বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

লাশ

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Deadman (০ পয়েন্ট)



X ঘটনাটি যার সাথে ঘটেছিল তার নাম আহমেদ শাহান।তিনি বর্তমানে মালদ্বীপ থাকলেও একসময় তিনি বাংলাদেশেরই একটি মসজিদের মুয়াজ্জিন ছিলেন।তার জীবনে অনেক ভৌতিক ঘটনা রয়েছে।এখন আমি আপনাদের সাথে তার একটি ঘটনা শেয়ার করছি।তিনি মালদ্বীপ যাওয়ার আগে শেষ যেই মসজিদে মুয়াজ্জিন ছিলেন সেই মসজিদটি ছিল হাইওয়ের সাথে।মসজিদটির সাথে ছিল একটি পুকুর এবং দুইটি কবর।তো ওই মসজিদে যিনি ফজরের নামাজ পড়াতেন তার বয়স ছিল 75+।তার বাসাও ছিল মসজিদ থেকে একটু দূরে।তাই প্রায় সময় তিনি মসজিদে আসতে পারতেন না।তাই আহমেদ শাহানকেই প্রায় সময় ফজরের নামাজ পড়াতে হত।তিনি ফজরের ওয়াক্তের প্রায় পনেরো মিনিট আগে ঘুম থেকে ওঠে পয়-পরিষ্কার হয়ে তারপর আজান দিয়ে নামাজ পড়াতেন।তো এরকম একদিন তিনি ঘুম থেকে ওঠে বাইরে বের হন ফ্রেশ হওয়ার জন্য।তিনি বের হয়ে পুকুরের কাছে গিয়ে দেখতে পান একটি লোক কবর জিয়ারত করছেন।এই বিষয়টা শাহানের কাছে একটু অদ্ভুত লাগে।কেননা ফজরের সময় কেউ সাধারণত কবর জিয়ারত করে না।তবুও তিনি বিষয়টা গুরুত্ব না দিয়ে পুকুরে ওযু করে পেছনে তাকিয়ে দেখেন লোকটা আর নেই।তিনি মনে করেন হয়ত লোকটা মসজিদে ঢুকেছে।কিন্তু মসজিদে কাউকে তিনি দেখলেন না।এইভাবে প্রায় প্রতিদিন শাহান এই লোকটাকে একই ভাবে দেখতেন কবর জিয়ারত করতে।একদিন শাহান ফজরের সময় মসজিদের দরজা খুলে বাইরে বের হতেই দেখেন ওই লোকটা দরজার সামনে দাড়িয়ে আছে।লোকটা খুব জোরে সালাম জানাল।শাহান সালামের উত্তর দিল।তখন ওই লোকটা শাহানকে একটি কবর জিয়ারত করতে request করে।কিন্তু শাহান তাকে বলে এখন সে পারবে না ফজরের নামাজের পরে করতে পারবে।লোকটা রাজি হয়।কিন্তু শাহান ওযু করে এসে তাকে আর পায় না।এভাবে কয়েকদিন চলল।একদিন হঠাৎ করেই শাহানের ঘুম ভেঙে যায়।সে মনে করে ফজরের সময় হয়ে এসেছে।মসজিদের দরজা খুলে বাইরে বের হতেই দেখতে পান ওই লোকটা দাড়িয়ে আছে।লোকটার শরীরের গঠন ছিল খুবই সুন্দর,চোখে সুরমা দেওয়া ছিল,পাঞ্জাবী পরিহিত ছিল।লোকটি তখন শাহানকে একটি লাশের জানাজা পরার আর্জি জানায়।শাহান চিন্তা করতে থাকে কাছাকাছি তো কারো মৃত্যু সংবাদ পায় নি বা কারো মৃত্যু সংবাদ তাকে এনাউন্স করতে বলা হয়নি।এখানে বলে রাখা ভালো কাছাকাছি কারো মৃত্যু হলে তিনি মৃত্যু সংবাদ এনাউন্স করতেন।এছাড়া তিনি বাইরে কোনো লাশ দেখতে পাচ্ছিলেন না।তখন তিনি লোকটাকে লাশ কই এই কথা জিজ্ঞেস করে।লোকটা তখন শাহানকে সিঁরির দিকে তাকাতে বলে।তাকিয়ে দেখতে পায় আসলেই সেখনে একটি লাশ কাফনের কাপর দিয়ে ঢেকে রাখা আছে।শাহান কি মনে করে লোকটাকে বলে যে সে এই লাশের জানাজা পড়বে না।তখন লোকটা বলে এই লাশের জানাজা তাকে পরতেই হবে নয়ত লাশের চেহারা দেখতে হবে।কিন্তু শাহান তাকে স্রেফ জানিয়ে দেয় সে জানাজাও পড়বে না এবং লাশের চেহারাও দেখবে না।এই নিয়ে দুজনের মধ্যে কিছুক্ষন কথা চলে।শাহান কোনোমতেই লাশের জানাজা পড়বে না।কারণ সে বুঝতে পারছে তার সাহে খারাপ কিছু ঘটতে চলেছে।সে একসময় মনে করে যে সে দৌড়ে ঘরে ঢুকে পড়বে।কিন্তু হঠাৎ সে লক্ষ করল আকাশে অন্ধকার ভাবটা কেটে যাচ্ছে এবং চোখের পলকে সে অন্য কোথাও চলে এসেছে।মানে এতক্ষণ সে মসজিদের সামনে ছিল কিন্তু এখন সে অন্যকোথাও চলে এসেছে।আরো লক্ষ করল তার আশেপাশে শুধু কবর আর কবর।আর সেই লোক তখনো তাকে একটি কথাই বলে যাচ্ছে।কিন্তু শাহান ভাবতে থাকে যা হবার হোক সে এই লাশের জানাজা পড়বে না।সে পেছন ফিরে দৌড়াতে লাগল।আর পেছন থেকে সে শুধু একটি কথাই শুনতে পাচ্ছিল।"আপনি কি জানাজাটা পড়বেন না।"দৌড়াতে দৌড়াতে একসময় ত সে হঁাপিয়ে পড়ে।সে নিচের দিকে তাকিয়ে একটু জিরোতে লাগল।মাথা উঁচু করতেই সে দেখতে পেল সে হাইওয়েতে দাড়িয়ে আছে।সে মসজিদের সামনে গিয়ে দেখল সেই লোক তখনো লাশ নিয়ে দাড়িয়ে আছে।শাহানকে বলল লাশের জানাজা না পড়লে লাশের মুখ দেখতে হবে।শাহান তখন লাশের মুখ দেখতে রাজি হয়।সে প্রথম মনে করে হয়ত লাশটা ওই লোকের হবে নয়ত শাহানের নিজের।কিন্তু তার ভাবনা ছিল ভুল।লাশের মুখ থেকে কাপড় সরাতেই সে দেখল লাশটা আসলে তার দাদার।সে এইটা দেখে খুব ভয় পায়।কারণ তার দাদা অনেক বছর আগেই মারা গিয়েছিলেন।এই লাশ এইভাবে তাকে দেখতে হবে সে কোনোদিনও ভাবে নি।কিন্তু ভয় পেলেও সে জানাজা পড়াতে নারাজ।একসময় ওই লোক তাকে কিছু কথা বলে লাশ নিয়ে চলে যান।শাহান তারাতারি তার ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন।তবে সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো সে মোবাইল ফোনে তাকিয়ে দেখে সময় তখন মাত্র রাত ২:৩০।এর মানে যখন সে ঘুম থেকে উঠেছিল সেই সময়টা ফজরের ওয়াক্তই ছিল না।এরপর সে ঘুমিয়ে পড়ে।ওইদিন সে আর ফজরের আযান কিংবা নামাজ কোনোটাই করতে পারে নাই।আর এই ঘটনার পর থেকে তিনি আর কোনোদিন কোনো মসজিদে কাজ করেনি।।। The End...


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৩৫৬ জন


এ জাতীয় গল্প


Warning: mysqli_fetch_array() expects parameter 1 to be mysqli_result, boolean given in /var/sites/g/golperjhuri.com/public_html/story.php on line 344

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...