বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

জুজু

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Deadman (০ পয়েন্ট)



X ঘটনাটি ১৯৯৪ সালের।ঘটনাটি বলার আগে কিছু কথা বলে নেই।আমরা যখন ছোটোবেলায় খাওয়ার সময় খেতে চাইতাম না এবং বিভিন্ন বায়না করতাম তখন মায়েরা ভয় দেখিয়ে বলত তাড়াতাড়ি খেয়ে নাও নয়তো জুজু আসবে।এই জুজুকে নিয়েই আজকে সত্যি একটা ঘটনা শেয়ার করছি।যার ঘটনা তার নাম অনির্বান।তিনি কোলকাতায়য় চাকুরীরত ছিলেন।একসময় তার প্রমোশন+ট্রান্সফার হয় নর্থবাংলার ডুয়ার্সে।সেখানে সে একটি চা বাগানের ম্যানেজার পদ পায়।দুই-তিন মাস পর সে তার স্ত্রী প্রিয়া এবং তার সন্তানকে সেই চা বাগানে নিয়ে আসে।সেখানে বিরাট বড় এক ব্রিটিশ আমলের বাংলোতে তারা ওঠে।চা বাগানের অফিসে প্রিয়া কত গুলো ভয়ংকর মুখোশ দেখতে পেয়েছিল।একটা মুখোশ তার খুব পছন্দ হয়েছিল।প্রিয়া এই মুখোশটা নিতে চাইলে একজন গার্ড তাকে বলে "মেমসাব এই মুখোশটা একটা অপদেবতা।এইটা নিয়েন না।এইটা নিলে আপনার ঘরে সবসময় একটা না একটা সমস্যা হবে।তো প্রিয়া একজন educated মেয়ে।সে এইসব বিশ্বাস করে না।সে মুখোশটা নিয়ে বাড়ির লিভিং রুমে টানিয়ে রাখল।তো একদিন দুপুরবেলা প্রিয়া তার বাচ্চাটাকে খাওয়ানোর চেষ্টা করছে কিন্তু বাচ্চাটা কিছুতেই খেতে চাইছিল না।একসময় একটু রেগে গিয়েই প্রিয়া বলল "তাড়াতাড়ি খেয়ে নাও নাহলে কিন্তু জুজু আসবে।"এই কথাটা বলার সাথে সাথেই একটা দমকা বাতাস জানালা দিয়ে তাদের বেডরুমে প্রবেশ করল এবং প্রিয়া ফিল করল তার কানে কেউ ফিস ফিস করে বলল "জুজু আসবে...জুজু আসবে...।"এই কথা শুনে প্রিয়া একটু ভয় পায়।কিন্তু পরে মনের ভুল বলে এই বিষয়টাকে গুরুত্ব দেয় না।কয়েকদিন পর আবারো প্রিয়া তার বাচ্চাটা কিছুতেই খেতে চাইছে না,কান্না করছে।তখন প্রিয়া ভয় দেখাতে বাচ্চাটাকে বলল "খেয়ে নাও নয়তো জুজু চলে আসবে।"আবারো সেই দমকা বাতাস ঘরে এল আর এইবার ফিস ফিস না করে একটু clearly প্রিয়ার কানের কাছে বলে "জুজু আসছে...জুজু আসছে...।"এইবার প্রিয়া প্রচন্ড ভয় পায়।বিকেলে অনির্বান বাড়ি ফিরলে প্রিয়া তাকে বলে ওই মুখোশটা সম্পর্কে গার্ডটার বলা কথাটা।অনির্বানও এইসব বিশ্বাস করতে চায় না।প্রিয়া তখন দুপুরবেলা ঘটে যাওয়া ঘটনা বলতে লাগলো অনির্বানকে।ঘটনাটা বলতে না বলতেই তারা দুজনেই শুনতে পায় কেউ উচ্চস্বরে বলে ওঠল "জুজু খাচ্ছে...জুজু খাচ্ছে...।"ঠিক তখনই বেডরুম থেকে একটি গ্লাস ভাঙার আওয়াজ আসে এবং তারা একটি কান্নার শব্দ শুনতে পায়।তারা দুজন দৌড়ে বেডরুমে যায় এবং গিয়ে যেই দৃশ্যটি দেখতে পায় তা দেখার জন্য শুধু তারা কেন মনে হয় কেউই প্রস্তুত থাকবে না।তারা দেখল খাটের পাশে কটের উপর দাড়িয়ে আছে একটা বিভৎস চেহারার প্রাণী।যার মুখের ভেতর ছিল প্রিয়ার বাচ্চার অর্ধেক বডি।প্রাণীটার চেহারাটা ছিল কিঞ্চিত নেকড়ে কিঞ্চিৎ শেয়ালের মত।পা গুলো ছিল লম্বা ও সরু।হাতের নখগুলো ছিল চিকন।সবমিলিয়ে ওর চেহারাটা ছিল ভয়ানক।প্রাণীটা প্রিয়া এবং অনির্বানের দিকে একনজর তাকিয়ে জানালা দিয়ে দৌড়ে বেরিয়ে গেল।আর সাথে নিয়ে বাচ্চাটার মৃত দেহটা।এই দৃশ্য সহ্য করতে না পেরে প্রিয়া এবং অনির্বান দুজনেই senseless হয়ে পড়ল।এই ঘটনার পর তারা দুজনেই খুব ভেঙে পরেছিল এবং তারা কোলকাতায় চলে যায়।এর কয়েকদিন পর প্রিয়া আত্মহত্যা করে।তার আত্মহত্যাটা ছিল খুবই ভয়ানক।আর এই শোক শহ্য করতে না পেরে অনির্বান অনেকটা বলতে গেলে পাগল হয়ে যায়।নিজেকে সবসময় ঘরবন্দি করে রাখে।তবে তার মাঝে ছবি আঁকার একটা জোঁক বসে যায়।সে শুধু একটা ছবিই বিভিন্ন ভাবে আঁকা শুরু করে।আর সেই ছবিটা ছিল জুজুর।।। The End.


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৫৯৩ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...