বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অনুভবে শুধু তুমি♥ (পর্ব-৪)

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Ariya Ibnat (০ পয়েন্ট)



X অনুভবে শুধু তুমি♥ Part:4 writer:Tuba Rubaiyat ♦ পাখির কিচিরমিচির শব্দে ঘুম ভাঙে তীব্রর।।ফজরের নামায পড়ে হাটতে বের হয় তীব্র,,,,রাস্তার কাছে এসেই থমকে দাঁড়ায় সে।।পাশেই ধানক্ষেত,,,,ধানক্ষেতের পাশে একটা মাঠ রয়েছে।।সেখানে কেউ একজন শাড়ি পড়ে হাটছে।।গ্রামের মেয়েদের মত শাড়ি পড়া,লম্বা ঢেউ খেলানো কালো চুল গুলো কোমড় ছাড়িয়ে আরো অনেক নিচে পড়ছে।।চুলের কারনে চেহারা বোঝা যাচ্ছেনা,,বাতাসে শাড়িরটা আচল উড়ছে,,,,হাতে চুড়ি ঝনঝন শব্দ করছে।।।এত সকালে এভাবে কে হাটছে ওখানে!!,ও কৌতুহলবশত মেয়েটার দিকে এগিয়ে গেল,,,মেয়েটা এদিক তাকাতেই সেই পরিচিত মায়াবী মুখ ভেসে উঠলো।।হ্যা মেয়েটা তোহা।।তোহাকে দেখেই তীব্রর মুখে প্রশান্তির হাসি ফুটে উঠে,,,এই মুখটা দেখার জন্যই তো সকাল থেকে অপেক্ষা করছিলো তীব্র।। ও এগিয়ে গিয়ে তোহার পাশাপাশি হাটতে শুরু করলো,,,,,,!পাশে কারো উপস্থিতি টের পেয়ে তোহা হঠাত ভয় পেয়ে যায় কিন্তু তীব্রকে দেখে ভয়টা কেটে গেল,,,,,,!! "এত সকালে একা একা কি করছো??"(তীব্র) "ভোরের মিষ্টি বাতাস গায়ে মাখছি!" "হুম,,,,তা হঠাৎ এই সাজ???" তোহা মুচকি হেসে বললো,,, "গ্রাম্য মেয়ে হতে ইচ্ছে করলো তাই।।বাঙালি মেয়ের মতো শাড়ি পড়ে ফেললাম।।আর সকালের এই শান্ত আবহাওয়া টা আমার কাছে ভীষণ লাগে,,প্রকৃতির সৌন্দর্যটা অন্যরকম লাগে।।এই সৌন্দর্য শহরের ইট পাথরের দেয়ালের ফাকে পাওয়া যায়না।।।" "হুম গ্রামের পরিবেশ সত্যিই দারুন!!এখানে এলেই আমাদের রুপসী বাংলার সৌন্দর্য উপভোগ করা যায় যা শহরে পাওয়া যায়না!!" তোহা কিছু বললনা,,,,তীব্র একটু থেমে বলল - "খালি পায়ে হাটছো কেন??" "এই সবুজ ঘাসের উপর বিন্দু বিন্দু জমে থাকা শিশির গুলো যখন পা ছুয়ে যায় তখন দারুন লাগে,,,অন্যরকম এক অনুভুতি হয়,,,,জুতা পড়ে হাটলে তো সেটা পাওয়া যায়না,,,,,!!" তীব্র মুচকি হেসে নিজের পা থেকে জুতা খুলে হাতে নিয়ে খালি পায়ে হাটা শুরু করে,,,,,আসলেই খুব ভালো লাগছে এভাবে খালি পায়ে হাটতে,,,তীব্র এবার তোহার পায়ের দিকে তাকায়,,ফর্সা পা গুলো সবুজ ঘাসের উপর খুব সুন্দর দেখাচ্ছে,,,একজোড়া নুপুর হলে খুব ভালো হতো,,,ইশশশ ও যদি আগে জানতো তাহলে তোহার জন্য একজোড়া নুপুর কিনে নিয়ে আসত।।তারপর নিজের পড়িয়ে দিতো তোহার পায়ে,তোহা যখন নুপুর পড়ে হাটত তখন তিব্র মুগ্ধ হয়ে সেই নুপুরের রিনিঝিনি শব্দ শুনতো।।আচ্ছা তোহাকে নুপুর পড়িয়ে দিলে কি তোহা রাগ করতো তীব্রর উপর??আজকাল নিজের কর্মকান্ডে তীব্র নিজেই অবাক হয়ে যাচ্ছে।।কিসব আজগুবি জিনিস ভাবছে,,।।তোহাকে দেখার পর থেকে না চাইতে কেন যেন তীব্র সারাক্ষন তোহার কথাই ভাবে!!তোহার জন্য ওর মনে জন্ম নেয়া এই অনুভুতি গুলো ওর কাছে অজানা।।এসব কি জাস্ট এট্রাকশন??নাকি মায়া??নাকি অন্যকিছু??নাকি এর নামই ভালোবাসা??? তীব্র যখন এসব উল্টাপাল্টা ভাবতে ব্যস্ত তখন তোহা বলল,,,, "আজ কি আপনি আমার সাথে হাটবেন??" "হুম! কেন হাটলে কি খুব সমস্যা হবে??" "নাহ আরো ভালো লাগবে,,,,আচ্ছা চলুন আপনাকে নিয়ে একজায়গায় যাবো,,,,!!" তোহা তীব্রকে সামনের একটা বাড়িতে যায়।।সেখানে ছোট একটা কুঁড়েঘর।। ঘরের পাশে চুলায় একজন বৃদ্ধা মহিলা পিঠে বানাচ্ছেন।আর পাশে একজন বৃদ্ধ লোক বসে আছে,,,বৃদ্ধটি খুব অসুস্থ।।তোহাকে দেখেই বৃদ্ধা মহিলাটি হাসিমুখে এগিয়ে এলো,,,তোহা গিয়ে মহিলাটিকে জড়িয়ে ধরলো।।মহিলাটি বলল,,, "কেমন আছো দাদু??" "আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি,,,,আপনি কেমন আছেন??" "এইতো আল্লাহ ভালোই রাখছে,,," "দাদার কি অবস্থা??" "বেশি একটা ভালোনা!!অবস্থা খারাপের দিকে দিনদিন,,,তোমাগো দুজনরেতো খুব মানিয়েছে,, এইডা কে??"(তীব্রকে দেখিয়ে) ওনার কথায় তোহা তীব্র দুজনেই লজ্জা পেয়ে যায়,,,,তোহা বলল,,,, "কি যে বলেন না!! এটা আসিফ ভাইয়ার খালাতো ভাই,,,,এখানে বেড়াতে এসেছে!!" "ভালো আছো ভাই??"(বৃদ্ধা) "জ্বি ভালো,,,আপনি?? "(তীব্র) "এই বুড়ো বয়সে আর ভালো,!!গরিবের ঘরে আইছো তোমাগোরে আপ্যায়ন করমু কেমনে??আসো আইসা একটু বসো!!" বলে তিনি দুটো পিড়ি এগিয়ে দেন।।তোহা আর তীব্র গিয়ে বসে পিড়িতে,,,!!মহিলাটি বসে চিতই পিঠা বানাচ্ছিলেন,,,,তিনি একটা বাটিতে করে পিঠা আর নারিকেল এগিয়ে দেন,,,,তোহা খাওয়া শুরু করে দেয়।।তীব্র আরেকতরফা অবাক হয়ে যায়,,,,,কতটা স্বাভাবিক ভাবে খাচ্ছে,,তোহার দেখাদেখি তীব্র ও খায়।।।আসার সময় তীব্র বৃদ্ধা মহিলাটির হাতে কিছু টাকা গুজে দিয়ে বলে,,,,,"দাদাকে কিছু কিনে খাওয়াবেন" বৃদ্ধা প্রথমে নিতে আপত্তি করলেও পরে তীব্রের জোড়াজুড়ি তে নিতে রাজি হয়।।তারপর দুজনের মাথায় হাত বুলিয়ে দোয়া করে দেয়।।।তোহা খুব খুশি হয় তীব্র মহিলাটিকে সাহায্য করায়।।কিছুক্ষন পর ওরা সেখান থেকে বেরিয়ে আসে।।। "ওনাকে সাহায্য করার জন্য ধন্যবাদ"(তোহা) "এটা দায়িত্ব ছিলো,,,,,আচ্ছা উনি কে হন???"(তীব্র) "এই গ্রামের এক হতভাগা,,,,,উনি একজন কৃষক ছিলেন।।ওনার এক ছেলে,,,উনি নিজে না খেয়ে ছেলেকে পড়ালেখা করিয়েছেন,,,,তার ছেলে এখন একজন সরকারী চাকুরীজীবি।।ঢাকায় বিয়ে করে সেখানে সেটেল,,,বাবা-মায়ের কোন খোঁজখবর নেয়না।।কয়েকবছর আগে এসে ওনাদের বাড়ি টাও জোড় করে নিজের নামে লিখে নিয়ে গেছে।।।এখন এই কুড়েঘর টুকুই তাদের একমাত্র সম্বল।।গ্রামের লোকেরা কিছু সাহায্য করে,,আমি মাঝে মাঝে পারলে কিছু সাহায্য করি,,,,বাবা ও মাসে মাসে কিছু টাকা পাঠায় ওনাদের জন্য,,,,এভাবেই চলছে তাদের জীবন।।।তবুও উনারা দুজনেই সবসময় তার ছেলের ভালোর জন্য দোয়া করেন!!!" "সত্যিই দুঃখজনক!! এখন থেকে আমিও কিছু টাকা পাঠাবো প্রতি মাসে।।যদি তাতে তাদের একটু সাহায্য হয়!!" তোহা মুচকি হাসি দিলো।। ♦এদিকে,,,,, রোহান সকালে ঘুম থেকে উঠে ব্রাশ করতে করতে নিচে নামছে।।।হঠাৎ ধাক্কা।।ও তাকিয়ে দেখে নাফিসা।।ও তাড়াতাড়ি নিজের নাক চেপে ধরলো।।তারপর একদমে বলা শুরু করলো,,,,,,,,,,,, "এই মিস.মিসাইল আমি কিন্তু ইচ্ছে করে ধাক্কা দেইনি।।আপনি এসে আমার সাথে ধাক্কা খেয়েছেন।।এখন যদি আবার আমার নাকে আক্রমণ করেন তাহলে কিন্তু আমার নাক শহিদ হয়ে যাবে,,,,,,, নাক না থাকলে আমার বিয়ে হবেনা,,আমার বিয়ে না হলে আমার বউ তার জামাইকে পাবেনা,,,,,আমার বিয়ে না হলে আমার বাচ্চাগুলো পৃথিবীর আলো দেখবেনা।।প্লিজ আমার নাকে ঘুসি মারবেনা বলে দিলাম!!!!" রোহানের কথা শুনে নাফিসা ফিক করে হেসে দিলো।।কিসব উল্টাপাল্টা কথা বলছে।।রোহানের এই বোকামি গুলো নাফিসার খুব ভালো লাগে।।নাফিসা বললো,,,,,,, "আচ্ছা ঠিক আছে আপনাকে ঘুষি মারবোনা।।এর জন্য অন্য শাস্তি দেবো আপনাকে!!" "এই নায়ায়ায়ায়া!!! অন্য কি শাস্তি??" "সেটা সময় হলে বোঝাবো!" বলেই নাফিসা চলে গেল।।।এদিকে রোহান মনে মনে ভাবছে,,,,"""মিসাইল একটা!!!আল্লাহ জানে আবার কি শাস্তি দেবে!!আল্লাহ মাবুদ বাচাও আমাকে এই মিসাইলের হাত থেকে!!" ************************** বিকেলে সবাই মিলে গ্রাম ঘুরে দেখার প্ল্যান করলো।।বিকেলে সবাই মিলে রেডি হয়ে বের হল।।।গ্রামের পাশে দিয়েই মেঘনা নদী বয়ে গেছে।।সবাই নদীর পাড়ে যাবে বলে ঠিক করেছে।।ছেলেরা সবাই রেডি হয়ে গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছে।।মেয়েরা এখনো আসেনি।। কিছুক্ষনের মধ্যেই সবাই চলে আসে।।তোহা আজ নেভি ব্লু ড্রেস পড়েছে।।চুলগুলো কাটা দিয়ে উচু করে বাধা।।। বিষয়টা তীব্রর মোটেও ভালো লাগেনি।।এমন নয় যে এখন খারাপ দেখাচ্ছে।।এভাবেও মারাত্মক কিউট কাগছে তোহাকে।।কিন্তু তোহার চুল গুলো ছেড়ে রাখলেই বেশি ভালো লাগে তীব্রর কাছে।।লম্বা ঢেউ খেলানো চুল পুরো পিঠে ছড়িয়ে থাকে।।।চুলগুলো ছেড়ে রাখলে এমন কি ক্ষতি হতো???এখন তোহার উপর তীব্রর খুব রাগ লাগছে!!মারাত্মক রাগ!!! (চলবে) [দেরী হওয়ার জন্য সরি]


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৮৫২ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...