গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !

গল্পেরঝুড়িতে স্বাগতম ...

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

তাদের অন্তরে আল্লাহ মোহর (তালাবদ্ধ) মেরে দেন : সত্যিই কি তাই?

"ইসলামিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়াদুল ইসলাম রূপচাঁন (৩৩০ পয়েন্ট)



বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে বসে বই পড়ছিলাম। সাজিদ পড়ছিল অ্যান্থনি মাসকারেনহাসের ‘The Legacy of Blood' বইটি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের উপর বিদেশি সাংবাদিকের লেখা বই। সাজিদের অনেক দিনের ইচ্ছে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর সে একটা ডকুমেন্টারি তৈরি করবে। তাই মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যত বই আছে, সব খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়ছে সে। আমি অবশ্য সাজিদকে সঙ্গ দেয়ার জন্যই রয়ে গেছি। এসব বই-টই পড়ার ব্যাপারে আমার যথেষ্ট অনীহা আছে। থার্ড পিরিয়ডে সাজিদ ফোন করে বলল ক্লাস শেষে যেন ওর সাথে দেখা করি। দেখা করতে এসেই আটকে গেছি। সোজা নিয়ে এলো লাইব্রেরিতে। মোটা মোটা বইগুলো নিয়ে সে বসে পড়েছে। খুব মনোযোগ দিয়ে। পড়ছে আর গুরুত্বপূর্ণ লাইনগুলো ডায়েরিতে টুকে নিচ্ছে। আমি আর কী করব? সাজিদকে মুখের উপর ‘তুই বসে থাক’ বলে চলেও আসা যাবে না। তাহলেই হয়েছে। আমি ঘুরে ঘুরে সেলফে সাজিয়ে রাখা বইগুলো দেখছি। হুমায়ুন আহমেদের একটি বই হাতে নিলাম। বইটির নাম-দিঘির জলে কার ছায়া গো । হুমায়ুন আহমেদ নামের এই ভদ্ৰলোক বাংলাদেশে বেশ জনপ্রিয় লেখক। যদিও উনার তেমন বই আমি পড়িনি, কিন্তু সাজিদের মুখে উনার বেশ প্রশংসা শুনি। উনার বেশকিছু কালজয়ী চরিত্র আছে। একবার নাকি উনার নাটকের একটি পট পাল্টানোর জন্য মানুষ । মিছিল নিয়েও বেরিয়েছিল। বাব্বা! কী সাংঘাতিক! ‘দিঘির জলে কার ছায়া গো’ নামের বইটি উল্টাতে লাগলাম। উল্টাতে উল্টাতে। একটি জায়গায় আমার চোখ আটকে গেল। বিবর্তনবাদের জনক চার্লস ডারউইনের ব্যাপারে কিছু একটা লেখা। পড়তে শুরু করলাম আহসানকে পেয়ে শওকত সাহেব আনন্দিত। তিনি নতুন একটা বই পড়ছেন। 40  বইয়ে বিবর্তনবাদের জনক ডারউইন সাহেবকে ধরাশায়ী করা হয়েছে। তাঁর পূর্বপুরুষ। বানর-এটা তিনি মেনে নিতেই পারতেন না। এখন সমস্যার সমাধান হয়েছে। তিনি আহসানের দিকে ঝুকে এসে বললেন-তুমি ডারউইনবাদে বিশ্বাস কর?' আহসান বলল-ড়ি চাচা, করি। তোমার বিশ্বাস তুমি এখন যেকোনো একটা ভালো ডাস্টবিন দেখে ফেলে। আসতে পার । আহসান বলল-জি, আচ্ছা । ‘পুরো বিষয়টা না শুনেই জি আচ্ছা বলবে না। আগে পুরো বিষয়টা শোনো।' আহসান হতাশ ভঙ্গিতে পুরো বিষয়টা শোনার জন্য প্রস্তুত হলো। সহজে এই বিরক্তিকর মানুষটার কাছ থেকে ছাড়া পাওয়া যাবে বলে মনে হচ্ছে না। শওকত সাহেব বললেন-‘তোমাদের ডারউইনের থিওরি বলে পাখি এসেছে। সরীসৃপ থেকে। তুমি এখন একটা সাপ ও ময়ুর পাশাপাশি রাখ। চিন্তা কর যে, ময়ুরের পূর্বপুরুষ। সাপ, যে সাপ এখন ময়ূরের প্রিয় খাদ্য। বল, তোমার কিছু বলার আছে?' ‘এই মুহুর্তে কিছু বলার নেই চাচা। মনে মনে দশের ওপরে ৯৫০টা শূন্য বসাও। এই বিশাল প্রায় অসীম সংখ্যা দিয়ে ১ কে ভাগ কর । কী পাবে জানো? শূন্য। এটা হলো অ্যাটমে অ্যাটমে ধাক্কাধাব্ধি করে DNA অণু তৈরির সম্ভাবনা। মিলার নামে কোনো বিজ্ঞানীর নাম শুনেছো? ছাগলটাইপ সাইনটিস্ট । না, চাচা, শুনিনি। ঐ ছাগলটা ১৯৫০ সনে একটা এক্সপেরিমেন্ট করে অন্য ছাগল সাইন্টিস্টদের। মধ্যে হইচই ফেলে দিয়েছিল। ছাগলটা করেছে কী, ল্যাবরেটরিতে আদি পৃথিবীর আবহাওয়া তৈরি করে ঘন ঘন ইলেকট্রিক কারেন্ট পাস করেছে। কিছু প্রোটিন অণু তৈরি করে বলেছে—এভাবেই পৃথিবীতে প্রাণের শুরু। প্রাণ সৃষ্টিতে সৃষ্টিকর্তার কোনো প্রয়োজন নেই। এখন সেই ছাগল মিলারকে নিয়ে বৈজ্ঞানিক মহলে হাসাহাসি চলে। Life ম্যাগাজিনে কী লেখা হয়েছিল পড়ে শোনাই। 'চাচা, আরেক দিন শুনি? জটিল কিছু শোনার জন্য আমি এ মুহুর্তে মানসিকভাবে তৈরি নই। ‘জটিল কিছু বলছি না। জলবৎ তরলং। মন দিয়ে শোনো । 41  শওকত সাহেব পড়তে শুরু করলেন। আহসান হতাশ চোখে জানালা দিয়ে। তাকিয়ে রইল…… এতটুকু পড়ে আমি বেশ আনন্দ পেলাম। লেখক হুমায়ুন আহমেদ এখানে ব্যাটা। ডারউইনকে একহাত দিলেন । শওকত সাহেবের মতো আমিও কোনোভাবেই মানতে পারি না যে, আমাদের পূর্বপুরুষ বানর। ভাবতেই ঘেন্না লাগে! বইটি নিয়ে আমি সাজিদের কাছে গেলাম। গিয়ে । দেখি সে ব্যাগপত্র গোছানো শুরু করেছে। সে বলল-চল, বাসায় যাবো।' আমি তাকে হাতের বইটি দেখিয়ে বললাম-এই বইটা পড়েছিস? মজার একটি । কাহিনি আছে। হয়েছে কী জানিস...?' আমার মুখ থেকে কথা কেড়ে নিয়ে সাজিদ বলল-শওকত সাহেব নামের এক ভদ্রলোক আহসান নামের একটি ছেলের সামনে ডারউইনের গোষ্ঠী উদ্ধার করেছে, তাই তো?" আমি অবাক হলাম। বললাম-হ্যা। কিন্তু আমি এই ব্যাপারে বলব কী করে বুঝলি?' সাজিদ ব্যাগ কাঁধে নিতে নিতে বলল- এটা ছাড়া এই বইতে আর তেমন বিশেষ কিছু নেই, যেটা দেখাতে তুই এভাবে আমার কাছে ছুটে আসবি। তাই অনুমান করলাম। আমি আর কিছুই বললাম না। বইটি সেলফে রেখে দিয়েই হাটা ধরলাম। সিড়ির কাছাকাছি আসতেই হঠাৎ বিপ্লবদার সাথে দেখা। উনার সাথে শেষবারের মতো দেখা হয়েছিল উনার বাসায়। সেবার সাজিদ আর বিপ্লবদার মধ্যে কোয়ান্টাম ফিজিক্স নিয়ে যা বিতর্ক হয়েছিল, সেটা দেখার মতো ছিল। বিতর্কে বিপ্লবদা সাজিদের কাছে গো-হারা হেরেছিল। সেটা ভাবতেই এখনো আমার পৈশাচিক আনন্দ হয়। আমাদের দেখেই বিপূবদা হেসে দিলেন। কিছুক্ষণ কথাবার্তা বললেন। এর মধ্যে হঠাৎ করে বৃষ্টি চলে এলো। মধ্যাকাশে সূর্য্যি মামা তখনও বহাল তবিয়তে জ্বলজ্বল করছে, আবার ওদিকে বৃষ্টির বিশাল বিশাল ফোটা। গ্রাম্য লোকজনের কাছে এই বৃষ্টির একটি মজার ব্যাখ্যা আছে। তারা বলে, বিয়ে হলে এরকম বৃষ্টি হয়। রোদের মধ্যেই বৃষ্টি। শেয়াল প্রজাতির মধ্যে প্রচলন আছে কিনা কে জানে। বিপ্লবদাসহ আমরা ক্যান্টিনে ঢুকলাম। বৃষ্টি কমলে বের হতে হবে। 42  সাজিদ তিনকাপ চা অর্ডার করল । এরপর বিপ্লবদার দিকে তাকিয়ে বলল-দাদা, চা খেতে অসুবিধে নেই তো?' না না, স ওকে', বলল ইটবিপ্লবদা উত্তরে বলল । এরপর আবার বিপ্লবদা কল-সাজিদ, তোমার সাথে একটি ব্যাপারে আলাপ করার ছিল। ততক্ষণে এসেছে চা চলে এসেছে। বৃষ্টির মধ্যে গরম-গরম ধোয়া উঠা চায়ের কাপে । চমক দেয়ার ফ্লেভারটাই অন্যরকম। সাজিদ তার কাপে চুমুক দিতে দিতে বলল-‘হ্যা দাদা, বলুন। কোন টপিক?' বিপ্লবদা বলল-ঐ যে, তোমরা যে বইটাকে স্রষ্টার বাণী বলো, সেটা নিয়ে। কুরআন। সাজিদ বলল-সমস্যা নেই। বলুন কী বলবেন?' বিপ্লবদা বললেন- কুরআনে একটা সূরা আছে। সূরাটার নাম বাকরা।' সাজিদ বলল-সূরাটির নাম বাক্ৰা নয়, বাকারা। বাকারা অর্থ-গাভী। ইংরেজিতে The Cow .' ওই আর কী। ওই সূরার ৬-৭ নম্বর লাইনগুলো তুমি কি পড়েছ?' ‘পুরো কুরআনই আমরা মাসে কয়েকবার করে পড়ি। এটা মার্কস কিংবা প্রেটোর রচনা । নয় যে, একবার পড়া হয়ে গেলেই সেলফে আজীবনের জন্য সাজিয়ে রাখব। বিপূবদা বললেন- এই লাইনগুলোতে বলা হচ্ছে: Verily, those who disbelieve, it is the same to them whether you warn them or do not warn them, they will not believe. Allah has set a seal on their hearts & on their hearings, and on their eyes there is a covering. Theirs will be a great toment. এরপর বিপ্লবদা সেটার বাংলা অর্থ করে বললেন নিশ্চয় যারা অস্বীকার করে, তাদের আপনি সাবধান করুন আর না করুন, তারা স্বীকার করবে না। আল্লাহ তায়ালা তাদের হদয়ে এবং তাদের কর্ণ কুহরে মোহর মেরে দিয়েছেন: তাদের দৃষ্টির ওপর আবরণ টেনে দিয়েছেন। তাদের জন্য আছে ভয়াবহ শাস্তি।' এইটুকু বলে বিপ্লবদা থামলে । সাজিদ বলল Whats wrong these verses? বিপ্লবদা কললেন-দেখো. এখানে বলছে কাফিরদের হৃদয়ে আর কানে তোমাদের আল্লাহ। মোহর, আই মিন সিল মেরে দেয়। সিল মারা মানে তালাবদ্ধ করে দেয়া, তাই না? হু । 43  এখন কাফিরদের হৃদয়ে আর কানে যদি সিল মারা থাকে, তারা তো সত্যের বাণী, আই মিন তোমরা যেটাকে ধর্মের ; বাণী বলো আর কী, সেটা বঝতে পারবে না। উপলব্ধি করতে পারবে না। আল্লাহ যেহেতু তাদের হৃদয়ে আর কানে সিল মেরে দিচ্ছে, তাই তারা ধর্মের বাণীগুলো বুঝতে পারছে না । তাই তারা কাফির থেকে যাচ্ছে। নাস্তিক হচ্ছে। তাদের কী দোষ বলো? আল্লাই তো চান না তারা আস্তিক হোক। চাইলে তিনি নিশ্চয় হৃদয়ে আর কানে সিল মেরে। দিতেন না। আবার শেষে এসে বলছে, তাদের জন্য আযাব অপেক্ষা করছে। এটা কেমন কথাএকদিকে সিল মেরে দিয়ে সত্য বোঝার থেকে দূরে রাখছেন, আবার ওই দিকে আযাবও প্রস্তুত করে রাখছেন। ব্যাপারটা কি ঠিক? বলো?' বিপ্লবদার কথাগুলো আমার কাছে খুব যৌক্তিক মনে হলো। আসলেই তো। এই আয়াতগুলো নিয়ে তো এভাবে কোনোদিন ভাবিনি। আল্লাহ তায়ালা একদিকে বলেছেন, কাফিরদের অস্তরে মোহর মেরে দেন, আবার তাদের জন্য শাস্তির ব্যবস্থাও করে রেখেছেন। ব্যাপারটা কী? সাজিদ মুচকি হাসল। চায়ের কাপে শেষ চুমুকটুকু দিয়ে বলল-দাদা, ইসলামের ইতিহাস পড়লে আপনি একশ্রেণির মীর জাফরদের কথা জানতে পারবেন। এরা করত কী জানেন? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে আসত। হাতের মুঠির মধ্যে পাথর নিয়ে বলত-মুহাম্মাদ, আমার হাতে কী আছে বলতে পারলে আমি এক্ষুনি ইসলাম কবুল করব। দেখি তুমি কেমন নবি? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাসতেন। হেসে বলতেন-তোমার হাতের জিনিসই বলুক সেগুলো কী। ‘তখন পাথরগুলো কথা বলতে শুরু করত। এটা দেখে সেই লোকগুলো খুব অবাক হতো। অবাক হয়ে বলত-এ তো সাক্ষাৎ জাদুকর। এই বলে পালাত। অথচ তারা বলেছিল হাতে কী আছে বলতে পারলে ইসলাম কবুল করবে। কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের পরীক্ষায় পাশ করে গেলে তারা তাকে জাদুরজ্যোতিষী ইত্যাদি বলে চলে যেত। মুনাফিকি করত। এসব আয়াতে মূলত এই শ্রেণির কাফিরদের কথাই বলা হয়েছে। যাদের সামনে সত্য উদঘাটিত হওয়ার পরও তারা তা অস্বীকার করে। বিপ্লবদা বললেন-কিন্তু অস্তরে মোহর মেরে দিয়ে তাদের সত্য জানা থেকে বঞ্চিত করে, আবার তাদের শাস্তি দেয়াটা কি ঠিক?’ ‘মোহর আল্লাহ্ তা'য়ালা ইচ্ছে করে মেরে দেন না । এটা সিস্টেমেটিক্যালি হয়ে যায়। বিপ্লবদা হাসা শুরু করলেন। কললেন-‘Very Interesting ! সিস্টেমেটিক্যাল সিল। পড়ে যায়? হা হা হা।’ 44  সাজিদের এই কথাটা আমার কাছেও শিশুসুলভ মনে হলো। সিস্টেমেটিক্যালি। সিল পড়ে যায়? আল্লাহ তায়ালা মারেন না। এটা কেমন কথাআয়াতে তো অস্পষ্টই আছে ‘আল্লাহ তাদের হৃদয়ে মোহর মেরে দেন।' সাজিদ বলল-দাদা, ধরুন, আমি বললাম, যারা খাবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেছে, আপনি তাদের খেতে বলুন আর না বলুন, তারা কোনোভাবেই । খাবে না আল্লাহ তায়ালা তাদের দেহ তাদের শরীরের প্রতিরোধ শুকিয়ে দেন। রোগ ক্ষমতা কমিয়ে দেন। তাদের জন্য রয়েছে কঠিন অসুখ। খেয়াল করুন—এখানে তারা অসুস্থ হচ্ছে, তাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাচ্ছে, তারা কঠিন অসুখে পড়তে যাচ্ছে কেন এসব হচ্ছে? আল্লাহ তায়ালা কী ইচ্ছা করেই তাদের সাথে এগুলো করছেন? নাহ। এগুলো তাদের কর্মফল। তাদের যতই জোর করা হোক, তারা যখন কোনোভাবেই খাবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেছে, তখন সিস্টেমেটিক্যালি না খাওয়ার ফলে তাদের শরীর শুকিয়ে যাবে, শরীরের রোগ। প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাবে। তারা কঠিন রোগে পড়বে। এসব কিছুর জন্য তারাই দায়ী। কিন্তু সিস্টেমটা আল্লাহ তা'য়ালাই চালাচ্ছেন। আল্লাহ তায়ালা একটি সিস্টেম রেডি করে দিয়েছেন। আপনি না খেলে আপনার শরীর আল্লাহ তা'য়ালা শুকিয়ে দেবেন। আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেবেন । দিন শেষে, আপনার একটি কঠিন রোগ হবে। এটা একটা সিস্টেম। এই সিস্টেমে আপনি তখনই পড়বেন, যখন আপনি নিজ থেকে খাবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলবেন। ঠিক সেভাবেই , যারা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে যে, তাদের সামনে যত প্রমাণ, যত। দলিলই আসুক, তারা সত্যকে মেনে নিবে না, অস্বীকার করবেই করবে, তাদের অন্তরে আর কানে সিস্টেমেটিক্যালি একটি সিল পড়ে যাচ্ছে। না খাওয়ার ফলে আপনি যেভাবে শুকিয়ে যান, আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় , আপনার কঠিন অসুখ হয়। ঠিক সেভাবে, বিশ্বাস করবেন না বলে সিদ্ধান্ত যখন নিয়েই ফেলেছেন, তখন আপনার অন্তরে, কানে সিল পড়ে যাচ্ছে, আর। দিন শেষে, আপনার জন্য অপেক্ষা করছে কঠিন অসুখ, আই মিন আযাব। এর জন্য আল্লাহ তা'য়ালাকে ৱেইম করা হবে কেন?' সাজিদ একনাগাড়ে বলে গেল কথাগুলো। বিপ্লবদার মুখ খানিকটা ফ্যাকাশে । হয়ে । তিনি গেলসম্ভবত বুঝে গেছেন ব্যাপারটা। বললাম-বাঝা! কী দিয়ে কী বুঝিয়ে দিলি’ রে ভাই! আমি হলে তো হ-য-ব-র-ল করে ফেলতাম। সাজিদ মুচকি হাসল। বৃাষ্ট অনেকক্ষণ আগেই থেমে গেছে। আমরা বিপ্লবদার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে । বেরিয়ে এলাম ।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২৭১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ কুহক-৩
→ নেকড়ে ও ভেড়া
→ গাধা , শিয়াল ও সিংহ
→ ঈশপ
→ ঈগলের স্বপ্ন
→ এক লোক
→ খেলা দেখা বারণ
→ হযরত শাহজালাল (রা.) এর মাজার এবং লাক্কাতুর চায়ের বাগান ভ্রমণ
→ অষ্ট্রগ্রাম এবং মিঠামইন ভ্রমণ
→ কুকুর,ইনজেকশন, আমি ও আবদার

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...