বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সাগরকন্যা কুয়াকাটা ভ্রমণ(পর্ব৬)

"ভ্রমণ কাহিনী" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান সাফায়েত হোসেন (০ পয়েন্ট)



X বৌদ্ধ মন্দির থেকে পড়ন্ত বিকেলে কুয়াকাটা সমুদ্রে আবার আসলাম।বিকেলে সমুদ্রে এসে তো পুরো পরিবেশটা যেন পাল্টে গেল।আমরা দেখলাম সমুদ্র এ অনেক মানুষ।কিছু ছেলে ফুটবল খেলছে সমুদ্র সৈকতে।যেহুতু বিকেলের দিকে ভাটার সময় তাই কোনো সমস্যা নাই।তাই এই জন্য সবাই ঘুরছে সমুদ্র সৈকতে।সকাল আর দুপুরে যেখানে কুয়াকাটা সমুদ্রে তেমন মানুষই ছিল না আর যেমনি বিকেল হলো সমুদ্র যেন তার প্রাণ ফিরে পেল।সত্যি ব্যাপারটা আমার কাছে চমকপ্রদ লাগলো।তো আমরা সমুদ্র সৈকতে এবার হাটাহাটি করতে লাগলাম।সৈকতে এখন চটপটি,ফুচকার দোকানও বসেছে অনেক লোকজন সেইসব দোকানে ভিড় করছে।আমরা একটুপর দুইজন রাখাইন যুবক যুবতি ও দেখলাম যারা সমুদ্র সৈকতে ঘুরছিল যা দেখে অনেক ভালো লাগলো।আর আমরা এখন অনেক উত্তেজিত হয়ে আছি সূর্যাস্ত দেখার জন্য।সকালে সূর্যদয় দেখার সৌভাগ্য হয় নি তাই সূর্যাস্ত দেখার জন্য আমরা অধির আগ্রহী। কিন্তু আমাদের আগ্রহ টা মনেই রয়েই গেলো মনে হচ্ছে না পূরণ হবে কারণ হঠাৎ আকাশ অনেক কালো হয়ে গেলো।মনে হচ্ছে ঝড় উঠবে।এই জন্য টুরিস্ট পুলিশ খুব তাড়াতাড়ি সকল পর্যাটক দের সমুদ্র সৈকত থেকে হোটেল এ চলে যেতে বললো।আমরাও তাই হোটেল এর দিকে রওনা দিলাম।আকাশের চেহারা দেখে সত্যি মনে ভয় চেপে বসলো।ভয় তো হবেই কারণ ঝড় তো সমুদ্র থেকেই সৃষ্টি হয় তাই এখন যদি বড় কোনো ধরনের ঝড় হয় তাইলে তো অনেক সমস্যার।তাই নিজেদের সুরক্ষার জন্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমরা হোটেল এ ফিরে এলাম।হোটেল এ এসে আমাদের রুমে এসে বসলাম।জানালা দিয়ে যেহুতু সমুদ্র সৈকত সুন্দরভাবে দেখা যায় তাই আমি জানালা দিয়ে সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে দেখলাম আকাশ অনেক কালো হয়ে আছে আবার এর মধ্যে ঝুম ঝুম করে সেই জোড়ে বৃষ্টি পড়তে শুরু করলো।আর সমুদ্র সৈকতে সতর্কতা হিসেবে লাল রং এর পতাকা টাঙ্গিয়ে রাখা হয়েছে। কিছুক্ষণ ঘরে বসে বৃষ্টি দেখার পর এবার আমি হোটেল রুম থেকে বের হতে দেখি আমাদের ভ্রমণ সংঙ্গি কিছু মানুষ মহিলা বেশি হবে তারা বারান্দায় বসে সমুদ্রের দিকে দেখছে।বলে রাখি আমাদের হোটেলের দ্বিতিয় তলায় আমি যেই রুমে আছি তার দক্ষিণে একটা বেলকুনি আছে আর বেলকুনিটা তেমন একটা বড় না। তো যাই হোক এবার আমিও বারান্দায় গিয়ে অন্যদের মতো সুমুদ্রের দিকে তাকালাম।তাকিয়ে দেখি ঘন কালো মেঘ সমুদ্রের উপর জড় হয়ে আছে যা দেখে যে কারো মনে একটা ভীতি সৃষ্টি হবে।যেমন আমার মনেও ভীতি সৃষ্টি করেছে।তাছাড়া বৃষ্টি তো হয়েই যাচ্ছে।একটা দিক দেখে একটু স্বস্তি পেলাম যে এত কালো মেঘ জমেছে দেখে মনে করেছিলাম ঝড় হবে কিন্তু আসলে বৃস্টি হচ্ছে।সমুদ্র এলাকায় এসে বৃস্টি দেখার আসলে মজাই আলাদা।বৃষ্টি তো সারাদেশেই হয় কিন্তু সেই বৃষ্টিটা আমরা সাধারণ ভাবেই দেখি কিন্তু যখন প্রকৃতির কোনো অপার সৌন্দর্যের কাছে আমরা ছুটে যাই তখন যদি বৃষ্টি পড়ে তাহলে সেই বৃষ্টি আর মনে সাধারণ ভাব নিয়ে থাকে না সেটা হয়ে যায় অসাধরণ কিছু।আমার কাছেও এখন বৃষ্টিটা অসাধরণ লাগছে। তো বেলকুনিতে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ সমুদ্র দেখে আবার ঘরে আসলাম।ঘরে এসে কিছুক্ষণ সুয়ে বসে থাকলাম।অবশেষে বৃষ্টি থামলো সন্ধ্যার পর।সূর্যাস্ত দেখাটাও আর হলো না।ঘন কালো মেঘের মাঝে সূর্য কিভাবে ডুবে গেছে আমরা জানি না।কুয়াকাটার আসল যে সৌন্দর্য সূর্যদয় ও সূর্যাস্ত কিছুই দেখা হলো না।অবশ্য কাল সকালে সূর্যদয় দেখার আরো একটা শেষ সুযোগ আছে।যেহুতু কাল আমরা কুয়াকাটা থেকে চলে যাবো তাই যদি সূর্যদয় দেখার শেষ সুযোগটাও আবার হাতছাড়া হয়ে যায় তাইলে একটা অপূর্ণতা নিয়েই আমাদের কুয়াকাটা ছাড়তে হবে। তো এবার এসব অপূর্ণতার কথা মন থেকে সড়িয়ে আমরা আবার সন্ধ্যার দিকে হোটেল থেকে বের হয়ে সমুদের পাশের সব দোকানে ঘুরতে লাগলাম।সব দোকানে আলো জ্বলছে যা দেখতে অনেক সুন্দর লাগছে।রাতের বেলায় যেন এলাকাটা আরো সুন্দর লাগছে।চারিদিকে যেন আলো মেলা বসেছে।আর সমুদ্র এলাকার দোকান গুলোও অনেক সুন্দর।আর আমরা আবার শুটকির দোকানগুলোতে গেলাম।আব্বু কিছু শুটকি মাছ কিনলো।মাছ কিনার পর আমরা এবার উত্তরের দিকে কিছু দোকান একটু দূরে জামাকাপড় তাছাড়া পায়ের কিছু স্যান্ডেল কিনার জন্য গেলাম।সেখানে একটা দোকানে যাওয়ার পর দোকানদার আমাদের সবাইকে একটা করে চকলেট দিলেন।যা দেখে আমি অনেক অবাক হয়েছিলাম কারণ কাপড়ের দোকানে যাওয়ার পর কোনো দোকানি এভাবে ক্রেতাদের চকলেট খাওয়াবে আমি তা ভাবি নি।সত্যি দোকানদারে এই ব্যাবহার আমার খুব ভালো লাগে।এই ঘটনা আমার সারাজীবন মনে থাকবে। তারপর কিছুক্ষণ কেনাকাটা করার পর আমরা রাত ৮ কি ৯টার দিকে আবার হোটেল এ ফিরে আসলাম।হোটেল এ এসে রাতের খাবারের পর সবাই যে যার রুমে চলে এলাম।রুমে এসে একটু আব্বু,আম্মু,মামির সাথে কিছুক্ষণ গল্পগুজব করে রাত ১০ টা কি ১১টার দিকে ঘরের লাইট বন্ধ করে সবাই ঘুমানোর জন্য বিছানায় শুয়ে পড়লাম। কুয়াকাটা ভ্রমণের বাকি অংশ জানতে শেষ পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৪৪৮ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...