বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

"ছদ্মবেশী ফুচকাওয়ালা"[১১তম তথা শেষ পর্ব]

"গোয়েন্দা কাহিনি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান S.A.Shameem (০ পয়েন্ট)



X "ছদ্মবেশী ফুচকাওয়ালা"[১১তম তথা শেষ পর্ব] Writer : Omar দরজা ভেঙে রুমে ঢুকতেই একটা কিরকম বাজে গন্ধ আসলো,, টর্চ লাইট জ্বালিয়ে দেখলাম এটা একটা পাহাড়ের ভিতরে খনন করে বানানো ঘর,, পোকামাকড় এ ভর্তি,,আর কতগুলো পোকামাকড় মরে পচে দুর্গন্ধ বের হয়েছে,, রুমের মাঝখানে মাহমুদ কে চেয়ার এর সাথে বেঁধে রাখা হয়েছে,, মাহমুদ অজ্ঞান হয়ে গেছে,, অনেক্ষণ ডাকাডাকির পর ও চোখ খুলল না,, আমাদের কাছে কোন পানি নেই।।যে পানির ছিটা দিবো উপায় না পেয়ে পায়ের থেকে জুতো খুলে ওর নাকের কাছে নিয়ে গেলাম,, গন্ধ পেয়ে ও কিছুক্ষণ পর নড়ে উঠলো।। আস্তে আস্তে চোখ খুললো,, আমি--মাহমুদ তুমি ঠিক আছো।। ---আমি কোথায়।।। আমি--কোন ভয় নেই তুমাকে আমরা মুক্ত করে নিয়ে যেতে এসেছি।। আমি-----এই ওর বাঁধন খুলো।। ওর বাঁধন খুলে দিয়ে ওকে দাড় করালাম।। আমি--ঠিক আছো তো,,তোমাকে কোন মারধর করছে।। --না স্যার।।একটা রুমাল দিয়ে আমার মুখ চেপে ধরে তারপর কিছু মনে নাই,, চোখ খুলে দেখি আপনারা।। আমি--আচ্ছা তুমি ওখানে কাকে দেখেছিলে যার জন্য উঠে ওদিকে গেছো।। --ওখানে কারো পায়ের আওয়াজ শুনতে পাইছিলাম।।তাই এগিয়ে গেলাম।। কিন্তু পিছন থেকে মুখ চেপে ধরে।। আমি--আচ্ছা চলো।।কথা বলার সময় নাই।। তারপর সবাই ওই ছেলেটার বলা পথ দিয়ে চলতে লাগলাম।। রাজীব--স্যার আমি--কি (পিছনে ফিরে) --এইটা দেখুন।। আমার পায়ের নিচে পড়েছে।। আমার হাতে দিয়ে। আমি--এই ঘড়িটা কার আবার।। নাহিদ--স্যার আমি একটু দেখি।। ওর হাতে দিলাম। ও অনেক্ষন গাড়িটার দিকে তাকিয়ে --স্যার এটা প্রিন্সিপাল এর ঘড়ি।। আমি ওনার হাতে দেখেছিলাম।। আমি--তুমি সিউর।।?? --জি স্যার। আমি--প্রিনসিপাল রেডি থাক।।তুকে ফুচকা খাওয়ামো আমি--চলো বেড়িয়ে পড়ি।। কিছুক্ষণ পর মুখে চলে আসলাম।। ওখান থেকে বের হয়ে ঘুটঘুটে অন্ধকার।। জঙ্গল বলে কথা।।পাহাড়ি জঙ্গল।। রাজীব--স্য স্যার চলেন গোহার ভিতর ফিরে যায়। আমি--কেন। --দেখছেন না কিরকম অন্ধকার।।যদি ঘাড় মটকে দেয়।। আমার কিছু হলে আমার জিএফ অন্য বেড়ার লগে প্রেম করবে।।তা আমি হতে দিবো না।। আমি-তুমি যদি আর একটা কথা বলো।।তোমাকে এখানে গাছের সাথে বেঁধে রেখে যাবো।। --আচ্ছা চুপ করলম। কয়েকটা পাহাড় পেরিয়ে ঘুরেফিরে আগের রাস্তায় চলে আসলাম।। ওখান থেকে ত্রিশ মিনিট পায়ে হেঁটে গাড়ির কাছে আসলাম।। আমি--আজকে সবাই আমার বাসায় চলো।। কালকে সকালে আসবো।। নাহিদ তুমি আর সীমা স্টোডেন্ট এর বেশে আসবে।। --ওকে স্যার।। পরদিন।। কলেজের ভিতর পাঁচটা গাড়ি ঢুকলো।। কলেজের সবাই তো হা করে তাকিয়ে আছে হঠাৎ এতগুলো গাড়ি আসায়।। গাড়ি গুলো যে আর কেউ না আমারাই এসেছি।। গাড়ি কলেজের মাঠের মাঝখানে থামলে।। একজন এসে আমার গাড়ির দরজা খুলে দিলো।। আমি নামার পর সবাই একে একে গাড়ি থেকে নামলো সবার হাতে অস্ত্র।। একবার পুরো কলেজে চোখ বুলিয়ে নিলাম।। সবাই তো হা করেই আছে কি হচ্ছে এসব।। যারা আমার নিয়মিত কাস্টমার ছিল তারাতো আমাকে এভাবে দেখে অবাক।। এতক্ষণে হয়তো প্রিন্সিপাল ও খবর পেয়ে গেছে।। তাই সে দৌড়ে আসে।। --কারা আপনারা।। আমি--সরকারি গোয়েন্দা।।। ---গোগোয়েন্দা।। আমি--তুতরাচ্ছেন কেন।। এতক্ষণে আমার বাহিনী ওকে চার দিক থেকে ঘিরে ফেলল।।অস্ত্র তাক করে আছে।। ---ককই।। এখানে কেন এসেছেন।। আমি--আপনাকে ফুচকা খাওয়াতে।। --মমামানে আমি-----এই ভাইগনা এদিকে এসো (ওই তিনটা ছেলের মধ্যে একটাকে ডাকলাম) --জিজি স্যার।। আমি--আরে এভাবে ভয় পাচ্ছো কেন।। আমি--তুমরা তোমাদের স্যার কে আমার ফুচকার কথা বলো নি।। --না না স্যার।। আমি--আচ্ছা যাও।। আমি--আপনার খেলা এখানেই শেষ।। --মামানে কিসের খেলা।। আমি--মৃত্যুর খেলা।। --মামানে।। আমি--মানে বুঝবো না।।ফিডার খাও।। আমি--এইটা কি চিনতে পারছো।।(ঘড়িটা দেখিয়ে)) ---এটা একটা ঘড়ি। কিন্তু কার এটা।।(নিষ্পাপ ভাবে ) নাহিদ--স্যার এটা আপনার ঘড়ি।। পিছন থেকে।। নাহিদ এসে আমাকে স্যালুট করলো।। কলেজের সবাই আবার টাস্কি খেল,, কারণ সবাই এতদিন নাহিদ কে এই কলেজের ছাত্র মনে করে এসেছে।। নাহিদ--স্যার এটা আপনার ঘড়ি।। --না এটা আমার ঘড়ি না।। ---তাহলে আপনার হাতে ঘড়ি নাই কেন।। কিছুদিন আগে ওতো ঘড়ি দেখছি।। ---ছিল,,তবে এখন আমি ঘড়ি পড়ি না।। আমি--আচ্ছা ঘড়ির কথা বাধ। এখন বলেন গোপন সুরঙ্গে টা দিয়ে কি কি অপকর্ম করে যাচ্ছেন।। --মামানে,,(প্যান্ট নষ্ট হওয়ার অবস্থা।)) কি করেছে আমার বাবা।। একটা মেয়ে দৌড়ে এসে।। যখনি দুজনের চোখাচোখি হলো তখন মেয়েটা তো ভূত দেখার মতো।। --ফুচকাওয়ালা,?? আমি--হ্যা চিনতে পারছেন তাহলে।। আমি সেই ছোটলোক টা।।। ও --আমার বাবা কি করেছে।।? আমি--আপনার বাবা একজন খুনি।। --কিহ আমি বিশ্বাস করি না।। আপনার তো সাহস কম না।। --খুনির মেয়ের বড় গলা।। কলেজের সবাই তো কিছু বুঝতে পারে না।। কেনি বা খুনি বলছি।। তখনি সীমা আসলো আমাকে স্যালুট দিয়ে।। স্যার কলেজের সবার জানা উচিত তাদের স্যার এর চরিত্র কতটা উন্নত।। আমি--হুম,, সীমা--সবাই দেখেন এ হচ্ছে আপনাদের প্রিন্সিপাল।।সবাই এতদিন এনাকে সম্মান করে এসেছেন।।আজ এর আসল রুপ দেখবেন।।এ হচ্ছ একজন অপরাধী।। ওনার কক্ষের ভিতর যূই কার্পেট টা আছে ওটার নিচে রয়েছে গোপন সুরঙ্গের ঢাকনা।।এই সুরঙ্গে টা ব্যাবহার করে এরা তাদের অপরাধ গুলো চালিয়ে যাচ্ছে।। এতদিন কলেজে যতগুলো খুন হয়েছিল।। সবগুলো এরাই করেছে।।তার যথেষ্ট প্রমাণ আছে।। সবাই তো ভাবতেই পারে না।। তাদের স্যার এতটাই খারাপ।। সবাই ছি ছি করতে লাগলো।। প্রিন্সিপাল এর মেয়েটা মাটিতে বসে পড়লো।। সে হয়তো এটা মেনে নিতে পারছে না।। আমি-----এই ওকে নিয়ে চলো।। সবাই ওকে নিয়ে অফিসে চলে আসলাম।। আমি--বল তুই এসব কেন করছিস।। ---স্যার আমি একা করিনি আমি এমপির কথায় এসব করেছি।।ওমনি আমাকে এই কাজের জন্য তিন কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল।। আমি--বুঝলাম।।বল খুন গুলো কেন করছিলি।। --স্যার এই খুন গুলো আমি করিনি।।আমাকে শুধু বলা হয়েছিলো যে কলেজের ভিতর আর আমার কক্ষের ভিতর গোপন সুরঙ্গ করা হবে আর সেটা দিয়ে ওরা মানুষ কে নিয়ে এসে মের ফেলে যায়।। আমি--এগুলোর আসল কারণ বল।। ---এমপির উদ্দেশ্য শহরের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে দেওয়া।।।আর সেটার সুযোগ নিয়ে তার কোটি কোটি টাকার অস্ত্র কারবার চালিয়ে যাওয়া।। এবং সেই সুযোগ টা ব্যাবহার করে কোটি কোটি টাকা উপার্জন করে ফেলেছে।। ---সুরঙ্গ টা কখন‌ বানানো হয়েছিল।। স্যার জঙ্গলের ভেতর সুরঙ্গ টা আগে থেকেই ছিল।। ওখান ওদের সব কাজ কারবার হতো।। তারপর কলেজের সাথে জয়েন করে দেয়।।আমাকে টাকা দিয়ে বলে যদি আমি কারো কাছে মুখ খুলি তাহলে আমার মেয়েকে জানে শেষ করে দিবে।। ---ওই মাই গড।।এতবড় চাল চালছে,এই এমপি। ---স্যার আমাকে মাফ করে দিন।।। আমি--আচ্ছা এখন বল ওই আসলাম কে কোথায় পাব।। --স্যার ওই আসলাম এই এসব খুন করে। ও ধামপাড়া পাহাড়ের ভিতরে একটা পুরানো বাড়িতে অবস্থান করেছে।। আমি--ওর কোন ছবি আছে।।? ---আছে স্যার।।এই দেখেন।। মোবাইল এ আমি--আচ্ছা এমপি কোথায় এখন।। ---বাসায় আছে হয়তো।। --স্যার আমাকে মাফ করে দিন,,আমার মেয়েটার ভবিষ্যত পড়ে আছে।। আমি---এসব করার আগে মেয়ের ভবিষ্যতে নিয়ে ভাবিস নি।। এখন জেল এ পচে মর।। আমি হাজতে থেকে বের হয়ে মাহমুদ আর নাহিদ কে ধামপাড়ার অভিযান চালাতে বললাম।। ওরা সাত জন চলে গেল।। তখনি বড় স্যারের ডাক পড়লো।। আমি--আসবো স্যার।। --আরে আসো।।বসো আমি--ধন্যবাদ স্যার।। ---তোমার উপর খুব খুশি হয়েছি।। তুমি আমাদের মান রাখলে।। তোমার মতো অফিসারদের জন্য শুভ কামনা।।বেস্ট অফ লাক।। ---ধন্যবাদ স্যার।।এটা আমার দায়িত্ব।। --আমি কোন ভুল মানুষের হাতে কেইস দিনাই।।আচ্ছা ওর কাছ থেকে কোন কথা বের করতে পারছো।। তারপর স্যার কে রেকর্ড গুলো সুনালাম।। ---এখন কি করবে।।? আমি-+এখন আর কি করবো,, ওদের পুলিশের হাতে তুলে দিবো যা করার ওরাই করবে।। আমাদের কাজ শেষ।। আমাদের কাজ খুনি কে বের করা।।সব অপরাধী খুব শিগগিরই ধরা পড়বে।।। স্যার--হুম।।তবে আজ আপনাকে স্যালুট না করে পারছি না।। আমি--আরে আরে কি করছেন স্যার।। আপনি আমার বড় হয়েও।। --আরে সম্মান করতে ছোট বড় লাগে না।।আর আমার পড়ে এই আসন টা তো তোমারি।। দুজনে হুট হু করে হেসে উঠলাম।।। সমাপ্ত---- এটাই আমার প্রথম কোন গোয়েন্দা গল্প।।তাই তেজ গুছিয়ে লিখতে পারিনি।।তবে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি।। আগের মতো আপনারা এখনো পাশে ছিলেন।।তার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।। গল্প তো শেষ।। এখন আপনাদের সবার মতামত টুকু বলে যাবেন।। পুরো গল্পের ভালো খারাপ সব দিক কমেন্ট এ তুলে ধরবেন।। সামনে ভালো কিছু আপনাদের সামনে তুলে ধরবো।।সাথে থাকার জন্য আবার আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ.. প্লিজ কমেন্টে জানাবেন পুরো গল্পটা কেমন লাগলো?? Stay home Stay safe KEEP TRUST TO ALLAH.. Allah is our creature and he will always save us but we should do good work and pray to Allah.. ধন্যবাদ সবাইকে।।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৯২৪ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...