বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

নিতুর পুতুল

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মাহমুদ (০ পয়েন্ট)



X গল্পঃ নিতুর পুতুল সেবার জন্মদিনে ছোটমামা নিতুকে একটা সুন্দর পুতুল‌ উপহার দিয়েছিলেন। বাচ্চা মেয়ের পুতুল। পুতুলটা দেখতে যা সুন্দর আর কিউট ছিল না! নিতুর খুব পছন্দ হয় পুতুলটা। ছোটমামা ঢাকায় থাকেন। একটা প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করেন। প্রতিবার জন্মদিনে মামা নিতুর জন্য কিছু না কিছু একটা পাঠান। যেমন এর আগেরবার ছোটমামা নিতুর জন্য একটা রিমোট কন্ট্রোল হেলিকপ্টার এনেছিলেন। খুব সুন্দর আর দামি হেলিকপ্টার ছিল। নিতুর খুব পছন্দ হয়। কিন্তু ছাদ থেকে পড়ে ভাঙে যায় সেটা। তারপর নিতুর সেকি কান্না! যাক সেসব কথা। নিতু ছোটমামাকে তাই খুব ভালোবাসে। আর ছোটমামাও... তো খুব অল্প সময়ের মধ্যেই পুতুলটা নিতুর খুব প্রিয় হয়ে উঠে। নিতু সারাদিন পুতুলটার সাথে খেলে, গল্প করে, চুলগুলো আচড়ে দেয়, বেণি করে দেয়। পুতুলটাকে সবসময় কাছে কাছে রাখত নিতু। এমনকি স্কুলে যাওয়ার সময় স্কুল ব্যাগে ঢুকিয়ে সঙ্গে নিয়ে যেত। আব্বু আম্মু তো চিন্তায় পড়ে যায় রীতিমত। মেয়েটার হঠাৎ কি হলো। পুতুলটা কি ম্যাজিক করল। নিতু পুতুলটার একটা সুন্দর নাম দেয়। ‘মিতুল’। নিতুর পুতুলের নাম মিতুল। পুতুলটা সাইজে যেমন পারফেক্ট ছিল, দেখতেই তেমনি সুন্দর আর কিউট ছিল। যে কেউ তার প্রেমে পড়ার জন্য যথেষ্ট। কিন্তু বেশিদিন নিতুর কপালে পুতুলের সুখ টিকল না। একদিন স্কুল থেকে ফিরে নিতু তার পুতুল মিতুলকে কোথাও দেখতে পেল না। সারা ঘর তন্ন তন্ন করে খুজল। কিন্তু কোথাও পেল না। আম্মু তখন রান্নাঘরে ছিল। একদৌড়ে রান্নাঘরে গিয়ে নিতু আম্মুকে জিজ্ঞেস করল - আম্মু আমার মিতুল কই? - আমি কি জানি। (গুরুত্ব না দিয়ে) - তুমি কি কোথাও দেখেছো? - না! - তাহলে কোথায় গেল? - আমি কি করে বলব নিতু? তুমি স্কুলে যাবার আগে কোথায় রেখেছিলে? (ধমকের সুরে) - স্কুলে যাওয়ার আগে আমি মনে হয় টেবিলে রেখেছিলাম। আজ মিতুলকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার খেয়াল ছিল না। (কাদো কাদো কন্ঠে) - ঠিক করে খুজে দেখ মামণি। কোথাও পড়ে আছে নিশ্চয়। ভালো করে খুজে দেখ। কিছু না বলে নিতু আবার দৌড় দিল ঘরে। আমার‌ খুজতে লাগল। টেবিলের উপর, আলমারিতে, খাটের নিচে, ড্রয়ারে, খেলনা রাখার বাক্সে। নাহ কোত্থাও নেই। নিতু সমস্ত বাড়ি খুজে দেখল, বারান্দায়, বাগানেও খুজল। কিন্তু খুজে পেল না। নিতুর মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল। কোথায় গেল আমার মিতুলটা, তাহলে আম্মু কি লুকিয়ে রাখছে?? আবার আম্মুর কাছে গিয়ে ছোট্ট নিতু বলল, - তোমরা আমার মিতুলকে লুকিয়ে রেখেছো তাই না? নিতুর চোখ ছলছল করছে। যেকোনো সময় কেদে ফেলবে। এবং বলতে বলতেই ভ্যাঁ করে কেদে ফেলল। নিতু কাদতে দেখে আম্মু নিতু কাছে এসে চোখের পানি মুছে দিলেন। কোলে তুলে, কপালে আলতো করে এক টা চুমু খেলেন। নিতু একটু শান্ত হল। তারপর বললেন, - আমরা কেন তোমার পুতুলকে লুকিয়ে রাখবো মা? তোমার মিতুলকে নিয়ে আমরা কি করব? কোথাও পড়ে আছে মনে হয়। ভালো করে খুজে দেখলে? - হুম! কিন্তু কোথাও পেলাম না। আমার মিতুলকে চাই। তোমরা আমার মিতুলকে এনে দাও। আবার ভ্যাঁ করে কেদে ফেলল নিতু। সেকি কান্না! কিছুতেই থামছে না, কেউ থামাতেই পারছে না। অন্য কত ধরনের পুতুল যে নিয়ে আসা হলো নিতুর জন্য, কিন্তু নিতুর ওই পুতুলটাই চাই। কিন্তু ওই রকম একটা পুতুল পাওয়া অসম্ভব। ছোট মামকে জানানো ‌হলো। কিন্তু ছোট মামাও জানিয়ে দিলেন, ওইরকম একটা পুতুল ঢাকা শহরে আর একটাও নেই। কি আর করা! পুতুলের শোকে ওইদিন আর কিচ্ছু মুখে দেয়নি নিতু। সারারাত ডুকরে ডুকরে কেদেছিল। এমনকি আব্বু-আম্মুর সাথে রাগে অভিমানে টানা একদিন কথা বলেনি ছোট্ট নিতু। আজ নিতুর জন্মদিন। বিশাল বার্থডে পার্টির আয়োজন করা হয়েছে। সব্বাই এসেছেন। দাদু, দাদি, নানু, বড়মামা, মামি, বড়মামার ছেলে সিয়াম ভাইয়া, ছোটখালামণি, ফুপা ফুপি, ফুপাতো বোন কুমু আপুু, বড়আব্বু, বড়আম্মু, বড়আব্বুর ছেলে রাতুল, ছোটচাচ্চুসহ মোটামুটি পঞ্চাশজন লোক। কিন্তু একজন আসেন নি। ছোটমামা। হ্যাঁ, ছোটমামা আসেন নি। আসলে কি একটা কাজে ছোটমামাকে দেশের বাইরে যেতে হয়েছে। তাই ছোটমামা আসতে পারেন নি। সারাদিন সবার সাথে অনেক হইচই-আনন্দে কেটে গেল। আর নিতু প্রচুর গিফ্ট পেল সবার কাছ থেকে। রাতে সবাই চলে যাওয়ার পর নিতু দেখতে লাগল কে তাকে কি কি গিফ্ট দিয়েছে। বড়মামা একটা সুন্দর লাল রঙের জামা দিয়েছেন। নিতু জামাটা পড়ে দেখল। ওয়াও, দারুন মানিয়েছে ওকে। ছোট খালামণি দিয়েছেন একবক্স চকলেট। একটা খেয়ে দেখল নিতু। উম্ম, খুব টেস্টি মিষ্টি চকলেট। ছোটচাচ্চু, বড়আব্বুর গিফ্টগুলো পড়ে আছে খুলে দেখা হয় নি। কিন্তু একটা গিফ্টবক্স নিতুর নজর কাড়ল। সবগুলোর থেকে আলাদা ছিল গিফ্টটা। এইরকম গিফ্ট তো তাকে কেউ দেয় নি। তাহলে কে দিল এটা? কৌতুহলবসত গিফ্টবক্সটা খুলতে লাগল। একটা চকচকে রেপিং পেপার দ্বারা মোড়া। তার উপর একটা নীল ফিতে বাধা। নিতু গিফটটা খুলে দেখল, ভিতরে আরেকটা ছোট বাক্স। ভিতরে কি আছে তা দেখতে নিতুর আর তর সইছে না। অবশেষে শেষ বক্সটা খুলে যা দেখল তা নিতু কল্পনাও করতে পারে নি। “আরে এ যে আমার মিতুল।” সত্যিই তো এ যে নিতুর হারানো পুতুল মিতুল। আনন্দে আত্মহারা হয়ে নিতু নেচে উঠল। নিতু যেন ঈদের চাঁদ হাতে পেল। “ইয়াহু, হুররে” চিৎকারে সাড়া বাড়ি ভরে গেল। পুতুলটা হাতে নিয়ে পা হতে মাথা অবধি চুমুতে চুমুতে ভরিয়ে ফেলল। ‘এতোদিন কোথায় ছিলি আমার সোনা? হুম? জানিস তোকে আমি কত মিস করেছি?’ নিতুর আনন্দ যে আর ধরে না। পুতুলটার সাথে একটা চিঠিও পেল নিতু। চিঠিটা এরকম– ‘প্রিয় নিতু, ভালো আছো নিশ্চই। আজকের এই খুশির দিনে থাকতে পারলাম না। দুঃখ করোনা মামণি। এর পরেরবার থাকবো কথা দিচ্ছি। তোমার জন্য তাই একটা ছোট্ট উপহার পাঠালাম। কেমন লাগল আমার সারপ্রাইজ গিফটটা? ইতি, তোমার ছোটমামা’ খুব ভালো লেগেছে আমার। নিতু মনে মনে এক হাজারবার ধন্যবাদ জানালো মামাকে... তারপর আবার নিয়ে বসল মিতুলকে। কত্তদিন পর মিতুলকে পেল নিতু। নিতুর আনন্দের আর সীমা রইল না.... লেখকঃ ডিএল মাহমুদ হোসেন


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২৩২ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...