বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সাগরকন্যা কুয়াকাটা ভ্রমণ(শেষ পর্ব)

"ভ্রমণ কাহিনী" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান সাফায়েত হোসেন (০ পয়েন্ট)



X খুব সকাল সকাল আমার ঘুম ভাঙ্গলো।ঘুম ভেঙ্গে দেখি আব্বু,আম্মু,মামি ও ঘুম থেকে উঠেছে।আব্বু বললো তাড়াতাড়ি মুখ ধুয়ে নিতে কারণ জলদি সমুদ্র পাড়ে গিয়ে সূর্যদয় দেখবো আমরা।তাই সবাই মুখ ধুয়ে সমুদ্র পাড়ের দিকে রওনা দিলাম।আমাদের ভ্রমণ সংঙ্গিরা সবাই ই বের হয়েছে সূর্যাদয় দেখার জন্য। সমুদ্রে পৌছানোর পর দেখি সমুদ্র সৈকতে জায়গায় জায়গায় পানি জমে আছে তাই পুরো সৈকত ভেজা।রাতে জোয়ার এসেছিল এই জন্য মনে হয় ভেজা সৈকত।চারিদিকে ভালোভাবে আলো ফোটে নি সময় সকাল ৫টা কি ৬টা হবে।তো সমুদ্রে গিয়ে শুনলাম সূর্যাদয় দেখতে হলে আরো কিছু দূর হাটতে হবে তাই আমরা হাটতে লাগলাম।এর মধ্যে কুয়াকাটার এক স্থানীয় লোক আমাদের বললো যে সূর্যাদয় দেখতে হলে অনেকদূর যেতে হবে আর সূর্য উঠেও গেছে অনেকক্ষণ হলো।কথাটা শুনে মনটা খারাপ হয়ে গেল।শেষ আশা ছিল সূর্যদয় দেখার সেটাও সম্ভব হলো না।আজ তো আমরা চলেই যাবো কুয়াকাটা ছেড়ে তাই আর তো সূর্যদয় সূর্যাস্ত দেখার দেখতে পারবো না। তো মন খারাপ নিয়েই তাও সমুদ্র সৈকতে হাটতে লাগলাম হঠাৎ সমুদ্রের পাশে কিছু গাছের এর মধ্যে দিয়ে সূর্য দেখতে পেলাম।কক্সবাজারে যেমন সমুদ্র সৈকতের পাশে পাহাড় আছে কুয়াকাটায় কিন্তু কোনো পাহাড় নেই।কিছু গাছপালা আছে শুধু সমুদ্র সৈকতের পাশে।আর সেই গাছপালার ভিতর দিয়েই যেন সূর্য উঠতেছে সেই দৃশ্য দেখতে পেলাম যা দেখে অনেক ভালো লাগলো।সূর্যদয় যেটা সমুদ্রের মধ্যে দিয়ে সূর্য উঠে দেখা যায় কুয়াকাটায় সেটা দেখতে না পারলেও গাছপালার মধ্যে দিয়ে যা দেখলাম সেটাও মনকে খুশি করে দিলো। তারপর আরো কিছুক্ষণ হাটাহাটি করতে লাগলাম।আর সকালের দিকে সমুদ্র সৈকতে অনেক ঝিনুক পড়ে থাকতে দেখলাম।তাই আমি স্মৃতি হিসেবে রেখে দেওয়ার জন্য কিছু ঝিনুক কুড়াতে লাগলাম।আর আমার কাছে পলিথিন ছিল তাই আমি ঝিনুক কুড়িয়ে পলিথিন এর মধ্যে রাখছিলাম।আমার মতো আমাদের সাথে বেড়াতে আসো আরো কয়েকজনও ঝিনুক কুড়াতে লাগলো।তো অনেক সকালবেলা কুয়াকাটা সমুদ্রের সকালের সৌন্দর্য উপভোগ করে,সকালের সমুদ্রের মিষ্টি হাওয়ায় শরীর ও মনেকে জুড়িয়ে,ঝিনুক কুড়িয়ে হোটেল এ আবার ফিরে গেলাম সকালের নাস্তা করার জন্য।তো হোটেল এ গিয়ে সকালের নাস্তা করে আবার সমুদ্র সৈকতে গেলাম।আজ চলে যাবো তাই যতটুকু সময় আছি সমুদ্রের কাছাকাছি থাকতে চাই জানি না কবে আবার আসতে পারবো। সমুদ্র সৈকতে এসে পাড়ে দাঁড়িয়ে সমুদ্রের দিকে কিছুক্ষণ দেখার পর মামি আমায় বললো। সরণ চলো সমুদ্রের মধ্যে একটু নেমে পা টা ডুবাই। আমি মামির প্রস্তাবে রাজি হয়ে গেলাম। কিন্তু আব্বু আম্মু রাজি হলো না সমুদ্রে নামতে কিন্তু আমাদের যেতে বললো।তাই আমি আর মামি সমুদ্রের দিকে হাটতে লাগলাম।অবশেষে সমুদ্রের একটু মধ্যে গেলাম।প্যান্টটা গুজে নেলাম যাতে জিজে না যাই।পা একটু ডুবে সেই পরিমাণ ভিতরে গেলাম।যেহুতু সকালে ভাটার সময় তাই ঢেউ গুলো অনেক ছোট ছোট হয়ে আসছিল।তাছাড়া প্রথমবার সমুদ্রে এ নেমেছি তাই কি যে ভাল লাগছের আমার।গতকাল সবাইকে গোসল করতে দেখছি সমুদ্রে কিন্তু নিজে গোসল করতে পারি নি যা আমায় অনেক ব্যথিত করেছে কিন্তু আজ একটুখানি সমুদ্রে নামতে পেরে সকল মন খারাপ,কষ্ট,দুঃখ আমার মাঝ থেলে যেন হাড়িয়ে গেছে।আর সমুদ্রে নামার যে কি অনুভূতি সেটা কখনো বর্ণণা করা সম্ভব না।তো আমি আর মামি সমুদ্রের পানির মধ্যে পা ডুবিয়ে হাটছি আমাদের সাথে আমাদের ভ্রমণসঙ্গী আরো কয়েকজন আছে।সমুদ্রের ঢেউ আমাদের অতিক্রম করে যাচ্ছে আবার চলে আসছে।চলে আসার সময় যেন আমাদের টেনে সমুদ্রের আরো ভিতরে নিয়ে যাচ্ছে ব্যাপারটা আমার কাছে একটু ভীতিকর লাগলো।আমি পা দুটো শক্ত করে দাঁড়িয়ে থাকলাম যেনো পড়ে না যাই।তো কিছুক্ষণ সমুদ্রের পানির মাঝে ঘুড়ে বেরিয়ে আবার পাড়ে চলে আসলাম যেখানে আব্বু আম্মু দাঁড়িয়ে আছে।পাড়ে এসে দেখলাম সৈকতের একজায়গায় সমুদ্রের পানি জড় হয়ে আছে সেখান থেকে কয়েকজন স্মৃতি হিসেবে বোতলের এর মধ্যে সেই পানি ভরে নিচ্ছে।তাই আমিও একটা বোতল নিয়ে গিয়ে সেখান থেকে বোতলে সমুদ্রের পানি নিয়ে নিলাম স্মৃতি হিসেবে।তারপর সমুদ্রের সৈকতে কিছুক্ষণ হাটাহাটি আশেরপাশের দোকানগুলো আবারো ভালোভাবে দেখতে দেখতে ঘড়ির কাটায় সময় হয়ে গেলো সকাল দশটা।আর এই সময় আমাদের যারা ভ্রমণটা আয়োজন করেছে তারা সবাইকে হোটেল থেকে সব জিনিষপত্র নিয়ে বাসে উঠতে বললো কারণ এখন আমরা চলে যাবো কুয়াকাটা থেকে।এরমধ্যে বাস ও ঘুড়িয়ে নিয়ে আমাদের যাবার দিকে করে রেখেছে ড্রাইভার।চলে যাওয়ার কথা শুনে মনটা খারাপ হয়ে গেল আমার।কিন্তু চলে তো যেতে হবে কারণ সারাজীবনের জন্য তো আসি নি আমরা।তাই বিষন্ন মন নিয়েই হোটেল এ গিয়ে আমরা সবকিছু গুছিয়ে নিয়ে বাসে রেখে দিলাম।এখন ড্রাইভার আর হেল্পার আরো সব প্রয়জোনীয় জিনিষপত্র বাসে লোড করতে লেগে গেলো।এই জন্য কিছুটা সময় লাগবে তাই এই ফাকে অনেকে শেষবারের মতো সমুদ্র দেখতে গেলো তাই আমরাও গেলাম সমুদ্র দেখতে। সমুদ্রের পাড়ে বসে আছি দৃষ্টি আমার সমুদ্রের সেই ছোট ছোট ঢেউ এর দিকে।সমুদ্রের ঠান্ডা বাতাস গায়ে দোলা দিচ্ছে।মনটা অনেক খারাপ হয়ে আছে।শুনেছি সমুদ্রের কাছে গেলে সমুদ্র মানুষকে টানে যার ফলে সমুদ্র কে ছেড়ে যেতে খারাপ লাগে ঠিক তেমনই আজ আমার সমুদ্রকে ছেড়ে যেতে খারাপ লাগছে।শুধু আমি না আমাদের সবারই খারাপ লাগছে কিন্তু সেই কথা কেউ আমরা প্রকাশ করছি না।চলে যাবার কষ্টটা সবার মনে জমা হচ্ছে।কুয়াকাটা সমুদ্রে এসে সূর্যদয় ও সূর্যস্ত কিছুই দেখার সৌভাগ্য হয় নি আমার কিন্তু এই একদিনে সমুদ্র আমায় যা দিয়েছে সেটা কখনো আমার স্মৃতি থেকে হাড়িয়ে যাবে না।জানি না আবার কবে আসবো সমুদ্রে তাই কিছু ঝিনুক আর সমুদ্রের পানি স্মৃতি হিসেবে নিয়ে যাচ্ছি।মনে মনে বলছি আবার আসিবো ফিরে এই সমুদ্র সৈকতের তীড়ে।হঠাৎ এর মধ্যে আমাদের ডাক পড়লো।সব যাত্রিরা হোটেল থেকে এসে পড়েছে অনেকে গাড়িতে উঠে গিয়েছে। সকল মালপত্র বাসে লোড করাও হয়ে গিয়েছে।তাই আমরাও বাসে উঠে গিয়ে নিজ নিজ সিটে গিয়ে বসে পড়লাম। ঘড়িতে সময় এখন বেলা ১১টা।সকল যাত্রি বাসে উঠে পড়েছে।কুয়াকাটা ছেড়ে বাস এখন রওনার দেওয়ার মূহুর্তে।আমি জানালা দিয়ে সমুদ্রের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি।আমাদের বাস রওনা দিলো ধীরে ধীরে।বাস উত্তরের দিকে যাচ্ছে আর আমার দৃষ্টি থেকে হাড়িয়ে যাচ্ছে দক্ষিণ দিকের সেই সাগরকন্যা কুয়াকাটা।যতদূর দেখা যায় তাকিয়ে থাকলাম সমুদ্রের দিকে।একসময় দৃষ্টি থেকে হাড়িয়ে গেলো কুয়াকাটা।আরি আমিও পথ চলতে লাগলাম কুয়াকাটা সমুদ্রের কিছু স্মৃতি আর অজানা এক আশা নিয়ে যেই আশা আবার ফিরিয়ে নিয়ে আসবে আমায় সাগকন্যা কুয়াকাটায়। [কুয়াকাটা থেকে ফিরার পথে আমার বাসা রাজশাহী তে সরাসরি না এসে আরেকটা জায়গায় রাতের দিকে কয়েক ঘন্টার জন্য ঘুরছিলাম।সবাই চাইলে সেই ভ্রমণটাও লিখতে পারি একসময়।]


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২৬৮ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...