বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অনুভবে শুধু তুমি♥ (পর্ব-৮)

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Ariya Ibnat (০ পয়েন্ট)



X অনুভবে শুধু তুমি♥ part:8 writer:Tuba Rubaiyat ♦♦ গভীর রাত।রাত প্রায় ২ টার কাছাকাছি।আকাশে বড় একটা চাঁদ উঠেছে।এখন পুর্নিমা তাই চাঁদ টাকে থালার মতো দেখাচ্ছে।চাদের চারপাশে হাজার তারারা চাঁদ কে ঘিরে রেখেছে।।যেন হাজার সৈন্য তাদের রানীকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে।।ঝি ঝি পোকার ডাক কানে বাজছে।।সবাই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন।গ্রামে মানুষ ৮-৯টার সময়ই ঘুমিয়ে পড়ে।।ছাদের এক কোনায় রেলিং ধরে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে তীব্র।পুরো গ্রাম টাকে একটা নিস্তব্ধ ঘুমন্তপুরীর মত লাগছে তীব্রর কাছে।।অনেক্ষন ঘুমানোর চেষ্টা করেও ঘুম আসছেনা।।তাই ছাদে চলে এসেছে।কাল সকালেই নিজেদের গন্তব্যে রওনা করবে।।তোহার কথা মনে পড়ছে খুব।আর কি কখনো দেখা হবে ওর সাথে??তোহাকে এখন খুন করে ফেলতে ইচ্ছে করছে।।কেন এত জ্বালাচ্ছে তীব্রকে??তীব্র ঘুমাতে পর্যন্ত পারছেনা।।তীব্রর খুব ইচ্ছে করছে নিজের অনুভুতি গুলো সব বলে দিতে তোহাকে।।তোহা কি একটু ও বুঝবেনা তীব্রকে??তোহা কি ফিরিয়ে দেবে ওকে??যদি তোহা ফিরিয়ে দেয় তখন কি করবে??তোহার থেকে দূরে যাওয়াটাই মানতে পারছেনা তাহলে ওকে ছাড়া থাকবে কি করে??একে একে তোহার সাথে কাটানো সময় গুলো মনে পড়ছে।।সেই প্রথম দেখা,একসাথে ভোরবেলা হাটা, নদীর পাড়ের সেই স্মৃতি গুলো,সব।।এই গভীর রাতের অন্ধকার আকাশ টাকে চাঁদ যেমন তার রুপালি আলো দিয়ে আলোকিত করেছে ঠিক তেমনি তোহা ওর জীবনে এক টুকরো আলো হয়ে এসে ওকে রাঙিয়ে দিয়েছে।।খুব ভালোবেসে ফেলেছে তোহাকে।। ♦♦ তোহা বিছানায় শুয়ে এপিঠ ওপিঠ করছে কিন্তু ঘুমেরা আজ কিছুতেই চোখে ধরা দিচ্ছেনা।।হয়ত আজ ঘুম আসবেনা।।কোন এক অদ্ভুত শুন্যতা ঘিরে রেখেছে।।বালিশের পাশ থেকে ওড়না টা নিয়ে গায়ে জড়িয়ে ছাদের দিকে হাটা দিলো।।ছাদে এসেই একটা ছায়ামূর্তি দেখে দাঁড়িয়ে গেল।।ছাদের রেলিং ঘেসে কেউ একজন উল্টো দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে।।তোহা তার দিকে এগিয়ে গেল।। চাদের আবছা আলোতেও মানুষ টাকে চিনতে এক্টুও কষ্ট হয়নি তোহার।। তীব্র তোহার দিকে না ফিরেই বলে উঠল,,,, "এত রাতে ছাদে কি করছো??ঘুমাওনি??" "আপনি আমার দিকে না তাকিয়েই কিভাবে বুঝলেন যে এটা আমি??"(অবাক হয়ে) তীব্র মুচকি হেসে বলল,,, "কিছু কিছু মানুষের আশেপাশে থাকলে এমনিতেই বোঝা যায়।।কিছু মানুষের উপস্থিতি দেখে বুঝতে হয়না!" "মানে??" "কিছুনা।বাদ দাও।।ঘুমাওনি কেন??" "ঘুম আসছেনা!" তোহা আবার জিজ্ঞেস করল,,, "আপনি এখানে কি করছেন??" "আমার ও আসছেনা ঘুম!" "ওহ!!আজকের চাঁদ টা খুব সুন্দর তাইনা??" তীব্র তোহার দিকে তাকিয়েই আনমনে বলল,, "হুম খুব সুন্দর!" তোহার অস্বস্তি হচ্ছে বুঝতে পেরে তীব্র অন্যদিকে তাকিয়ে বলল,, "যাও ঘুমিয়ে পড়।।কাল যেহেতু জার্নি করতে হবে সেহেতু ঘুম না হলে শরীর খারাপ করবে।।" তোহা হেসে বলল,,, "সেটা আপনার জন্য ও প্রযোজ্য। " "খুব চালাক হয়ে গিয়েছো!" "সে তো আমি আগে থেকেই!" তোহা চলে যেতে নিলেই তীব্র পেছন থেকে আটকালো তোহাকে।। "তোহা!"(একেবারে স্লো ভয়েসে) "হুম??" "তোমাকে কিছু বলার ছিলো!" "বলুন, "I love you Toha" "কি??" "সেই প্রথম দিন থেকেই তোমার মায়ায় জড়িয়ে গেছি।।জানিনা কবে কিভাবে তোমাকেই চেয়ে ফেলেছি ।।তোমার সাথে দেখা হওয়ার পর থেকে প্রতিটা মুহুর্ত আমি শুধু তোমাকেই ভাবি।আমার মাথায় আর কিছু আসেনা তুমি ছাড়া।।তোমার বাচ্চামো,তোমার রাগী ফেস,তোমার মিষ্টি হাসি,তোমার পরোপকারিতা সব কিছুই ভালো লাগে আমাএ কাছে।।এই কদিনে আমার জীবনটা তুমিময় হয়ে গেছে।।আমি জানিনা এই অনুভুতি গুলোর নাম কি??,কারন এই অনুভুতি গুলোর সাথে আমি একেবারেই অপরিচিত।।এর আগে কখনো কারো প্রতি এমন ফিলিংস আসেনি।।আমি তোমাকে কতটা ভালোবাসি আমি জানিনা কিন্তু আমি এটা জানি "আমার অনুভবে শুধু তুমি♥আছো।।আমার প্রতিটা মুহুর্তে তোমাকে চাই,,প্রতিটা নিঃশ্বাসে তোমাকে চাই,জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তোমার হাতে হাত রেখে চলতে চাই।।তোমার মাঝে নিজেকে হারাতে চাই,,তোমার টোলপড়া গালের মিষ্টি হাসিতে বারবার ডুবতে চাই।।আমার শুধু তোমাকে চাই তোহা।আই লাভ ইউ সো মাচ তোহা!!আই ওয়ান্ট ইউ,,,উইল ইউ বি মাইন?? তোহা এতক্ষন চুপ থাকলে ও এবার ঝাপিয়ে পড়ল তীব্রর বুকে।।তীব্রর ঠোটের কোনে ফুটে উঠল এক চিলতে তৃপ্তির হাসি।।এ হাসি কোন কাঙ্খিত কিছু পাওয়ার আনন্দের।। ♦ কেটে গিয়েছে অনেক গুলো দিন,,,, তোহার এইচএসসি এক্সাম শেষ হয়েছে।।তোহার পড়ালেখার বিষয় এ তীব্র অনেক হেল্প করে ।। তোহা মেডিকেল এ পড়তে চায় তাই এডমিশন কোচিং ও ভর্তি হতে হবে।।তোহা রেটিনার ফার্মগেট শাখায় ভর্তি হয়ে গেল।।চারদিন পর থেকে ওদের কোচিং শুরু হবে।। অন্যদিকে,, গ্রাম থেকে আসার পর আর রোহান, নাফিসা ওদের কারো সাথেই কোন যোগাযোগ নেই।।প্রতিদিনের হাজারো ব্যস্ততায় হয়ত কারোকথা কারো মনেও নেই।। নাফিসার বাবা সরকারি চাকুরীজীবী। সম্প্রতি তাকে ঢাকা বদলি করা হয়েছে।।নাফিসাদের পরিবার ও সেখানে চলে গেছে।।।নতুন বাসায় জিনিসপত্র সব নিয়ে আসা হলো।।একেবারে নতুন জায়গা,নতুন পরিবেশ।।সব অপরিচিত।।নাফিসার কিছুই ভালো লাগছেনা এসব।। একদিন বিকেলবেলা নাফিসা বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে।।ওদের সামনের বাসায় একটা ছোট ছেলে লুঙি পড়ে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আছে।ছেলেটার মনে হয় সুন্নতে খতনা করা হয়েছে তা না হলে এত ছোট ছেলের লুঙ্গী পড়ার কথা না।।ছেলেটা লুঙ্গী খুলে যাওয়ার ভয়ে লুঙ্গি ধরে দাঁড়িয়ে আছে।।ছেলেটাকে দেখে নাফিসার দাদুবাড়িতে রোহানদের সেই লুঙ্গীর কান্ড গুলো মনে পড়ে গেল।।মনে পড়তেই নাফিসা ফিক করে হেসে দিলো।।কত্ত বোকা ছিলো রোহান!! নাফিসা বারান্দার গ্রিল ঘেষে দাঁড়িয়ে এসব ভাবছিলো।।হঠাৎ একটা বল এসে নাফিসার কপালে লাগল।নাফিসার কপাল টা ফুলে গেছে।নাফিসা তাকিয়ে দেখলো দূরে কয়েকটা বাচ্চা ক্রিকেট খেলছে।।নাফিসার মেজাজ তখন মাউন্ট এভারেস্ট এর চূড়ায়।নাফিসা বলটা হাতে নিয়ে নেমে এল।।বাচ্চাগুলোর কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলো,,,, "এই বলটা কে ছুড়েঁছে??" একটা ছোট ছেলে বলল,, "ভাইয়া তখন ব্যাটিং করেছিলো।" "কোন ভাইয়া?" বাচ্চাটা একটা ছেলেকে দেখিয়ে দিলো।।ওদের থেকে একটু দুরেই একটা বড় ছেলে বল খুজছিলো।।অন্যদিকে ফিরে থাকায় চেহারা বোঝা যাচ্ছেনা।।ওই ছেলেটা বল মেরেছে শুনেই নাফিসার মাথা গরম হয়ে গেল।।বাচ্চারা হলে ও কিছু বলত না।।কিন্তু বড় কেউ মেরেছে এটা মেনে নেওয়া যায়না।।নাফিসা ছেলেটার দিকে এগিয়ে গেল।।তারপর তাকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে সোজা নাক বরাবর,,,,,,,, .........................ঢিশুম,,,,,,,,,,,,,,, [বাকিটা পাঠকরা বুঝে নিনgj] (চলবে) [দয়া করে এই গল্পটা কেউ কপি করবেন না]


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৫৮৮ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...