বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

রশিদসাহেবের রাজকন্যা "বানু"

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান শাহিদা (০ পয়েন্ট)



X "মা বাবা আমাকে আমার সন্তানদের থেকে আলাদা করো না।দরকার হলে আমি অন্যের ঘরে কাজ করে ওদের খাওয়াবো।আমি ছাড়া ওরা ওখানে বাঁচবে না।" গভীর রাতে কেঁদে কেঁদে কথা গুলো বলছে বানু।হুম বানু ১৯৭৮ সালে রশিদ সাহেবের ঘর আলো করে এই দুনিয়ায় আসে। আট বছর পর সন্তানের মুখ দেখে রশিদ সাহেব থেকে এতোটা খুশি কেউ হয় নি।বাণী নাম রাখলেও আদর করে বানু ডাকে রশিদসাহেব। কক্সবাজার মৎস্য অফিসে ৬০০ টাকা বেতনের চাকরি করত তখন।মনের দিক থেকে খুবিই দয়ালু ছিল রশিদসাহেব।মেয়ে হওয়ার পর ডিউটির বাকিটা সময় মেয়ের সাথেই কাটাতো।মেয়ের খাওয়া,গোসল সব নিজের হাতেই করত।মেয়েও বাবা আসার সময় হলে হামাগুড়ি দিয়ে গেটের কাছে চলে যেত।সাইকেলের বেল শুনলেই সেই কি আনন্দ। বাণুর একটা অভ্যাস ছিল রাতের বেলা কান্নাকাটি করা।রশিদ সাহেবের মতো বাবা থাকলে আর কি লাগে।যত রাতই হোক সাইকেলের সামনে বসিয়ে মেয়েকে নিয়ে ঘুরতে বেরিয়ে যেতেন।এটা ওটা দেখিয়ে মেয়েকে খুশি করে বাড়ি পিরতেন। এরকম একদিন হলো কি.. রশিদসাহেব : মা আমার কি খাবে?দেখ দোকানে কত্ত কিছু। বাণু : উহ উহ রশিদসাহেব : এই কেকটা লাগবে আমার আম্মুর?এইযে ভাই এই কেকটার দাম কত? দোকানি : ৩০০ টাকা। রশিদসাহেব : এইটাই দেন,আমার কলিজার টুকরা এটাই পছন্দ করেছে। কতটা আদরের হলে একজন বাবা তার বেতনের অর্ধেক টাকা মেয়ের হাসির জন্য একমিনিটে উড়িয়ে দিতে পারে।কিন্তু এই ভালবাসা বাণীর জিবনে বেশি দিন থাকল না।যাক গে সেটা পরেই নাহয় জানবেন। রশিদসাহেব হঠাৎ একটা সুযোগ পেয়ে বিদেশ এ পাড়ি জমালো।এর মাঝে তাদের ঘরে আরো এক ছেলে ও মেয়ে আসলো।তিন সন্তান নিয়ে রশিদ সাহেবের স্ত্রী কক্সবাজার থেকে স্বামীর বাড়ি এসে নতুন করে সংসার শুরু করলেন। বিদেশ থেকে কয়েকবছর পর পর বাড়ি আসতো রশিদসাহেব। তখন সন্তানদের নিয়েই মেতে থাকতেন।সবাইকে টিপিনের টাকা দেওয়ার পরও আড়ালে বাণুর হাতে আবার টাকা ভরে দিতেন।বাজার থেকে আস্ত খাসি জবাই করে নিয়ে আসতেন।পরিবার ও গরিব মানুষদের নিয়ে খেতেন।যুদ্ধের অনেক পর তখনো আশেপাশের মানুষ খুব কষ্টে ছিল।রশিদ সাহেব কখনো নিজের জন্য টাকা জমিয়ে রাখতেন না। যতটা পারতেন মানুষকে সাহায্য করতেন। আস্তে আস্তে বাণী বড় হলো।বাবার ইচ্ছা তার সন্তানরা পড়ালিখা করে শিক্ষিত হবে।গ্রামের দিকে তখন খুব কম মেয়েরাই পড়ালিখা করত।অল্পবয়সেই বিয়ে হয়ে যেত।বাণী যখন একাদশ শ্রেণিতে উঠলো তখন থেকে অনেক প্রস্তাব আসতে শুরু করলো। ৩ ছেলে মেয়েকে একা রশিদসাহেবের স্ত্রী দেখে রাখা অনেক কঠিন ছিল তাই ভাইদের সাহায্য নিয়ে বানুর বিয়ের ব্যবস্থা করল বানুর মা।স্বামীকে চিঠিতে জানালো... : চারদিক থেকে মেয়ের জন্য বিয়ের প্রস্তাব আসতেছে। মেয়ে একা একা কলেজ যায় কখন কি হয়,আপনিও নেই তাই একটা ভাল ছেলে হাতে পেয়ে মেয়ের বিয়ের ব্যবস্থা করেছি।ছেলে টাইটেল পাস,মাওলানা,স্কুল টিচার।ওনাদের কোন দাবি নেই।আশা করি খুব শীঘ্রই বাড়ি আসবেন। চিঠি পেয়ে রশিদসাহেব যতটা না খুশি হয়েছে ততটাই কষ্ট পেয়েছে।তার কলিজার টুকরা পরের ঘরে চলে যাচ্ছে। সেই সাদাসিধে ছোট্ট বানু এখন অন্যে ঘরের বউ।সবই ঠিক ছিল প্রথম প্রথম।কিন্তু বাবার আদরের বানু বুঝতে পারলো তার ভালো থাকার দিন শেষ। আস্তে আস্তে বানু তাদের আসল রুপ দেখতে পেল।সারাদিন কাজ করানোর পর ভাল তরকারি গুলো উঠিয়ে রাখতো।বলা হতো অগুলো শুধু শশুড় শাশুড়ির জন্য।যে বানু কখনো ধান নিতে দেখেনি সেই বানু ধানের মেশিনে ধান নিতে গিয়ে গলায় ওড়নার পাঁস পড়ে গিয়েছিল।মাটির ঘরের লেপ দেওয়া,পুকুরের মাটি কাটা,গরু, ছাগল দেখভাল করা সব কিছুই বানু করতো। মনে এটাই ছিল একটা সময় সব ঠিক হয়ে যাবে।কিন্তু এতো কিছু নিরবে করার পরও কারো মন জয় করতে পারেনি।ঘরে ডিভোর্সি ননদ ছিল তার কথাতেই উঠতে বসতে হতো।একমাত্র শাশুড়ি ছাড়া একটা ভালো মানুষও ছিল না ওখানে।কিন্তু তিনি ছিলেন অসুস্থ বিছানায়। আর বানুর স্বামী, বিয়ের কয়দিন পরই তার আসল রূপ বের হলো।বড় ভাবির কানপড়া শুনে বানুকে অবহেলার চুড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল।চাকরিতে যাওয়া সময় বলে যেত না,পিরে আসলে ভাবির সাথে আড্ডা দিতো।ভাবি যখন বলতো তখন ঘরে আসতো।বানু যদি ভুলেও ওদের আড্ডার ভিতর যেত সবার সামনে স্বামীর অপমানটাই জুটতো তার কপালে।বদ মেজাজি রাগী গালাগালি করা মানুষটাকেও বানু মানিয়ে চলার চেস্টা করে যাচ্ছিলো। একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে এই আশাতে।গর্ভবতী থাকা অবস্থায় বানু মাটিও কেটেছে,সন্তান জন্মের সময় বাসি পচাঁ খাবারো জুটেছিল বানুর কপালে,সেগুলো খেয়ে তার ছোট মেয়েটা প্রায় মরতে বসেছিল।প্রথম কন্যার একবছরের মাথায় যখন বানু আবার গর্ভবতী হয় তার মাওলানা স্বামী নিজের সন্তান নষ্ট করতে কম অত্যাচার করেনি বানুকে। তারউপরে দ্বিতীয় বারো কন্যা সন্তান।এই অপরাধের শাস্তিও বানুকে পেতে হয়েছিল।আসলেই বানু খুব সাদাসিধে বোকা ছিল।এতো কিছু হলো পরিবারকে কিছুই জানায় নি।তার বাবা মা যদি তার কষ্ট সহ্য করতে না পারে।বানু যে তাদের প্রাণ। এদিকে রশিদসাহেব ও বিদেশ থেকে আসলো।ততোদিনে দুই দুইটা নাতনির নানা ও হয়ে গিয়েছিল।মেয়ের জামাই,নাতনিদের জন্য অনেক কিছুই এনেছিল। কিন্তু আসার পরপরই একদিন ডাকযোগে চিঠি এলো।চিঠি পড়ে রশিদসাহেব এতোটি আঘাত পেয়েছিল তার কিছুদিন পর স্ট্রোক করেছিল।অই চিঠিতে ছিল... "শশুড় আব্বা আপনার সাথে আমার কোর্টে দেখা হবে"। নতুন জামাইয়ের সাথে একসাথে গল্পগুজব করবে খাবে দাবে এমনটাই ছিল মনে রশিদসাহেবের। কিন্তু এ কি শুনলো। একটা সময় সব জানতে পারলো রশিদসাহেব। মেয়েকে নিজের কাছে এনে রাখলো।সিদ্ধান্ত একটা.. : বানু, মারে আবার নতুন করে জিবন শুরু কর।সব ভুলে আবার পড়ালিখা শুরু কর।তোর সুখের জন্য আমি সব করতে রাজি আছি। বানু তখন বাবাকে কিছু বলে নি।কিন্তু গভীর রাতে চিৎকার করে কেঁদে কেঁদে বলেছিল " মা বাবা আমাকে আমার সন্তানদের থেকে আলাদা করো না।দরকার হলে আমি অন্যের ঘরে কাজ করে ওদের খাওয়াবো।আমি ছাড়া ওরা ওখানে বাঁচবে না" অবশেষ এ রশিদসাহেব তার কলিজার টুকরা বানুর সিদ্ধান্তই মেনে নিল।তার মতো বানুও যে তার মেয়েদের অনেক ভালোবাসে।আবার সেই অমানুষদের কাছে বানু পিরে গেল। একমাত্র তার দুইটি মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে। আর অন্যদিকে মেয়ের জিবনের কথা চিন্তা করে রশিদসাহেব দিন দিন অসুস্থ হয়ে গিয়েছিল।তার আদরের রাজকন্যা সারাটা জিবন এভাবেই দুঃখের সাগরে সাঁতার কেটে যাবে এটা বাবা হয়ে মেতে নিতে পারেনি রশিদসাহেব। আজ ২৫ বছর পর অনেক কিছুই চেঞ্জ হয়েছে।রশিদসাহেব দুনিয়া ত্যাগ করেছে,বানুর আলাদা সংসার হয়েছে,শশুড় শাশুড়ি পরকালে চলে গেছে।ননদের অধিকার খাটানোর জোরও শেষ হয়েছে। কিন্তু একমাত্র বানুর জিবনটাই পরিবর্তন হলো না কারন তার স্বামীই যে বদলাতে পারে নি। ২৫ বছর পর এখনো স্বামীর গালমন্দ,অবহেলা,বিশ্রী ব্যবহার এককথায় মানসিক অত্যাচার সহ্য করে যাচ্ছে। এখন তার সন্তানরাও তার মতো মানসিক অত্যাচার এর ভুক্তভোগী। পরিবর্তন এটাই।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ১৫১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ জুতা চোর ও রাজকন্যা
→ রাজা ও রাজকন্যার গল্প
→ এক যে ছিল রাজকন্যা
→ রাগী রাবণ এবং বোকা রাজকন্যা
→ অহংকারী রাজকন্যা
→ রাজকন্যা মণিমালা (পর্ব ১০)
→ রাজকন্যা মণিমালা (পর্ব ০৯)
→ রাজকন্যা মণিমালা (পর্ব ০৬)
→ রাজকন্যা মণিমালা(পর্ব ০৭)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...