গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !
জিজে রাইটারদের জন্য সুঃখবর ! এবারের বই মেলায় আমরা জিজের গল্পের বই বের করতেছি ! আর সেই বইয়ে থাকবে আপনাদের লেখা দেওয়ার সুযোগ! থাকবে লেখক লিস্টে নামও ! খুব তারাতারি আমাদের লেখা নির্বাচন কার্যক্রম শুরু হবে

গল্পেরঝুড়িতে লেখকদের জন্য ওয়েলকাম !! যারা সত্যকারের লেখক তারা আপনাদের নিজেদের নিজস্ব গল্প সাবমিট করুন... জিজেতে যারা নিজেদের লেখা গল্প সাবমিট করবেন তাদের গল্পেরঝুড়ির রাইটার পদবী দেওয়া হবে... এজন্য সম্পুর্ন নিজের লেখা অন্তত পাচটি গল্প সাবমিট করতে হবে... এবং গল্পে পর্যাপ্ত কন্টেন্ট থাকতে হবে ...

গল্পেরঝুড়িতে লেখকদের জন্য ওয়েলকাম !! যারা সত্যকারের লেখক তারা আপনাদের নিজেদের নিজস্ব গল্প সাবমিট করুন... জিজেতে যারা নিজেদের লেখা গল্প সাবমিট করবেন তাদের গল্পেরঝুড়ির রাইটার পদবী দেওয়া হবে... এজন্য সম্পুর্ন নিজের লেখা অন্তত পাচটি গল্প সাবমিট করতে হবে... এবং গল্পে পর্যাপ্ত কন্টেন্ট থাকতে হবে ...

দ্বিতীয় জনম -০৫

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)



পাঁচ সারাদিন পারুলের অস্থির লাগে । বিছানায় এপাশ ওপাশ করে সময় কাটে । সুযোগ পেলেই পারুল মায়ের সাথে কথা বলতে চায় তার মৃত্যুর আগের জীবন নিয়ে, কিন্তু পারুলের মা নানা অজুহাত দেখিয়ে পাশ কাটিয়ে যায় । পারুলের আজানা উৎকণ্ঠা বেড়েই চলেছে । সে অধিকাংশ সময় বাড়ির পেছনের ছোট সুপারি বাগানে হাঁটাহাঁটি করে । দৃষ্টি খুঁজে ফেরে সেই উদভ্রান্ত ছেলেটাকে । সুপারি বাগানের শেষ দিকে কয়েকটা বাঁশঝাড়, তার পাশেই একটা বহু পুরানো টয়লেট । ব্রিটিশ আমলে তৈরি । দিনের বেলাতেও বাগানটা অন্ধকার হয়ে থাকে , লোকজনের আনাগোনা নেই বললেই চলে । আজ আছিয়ার মা পারুলের পিছু পিছু বাগানে এসেছে । তবে বেশী কাছে ঘেঁষেনি, একটু দূরে থেকেই দাড়িয়ে দেখছে পারুলকে । পারুল হাত ইশারায় আছিয়ার মাকে ডাকে । ‘আচ্ছা বুজি, আপনি আমাকে কতদিন ধরে চেনেন?’ ‘এটা কোন কথা জিগাইলেন নি ? আপনের বড় বইনরে আমি নিজ হাতে ধরছি । আর আপনে তো আমার কোলে পিঠেই মানুষ।’ ‘দূরে দাড়িয়ে আছেন কেন ? কাছে আসেন।’ ‘না আম্মা অসুবিধা নাই ।' আছিয়ার মা কাচুমাচু হয়ে জবাব দেয়। ‘আরে আসেন না ।’ আছিয়ার মা ভয়ে ভয়ে পারুলের কাছে যায় । এই মেয়েটার মধ্যে অস্বাভাবিক কি যেন আছে , মাথায় আসি আসি করেও আসছে না । আছিয়ার মা মাথা চুলকায় । ‘যা উকুন হইছে আম্মা মাথায় । এক্কেরে হারাদিন মাথা খাউজ্জায় ।’ ‘কই দেখি?’ পারুল আছিয়ার মার চুলে হাত বুলায় । আছিয়ার মা বেশ অবাক হয় পারুলের আচরনে । পারুল খুব ধীরে সুস্থে আছিয়ার মার চুলের উকুন দেখছে । হঠাৎ করে পারুল আছিয়ার মার চুল পেঁচিয়ে ধরল গলার সাথে সজোরে । ‘আম্মা কি করেন ? আম্মা দুখ পাই, দম ফালাইতে পারি না।’ পারুল হালকা ছাড় দেয় । ‘তুই সেইদিন ছিলি তাই না?’ ‘কোনদিন আম্মা, কোনদিন?’ ‘সত্যি করে বল আমার সব মনে আছে।’ ‘আমি তো খালি দূরে খাড়ায়া খাড়ায়া দেখছি । সব তো করছে আপনার আম্মা । আর আপনেও তো সব জানেন।’ ‘মানে কি? ঠিক করে বল । পারুল আঙ্গুলের চাপ বাড়ায়।’ ‘জামাইর লগে আপনের আকদ ঠিক হওনের পর, আপনে বড় আম্মারে কইলেন কালু মিয়ার পোলারে আপনে গোপনে বিয়া করছেন আগেই । কালু মিয়ার পোলা তখন বিদেশ গেল মাত্র পনের-বিশ দিন হয় । আম্মা এই কথা গোপন রাইখা জামাইর লগে আপনার বিয়া দিয়া দেয় । আপনে ফিরানীতে আসলে আম্মা টের পাইল যে আপনে পোয়াতী,আপনার পেটে ঐ পোলার দেড়মাসের সন্তান।’ ‘তারপর ? পারুলের হাতের চাপ ঢিল হয়ে আসছে।’ ‘সকলের মান ইজ্জত বাঁচানোর জন্য বড় আম্মা আপনেরে মাইরা ফেলার সিদ্ধান্ত নেয় । সেইরাতে আপনে এশার নামাজ পড়ার জন্য পিছনের পুকুর ঘাটে নামছিলেন ওজু করতে । আম্মা আপনার পিছন পিছন যায়, আমিও যাই আম্মার সাথে । সুযোগমত আম্মা আপনার পিছন থেইকা চুল দিয়া গলা পেঁচাইয়া পানিতে চাইপ্পা ধরে । মরার ঠিক আগে আপনে একটু চেষ্টা করছিলেন নিঃশ্বাস নেওনের, হাত পা ছোড়াছুড়ি করতে ছিলেন জোরে । কিন্তু…।’ ‘কিন্তু কি?’ ‘পুকুরে বিশাল ঢেউ তুইলা, পিছলা শুঁড়ওয়ালা পাতালের জানোয়ার আইসা বড় আম্মারে টাইনা পানিতে ফালাইয়া দেয় । আমার হাতে দাও ছিল, আমি কয়েকটা কোপ লাগাই প্রানীটার গায়ে । আর কিচ্ছু মনে নাই।’ পারুল তার পিঠের ঠিক মাঝখানে কাটা দাগটার রহস্য বুঝতে পারে । সে আরও জোরে আছিয়ার মার গলা চেপে ধরে । আছিয়ার মা চিন চিন করে বলার চেষ্টা করছিল,‘আপনে নিজেও রাজি ছিলেন আম্মা। আপনেই বলছিলেন,আপনারে মাইরা ফেলাইতে । মরার ঠিক আগে আছিয়ার মা বুঝতে পারে পারুলের মাঝে অস্বাভাবিক বিষয়টা কী! পারুল প্রাণহীন একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে পারে,তার চোখের কালো তারা একদম স্থির,সেখানে কোন নড়চড় নেই। আছিয়ার মা যে গ্রামে নেই এটা তেমন একটা খেয়ালও করেনি কেউ । পারুলদের বাড়ির লোকজন ভাবল,হয়ত সব ছেড়ে ছুড়ে কোন মাজারে গিয়ে উঠেছে আছিয়ার মা । এমনিতেই তার মাজারে মাজারে ঘোরার অভ্যাস । পারুল মাঝে মধ্যে সেই সুপারি বাগানের টয়লেটের পাশ দিয়ে ঘুরে আসে । নাহ কোন পচা ঘ্রাণ নাকে লাগে না । পারুল স্বযত্নে নিজের পেটে হাত বোলায়।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ক্রুসেড সিরিজ ৯ (দ্বিতীয় অংশ)
→ ক্রুসেড সিরিজ (৮) ফেরাউনের গুপ্তধন (দ্বিতীয় অংশ)
→ ক্রুসেড সিরিজ (৭) দ্বিতীয় অংশ
→ ~গল্প-কবিতায় জিজেতে প্রিয়জন~[দ্বিতীয় পর্ব]
→ ক্রুসেড সিরিজ (৬) দ্বিতীয় অংশ
→ ক্রুসেড সিরিজ (৫) দ্বিতীয় অংশ
→ ক্রুসেড সিরিজ (৩) (দ্বিতীয় অংশ)
→ ক্রুসেড সিরিজ (২) দ্বিতীয় অংশ
→ শান্তির খোঁজে পর্ব:-০৫
→ ✉জিজেতে এখন হাই স্পেশাল ডিজিটাল যুগের আড্ডা✉[দ্বিতীয় পর্ব]

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...