বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

জেমস বালগার মার্ডার কেস এবং সর্বকনিষ্ঠ দুই খুনী

"ক্রাইম" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Siam 2.0 (০ পয়েন্ট)



X পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বিখ্যাত মার্ডার কেসগুলির মধ্যে একটি জেমস বালগার মার্ডার কেইস। কিছু কিছু ব্যাপার এই কেসটাকে বিচিত্র করে তুলেছিল। খুন হওয়া এই জেমস বালগারের বয়স ছিল মাত্র ২ বছর। এই কেইসে সবচেয়ে ভয়াবহ ব্যাপার হল খুনীর বয়স। খুনী একজন নয় ছিল দুজন। এবং দুজনের বয়সই ছিল মাত্র দশ বছর। জন ভ্যানিবেলস এবং রবার্ট থম্পসন দুজন মিলে খুন করেছিল জেমস বালগারকে। জেমস বালগারের জন্ম ১৬ মার্চ ১৯৯০ ইংল্যান্ডের ক্রিকবিতে।রালফ বালগার এবং ডেনিস বালগার দম্পতির একমাত্র সন্তান ছিল জেমস। ১২ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৩ সালে মাত্র ২ বছর বয়সেই নৃশংসভাবে খুনের শিকার হয় জেমস। ১২ তারিখে মায়ের সাথে শপিং এ গিয়েছিল জেমস। হঠাৎ করেই জেমসের মা চোখের আড়াল হলেই জন ভ্যানিবেল এবং রবার্ট থম্পসন মিলে জেমসকে ডেকে নিয়ে যায়। ওইদিন থেকেই জেমস নিখোজ ছিল। জেমসের মা জানতেনও না তার ছেলেকে কে নিয়ে গেছে। দুইদিন খোজাখুজি করার পর অবশেষে জেমসের লাশ পাওয়া যায় ৪ কিলোমিটার দূরে এক রেললাইনের পাশে। পুরো শরীরে রক্তে ভেজা। যেন কেউ একজন প্রচন্ডভাবে পাথর দিয়ে পুরো শরীর থেতলে দিয়েছে। লাশ পাওয়া গেলেও কে বা কারা তাকে খুন করেছে এব্যাপারে কোন হদিস তখনো পাওয়া যায়নি। এরও প্রায় চারদিন পর শপিঙ্গমলের সিসিটিভি ক্যামেরা ফুটেজ থেকে দুজন ছেলেকে সন্দেহ করে পুলিশ। এরাই হল থম্পসন এবং ভ্যানিবেলস। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় থম্পসন এবং ভ্যানিবেলসের হাত ধরে জেমস বাল্গার হেটে যাচ্ছে। ২০ ফেব্রুয়ারি তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।দুইদিন পরই তাদের কোর্টে হাজির করা হয়।কোর্ট তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করার নির্দেশ দেয়। একজন মনোবিদের উপস্থিতিতে চলতে থাকে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ। এর মধ্যে ডিএনএ টেস্টে ভ্যানিবেলস এবং থম্পসনের জুতাতে জেমসের রক্ত পাওয়া যায়। এদিকে থম্পসন এবং ভ্যানিবেলস দুজনই অপরাধ স্বীকার করে নেয়। অবশ্য জিজ্ঞাসাবাদের সময় তারা একে অপরকে দোষারোপ করছিল।আসলে থম্পসন এবং ভ্যানিবেলস দুজনই একে অপরকে দোষারোপ করতে থাকে। কিন্ত শেষ পর্যন্ত সবকিছুই পুলিশের কাছে পরিষ্কার হয়ে আসে। ভ্যানিবেলস এবং রবার্টসন বেশ কয়েকদিন ধরেই একটা খেলা করে আসছিল। খেলাটা ছিল বেশ অদ্ভুত। তারা নিজেদের অপরাধী ভাবতে পছন্দ করত। এবং একজন অপরাধী যেধরণের কাজ করতে পারে তারা সেধরণের কাজই খেলাচ্ছলে করত। তারা প্রায়ই স্কুল পালিয়ে এধরণের কাজ করত। প্রথমদিকে তারা দোকান থেকে কিংবা অন্যদের বাসা বাড়ি থেকে বিভিন্ন জিনিসপত্র চুরি করত। কিন্ত একদিন ওরা ঠিক করে এসব নয়। কাউকে অত্যাচার করে মারতে হবে। আর সে পরিকল্পনাতেই খুন হয় জেমস। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় থম্পসন এবং ভ্যানিবেলস শপিং মলে চারিদিকে তাকিয়ে টার্গেট ঠিক করছে। একসময় দেখা যায় ভ্যানিবেলসের হাত ধরে বাইরে বেরিয়ে যাচ্ছে। এসময় কালো জ্যাকেট পড়ে রবার্টসনকে ঠিক সামনে দিয়ে হাটতে দেখা যায়। এরপর তারা দুজে মিলে জেমসকে নিয়ে যায় লিভারপুলগামী এক রেললাইনের ধারে। সেখানে পাথর ছুড়ে খুন করে জেমসকে।নিয়ে যাওয়ার পথে জেমস বেশ কাদছিল। পরবর্তীতে ৩৮ জন লোক পাওয়া যায় যারা জেমসকে কাদতে কাদতে থম্পসন এবং ভ্যানিবেলসের সাথে যেতে দেখেছে। কিন্ত কেউই ব্যাপারটাকে পাত্তা দেয়নি। সবাই ভেবেছিল ছোট ভাই তার বড় দুই ভাইয়ের সাথে হেটে যাচ্ছিল। ২৪ নভেম্বর ১৯৯৪ আদালত থম্পসন এবং ভ্যানিবেলসকে দোষী সাব্যস্ত করে রায় দেয়। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় এদের দুজনকে আলাদাভাবে সংশোধনাগারে পাঠানো হয়। রায়ে বলা হয় যতদিন পর্যন্ত না তারা প্রাপ্তবয়স্ক হচ্ছে ততদিন তাদের মুক্তি দেয়া হবে না। রায়ে আদালত, থম্পসন এবং ভ্যানিবেলসকে শতকের সবচেয়ে ভয়ংকর শিশু বলে আখ্যা দেয়। ২০০০ সালে সম্পূর্ন নতুন পরিচয়ে ভ্যানিবেলস এবং থম্পসনকে মুক্তি দেয়া হয়। collected


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৫৩৯ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...