বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
কখনো কি ভেবেছেন কোনো প্রাণী পোষার কথা? ভাবেন নি?
ও, ভেবেছেন? খুব ভালো।
এবার অন্য প্রশ্ন।
কখনো কি ভেবেছেন কোনো টিকটিকি পোষার কথা? আমি নিশ্চিত যে অধিকাংশ মানুষ এটা কখনো স্বপ্নেও ভাবেনি। তবে অবশ্যই অনেক মানুষ কোনো না কোনো সরীসৃপ পোষার কথা কল্পনা করেছেন।
আমি যখন ক্লাস টেনে পড়ি তখন আমার ঘাড়ে একটা ভূত চাপলো। কোনো একটা প্রাণী পোষার ভূত। কোনো তন্ত্র-মন্ত্রে কিন্তু এই ভূত দূর হবে না।
তো আমি ভাবতে বসলাম যে কোন প্রাণী পুষবো।
বিড়াল কিংবা কুকুর আম্মু পুষতে দেবেন না। বাঘ-ভাল্লুক তো পোষার প্রশ্নই আসে না!
পাখি বন্দী হিসেবে রাখতে হবে। সেটা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। পাখির স্থান মুক্ত আকাশে।
শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিলাম, আমি সবচেয়ে আলাদা রকম প্রাণী পুষবো।
তেলাপোকা কিংবা টিকটিকি!
সিদ্ধান্ত নিলেই তো আর হবে না। প্রস্তুতিও নিতে হবে ঠিকমতো।
আর নিশ্চিত হতে হবে যে ঠিক কী পুষতে চাই আমি। আমার সর্বশেষ সিদ্ধান্ত হিসেবে আমি টিকটিকিকেই বেছে নিলাম!
কারণ তেলাপোকাকে একটু চাপ দিলেই করুণ দশার সৃষ্টি হয়। টিকটিকির ক্ষেত্রে এমন কোনো সমস্যা নেই।
যেই ভাবা সেই কাজ। শুরু করে দিলাম টিকটিকির খোঁজ করা! কিন্তু কেন জানি না, টিকটিকি গুলো আমাকে দেখলেই পালিয়ে যায়।
কিন্তু টিকটিকি চলে দেওয়ালে দেওয়ালে, আমি চলি ফ্লোরে ফ্লোরে!
একদিন ঠিক ঘরে ফেললাম একটাকে। পুরো আধা ঘন্টার চেষ্টার পর!
বেশি বড় ছিল না টিকটিকিটা। এই, আমার তর্জনির সমান শরীর আর মোটামুটি একই সমান একটা লেজ! তবে টিকটিকিটার নখ ছিল অনেক বড়।
দুষ্টু তো, মনে হয় বাবা-মায়ের কথা শোনে না! এজন্য নখও কাটে না!
তো টিকটিকিটাকে ভেবেছিলাম আজীবনের জন্য পালবো। কিন্তু একটা দুর্ঘটনা ঘটে গিয়েছিল।
টিকটিকিটাকে আমি একটা বড় প্লাস্টিকের বয়ামে বন্দী করে রেখেছিলাম। বাতাস চলাচল করার কোনো স্থান ছিল না। তাই যা হবার তাই হলো।
টিকটিকিটা কোনো সাড়া দিচ্ছিল না। আমি ভেবেছিলাম যে ওর ক্ষিদে পেয়েছে! তাই মন খারাপ করে বসে আছে! অথবা, বাড়ির কথা মনে পড়েছে!
টিকটিকি ধরার কিছুদিন পূর্বেই আমি একটা মাছি ধরেছিলাম।
বইতে পড়েছি মধু কখনো পঁচে না। আর কোনো কিছু পঁচতেও দেয় না। মাছিটাকে মেরে সরাসরি মধুর মধ্যে ডুবিয়ে রেখেছিলাম। এর ফলাফল দেখতে পেলাম যে মাছিটা অক্ষত আছে।
ওই মাছিটাই টিকটিকিটাকে খেতে দিলাম!
কিন্তু টিকটিকিটার কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই!
আমার গবেষণা বন্ধ করে ওকে একটা মাছি দিলাম যেটা আমি অনেক কষ্টে ধরেছি, আর ও কিনা সেটা ছুঁয়ে দেখা দূরের কথা নিজে নড়ে চড়ে কোনো রকম অঙ্গভঙ্গিও করছে না!
ওকে আমি বয়ামের ভেতর থেকে বের করলাম। কিন্তু তারপরও ওর কোনও নড়াচড়া নেই। আমি ভাবলাম যে ও হয়তো বাতাসের স্বল্পতার জন্য অজ্ঞান হয়ে গিয়েছে। মানে এখন ওর জ্ঞান ফেরাতে হবে!
মশা মারার যে ব্যাটগুলো আছে, ওটা আমার কাছেও আছে। ওটাতে বিদ্যুতের ব্যবহার হয় মশা মারার জন্য।
টিভিতে দেখেছি, ডাক্তাররা রোগীর হার্ট চালু করার জন্য বা জ্ঞান ফেরানোর জন্য ইলেকট্রিক শক দেন। তো আমিও একই কাজ করতে চাইলাম টিকটিকিটার জ্ঞান ফেরানোর জন্য!
টিকটিকিটার লেজ ধরে ব্যাটের সার্কিটে রেখে দিলাম। এরপর করলাম সুইচ অন!
টিকটিকির জ্ঞান সঙ্গে সঙ্গে ফিরে এলো!
এক লাফে সে ড্রেসিংটেবিলের নীচে চলে গেল। অনেক খুঁজেও আর ওর খোঁজ পাইনি।
ড্রেসিংটেবিল সরিয়েও দেখেছি। ওর মৃতদেহেরও কোনো খোঁজ ছিল না।
ও হয়তো এখনো বেঁচে আছে।
যেখানেই থাকুক, ভালো থাকুক।
********************
***নতুন খবর***
কয়েকদিন পূর্বে আমি আরেকটা টিকটিকি ধরেছি! ওটার জন্য আমি খুব সতর্ক হওয়ায় আমি ওর ঘরে(একটি প্লাস্টিকের ছোট বাক্সে) বাতাস চলাচলের ব্যবস্থাও রেখেছি।
এই টিকটিকিটার নাম রেখেছি। আগেরটার কোনো নাম রাখিনি। নতুন এই টিকটিকিটার নাম "টিকু" রেখেছি।
টিকটিকি থেকে টিকু!
ওকে খাবার হিসেবে তিনটা পিঁপড়ে আর ছয়টা তেলাপোকা দিয়েছি। পানিও দিয়েছি।
ও মাত্র একটা তেলাপোকা খেয়েছে। আর দুটো মল ত্যাগ করেছে!
ওর সুবিধার কোনো কমতি রাখিনি। তবে তারপরও ও দুইদিন পরেই পালিয়ে গিয়েছে।
টিকু যেখানেই থাকুক যেন ভালো থাকে।
**************************************************
পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
টিকটিকি দুটোর জন্য দোয়া করবেন। যেন ওদের করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ না হয়!
ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।
আল্লাহ হাফেজ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now