বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অভিমানী ভালোবাসা

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান সাফায়েত হোসেন (০ পয়েন্ট)



X ধুর আজ বাসায় যেতে দেরি হয়ে যাচ্ছে অনেক।অফিস বিকেলেই ছুটি হয়ে যায় আমার।কিন্তু অনেক বৃষ্টি হচ্ছে আজ তাই অফিস থেকে বের হতে পারি নি এখনো।ওদিকে আমার বউ সামিহা আমার জন্য চিন্তা করছে মনে হয়।বার বার ফোন দিয়ে আমায় বাসায় চলে আসতে বলছে।আমারও চিন্তা হচ্ছে এখন ওর জন্য কারণ ওহ বাসায় একা আছে।কিন্তু ছাতাটা ও বাসায় ফেলে আসছি এদিকে সন্ধ্যাও হয়ে আসছে এখন কি করে যে যাই বাসায়।উপায় না দেখে বাধ্য হয়ে অফিসেই বসে আছি আমি।এভাবে আরো কিছুক্ষণ যাওয়ার পর দেখি বৃষ্টি অনেকখানি কমে এসেছে।তাই বাসায় যাওয়ার জন্য মনঃস্থির করলাম।তারপর অফিস থেকে বের হয়ে একটা রিকশা খুজতে লাগলাম।ভাগ্য ভালো ছিল আমার যে একটা রিকশাও পেয়ে গেলাম।তারপর রিকশায় চড়ে বাসার দিকে রওনা দিলাম।এর মধ্যে আবার সামিহা ফোন দিয়ে বললো আজ আর আশা লাগবে না বাসায় যাও অফিসেই থাকো।আমি বাসাতে একা আছি তোমার তো সেদিকে খেয়াল নাই।তুমি শুধু তোমার অফিস নিয়েই থাকো।এই বলে সামিহা ফোন কেটে দিল।আমার বউটাও না খুব অভিমানী।একটু তেই অভিমান করে।যাই হোক রিকশাওয়ালা কে বললাম মামা জোরে চালান।রিকশা চলছে গন্তব্য আমার বাসা।বাসায় যেতে যেতে আমার পরিচয় দিয়ে নেই।আমি সুমন আমার বাসা নরসিংদী জেলার এক প্রত্যন্ত গ্রামে।পড়াশুনা ঢাকা তেই করছি।তারপর পড়াশুনা শেষ করে ঢাকাতেই একটা ভালো সরকারি চাকরি পেয়ে যাই।চাকরি পাওয়ার পর আম্মু আব্বু কিছুটা জোড় করেই বিয়ে দিয়ে দিলো আমার।আর আমার বউ হচ্ছে সামিহা।সামিহার বাসাও আমাদের নরসিংদী জেলাতেই।আর আমাদের বিয়ে হইছে এই ছয় মাস হলো।যাই হোক সামিহা কে নিয়ে তারপর ঢাকায় চলে আসি কারণ ঢাকাতেই আমার চাকরি।আর ঢাকায় এসে একটা ফ্ল্যাট কিনি।ফ্ল্যাটে আমি আর সামিহা থাকি শুধু।মাঝমধ্যে আম্মু আব্বু এসে থাকে আর ছুটি পেলে আমরা গ্রামে চলে যাই বেড়াতে।আমি বিয়ের আগে কখনো প্রেম করি নি তাই বিয়ের পর সামিহার সাথে এখন যেন প্রতদিন নতুন নতুন ভাবে প্রেম করছি।আমার মতো সামিহাও বিয়ের আগে কখনো প্রেম করে নি।সামিহা কে বিয়ে করে আমি অনেক খুশি।মেয়েটা একটু অভিমানি হলেও আমাকে খুব ভালোবাসে।আর ওর অভিমান ভাঙ্গতেও বেশি সময় লাগে না।যাই হোক আপনাদের আমাদের পরিচয় দিতে দিতে কখন যে আমার ফ্ল্যাটের কাছে চলে এসেছি বুঝতেই পারি নি।রিকশাওয়ালার ডাক শুনে তারপর হুশ ফিরলো।রিকশা থেকে নেমে রিকশাওয়ালার ভাড়া বুঝিয়ে দিলাম।আমার ফ্ল্যাটের সামনে ফুলের দোকান আছে।তারপর সেই ফুলের দোকান থেকে কিছু লাল গোলাপ কিনলাম।সামিহার লাল গোলাপ আবার খুব পছন্দ।ওর অভিমান ভাঙ্গাতে লাল গোলাপ ই যথেষ্ঠ।তারপর ফুল নিয়ে আমার ফ্ল্যাটের দরজার কাছে গিয়ে কয়েকবার কলিং বেল বাজালাম। তারপর দরজা না খুলে ভিতর থেকে সামিহা বললো বাসায় আজ আসলে কেনো অফিসেই থেকে যেতে পারতে। আমি:-রাগ করে না আমার বাবুটা,আমার সোনাটা।দয়াকরে দরজাটা খুলে দাও। সামিহা:-নাহ খুলবো না যাও।তুমি বাইরেই বসে থাকো।দেরি করে আসার জন্য এটাই শাস্তি তোমার। আমি:-প্লিজ রাগ করে না সামিহা।কথা দিচ্ছি আর কখনো এমন দেরি করে বাসায় ফিরবো না।তারপর দরজা খুলে দিলো সামিহা।দরজা খোলার পর আমার দিকে তাকিয়ে.......... সামিহা:-ইশ তুমি তো অনেক ভিজে গেছো দেখছি।এত ভিজে গেলে কি করে তুমি?ছাতাটাও তো ভুলে নিয়ে যাও নি আজ। আমি:-তুমি বার বার ফোন দিচ্ছিলে আর বৃষ্টি ও একটু থামলো তাই বের হয়ে গেলাম অফিস থেকে।আর রিকশায় আসতে আসতে আবার হালকা বৃষ্টি শুরু হয়ে গেলো তাই ভিজে গেছি একটু।যাই হোক এই দেখো গোলাপ ফুল নিয়ে আসছি তোমার জন্য। গোলাপ ফুল দেখে সামিহা খুশি হয়ে গেল।তারপর আমার হাত থেকে গোলাপ ফুল নিয়ে বললো...... সামিহা:-অভিমান ভাঙ্গানোর ভালোই একটা বুদ্ধি পাইছো দেখছি।তা এই যে আমার রোমান্টিক বর এখন প্রেম ছেড়ে ভালো করে গোষল করে পরিষ্কার হয়ে নাও।নইলে আবার গায়ে জ্বর আসবে নি। তারপর বাথরুমে গিয়ে গোসল করে নিলাম।গোসল করার পর সামিহা আবার আমার মাথা মুছে দিলো ভালোভাবে।সামিহা রোজ আমার গোসল শেষে আমার মাথা মুছে দেয়।আমি মানা করলেও শুনে না আর বলে আমি নাকি ভালোভাবে মাথা মুছতে পারি না।সত্যি মেয়েটা আমায় অনেক ভালোবাসে।আমার অনেক খেয়াল রাখে।এরপর রাতে খাওয়াদাওয়া শেষ করে ঘুমানোর আগে একটু বাথরুমে গিয়েছি।তখন আবার আমার ফোন বাজতে লাগলো।তাই সামিহা কে বললাম একটু ধরতে।তার কিছুক্ষণ পর বাথরুম থেকে বের হয়ে দেখি সামিহা রাগি চোঁখ নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমি:-কি হলো সামিহা।এভাবে রাগী দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছো কেন? সামিহা:-স্নেহা কে? আমি:-কোন স্নেহার কথা বলছো?আমিতো কোনো স্নেহাকে চিনি না। সামিহা:-ইইই চেনো না তাই না।আমি বুঝি খুব পুরাতন হয়ে গেছি।তাই জন্য অন্য মেয়ের সাথে প্রেম করছো।আমাক আর ভাল লাগছে না এই কথা আগেই বলতে পারতে আমায় তাইলে আমি চলে যেতাম। আমি:-কিহ বলছো তুমি এসব।তোমাক ভাল লাগবে না কেন আবার।আর আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না।তুমি কোন স্নেহার কথা বলছো? সামিহা:-তোমার অফিসের সহকারী স্নেহা।ফোন দিয়ে তোমার খোজ নিচ্ছে।তোমার সাথে নাকি ওর জরুরি কথা আছে। আমি:-ওহ আমার অফিসের সহকারী ওই স্নেহার কথা বলছো।আরেহ ওহ আমার সহকারী শুধু।এর থেকে বেশি কোনো সম্পর্ক নাই আমার ওর সাথে।আর ওহ হয়তো অফিসের কোনো দরকারের জন্য আমায় ফোন দিয়েছে। তারপর সামিহার কিছু বলার আগে আবার আমার ফোনে ফোন আসলো।তাকিয়ে দেখি স্নেহা ফোন করছে।আবার স্নেহার ফোন কল দেখে সামিহা রেগে গেলো। সামিহা:-এইতো দেখো আবার ফোন দিছে তোমার প্রেমিকা।তুমি ওর সাথেই কথা বলো এখন আমি পাশের রুমে গেলাম।আজ ওই রুমেই থাকবো তুমি একদম আমার কাছে আসবে না। অভিমান দেখিয়ে সামিহা চলে গেলো।ধুর স্নেহাও ফোন করার আর সময় পেলো না।যাই হোক স্নেহার ফোন ধরে ওর সাথে কথা বললাম কিছুক্ষণ।আসলে স্নেহা অফিসের একটা দরকারেই আমায় ফোন করছে।কিন্তু সামিহা আমায় ভুল বুঝে রাগ দেখিয়ে চলে গেলো।এরপর স্নেহার সাথে কথা বলা শেষ করে অন্য ঘরে গেলাম যেখানে সামিহা রাগ করে চলে গেছে।ওই রুমে গিয়ে দেখি সামিহা ফুপিয়ে ফুপিয়ে কান্না করছে।তারপর ওরেহ অনেক বুঝালাম যে স্নেহা আমায় অফিসের কাজে ফোন দিয়েছিল আর অন্য কোনো কারণে ফোন দেই নি।কিন্তু সামিহা যেন বোঝার মেয়েই নয়।ওর একটাই কথা অফিসের কথা অফিসেই বলবে এত রাতে বাসায় কেনো ফোন দিয়া লাগবে।এসব বলে শুধু কান্না করছে সামিহা।মেয়েটার দুই চোঁখ দিয়ে অঝোর ধারায় পানি পড়ে যাচ্ছে।ওর কান্না আমার একদম সহ্য হয় না।আমারো খুব খারাপ লাগছে।মেয়েটা আসলে খুব অভিমানী।একটুতেই অভিমান করে শুধু।অনেক বুঝালেও তো বুঝবে না এখন।কিন্তু সামিহা কে ছাড়া ঘুমও তো ধরবে না আমার। আর সামিহাও তো আমায় জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে থাকে সারারাত।ওই ও তো আমায় ছাড়া রাতে ঘুমাতে পারে না।তারপর ওরেহ বুঝালাম যে তোমায় ছাড়া ঘুম আসবে না আর তুমিও তো আমায় ছাড়া ঘুমাতে পারবে না তাই আর অভিমান করো না।কিন্তু ওহ বললো ঘুম আসবে এবং আমার কাছে একদম আসবে না আর।এই বলে আমায় রুমে থেকে বের করে দিয়ে ঘরের দরজা লাগিয়ে দিলো। নাহ সামিহা দেখি আজ অনেক অভিমান করেছে।কিন্তু আমি জানি ওহ আমায় ছেড়ে ঘুমাতেই পারবে না।ওহ ঠিক আসবে।তারপর আমি রুমে গিয়ে দরজা না লাগিয়ে শুয়ে পড়লাম।এপাশ ওপাশ করছি কিন্তু ঘুম আসছে না।সামিহা কে ছাড়া চোঁখে ঘুমও আসছে না।ওকে ছাড়াতো আমার ঘুমানোর অভ্যাস নাই তেমন।হঠাৎ দেখি সামিহা ঘরে এসে দরজা লাগিয়ে দিয়ে বিছানার কাছে এসে বললো...... সামিহা:-একা একা ঘুম আসছে না।তোমাকে ছাড়া তো কখনো ঘুমাই নি।তাই বিছানার আমি এক কোনায় এবং তুমি আরেক কোনায় শোবে।মাঝখানে কোলবালিশ থাকবে।আর হ্যা একদম কোলবালিশ টপকিয়ে আমার কাছে আসবে না বলে রাখলাম। এই বলে সামিহা খাটের মাঝখানে কোলবালিশ রেখে অন্য দিকে মুখ ঘুরিয়ে শুয়ে পড়লো। সামিহার কাণ্ডকারখানা দেখে তো আমার অনেক হাসি পাচ্ছে।কিন্তু হাসি চেপে আছি। হাসলে না আবার আরো অভিমান করে।মেয়েটা যে বড্ড অভিমানী।কিন্তু আমার উপর বেশিক্ষণ অভিমান করে থাকতে পারে না।তাইতো ওই রুমে থাকতে পারলো না বেশিক্ষণ।আমার কাছে চলে আসলো।তারপর আমিও ঘুমানোর চেষ্টা করলাম। তারপর কখন যে ঘুমিয়ে গেছি বলতে পারবো না।গভির রাতে আবার জাগা পেলাম।জাগা পেয়ে মোবাইল ওন করে সময় দেখি রাত ৩টা বাজে এবং আমায় সামিহা যে জরিয়ে ধরে ঘুমিয়ে আছে সেটাও খেয়াল করলাম।সামিহা মাঝখানের কোলবালিশ সরিয়ে কখন যে আমায় জরিয়ে ধরে ঘুমিয়ে আছে টেরই পাই নি। সত্যি সামিহা যেন একটা পাগলী বউ আমার।ওর পাগলামো গুলো আমার অনেক ভালো লাগে।আমি জানতাম যে ওহ আমায় জরিয়ে না ধরে ঘুমাতেই পারবে না। ঘরের জানালা খোলা ছিল।আজ পূর্ণিমার রাত জানালা দিয়ে পুর্ণিমার চাঁদের আলো এসে একেবারে সামিহার মুখে গিয়ে পড়েছে।সেই আলোতে সামিহা কে দেখছি আর মুগ্ধ হচ্ছি।কি সুন্দর লাগছে আমার বউটাকে যেন একটা পরী আমার পাশে সুয়ে আছে।কি মায়া ভরা মুখ সামিহার আর এই মেয়েটাই কিনা আমার উপর একটু আগে এত অভিমান করেছিল।কিন্তু তাতে কি সামিহার অভিমান আমার কাছে খারাপ লাগে না।বরং আমার তো অনেক ভালোই লাগে কারণ অভিমান তো ভালোবাসারই একধরনের বহিঃপ্রকাশ।আর অভিমান শুধু ভালোবাসার মানুষের সাথেই করা যায়।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ১২২৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অভিমানী ভালোবাসা
→ অভিমানী ভালোবাসা
→ অভিমানী ভালোবাসা
→ অভিমানী ভালোবাসা
→ অভিমানী ভালোবাসা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...