বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আমার স্বপ্নের গল্পে তুমি(পর্ব১১)

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ESHRAT JAHAN (৪১৩ পয়েন্ট)



X দুইতিন পর ইসরাতের পা ঠিক হয়ে গেলো।ইসরাত ছাদে দাঁড়িয়ে আছে একা একা।রনি পিছন থেকে বলল,"চোখ বন্ধ করো তো।" ইসরাত পিছন ফিরে বললো,"কি এনেছ আমার জন্য?" "আহা চোখ বন্ধ করো।" ইসরাত চোখ বন্ধ করলো।রনি ইসরাতের হাতে চুরি পরিয়ে দিলো।ইসরাত চোখ খুলে বলল,"বাহ চুড়িগুলো তো অনেক সুন্দর।" "তোমার হাতে বেশ মানিয়েছে।সত্যি তোমার পছন্দ হয়েছে?" "আরে কিযে বলো আমার প্রিয় আমাকে যা দিবে আমি তাই নিয়ে খুশি হবো।" "ওহ তাই না?" "হুমম।" রনি ফাজলামি করে ইসরাতের চুল ধরে টান মারলো।ইসরাত বললো,"আহ চুল ধরে টানছো কেন?" "লম্বা চুল তো টানতে ভালো লাগে।" "দুষ্টমি করা হচ্ছে না!!" "হিহিহিহ।" "দাঁড়াও দেখো আমি কি করি।" ইসরাতের চুলে আগে থেকে বেনি গাঁথা ছিল।এই চুল দিয়ে রনিকে বাঁধতে শুরু করলো।রনি বললো,"আহা কি করছো?ছেড়ে দাও।" "আমি একদিন কিন্তু ঠিকই বলেছি যে তুমি দুষ্টমি করলে এই লম্বা চুল দিয়ে তোমাকে বেঁধে রাখবো।এই নাও বেঁধে রাখলাম।" "হাহাহা তুমি তো নিজের সাথেই বেঁধে নিয়েছো আমাকে।" "হুমম।" এরই মাঝে আয়শা ছাদে এলো।আয়শা দেখে বললো,"একি চুলের বন্ধন!!" ইসরাত আয়শাকে দেখে রনিকে ছেড়ে দিলো।রনি বললো,"দেখ তোর ভাবীর কাজ।আমাকে চুল দিয়ে বেঁধে রাখে।" "হুমম ভালো কথা ভাইয়া।" ইসরাত ছাদ থেকে নেমে গেল।পিছে পিছে রনিও। পরদিন ইসরাত দেখলো রনির হাতে সিগারেট।একি দেখছে ইসরাত!!এটা তো কখনো আশা করেনি ইসরাত।ইসরাত রাগান্বিত হয়ে রনির কাছে গেলো।রনিকে একটা চড় মারলো।রনির হাত থেকে সিগারেট পড়ে গেলো।ইসরাত বললো,"তুমি সিগারেট খাও আমি তো জানতাম না।" "আমি আগে কখনো খাইনি।এই প্রথম।বিশ্বাস কর আগে কখনো খাইনি।মন চাইলো তো।" "ওহ আজকে একটা শখ করে খেয়েছো মন চেয়েছে বলে।কালকে একটা খাবে।এরকম করে প্রতিদিনই খাবে।তারপর পাঁচ দশটা খাবে।তারপর দেখতে দেখতে মাদকের অন্যকিছুও খেতে মন চাইবে।তারপর খাবে।তারপর নেশাখোর হয়ে যাবে।তাই তো?" "না।" "না, তাহলে?" "দেখো আমি কখনো খাইনি।" ইসরাত কিছু না বলে রিক্সায় উঠলো।রনি ইসরাতের পিছে পিছে বাইকে নিয়ে চললো।ইসরাত বাসায় গেল।ব্যাগ গোসাতে শুরু করলো।রনি বলল,"ইসরাত এসব কি শুরু করছো?" "তার আগে বলো তুমি কি শুরু করছো?" "আমি তো কখনো খাইনি।এই প্রথম।একটা নিয়েছি।" "আচ্ছা মানুষ কি প্রথম দিন দুইতিনটা খায় নাকি একটা খায়?প্রথম দিন একটা খায়।তুমি জানো না এসব খাওয়া আমার পছন্দ না?আর যেটাই আমি পছন্দ করি না সেটাই তুমি করতে যাচ্ছ!!!" "আমার ভুল হয়ে গেছে রাত।সরি।" ইসরাতের ব্যাগ গুসানো শেষ।চলে গেলো।রনি চুপচাপ বসে পড়লো। দুইদিন হয়ে গেল ইসরাত ফোন ধরছে না।কোনো খোঁজখবর পাচ্ছে না তার।রনির কিছুই ভালো লাগছে না।কোনোকিছুতেই মন বসছে না।রনির ভীষন মন খারাপ হলো।ভাবতে ভাবতে রাস্তায় গেল।রনির কোনো দিকে খেয়াল নেই।হঠাৎ করেই একক্সিডেন্ট করলো।কাছে নীরব আর শান্ত দাঁড়িয়ে ছিলো।তারা রনিকে তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নিয়ে গেলো।রনির যখন জ্ঞান ফিরলো।কিন্তু রনি শুধু "রাত" "রাত" করছে।শান্ত আর নীরব তার কাছে গেল।তাদেরকে দেখে রনি বললো,"ইসরাত কোথায়?আমি তার কাছে যাবো।" নীরব আর শান্ত কিছুই বলছে না।রনি বলল,"কি হলো বল ইসরাত কোথায়?আমি তার কাছে যাবো।" এ সময় রনির অবস্থা খুবই খারাপ।তাই রনিকে বলা যাবে না ইসরাত এখনো তার ওপর রাগ করে আছে।বললে রনি আরো অস্থির হয়ে যাবে।তখন তার অবস্থা আরও খারাপ হবে।শান্ত বললো,"ওহ ভাবী আসবে তো।তুই চিন্তা করিস না।" রনি শান্তর দিকে তাকিয়ে বলল,"কখন আসবে?" নীরব বললো,"আসবে।এক্ষুনি কল দিচ্ছি।আসলে তুই একক্সিডেন্ট করেছিস সেটা ইসরাত জানে না।" রনি বললো,"আমি ইসরাতের কাছে যাবো।" রনি উঠে দাঁড়ালো।নীরব বললো"একি করছিস তুই?কোথায় যাবি?" "ইসরাতের কাছে।" "আরে ইসরাত আসবে তো।" "কখন আসবে?আমি তার কাছে যাবো।" শান্ত বললো,"আহা চিন্তা করিস না।আসবে তো।" শান্ত ইসরাতকে ফোন করলো।ইসরাত ফোন ধরলো। "কি ব্যাপার ভাবী?" "কিসের কি ব্যাপার?" "কোনো খোঁজখবর নিয়েছেন কি রনির?" "নাতো কি হয়েছে?" "কি আবার হবে পড়ে আছে বিছানায়।" "মানে?" "মানে রনি একক্সিডেন্ট করেছে।" "কি?" "হুমম।তাড়াতাড়ি এই মহুর্তে রনির সাথে দেখা করার জন্য চলে আসুন।না হলে রনির অবস্থা আরো খারাপ হয়ে যাবে।" শান্ত ফোন কেটে দিলো।ইসরাত তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে চলে আসলো।হ হাসপাতালে আসলো।রনির কাছে যেতেই রনি ইসরাতকে জড়িয়ে ধরে বলল,"কোথায় গেসিলে তুমি আমায় ছেড়ে?" "কোথায় গেসিলাম জানো না?খুব বেশি আঘাত পেয়েছ তাই না?" "আর কখনো ওসব খাবো না এই ওয়াদা করলাম।" "হুমম।" "আর কখনো আমায় ছেড়ে যাবে নাতো?" ইসরাত রনির দিকে তাকিয়ে বলল"আমি তোমাকে ভালোবাসি।আমি কি তোমাকে ছেড়ে কখনো চলে পারি!!" "হুমম আমিও তোমায় কখনো ছেড়ে চলে যাবো না।" "নাও এখন শুয়ে পড়।তোমার শরীর ভীষন খারাপ।তোমার রেস্টের দরকার।" রনি শুয়ে পড়লো।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৫৬৫ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...