বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

প্রকৃত মুসলমানের পরিচয়

"ইসলামিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃ ইমরান হোসেন (০ পয়েন্ট)



X প্রকৃত মুসলমান কে, তাদের পরিচয়ই-বা কী_ এটা বেশ কঠিন বিষয়। কাউকে এক বাক্যে এ গুণের অধিকারী বলে দেওয়া যেমন দুরূহ, তেমনি শুধু শুধু অনুমানের ভিত্তিতে কাউকে ইসলামের গণ্ডি থেকে বের করে দেওয়াও মারাত্মক গোনাহের কাজ। তবে হাদিসে প্রকৃত মুসলমানের পরিচয় বলে দিয়েছেন শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। এ প্রসঙ্গে হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেন, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ, সে-ই প্রকৃত মুসলিম। আর যে আল্লাহর নিষিদ্ধ বিষয়গুলো পরিত্যাগ করে, সে-ই প্রকৃত হিজরতকারী। হাদিসটি ইমাম বোখারি (রহ.) বর্ণনা করেছেন। ইমাম মুসলিম (রহ.) এ হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেছেন, কোনো মুসলিম তার কথা কিংবা কাজের দ্বারা অপর মুসলিমকে কষ্ট দেয় না। সে সঙ্গে প্রকৃত মুসলমান মানুষের নিন্দা করে না, গালমন্দ করে না, অহেতুক অন্যের দোষ খুঁজে বেড়ায় না, কারও মিথ্যা দোষ বর্ণনা করে না, কাউকে অপবাদ দেয় না, আক্রমণ করে না কিংবা উপহাস করার মাধ্যমেও কাউকে কষ্ট দেয় না। এক কথায়, তার জিহ্বা ও হাত থেকে মানুষ নিরাপদ থাকে। যেখানে শুধু মুখের অনিষ্টতা সম্পর্কে ইসলামের এমন অবস্থান; সেখানে খুব সহজেই অনুমান করা যায় যে, কাউকে আঘাত, হত্যা ও সম্পদ-সম্মান হরণ ইত্যাদির মাধ্যমে কষ্ট দেওয়া কত কঠিন বিষয়। ইসলামী স্কলারদের মতে, জিহ্বা বা হাতের দ্বারা কষ্ট দেওয়ার বিষয়টি আরও ব্যাপক হতে পারে, যেমন কাউকে জিহ্বা কিংবা হাতের অঙ্গভঙ্গির দ্বারা কষ্ট দেওয়া। আবার কখনও মানুষ পরোক্ষভাবে অন্যের কষ্টের কারণ হয়_ তারাও এই হাদিসের অন্তর্ভুক্ত হবে। যেমন কোনো মজলিসে কেউ কোনো ব্যক্তিকে উল্লেখ করে যেন অন্যরা তার দোষ আলোচনা করতে পারে। কেউ লোক ভাড়া করে কাউকে হত্যা করায়, কারও জমি দখল করে নেয়, কারও সম্পদের ক্ষতি করে ইত্যাদি। বর্ণিত হাদিসে মানুষকে কষ্ট না দেওয়ার বৈশিষ্ট্যকে সরাসরি ইসলামের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়েছে: এই বৈশিষ্ট্য যার নেই, তার যেন ইমানই নেই! যদিও এখানে ইমান সম্পূর্ণ না থাকা উদ্দেশ্য নয়, বরং উদ্দেশ্য ইমানের পূর্ণতা না থাকা তথা ঘাটতি থাকা। অর্থাৎ ইসলামের অন্যান্য বিধান পালনের পাশাপাশি যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ হবে, তার ইমান পরিপূর্ণ হবে, নতুবা তার ইমানে অপূর্ণতা থেকে যাবে। এজন্য হাদিসের কোনো কোনো ভাষ্যে এসেছে_ নবীকে (সা.) প্রশ্ন করা হলো, কোন ইসলাম সর্বোত্তম? অথবা মুসলিমদের মধ্যে কে শ্রেষ্ঠ? এর জবাবে তিনি এ কথাটি বলেছিলেন। এই হাদিস থেকে আরও বোঝা যায় যে, একজন মুসলমানের জানমাল ও সম্মান অলঙ্ঘনীয়, যা অন্য হাদিসের বক্তব্যের সমার্থক। ওই হাদিসে নবী করিম (সা.) বলেন, প্রত্যেক মুসলিমের ওপর অপর মুসলিমের জীবন, সম্পদ ও সম্মান অলঙ্ঘনীয়। -সহিহ মুসলিম হাল সময়ে মুসলমানদের মাঝে নামাজ, রোজা, জাকাত, হজ, জানাজা, কবর জিয়ারত, তাবলিগ, দান-খয়রাত ও ওয়াজ মাহফিল জাতীয় অনুষ্ঠানগুলো পালনের গুরুত্ব দেখা যায়_ মানুষের জানমাল ও সম্মানের নিরাপত্তার গুরুত্ব ততটা আলোচিত হয় না। এজন্য মানুষ পরচর্চা, অন্যকে নিয়ে ঠাট্টা-উপহাস করে, কার্টুন আঁকে, পত্রপত্রিকায় কিংবা বক্তৃতার মঞ্চে নিন্দা করে, গালমন্দ করে। সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো_ এগুলোকে কোনো অপরাধই মনে না করা। ইসলাম মনে করে, অন্যের জানমাল হরণ করে, অন্যের ক্ষতি করে কোনো মানুষ নামাজ-রোজা-হজ পালন করে, তসবি হাতে নিয়ে সমাজে দৃশ্যত ভালো মানুষ সাজতে পারে। ঘুষ খেয়ে, দুর্নীতি করে, জনগণের সম্পদ হরণ কিংবা ধ্বংস করে দানবীর হিসেবে খ্যাতি পেতে পারে; কিন্তু সে প্রকৃত মুসলমান নয়। উপরোক্ত হাদিসটি এটাই আমাদের শিক্ষা দেয়। ইসলামের শিক্ষা ব্যাপক। ইসলামের শিক্ষার একটা বড় দিক জুড়ে রয়েছে মানুষের অধিকার, তাদের জানমাল ও সম্মানের নিরাপত্তার বিষয়। যারা আল্লাহর ভয়ে মানুষকে তাদের জিহ্বা ও হাতের আঘাত থেকে রেহাই দেয়, তারা ইসলামের অন্য অনুষ্ঠানগুলোও যথাযথভাবে পালন করবে_ এটাই অধিক সম্ভাব্য। এর বিপরীতে, ইসলামের বাহ্যিক অনুষ্ঠানগুলো পালন করা অন্তরের পরিচ্ছন্নতার প্রমাণ নয়। এটা ধোঁকা। আলোচ্য হাদিসের শিক্ষা হলো_ ইসলাম শুধু বাহ্যিক আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং ইসলামের শিক্ষা মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক ও লেনদেনের গভীরতম বিষয়গুলোকে স্পর্শ করে। তাই সেভাবে জীবন পরিচালনা করতে হবে। কথা কিংবা কাজের দ্বারা মুসলমানদের কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। যার মধ্যে এই বৈশিষ্ট্য নেই, তার ইমান অপূর্ণ। সেই সঙ্গে কথার ব্যাপারে খুব সতর্ক ও সচেতন হতে হবে এবং ইসলামের বাহ্যিক আচার-অনুষ্ঠানকে যথার্থভাবে আদায়ের চেষ্টার পাশাপাশি অন্তরের অবস্থার দিকেও মনোযোগী হতে হবে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ১৪১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ প্রকৃত মুসলমানের পরিচয়

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...