ করে দরজা খুলে গেল। লম্বা করিডর ধরে তারা একেবারে শেষপ্রান্তে গিয়ে থেমে গেল। জায়গাটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত তবুও শরীফ আকন্দের কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমে যায়। একটা বড় দরজার সামনে দাঁড়িয়ে একটা নিঃশ্বাস ফেলে বলল, "নজীব দরজাটা খুলাে।” নজীবের মুখে একটা বাঁকা হাসি ফুটে উঠে, সে চোখ মটকে বলল, "তােমার কাছেও চাবি আছে।” শরীফ মাথা নাড়ল, "কিন্তু আমার খুব নার্ভাস লাগে এখনাে আমি অভ্যস্ত হতে পারিনি। প্রত্যেকবার বুকের ভিতরে কেমন যেন ধ্বক করে ধাক্কা লাগে। তুমি বিশ্বাস করবে না আমি এখনও মাঝে মাঝে দুঃস্বপ্ন দেখি।” “কী দুঃস্বপ্ন দেখ?” "দুঃস্বপ্ন দেখি যে আমি একটা ছােট বাথটাবে শুয়ে আছি আর আমার চারপাশে বারােটা-" “বারােটা কি?” "তুমি জানাে কি! দরজা খুলাে নজীব।" নজীব পকেট থেকে ম্যাগনেটিক কার্ড বের করে দরজায় প্রবেশ করিয়ে কার্ডটা আবার বের করে নেয়। তারপর দরজার হেণ্ডেল ঘুরিয়ে দরজা খুলে ভিতরে উকি দিল। দৃশ্যটি অনেকবার দেখেছে তার পরেও সে নিজের অজান্তে একবার শিউরে উঠল। ভেতরে বারােজন বিকলাঙ্গ শিশু। শরীরের তুলনায় তাদের মাথা অতিকায় এবং অপুষ্ট শরীরের এই বিশাল মাথা বহন করতে একধরনের অমানুষিক পরিশ্রম করতে হয়। তাদের লিকলিকে হাত পা, তবে হাতের আঙ্গুলগুলাে দীর্ঘ - দেখে মাকড়শার কথা মনে পড়ে যায়। কোটরাগত চোখ জ্বলজ্বল করছে। মুখের জায়গায় এক ধরনের গর্ত এবং সেখান থেকে লাল জিভ বের হয়ে আছে। নাক অপরিণত - দেখে মনে হয় কুষ্ঠরােগে বসে গিয়েছে। তাদের মাথার পিছন থেকে একধরনের কো-এক্সিয়াল কেবল বের হয়ে এসেছে, সেটি একটা ছােট যন্ত্রের সাথে যুক্ত। যন্ত্রটি তাদের মাথার পিছন থেকে ঝুলছে। শিশুগুলাে দরজায় শব্দ শুনে ঘুরে তাকাল এবং শরীফ আকন্দ তখন আবার শিউরে উঠল- প্রত্যেকটা শিশু হুবহু একই রকম। এদেরকে একসাথে ক্লোন করা হয়েছে এবং একইভাবে বড় করা হয়েছে। সরাসারি মস্তিষ্কে ইলেকট্রড বসিয়ে মস্তিষ্কের একই জায়গা একই সময়ে স্পন্দিত করা হয় - কাজেই তারা একই সাথে অনুরণিত হয়। শিশুগুলাের বয়স ছয় বৎসর কিন্তু দেখে সেটা অনুমান করার উপায় নেই, তাদেরকে মানুষ বলে মনে হয় না, কাজেই মানুষের বয়সের কোন কাঠামােতে তাদেরকে ফেলা যায় না। শরীফ আকন্দ বা নজীবউল্লাহ শিশুগুলােকে কোনােরকম সম্ভাষণ করল না, এদেরকে সামাজিক কোনাে ব্যাপার শেখানাে হয় নি, নিজেদের কাজ শেষ করা ছাড়া আর কিছুই তারা জানে না। নজীবউল্লাহ এক পা এগিয়ে এসে বলল, “তেতাল্লিশ বি-এর সমাধান কি শেষ হয়েছে ?" "হ্যাঁ। শেষ হয়েছে। নেটওয়ার্কে আপলােড করেছি।” "চুয়াত্তর এক্স টু?" "কাজ করছি। ডাটা অনেক বেশি। নিউরন ওভারলােড হয়ে যায়।” "কখন শেষ হবে। "দুই ঘণ্টা পর। দুই ঘণ্টা সাত মিনিট।” শরীফ আকন্দ একধরনের বিস্ময় নিয়ে এই বারােটি বিকলাঙ্গ শিশুর দিকে তাকিয়ে রইল। এরা বারােজন মিলে আসলে একটি প্রাণী। কথা বলার সময় কে বলছে বােঝা যায় না। একেকজন একেকটা শব্দ বলে বাক্য শেষ করে কিন্তু তার মাঝে বিন্দুমাত্র অসঙ্গতি নেই। ঠোঁট নেই, কাজেই ঠোঁট না নেড়ে সরাসরি ভােকাল কর্ড থেকে শব্দ বের করে কথা বলে, তাই একধরনের যান্ত্রিক উচ্চারণ হতে থাকে। "আমি তােমাদের জন্যে একটা নূতন সমস্যা এনেছি।" “প্রায়ােরিটি কত?" “অন্য প্রায়ােরিটি ওভার রাইড করতে হবে।” "ওভার রাউড কোড কত?” নজীবউল্লাহ পকেট থেকে একটা কাগজ বের করে কোডগুলাে পড়ে শােনাল। এই শিশুগুলােকে অনেকটা যন্ত্রের মতাে প্রস্তুত করা হয়েছে, পদ্ধতির বাইরে এরা কাজ করতে পারে না। কোড শােনার পর শিশুগুলা তাদের বিকলাঙ্গ শরীর নিয়ে নিজের বিশাল মাথা নিয়ে প্রায় সারিবদ্ধ হয়ে স্থির হয়ে দাঁড়াল। নজীব সবার দিকে এক নজর তাকিয়ে বলল, "সমস্যাটি প্রচলিত ভাষায়। শব্দের অর্থ যথাযথ। রূপক উপসর্গ সর্বনিম্ন। বাক্যাংশ এরকম : নিউরাল কম্পিউটিঙের ব্যাবসায়িক সাফল্যের সম্ভাবনা কত?" নজীবের কথাগুলাে শেষ হওয়ামাত্র শিশুগুলাে নিজেদের কাছাকাছি চলে আছে, অপুষ্ট আঙ্গুল নেড়ে নিজেদের ভিতরে দুর্বোধ্য একধরনের ভাষায় কথা বলে, একজন হামাগুড়ি দিয়ে একটা কম্পিউটারের সামনে উপুর হয়ে বসে, দ্রুত হাত নেড়ে কিছু তথ্য প্রবেশ করায়। মাথা থেকে ঝুলে থাকা যন্ত্রগুলােতে আলাের বিচ্ছুরণ হতে থাকে, একধরনের ভোঁতা যান্ত্রিক শব্দ হতে থাকে। শিশুগুলাের অস্বাভাবিক কাজকর্ম যেমন হঠাৎ করে শুরু হয়েছিল ঠিক সেরকম একেবারে হঠাৎ করে থেমে গেল। সবাই একসাথে মাথা ঘুরিয়ে ওদের দুজনের দিকে তাকিয়ে বলল, "সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। সমাধানে অনিশ্চয়তা নব্বই ভাগ।" "কেন?" “প্রয়ােজনীয় তথ্যের অভাব।” “মূল ডাটাবেস থেকে তথ্য নিয়ে নাও।" "নিরাপত্তাজনিত কারণে তথ্যগুলাে আমাদের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।” শরীফ আকন্দ এবং নজীবউল্লাহ একজন আরেকজনের দিকে তাকাল, এ ব্যাপারটি ঘটতে পারে তারা আগে চিন্তা করেনি। শরীফ আকন্দ ইতস্তত করে বলল, “যে তথ্যগুলাে তােমাদের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে সেগুলাে তােমাদের সম্পর্কে ব্যক্তিগত তথ্য। আমরা যে-প্রশ্নটি করেছি তার সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই।" "আছে।" শরীফ আকন্দ ভাবল একবার জিজ্ঞেস করে 'কেন কিন্তু এই বিকলাঙ্গ শিশুগুলােকে যেভাবে বড় করা হয়েছে তাতে তাদের সাথে আলােচনা বা তর্ক-বিতর্কের কোন সুযােগ নেই। নজীবউল্লাহ জিজ্ঞেস করল, “তােমরা কী জানতে চাও?" "আমরা কারা? আমরা এখানে কেন?" নজীবউল্লাহ নিজের ভিতরে একধরনের অস্বস্তি অনুভব করে। জিনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যবহার করে মানুষের যে-প্রজাতিকে ক্লোন করে এই অচিন্তনীয় প্রতিভাধর শিশু তৈরি করা হয়েছে তাদের ভিতরে মানবিক কোনাে চেতনা থাকার কথা নয়। কিন্তু তারা যে-প্রশ্ন করেছে তার উত্তর জানার জন্যে এই মানবিক অনুভূতিগুলাে থাকার প্রয়ােজন। সেই অনুভুতি ছাড়া এই প্রশ্নের উত্তর তারা কেমন করে অনুভব করবে? নজীবউল্লাহ আড়চোখে শরীফ আকন্দের দিকে। তাকিয়ে নিচুগলায় বলল, "আমি আগেই বলেছিলাম এই ঝামেলায় গিয়ে লাভ নেই।” শরীফ আকন্দ ফিস ফিস করে বলল, "এখন কি করতে চাও?" "আমাদের প্রশ্নটা বাতিল করে দিই।” শরীফ আকন্দ মাথা নেড়ে বলল, "ঠিক আছে।" নজীবউল্লাহ গলার স্বর উঁচু করে বলল, "আমরা যে-প্রশ্নটি করেছি তার উত্তর দেবার প্রয়ােজন নেই। প্রশ্নটা বাতিল করে দিচ্ছি।" “প্রায়ােরিটি কোডিং কত?" নজীবউল্লাহ আবার পকেট থেকে একটা ছােট কার্ড বের করে কিছু সংখ্যা উচ্চারণ করল। বিকলাঙ্গ শিশুদের ভেতর থেকে কোনাে একজন বলল, "সমস্যা বাতিল করা হল।” নজীবউল্লাহ একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। বিকলাঙ্গ শিশুগুলাে আবার নিজেদের টেনে হিচড়ে ঘরের নানা জায়গায় বসানাে কম্পিউটারগুলাের সামনে বসে কাজ শুরু করে দেয়। তাদের কাজ করার দৃশ্যটি অদ্ভুত, অনেকটা পরাবাস্তব দৃশ্যের মতাে, মনে হয় কোনাে পচে যাওয়া মাংসের টুকরাের মাঝে কিছু পােকা কিলবিল করছে। এই শিশুগুলাে কৃত্রিম উপায়ে তৈরি পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিভাবান শিশুর ক্লোন, ব্যাপারটা এখনাে বিশ্বাস হয় না। শরীফ আকন্দ নজীবউল্লাহর কনুই স্পর্শ করে বলল, “চলাে যাই।” “চলাে।” দুজন ঘরের দরজার দিকে হেঁটে যায়, হ্যাণ্ডেল স্পর্শ করে দরজা খােলার চেষ্টা করে আবিষ্কার করল দরজাটি বন্ধ। "সে কি! দরজা বন্ধ হল কেমন করে?" শরীফ আকন্দ এগিয়ে গিয়ে দরজায় ধাক্কা দিল, সত্যি সত্যি দরজা বন্ধ। বিকলাঙ্গ বারােজন শিশুর সাথে একটি ঘরে আটকা পড়ে গেছে, এই ধরনের একটি অবাস্তব আতঙ্ক হঠাৎ তাকে গ্রাস করে ফেলে। শরীফ আকন্দ হ্যাণ্ডেলটি ধরে জোরে কয়েকবার টান দিল কিন্তু কোনাে লাভ হল না। নজীবউল্লাহ গলা নামিয়ে বলল, “টানাটানি করে লাভ নেই। তুমি খুব ভালাে করে জান এই দরজা বন্ধ হলে ডিনামাইট দিয়েও খােলা যাবে না। সিকিউরিটিকে ডাকো।” শরীফ আকন্দ আড়চোখে বারােজন বিকলাঙ্গ শিশুর দিকে তাকাল, তারা তাদের দুজনকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে নিজেদের কাজ করে যাচ্ছে, কী কুৎসিত একটি দৃশ্য! তার সমস্ত শরীর গুলিয়ে এল। শরীফ পকেট থেকে ছােট টেলিফোন বের করে সিকিউরিটির সাথে যােগাযােগ করার জন্যে লাল বােতামটি স্পর্শ করল। টেলিফোনে সবুজ বাতি না জ্বলে উঠে সেটি আশ্চর্যরকম নীরব হয়ে রইল। শরীফ আকন্দ টেলিফোনটা কয়েকবার ঝাঁকুনি দিয়ে খানিকটা আতঙ্কিত হয়ে নজীবউল্লাহর দিকে তাকাল, শুকনাে গলায় বলল, “টেলিফোন কাজ করছে না। নজীবউল্লাহ নিজের টেলিফোনটা দিয়ে চেষ্টা করে দেখল তার টেলিফোনটাও বিকল হয়ে গেছে। দুশ্চিন্তিত মুখে বলল, "কিছু একটা সমস্যা হয়েছে।” "এখন কী করা যায়?" নজীবউল্লাহ একটু বিরক্ত হয়ে বলল, "তুমি এত ভয় পেয়ে যাচ্ছ কেন?” "না-মান