গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !

গল্পেরঝুড়িতে স্বাগতম ...

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ঈশ্বরের গণিত - অধ্যায় তিন

"সাইন্স ফিকশন" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃ আনিছুর রহমান লিখন (৩২ পয়েন্ট)



লেখকঃ মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। অলংকরণঃ সৌরভ দে। পঞ্চম বর্ষ প্রথম সংখ্যা। ********************★****************** ২০ জানুয়ারি, ২১৫৪ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। প্রত্যয়ের বুক ধড়ফড় করছে; বারবার গলা শুকিয়ে আসছে উত্তেজনায়। বড় একটা ভুল করে বসেছে সে। অবশ্য এ ছাড়া তার কোনও উপায়ও ছিল না। কয়েকটা জার্নালে তার প্রস্তাবিত থিয়োরির সারসংক্ষেপ পাঠিয়েছিল, কিন্তু খুব বাজে রিভিউ এসেছে সেগুলো থেকে। একজন তো বলেই দিয়েছে তার নাকি সায়েন্স ফিকশন লেখার হাত বেশ ভালো। বৈজ্ঞানিক জার্নাল না লিখে সেদিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত। প্রত্যয়ের গবেষণার বিষয় কোয়ান্টাম মেকানিক্স। আজ কনফারেন্সে এই বিষয়ের উপর একটা পেপার উপস্থাপন করার কথা তার। কিন্তু সে প্রস্তুতি নিয়ে এসেছে অন্য একটি বিষয় নিয়ে। বিশ্ব-প্রতিবিশ্বের মাত্রার ওপর অভিনব একটা ধারণা। আগে থেকে না জানিয়ে এভাবে পেপারের বিষয় পরিবর্তন করাটা নিয়মবহির্ভূত। তাকে বড় ধরনের খেসারত দিতে হতে পারে এই হঠকারিতার জন্য। সব জেনেও দৃঢ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েই আজ এসেছে সে। নিজের থিয়োরি নিয়ে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী প্রত্যয়। কিন্তু কেন যে অন্য গবেষকরা তার প্রস্তাবিত থিয়োরিকে পাত্তা দিচ্ছেন না সেটা তার মাথায় ঢুকছে না কিছুতেই। নিজের উপর বিশ্বাস থেকেই আজ এই ঝুঁকি নেওয়া। কিন্তু সময় যতই এগিয়ে আসছে প্রত্যয়ের বড়ই ভয় লাগছে। হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসছে ক্রমশ। যথাসময়ে স্টেজে ডাক পড়ে প্রত্যয়ের। ছোট ছোট পদক্ষেপে মঞ্চের দিকে এগিয়ে যায় প্রত্যয়। টাই এর গোড়ায় মাইক্রোফোন ক্লিপ দিয়ে আটকিয়ে নেয়। শুরুতেই মৃদু কাশি দিয়ে গলা পরিষ্কার করে বলে ওঠে, “আমি ক্ষমাপ্রার্থী। আজ আমার যে পেপার উপস্থাপন করার কথা সেটা না করে অন্য একটা থিয়োরি নিয়ে কিছু কথা বলতে চাই। আমার বিশ্বাস শেষ পর্যন্ত আপনারা মনোযোগ দিয়ে শুনলে আমাদের সামনে নতুন এক বিশ্বের দ্বার খুলে যাবে।” ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশাল অডিটরিয়ামে হঠাৎ করেই যেন পিনপতন নিরবতা নেমে আসে। বাংলাদেশের অনেক নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাঘা বাঘা প্রফেসররা উপস্থিত আজ এ সম্মেলনে। এ ছাড়াও আছেন বহু বিদ্বান ও বিজ্ঞানমনস্ক মানুষেরা। এমন সুযোগ সহজে আসবে না। সামনের সারিতে বসে আছেন প্রত্যয়ের বিভাগেরই কয়েকজন বয়োজ্যেষ্ঠ প্রফেসর। কিঞ্চিত ভ্রু কুচকে নিজ আসনে খানিকটা নড়েচড়ে বসেন তারা। কথা না বাড়িয়ে দ্রুত মূল বক্তব্যে ঢুকে পড়ে প্রত্যয়। একে একে তার থিয়োরির মৌলিক স্বীকার্যের বিষয়গুলো উপস্থাপন করে প্রত্যয়। ছয়টি মৌলিক বলের চরিত্র ও এদেরকে একিভূত করা নিয়ে গবেষকদের নিরন্তর চেষ্টা, আইনস্টাইনের ফিল্ড থিয়োরি, স্থান-কালের ভেক্টরের টেনসর অপারেশন ইত্যাদি বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা করে অবশেষে মাত্রা নিয়ে তার বক্তব্য তুলে ধরে। ধীরে ধীরে জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে তার থিয়োরি। ভেতর ভেতর উদ্বেগ বাড়ছে। এত অল্পসময়ে অত্যন্ত জটিল এই থিয়োরির ধারণাটাও সম্পূর্ণ উপস্থাপন করা এক কথায় অসম্ভব। অন্তত প্রাথমিক ধারণাটুকু দিয়ে উপস্থিত প্রফেসরদের মনের মধ্যে খানিক আলোড়ন তুলতে পারলে তার কিছুটা কার্যসিদ্ধি হবে। তারপর না হয় সময় বুঝে বিস্তারিত আলোচনা করা যাবে। এক ঘণ্টার দশ মিনিট আগে একজন স্টেজের পাশ থেকে তাকে ইঙ্গিতে জানিয়ে দেয় আর দশ মিনিট সময় আছে। চমকে উঠে প্রত্যয়! সময় যেন উড়ে উড়ে যাচ্ছে! গতি বাড়িয়ে দেয়, গাণিতিক বিষয়গুলো এড়িয়ে চলে যায়। শেষপর্যন্ত ছোট্ট একটা টুং শব্দে নির্দিষ্ট সময় শেষ হয়ে যায়। প্রত্যয় বক্তৃতা থামিয়ে টেবিলে রাখা জলের গ্লাসটা ঢক ঢক করে শেষ করে। এবার শুরু হবে প্রশ্নোত্তর পর্ব। সামনের প্রফেসররা ছিঁড়ে খাবে তাকে। বুকটা ঢিপ ঢিপ করছে প্রত্যয়ের। নিজের থিয়োরির বিষয়টা শ্রোতাদের আদৌ কতটুকু বোঝাতে পেরেছে? সন্দিহান হয়ে ওঠে সে। অবশেষে প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরু হয়। আশায় বুক বাধে প্রত্যয়। হয়তো, প্রশ্নের উত্তরে আরও কিছু বিষয় পরিষ্কার করতে পারবে। একজন মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে প্রশ্ন করেন, “মিস্টার আহমেদ, আপনি কি বলতে চাচ্ছেন মৌলিক বলগুলোকে আপনি একিভূত করতে পেরেছেন এই থিয়োরির মাধ্যমে? “সেক্ষেত্রে আমরা নিশ্চয় প্রত্যয় আহমেদ ‘ইউনিফাইড থিয়োরি অব এভ্রিথিং’ পেয়ে গেছি কি বলেন?” আরেকজন বলে উঠল পাশ থেকে। মৃদু হাসির একটা লহরী ভেসে যায় অডিটোরিয়ামে। জবাবে কী বলবে ভেবে পায় না প্রত্যয়। এরা তাকে নিয়ে উপহাস করছে! তার সারাজীবনের পরিশ্রমকে এভাবে উপেক্ষা করার কারণ কী? বয়োজ্যেষ্ঠ জ্ঞানীগুণী মানুষ তারা, কিন্তু কেন এত অহংকার তাদের? জ্ঞানের অহংকার? হয়তো। দীর্ঘশ্বাসের সঙ্গে নিজের দুঃখটাকেও যেন ঝেড়ে দেয় সে। শত শত বছর ধরে চলে আসা ঐতিহ্যকে মানুষ সহজে ত্যাগ করতে পারে না। নতুন মৌলিক ধারণাকে সবসময়ই এভাবে গলা চেপে রাখা হয়েছে। একে একে আরও দু-একজন প্রশ্ন করেন তাকে। সবগুলোই যেন কৌতুক কিংবা অপমানিত করার জন্য। ভীষণ মর্মাহত হয় প্রত্যয়। অবশেষে শেষ হয় তার উপস্থাপনার পালা। রীতিমতো পালিয়ে আসতে হয় তাকে মঞ্চ থেকে। দুই দিন নিজেকে ঘরেই আটকে রাখে প্রত্যয়। এর ভেতর অনেক ফোন কল এসেছে, ধরেনি; ইমেইলও চেক করেনি। তৃতীয় দিন সময়মতো ডিপার্টমেন্টের হাজির হয় সে। ওইদিনের বিপর্যয় আপাতত কাটিয়ে উঠেছে। নিজের ডেস্কের দিকে এগিয়ে যেতেই পাশের একজন বলে উঠে, “এই দুই দিন কোথায় ছিলেন প্রত্যয় ভাই? ডীন স্যার তো আপনাকে খুঁজে খুঁজে হয়রান। জলদি দেখা করে আসেন।” মনে মনে যে আশংকা করছিল কপালে হয়তো তাই আছে। শেষমেষ চাকরি নিয়ে টানাটানি না পড়ে যায়। সালাম দিয়ে ডীন স্যারের ঘরে ঢোকে প্রত্যয়। কিছু একটা পড়ছিলেন কম্পিউটার স্ক্রিনে। ইঙ্গিতে বসতে বলে আবার পড়ায় মনোযোগ দিলেন। তাকে যেন রীতিমতো উপেক্ষা করছেন স্যার। কিছুক্ষণ পর আচমকা চোখ তুলে বলেন, “প্রত্যয়, আমি তোমাকে বুদ্ধিমান ভাবতাম; কিন্তু তুমি এটা কী কাজ করলে?” চুপচাপ বসে আছে প্রত্যয়। বলার মতো কিছু পাচ্ছে না সে আপাতত। হঠাৎ পকেটে রাখার কমিউনিকেশন ডিভাইসটা নড়েচড়ে ওঠে। অপরিচিত কেউ একজন যোগাযোগ করার চেষ্টা করছে। নাম্বারটা না দেখেই, কেটে দেয়। “সে যাক, গতকাল একাডেমিক কাউন্সিলে মিটিং হয়েছে। কনফারেন্সে নিয়মবহির্ভূত ভাবে পেপার উপস্থাপনের জন্য তোমাকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সাতদিনের মধ্যে তোমার ব্যবহারের কারণ দর্শিও। প্রথম ভুল যেহেতু, হয়তো তেমন কিছু হবে না; আর দয়া করে নতুন কোনও পাগলামি করো না। তোমার মতো মেধাবী শিক্ষককে হারাতে চাই না। আর বোঝোই তো, সহকর্মীরা অনেক সময় ঈর্ষা থেকেও ছোট বিষয় নিয়ে জল ঘোলা করে। এবার বিদায় হও সামনে থেকে।” দ্বিতীয় কোনও কথা না স্যারের রুম থেকে বের হয়ে আসে প্রত্যয়। মনেমনে খুব রাগ হচ্ছে, ইচ্ছা করছে কারণ দর্শানো নোটিশের জবাবে সোজা রেজিগনেশন লেটারই জমা দিয়ে দেবে। কিন্তু সে ঠিক জানে রাগ কমে গেলে এই চাকরি বাঁচানোর জন্যেই আবার তাকে উঠেপড়ে লাগতে হবে। হতচ্ছাড়া কমিউনিকেশন ডিভাইসটি আবার বেজে ওঠে। সেই অপরিচিত নাম্বার থেকেই কল এসেছে। ধরতেই একটা ভরাট কণ্ঠ বলে উঠে, “এসব নোটিশ ফোটিশ নিয়ে মোটেও ঘাবড়াবে না। আমি একটা ঠিকানা দিচ্ছি, আজ বিকেল চারটের সময় সেখানে চলে এসো। একসঙ্গে চা-টা খাবো আর তোমার থিয়োরি নিয়ে আলাপটাও সেরে ফেলা যাবে সেইসঙ্গে।” নাম্বারটা ঘেঁটে দেখে প্রত্যয়। কলার আইডি প্রাইভেট করা। নিশ্চয় হোমরাচোমড়া কেউ হবে। কর্তৃত্বপূর্ণ বাজখাঁই গলা, শুরু থেকেই প্রত্যয়কে তুমি করে সম্মোধন করেছে। মানে হচ্ছে বয়সে তার চেয়ে বড়, এবং শিক্ষকশ্রেণীর কেউ হবে। অথবা কেউকেটা গোছের কোনও বিজ্ঞানী বা পয়সাওয়ালা হতে পারে। কেবল তারাই এভাবে নির্দ্বিধায় অপরিচিতিজনকে তুমি করে সম্মোধন করে। ভাবনার মাঝেই টুং করে শব্দ করে একটা মেসেজ আসে। খুলে দেখে একটা এড্রেস সেই সঙ্গে সেই জায়গার কোর্ডিনেট। কী মনে করে ইন্টার্নেটে ঠিকানার কোর্ডিনেট দিয়ে সার্চ দিতেই একটা প্রাসাদতুল্য বাড়ির ছবি সামনে নিয়ে আসে কম্পিউটার। চোখ ছানাবরা হয়ে যায় প্রত্যয়ের! কি দেখছে সে এসব! নিজের চোখকেই বিশ্বাস করেত পারছে না! অনিল চট্টোপাধ্যায় তাকে ডেকেছেন? বাংলাদেশের এডিসন অনিল চট্টোপাধ্যায়!? ********************★******************* তথ্যসূত্রঃ কল্পবিশ্ব।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২২৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ত্রাতিনা – . দ্বিতীয় পর্ব (2.02)(ষোল বছর পর)
→ ত্রাতিনা – দ্বিতীয় পর্ব(2.01) (ষোল বছর পর)
→ রোবটের খাওয়া-দাওয়া
→ অঙ্ক স্যার, গোলাপী বাবু আর টিপু - ১
→ পাহাড়ের গুহায় আঁটকে পড়া তিন যুবক
→ ওমর (রাঃ) -এর পুত্রের জন্য পাত্রী নির্বাচন
→ হাদীছের উপরে আবূ বকর (রাঃ)-এর দৃঢ়তা
→ ত্রাতিনা – প্রথম পর্ব(1.03)
→ ত্রাতিনা – প্রথম পর্ব(1.02)
→ আদর্শ মা-বাবার যোগ্য ছেলে পড়তে

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...