বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সাগরকন্যা কুয়াকাটা ভ্রমণ(পর্ব৩)

"ভ্রমণ কাহিনী" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান সাফায়েত হোসেন (০ পয়েন্ট)



X সকাল সকাল আমার ঘুম ভাঙ্গলো।ঘুম থেকে জাগা পেয়ে দেখি অন্ধকার দূর হয়ে সকালের আলো ফুটেছে।তার মানে কিছুটা হলেও ঘুমিয়েছি আমি।আর এখন সময়টা সকাল সাড়ে ৫টার মত হবে।তখন ও আমরা বাসেই আছি।বাস চলছে কুয়াকাটার উদ্দেশ্যে।সারারাত জাগা ভোররাতের দিকে হালকা ঘুম শরীর টাও ক্লান্ত কিন্তু এখনো কুয়াকাটা পৌছাই নি।তাই কিছুটা বিরক্ত আমি।কখন যে কুয়াকাটা পৌছাবো।আব্বুর আমায় বললো আমরা এখন পটুয়াখালিতে আছি আর কিছুক্ষণ পর আমরা কুয়াকাটায় পৌছাবো।আব্বুর মুখে এই কথাটি শুনে একটু খুশি হলাম।তারপর জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে মুগ্ধতায় ভরে গেলাম কারণ পটুয়াখালি তে আশার পর প্রকৃতির সৌন্দর্যে যেন আরো বেরে গেছে।চারদিকে নদ নদী,পুকুর তার পাশ দিয়ে রাস্তা।নতুন তৈরি করা অনেক ব্রিজ ও দেখতে পেলাম যা নদীর উপর দিয়ে আমাদের নিয়ে যাচ্ছে।আবার দেখতে পেলাম ধানের ক্ষেতের সবুজের সমরোহ যা বাংলার আসল সৌন্দর্যটা কে আমাদের সামনে তুলে ধরছে।সত্যি আমার জন্মভূমি বাংলাদেশটা যে কত সুন্দর তা জানতে সময় করে একটু ভ্রমণে বের হওয়া সবার দরকার।তো পটুয়াখালির সৌন্দর্য দেখতে দেখতে ঘড়ির কাটায় যখন সাতটায় তখন আমারা অবশেষে প্রায় ১৪ ঘন্টা জার্নি করে আমাদের কাঙ্খিত জায়গা কুয়াকাটায় পৌছালাম।প্রথমে আমি বুঝতে পারি নি যে এটা কুয়াকাটা।আসলে বাস এসে থামার পর দেখলাম চারিদিকে অনেক দোকানপাট তারপর হঠাৎ দক্ষিণের দিকে চোঁখ পড়লো বাসের জানালা দিয়ে।আমি দেখলাম প্রথমবার কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত।এটাই তো সমুদ্র যার কোনো সীমা নেই।অসীম ধারায় বয়ে চলছে এই সমুদ্র যা প্রথম দূর থেকে দেখে কাছে না গিয়েই মুগ্ধ হয়ে গেছি।দেখলাম সমুদ্রের ঢেউ এগিয়ে আসছে সৈকতে আবার ফিরে যাচ্ছে।আর তখন সময়টা ছিল ভাটার তাই সমুদ্রের ঢেউ ও ছিল ছোট ছোট।তো এবার আমরা প্রথমেই সমুদ্রে না গিয়ে আগে হোটেল খুজতে গেলাম।তারপর সবাই গিয়ে সমুদ্রে দেখবো,ঘুরবো।তো ভ্রমণ আয়োজনকারি ছিল যারা তারা আমাদের নিয়ে একটা হোটেল এর কাছে গেলো।হোটেল এর ম্যানেজার এর সাথে কথা বলে সেই হোটেলটি ঠিক করা হলো।হোটেলটি ছিল দোতালা।আর হোটেলটা মোটামুটি তেমন ভালোও না আবার খারাপ ও না।সবচেয়ে ভালো বিষয়টি হচ্ছে হোটেলটা সমুদ্রের একটু কাছেই।তো হোটেল ঠিক করার পর সব যাত্রিরা তাদের রুমে যেতে লাগলো।বলে রাখি আমরা আসছি এমন সময়ে যে এটা আসলে কুয়াকাটায় আসার মৌসুম ছিল না।তাই দর্শনার্থী সংখ্যা অনেক কম।ফলে হোটেলটিও ফাকা এবং আমাদের হোটেল পেতেও অসুবিধা হয় নি।তো হোটেল এ আমাদের রুমটা পড়লো দোতালার উত্তর দিকের কোণার রুমটা।রুমে গিয়ে দেখলাম রুমের সাথেই বাথরুম আছে,দুটো খাট,টিভি,জামাকাপড় রাখার আলনা,আর বাথরুমে ঝর্ণা সব মিলিয়ে রুমটা খারাপ না।রুমটার সবচেয়ে ভালো দিকটা আমার কাছে লাগলো তা হচ্ছে রুমের জানালা দিয়ে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত সুন্দর ভাবে দেখা যাচ্ছে। এভার এই হোটেল রুমে এসেই আমার মনে জমে থাকা গতরাতের সেই রহস্যের সমাধান পেলাম।আব্বুকে বললাম গত রাতে আমাদের বাস অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিল কেন?তাছাড়া বাসের পাশে অন্যান্য কিছু ট্রাক ও দাঁড়িয়ে থাকতে দেখছিলাম এর কারণ কি?আব্বু আমায় বললো যে আমরা রাতে তখন ফেরিতে করে বরিশাল থেকে পটুয়াখালি পার হচ্ছিলাম।বরিশাল থেকে পটুয়াখালি যেতে হলে একটা নদী পার হতে হয়।সেই নদীটাই বরিশাল আর পটুয়াখালি জেলাকে পৃথক করেছে।আব্বুর থেকে এই কথা শোনার পর আমি অনেক অবাক হলাম।কারণ একটা নদীর বুকের উপর দিয়ে আমরা বাস নিয়ে পার হচ্ছিলাম এটা আমি একটুও বুঝতে পারলাম না।তো আব্বু আমায় আবার বললো ফেরার পথে আবার ফেরিতে করে সেই নদী পার হতে হবে তখন আর রাত থাকবে না।আমরা এরপর দিনের বেলায় ফেরিতে করে পার হবো নদীটি।এই কথা শুনে আমিও মনে মনে খুশি হলাম কারণ যাক তাইলে আরেকবার ফেরি ভ্রমণ এর মজা পাওয়া যাবে।তারপর হোটেল রুমে সবাই ফ্রেশ হয়ে সবাই আমরা হোটেল থেকে বের হয়ে কুয়াকাটা সমুদ্রের দিকে যেতে লাগলাম। চলবে...............


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১৩ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...