বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কবিরা গুনাহ পর্ব ৪ (৪নামাজে অবহেলা করা)

"ইসলামিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃ ইমন ইসলাম শুভ (০ পয়েন্ট)



X লেখক ইমাম আয্ যাহাবি আল্লাহ তাআলা বলেনঃ অতঃপর সেই সব নবীর পর এমন উত্তরাধিকারা এল যারা নামাজকে নষ্ট করল এবং কুপ্রবৃত্তির কামনা-বাসনা অনুসারে কাজ করলো তারা অবশ্যই গায় (জাহান্নামের কুপে) তে পতিত হবে। তবে যারা তওবা করে ঈমান আনে ও নেক কাজ করে তাদের কথা ভিন্ন।( সূরা মারিয়াম ৫৯-৬০) । হযরত ইবনে আব্বাস (রা) বলেন নামাজ নষ্ট করার অর্থ এই নয় যে নামাজ সম্পূর্ণভাবে ত্যাগ করেছে ।এর অর্থ হল সময় চলে যাওয়ার পরে নামাজ আদায় করা। হযরত সাঈদ ইবনুল মুসাইব (রা) বলেন এর অর্থ পরবর্তী নামাজের সময় এসে পড়া পর্যন্ত বিলম্বিত করা। যে লোক নামাজ এভাবে বিলম্বিত করে তওবা না করে মারা যায় আল্লাহ তাকে জাহান্নামের গায় নামক কুপে নিক্ষেপের হুমকি দিয়েছে ।এটা জাহান্নামের অত্যন্ত নিচ ও নোংরা গহবরের নাম । সূরা মাউন এর চার পাচ আয়াতে আল্লাহ বলেন সেইসব নামাজীর জন্য ওয়াইল যারা নিজেদের নামাজের ব্যাপারে অবহেলা শিথিলতা করে। অর্থাৎ আলসেমি ও গড়িমসি করে ।হযরত সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস বলেন আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে এই অবহেলা বা শিথিলতা কি ?তিনি বলেন নির্দিষ্ট সময় থেকে বিলম্বিত করা। তাদেরকে নামাজী বলা হয়েছে। কিন্তু উদাসীনতা ও বিলম্বের কারণে তাদের ওয়াইল এর হুমকি দেয়া হয়েছে । ওয়াইল অর্থ আজাবের কঠোরতা ।কারো কারো মতে জাহান্নামের এমন একটি উত্তপ্ত স্থান যেখানে পৃথিবীর সমস্ত পাহাড়-পর্বত ঢেলে দিলোও তার তীব্র দহনে গলে যাবে। তোওবা ও অনুশোচনা সহকারে ক্ষমা না চাইলে নামাজ কাযাকারী নামাযে অলস্য কারীর জন্য এই স্থান বাসস্থান হিসেবে নির্ধারণ করা থাকবে। আল্লাহ অন্য আয়াতে বলেন হে মুমিনগণ তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি যেন তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল না করে ।যারা এ কারণে কাফের হয় তারাই তো ক্ষতিগ্রস্ত( সূরা মুনাফিকুন ৯) এ আয়াতে আল্লাহর স্মরণ বলতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কে বোঝানো হয়েছে। অতএব যে ব্যক্তি ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষেত-খামার এবং পরিবার-পরিজনের প্রয়োজন মেটানোর ব্যস্ততার দারুন যথাসময়ে নামাজ আদায় করে না সে ক্ষতির সম্মুখীন হবে। রাসূল (সা) সালাম বলেছেন হাশরের দিন প্রথমে তার আমলনামা সমুহের মধ্যে নামাজের হিসাব নেওয়া হবে নামাজ সঠিকভাবে আদায় করে থাকলেন পরিত্রাণ পাবে নচেৎ ব্যর্থতা অবধারিত (তিবরানী) আল্লাহ ও অপরাধীদের সম্পর্কে বলবেন তোমাদের কিসে জাহান্নামের নিত করেছে? তারা বলবে আমরা নামাজ পড়তাম না অভাবগ্রস্তকে আহার্য দিতাম না আমরা সমালোচকদের সাথে সমালোচনা করতাম এবং আমরা প্রতিফল দিবস কে অস্বীকার করতাম আমাদের মৃত্যু পর্যন্ত। অতএব সুপারিশকারীদের সুপারিশ তাদের কোন উপকারে আসবে না (সূরা মুদ্দাসসির ৪২-৪৮) রাসূল (সা) বলেছেন মুমিন ও কাফেরদের মধ্যে পার্থক্য নামাজ ত্যাগ করা (মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী) রাসূল (সা)বলেন যে ব্যক্তি আসরের নামাজ ছুটে গেল তার আমল নষ্ট হয়ে গেল। রাসূল (সা) বলেন যে ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ ছেড়ে দিল সে আল্লাহর জিম্মাদারী থেকে বের হয়ে পড়ল। তিনি আরো বলেছেন মানুষের সাথে যুদ্ধ করার জন্য আমাকে আদেশ দেওয়া হয়েছে যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা বলবে আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই এবং নামায ও যাকাত আদায় না করবে। যখন এগুলো করবে তখন ন্যায় সঙ্গত কারণ ছাড়া তাদের জানমাল আমার হাতে নিরাপদ ।তাদেরকে আল্লাহর কাছে হিসাব দিতে হবে (বুখারী ও মুসলিম) নবী (সা) বলেন যে ব্যক্তি পরিপূর্ণ ভাবে নামাজ আদায় করবে বিচার দিবসে তার জন্য নামাজের নুর হবে এবং মুক্তির উপায় হবে ।আর যে ঠিক মত নামাজ আদায় করবে না তার জন্য নামাজ নূর ও নাজাতের উসিলা হবেনা। হাশরের দিন তার ফেরাউন কারুন হামান ও উবাই বিন খালফের হাশর হবে( আহমদ তিবরানী) হাদীসটির ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে কোন কোন আলেম বলেন বর্ণিত চারজন কাফেরের সাথে বেনামাজির হাশর হওয়ার কারণ এই যে নামাজ ছাড়ার কারণ চার প্রকার হয়ে থাকে ।অর্থ উপার্জন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও চাকরি এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যস্ততার কারণে। সম্পদের হেফাজতের ব্যস্ততার কারণে নামাজ বর্জন হলে কারুনের সাথে। রাষ্ট্রীয় ব্যস্ততার কারণে হলে ফেরাউনের সাথে ।প্রশাসনিক ব্যবস্থার কারণে হলে হামারের সাথে। আর ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যস্ততার কারণে নামাজ বর্জন হলে উবাই বিন খালফের সাথে হাশর হবে হযরত ওমর (রা) বলেন নামাজ ত্যাগকারীর ইসলাম প্রদত্ত কোনো সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পাবেনা। ইমাম আহমদ হযরত মুআজ ইবনে জাবাল (রা) থেকে বর্ণিত করেন রাসূল (সা) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ ছেড়ে দেয় তার ওপর আল্লাহপাকের কোন দায়িত্ব থাকে না (আহমদ) হযরত ওমর (রা) তা'আলা বলেন এক ব্যক্তি রসূল (সা) এর নিকট হাজির হয়ে আরজ করলেন ইয়া রাসূলাল্লাহ ইসলামের কোন কাজ আল্লাহর নিকট পছন্দনীয়? তিনি বললেন সময় মত নামাজ আদায় করা। যে ব্যক্তি নামায পরিত্যাগ করল তার কোনো ধর্ম নেই। নামাজ ইসলামের স্তম্ভ। (বায়হাকী) হযরত ওমর (রা) যখন বিশ্বাসঘাতকের আঘাতে আহত হলেন তখন তাকে বলা হল হে আমীরুল মুমিনীন নামাজের সময় হয়ে গেছে। তিনি বললেন হাঁ আমি নামাজ আদায় করব ।যে নামাজ ছেড়ে দেয় তার সাথে ইসলামের কোন সম্পর্ক নেই ।অথ পর তিনি নামাজ আদায় করলেন। অথচ তখনও তার ক্ষতস্থান থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ছিল। হযরত আব্দুল্লাহ বিন শাকিক (রহ) বলেন সাহাবীগণ নামাজ ছাড়া আর কোন আমল ত্যাগ করাকে কুফরি বলে মনে করতেন না। হযরত আলী (রা) কে কোন এক বেনামাজি মহিলা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন যে নামাজ পড়ে না সে তো কাফের (তিরমিজি) হযরত ইবনে মাসউদ (রা) বলেন যে নামাজ পড়ে না তার দিন বলতে কিছুই নেই ।হযরত ইবনে আব্বাস (রা) বলেন ইচ্ছাকৃতভাবে যে এক ওয়াক্ত নামাজ ছেড়ে দেয় আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের সময় তিনি তার প্রতি ক্রুদ্ধ থাকবে (মোহাম্মদ বিন নাসর) রাসূল (সা) বলেন যে ব্যক্তি বেনামাজির রূপে আল্লাহর সাথে মিলিত হবে আল্লাহ্ তাঁর অন্যান্য নেক আমলগুলোকে কবুল করবেন না (তিবরানী) ইমাম ইবনে হাযম (রাহ) বলেন শিরকের পর সবচেয়ে জঘণ্য কবীরা গুনাহ হচ্ছে সময়মতো নামাজ না পড়া ও অন্যায় ভাবে মুমিনকে হত্যা করা ।হযরত ইবরাহীম নাখয়ী (রহ) বলেন যে নামাজ কে ছেড়ে দিল সে কুফরি করল। রাসূল (সা) আরো বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন ওজর সরিও কারণ ব্যতীত দু ওয়াক্তের নামাজে একত্রে পারে সে এক মস্ত বড় কবিরা গুনা সমুহের মধ্যে হতে একটিতে প্রবেশ করল (হাকেম) রাসূল (সা) বলেন বাচ্চা যখন সাত বছরে পদার্পণ তখন তাকে নামাজ পড়তে আদেশ করো ।আর দশ বছরে পদার্পণ করলে নামায পড়ার দারুন প্রহার করো (আবু দাউদ) অন্য বর্ণনায় আছে তার বিছানা পৃথক করে দাও ।ইমাম আবু সুলাইমান খাত্তাবি (র) বলেন এ হাদীস দ্বারা বোঝা যায় বাচ্চা নির্ধারিত বয়সে পৌঁছে নামাজ না পড়লে তার জন্য শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে ইমাম সাফেয়ী (র) এর অনুসারীদের অনেকে এই হাদীসের ভিত্তিতে নিজেদের মত ব্যক্ত করেছেন যে বয়স্ক ব্যক্তিদের ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ ছেড়ে দিলে তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যাবে। তাদের যুক্তি হচ্ছে যেখানে না বেলেক বেনামাজিকে প্রহার করতে বলা হয়েছে সেখানে প্রাপ্ত বয়স্কদের শাস্তি আরো কঠোর হওয়া উচিত । আর প্রহারের হা পর হত্যার চেয়ে কঠোর শাস্তি তো আর কিছুই নেই লেখক ইমাম আয্ যাহাবি ভুল ত্রুটি গুলো ক্ষমা করবেন আল্লাহ হাফেজ


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২৭৫ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...