বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

লজ্জাবতীকে ছুঁয়ে দিলাম

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান বকুল রায় (০ পয়েন্ট)



X আমি বসে আছি এক বটগাছের নিচে। অনেক পুরনো। লোকালয় থেকে বেশ দূরে। দিনেও লোকেরা আসতে ভয় পায়। বট গাছে অনেক রকম পেত্নিদের বাস। কখন ঘাড়ে চেপে বসে বা কার ঘাড় মটকায় কে জানে। শুনেছি এখানে এক যুবক এসেছিল একদিন। বটের পাতার জন্য। সে নতুন বিয়ে করতে যাচ্ছিলো। বটগাছের পাতা দরকার। কিন্তু সে বটগাছের পাতা নিয়ে বাড়ি যেতে পারে নি। সে গাছে উঠেছিলো। একটা বটের পাতা ছিড়তেই এক পেত্নি গাছেই ওর ঘাড় মটকে দিয়েছিলো। অবশ্য এসব লোকেদের থেকে শোনা। আমার জন্মেও আমি এরকম ঘটনা বাস্তবে দেখি নি। কিন্তু যেটাই হোক। লোকেরা এদিক পানে আসে না। ভূল করেও না। যদিও কেউ আসে তো দিনে আসে। একা নয়। চার পাঁচ জন দল বেঁধে আসে। দরকার না থাকলে নেই। তাই জায়গাটা সবসময় রিক্ত পরে থাকে। তাই প্রকৃতি জায়গাটাকে নিজের ইচ্ছে মতো সাজিয়েছে। এক অপরূপ সৌন্দর্যের এক লীলাভূমি। পাশেই নদী। আগে স্রোত ছিলো। এখন নেই। লোকেদের থেকে শুনেছি যে এই নদী দিয়ে বেহুলা তার স্বামী লক্ষীন্দরের মৃত দেহ নিয়ে ভেলায় ভাসতে ভাসতে গেছিলো। এখন নদীতে অনেক কচুরিপনা দেখা যায়। যাইহোক এরকম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে আমার ভালো লাগে। তাছাড়াও আমি নীরবতা পছন্দ করি। একা একা থাকা ভালো লাগে। আমি নীরবে প্রকৃতিকে নিয়ে ভাবি। গাছের সাথে কথা বলি। শুধু গাছ নয় পাখি, পিঁপড়ে, লতা, মাটি, আকাশ, বাতাস সবার সাথেই কথা বলি। ওরা সবাই আমার কথা বুঝতে পারে। আমার সুখ-দুঃখ অনুভব করতে পারে। আমিও তাদের কথা বুঝতে পারি, ওদের সুখ-দুঃখ অনুভব করতে পারি। ওরাই আমার পরম মিত্র। ওরা কখনো শত্রুতা করে না। ওদের কাছে ভালো মানুষ খারাপ মানুষ বলতে কিছু নেই। কেউ ওদের ক্ষতি করলে ওরা নিরবে সহ্য করে। ওদের অনেক ধৈর্য্য। আমি যখন ওদের কাছে যাই ওরা আমার সাথে কথা বলে। হাসি ঠাট্টা করে। আমিও করি। আনন্দের মাঝে হঠাৎ আমার লজ্জাবতীকে দেখে আমার মনে হলো সে আমার থেকে কি যেন লুকোচ্ছে। আমি জিঞ্জাসা করি, ওগো লজ্জাবতী, কি লুকোচ্ছো আমার থেকে? ও বলে, কই কিছু লুকোচ্ছি না তো। কিন্তু আমার তো কিছু অস্বাভাবিক লাগছে। প্রতিদিন ওকে দেখি। কথা বলি, ঠাট্টা করি। ওকে আস্তে করে ছুঁয়ে দেই। ও তখন লজ্জা পেয়ে ঘোমটা দিয়ে মুখ লুকোয়। কিছুক্ষণ পর আবার ঘোমটা সরায়। আবার ছুঁয়ে দেই। কিন্তু সে বলে আমাকে ছুইয়ো না গো। আমার খুবই লজ্জা লাগে। কিন্তু আজ আমার থেকে কিছু একটা লুকোচ্ছে। কিন্তু বলছে না। তাই আমি আজ আর ওকে ছুঁয়ে দিলাম না। ও বলছে, কি গো, আজ আমায় ছুঁয়ে দেবে না। আমাকে লজ্জা দেবে না? -- না। তুমি না লজ্জাবতী! তবে একথা বলছো কেন? -- দেখো তুমি আমাকে প্রতিদিন ছুঁয়ে দাও। আমার লজ্জা লাগে। আমি ঘোমটা দেই। কিন্তু আজ ছুচ্ছো না কেন? -- ছুঁয়ে দেবো তোমাকে লজ্জাবতী। কিন্তু আগে আমাকে বলো তোমার আজ কি হয়েছে। -- সেজন্যই তো বলছি। তুমি আমাকে ছুঁয়ে দাও। তাহলে সব জানতে পারবে। আমি ওকে ছুঁয়ে দিলাম। ও ঘোমটা দিলো। পাতাগুলো গুটিয়ে নিলো। আর আমি তখনই দেখতে পেলাম। মাটিতে রক্ত! তাজা রক্ত!! লজ্জাবতীর শরীর থেকে চুইয়ে চুইয়ে মাটিতে পরছে।নিচের দিক থেকে একটা ডাল কে যেন ছিড়ে নিয়েছে। আমি ভরকে যাই। চিৎকার দিয়ে বলি, একি লজ্জাবতী! তোমার শরীর থেকে রক্ত ঝড়ছে কেন? কে তোমার এই অবস্থা করলো? তার নাম বলো। আমি তাকে শাস্তি দেব। ততোক্ষণে লজ্জাবতী আস্তে আস্তে ঘোমটা খুলতে শুরু করেছে। সে বলে, এতো ব্যস্ত হচ্ছো কেন? শান্ত হও। আমি আরো রেগে যাই। বলি,কি করে শান্ত হই বলো? কে তোমার এই ক্ষতি করলো। তার নাম বলো তুমি। -- দেখ তুমি মাথা গরম করো না। -- তো আমি কি চুপচাপ তোমার কষ্ট দেখবো নাকি? -- দেখ, তুমি শান্ত হও প্লিজ। আমার কথা বোঝার চেষ্টা করো। একটু মন দাও আমার কথায়। আমার কথা শোনার পর তুমি যা করার করিও। তখন দেখবো তোমার তোমার কতো রাগ। আমি তখন একটু শান্ত হয়ে ওর কথা শোনার চেষ্টা করতে লাগলাম। ও বলতে লাগলো, দেখ আমি একটা তরু। আমি তোমার মতো চলতে পারিনা। শুধু আমার এই জায়গায় ঠায় দাড়িয়ে থাকি। আমারও তো তোমার মতো চলতে ইচ্ছে করে। কিন্তু পারি না। ঝড়, বৃষ্টি, তুফান,রোদ, ঠাণ্ডা, গরম ইত্যাদির মধ্যেও আমি এখানে থাকি। সবকিছুই সহ্য করতে হয়। শুধু আমি কেন! অন্য সবাইকে দেখ। ওই যে শিশুগাছ, ওই যে কড়ই গাছ, ওদের দেখো। পুরো জঙ্গলটা দেখো। সবাই আমার মতো সহ্যশীল। আমাদের জঙ্গলের সবথেকে সিনিয়র সিটিজেন বট বৃক্ষকে দেখো। তিনি কতো শত বছর ধরে ঝড় বৃষ্টি সব সহ্য করে আছেন। তাই তিনি জঙ্গলে সবার উপর মাথা তুলে দাড়িয়ে আছেন। আর পাখপাখালিদের দেখো। তারা দল বেধে মিলেমিশে থাকে।কখনোই ঝগড়া করে না। ওই বানরকে দেখো। সে সারা জায়গায় নেচে বেড়ায়। আমাদের মনোরঞ্জন করে। এই জায়গায় কোনো ঝামেলা নেই। এসব কারণ গুলোর জন্য তুমি এই জায়গাটাকে পছন্দ করো। তাই তুমি আমাকে ভালোবাসো। এই জায়গাটাকে ভালোবাসো। আর তুমি আমাকে ভালোবাসো বলে আমি তোমাকে ভালোবাসি। সবাই তোমাকে ভালোবাসে। আমাকে এই রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে তোমার ক্রোধ হচ্ছে। তুমি ওই ব্যক্তিকে শাস্তি দিতে চাচ্ছো। এটাই আমার ভালো লাগে। কিন্তু তুমি যেটা করতে চাও সেটা ঠিক নয়। আমি যদি তোমাকে তার নাম বলি তাহলে তুমি তার সাথে মারামারি করতে পারো। এতে ঝামেলা বাড়বে। এই শান্ত পরিবেশ থাকবে না। আর তোমারও ভালো লাগবে না। যে জন্য তুমি আনন্দ অনুভব করবে না। আর আমাদের তোমার মতো ক্রোধ নেই বলে আমারা কখনো ঝামেলা সৃষ্টি করি না। যদি ওই ব্যক্তি আমাকে তুলেও নিয়ে যেতো আমি কিছুই করতাম না। আমার কষ্ট হতো। কিন্তু তারপরও সহ্য করতাম। এই দেখো আমার যে শরীর ছিড়ে নিয়ে গেছে। তারপরও আমি চুপ আছি। আমার কোনো অভিযোগ নেই। শুধু আফসোস। মানুষ কেন এমন করে! অন্যকে কষ্ট দিয়ে কি সুখ পায়। না, পায় না। কিন্তু দেখো আমাকে। আমি কাউকে কষ্ট দেই না। আর তোমাকে ভালোবাসি। তাই আমি সুখ পাই। অন্যকে কষ্ট দিয়ে নিজে সুখ পাওয়া যায় না। প্রকৃত সুখ তো ভালোবাসায়। আমাকে এ সুখ থেকে কেউ বঞ্চিত করতে পারবে না। যদি তুমি আমাকে ভালো না বাসো। তাতেও আমি কষ্ট পাবো না। কারণ, আমি তোমাকে ভালোবাসে যাবো। এখানে সবাই তোমাকে ভালোবাসবে। আমরা এখানে শান্তিতেই থাকবো। এখন তোমার সমাজের দিকে দেখ। তোমরা চলাফেরা করতে পারো। যেখানে খুশি যেতে পারো। ঝড় বৃষ্টি থেকে বাঁচার জন্য ঘর তৈরি করো। তোমারা নিজের প্রয়োজনে অন্যর ক্ষতি করতে পারো। একটাই ইচ্ছে, নিজেকে সর্বোচ্চ স্থানে উন্নীত করা। নিজেকে সুখী করার জন্য যা খুশি তাই করো। এতে কারো ক্ষতি হলেও তোমরা সেটা দেখো না। নিজেকে ভালো প্রমাণ করার জন্য অন্যের দুঃখে শুধু চুক চুক করে দুঃখ প্রকাশ করো। অথচ অন্তরে দুঃখের লেশ মাত্র থাকে না।তোমারা একটুতেই রেগে যাও। কারো সাথে একটু কিছু হলে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারো না। নিজের স্বার্থে একটু আঘাত লাগলে প্রতিঘাতের জন্য সুযোগ খুঁজতে থাকো।যারা নিজের থেকে নিচে থাকে, তাদেরকে আরো নিচে ফেলে দাও। নিজের স্বার্থে অন্যের রক্ত ঝরাও। তাই এসবের কারণে তোমার সমাজে সুখ থাকে না, আনন্দ থাকে না, শান্তি থাকে না। তোমাদের সমাজে আরো এক ধরণের মানুষ আছে। যারা উপরের বর্ণনার বিপরিত। আমাদের মতো সহ্যশীল। কারোর ক্ষতি করে না। তারা ওই সমাজেই সুখ পায়। আর তুমি এইখানে আমাদের সাথে এসে থাকো। যাতে তুমি সুখ পাও, শান্তি পাও। কি তুমি কি এজন্যই এখানে আসো না? আমি ওর কথাগুলো তন্ময় হয়ে শুনছিলাম। আমি বললাম অবশ্যই। লজ্জাবতী: তাহলে দেখলে তো কারা সুখ পায় আর কারা পায় না। আমি: হুমম।আমি বুঝলাম। লজ্জাবতী: সুখ যদি পেতে চাও তো সহ্য ক্ষমতা বাড়াও। ধৈর্য্য ধারণ করতে শিখো। নিজের ক্রোধকে নিয়ন্ত্রণে রেখো। আমি: ঠিক বলেছো লজ্জাবতী। আমি তোমার কথাগুলো মেনে চলবো। লজ্জাবতী: আর একটা কথা জানো তো। তুমি যার সাথে মিশবে তার মতোই হবে। যদি ভালোর সাথে মিশ, ভালো হবে। আর খারাপের সাথে মিশ তো খারাপ হবে। আমি: একথা আমি জানি লজ্জাবতী। লজ্জাবতী: হ্যাঁ। তুমি এখন এইখানে আসো। আমাদের সাথে মিশ। কিন্তু তুমি যদি আমাদের মতো সহ্যশীল না হও, ধৈর্য্য ধারণ করতে না পারো, নিজের ক্রোধকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারো, তাহলে তুমি আমাদের মিতালি হয়ে কি হবে? আমি : আমি তোমার কথা বুঝতে পেরেছি লজ্জাবতী। তুমি চাও যাতে আমি তোমাদের মতো হই। তাই তো? লজ্জাবতী: হুমম। এইতো লক্ষ্মীসোনা। এটাই তো চাই। তো এখন কি তোমার ওই দুষ্ট মানুষটিকে শাস্তি দিতে ইচ্ছে করছে? আমি : না, কিন্তু তোমার এই অবস্থা দেখে আমার খুবই কষ্ট হচ্ছে। লজ্জাবতী: হুমম। যখন তুমি কাউকে কষ্ট পেতে দেখবে তখন সবার আগে ওকে তোমার যথাসাধ্য সাহায্য করবে। আমি তখন পকেটে হাত ঢুকিয়ে রুমাল বের করি। ও বলে, কি করো। আমি বলি, দেখই না কি করি। এই বলে আমি আমার রুমাল দিয়ে ওর রক্ত মুছে দেই। লজ্জাবতী লজ্জায় কুকরে যেতে থাকে। বলে, ইস, হয়েছে। আমাকে আর সাহায্য করতে হবে না। আমি বলি, কেনো গো? তুমি তো বললে কাউকে কষ্ট পেতে দেখলে সাহায্য করতে। লজ্জাবতী: তাই বলে আমাকে? আমি : কেনো নয়! আমি যাদেরকে ভালোবাসি, তাদেরকেই যদি সাহায্য না করি তাহলে অন্যকে কিভাবে সাহায্য করবো বলো? লজ্জাবতী: তুমি কতো ভালো। আমি : তুমি আমায় ভালো বলছো! এটা আমায় কেউ বলে না। সবাই বলে আমি নাকি খারাপ। লজ্জাবতী:কে বলেছে তুমি খারাপ! তুমি খারাপ নও। আমি : কিন্তু ওরা তো বলে। বিশ্বাস করো আমি খারাপ উদ্দেশ্যে কাজ করি নি। আমি তো শুধু মজা করার জন্য কাজ করেছি। কিন্তু ওরা বলে আমি নাকি খুব খারাপ করেছি! লজ্জাবতী : ওরা তোমাকে বুঝতে পারে নি। তাই ওরা তোমাকে খারাপ বলে। আমি তোমাকে বুঝি তুমি অনেক ভালো। দেখোনা এখানে সবাই তোমাকে কতো ভালোবাসে। তুমি পুরোনো সব ভূলে যাও। দেখবে তখন কতো ভালো লাগবে। আমি : ঠিক বলেছো লজ্জাবতী। এখন থেকে আমি সব ভূলে যাবো আর তোমাদের সাথে এই ছোট জঙ্গলে তোমাদের সাথেই কাটাবো। এই বলে আমি আবার লজ্জাবতীকে ছুঁয়ে দিলাম। সে লজ্জায় ঘোমটা টেনে বললো, যাহ্, তুমি খুবই দুষ্টু। আমি তখন আপন মনে প্রাণখুলে হাসতে লাগলাম।।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২৫৬ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...