বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

~স্বপ্নপূরন~

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Ariya Ibnat (০ পয়েন্ট)



X মেয়েটির নাম শ্যামলী।। সমাজ দ্বারা নির্ধারিত সৌন্দর্যের সঙ্গায়, তাকে সুন্দরী বলা যায় না। কারণ তার গায়ের রং যে কালো। হয়তো-বা একটু বেশি-ই কালো। সাধারণ বাঙালি মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে শ্যামলী। সে ও জানে সবাই তার সাথে সৌজন্যতা স্বরূপ হেসে কথা বললেও তাদের অনেকের মনেই একটা কিন্তু থেকে যায়, কারণ তার গায়ের রং।  কিন্তু অন্য সাধারণ মেয়েদের মতো তারও স্বপ্ন আছে, আর তা হলো ক্রিকেটার হওয়া। হ্যাঁ, সে ডাক্তার, ইন্জিনিয়ার হতে চায় না। কারণ সে পড়াশোনায় ক্রিকেট খেলার মতো আনন্দ পায় না। শ্যামলীর কাছে তার দিনের শ্রেষ্ঠ সময় হলো স্কুলের টিফিন টাইম। কারণ শুধু এই সময়টাতে-ই সে তার স্বপ্ন দেখতে পারে। কারণ আমরা যে সমাজে থাকি সে সমাজ এখনও আমাদেরকে এই শিক্ষা দেয় যে- লেখাপড়া ছাড়া গতি নাই। তাই যখন কেউ নতুন কিছু করার চেষ্টা করে তখন তারা বলে- এইসব করে কিছুই হবে না, শুধু সময় নষ্ট করা ছাড়া। আর যখন কেউ এত বাধা সত্ত্বেও সফল হয় তখন এই সমাজ বলে- এদের মতো হওয়া উচিৎ। কতটা হাস্যকর আমরা আর আমাদের সমাজ ব্যবস্থা। আর তাই শ্যামলী পারে না যেকোন সময় তার স্বপ্নপূরনের জন্য কাজে লাগাতে। কারণ আমাদের সমাজ ব্যবস্থা। শ্যামলীর পরিবারও তার স্বপ্ন কে অবসর সময়ের বিনোদন হিসেবে দেখে। তাই শ্যামলীও মেনে নেয় কেবল পাবলিক ভার্সিটিতে চান্স পাওয়াই তার জীবনের লক্ষ্য, বাদ দেয় সে ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন দেখা। তারপর সে এইচএসসি পরীক্ষা দেয়। ফলাফল আশানুরূপ নয়, তবে খারাপ ও নয়। আশেপাশের গোল্ডেন এ+ এর ভিড়ে তার ফলাফল আকর্ষনীয় নয়, তবে তার চেষ্টা ছিল সর্বোচ্চ। দেখতে দেখতে তার ভর্তিপরীক্ষা ও চলে আসে।বেশ কয়েকটি জায়গায় সে পরীক্ষা দেয় কিন্তু কোন পাবলিক ভার্সিটিতে তার চান্স হয় না। মধ্যবিত্ত পরিবারের হওয়ায় তার পক্ষে নামকরা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াও সম্ভব না। তাই শুধুমাত্র পড়াশোনা শেষ করার জন্য সে তার বাসার কাছের একটি ভার্সিটিতে ভর্তি হয়। এদিকে তার পরিবারের চিন্তা শ্যামলীর বিয়ে নিয়ে। কারণ গায়ের রং কালো, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও ভালো নয়। কারণ সে কোন পাবলিক ভার্সিটির শিক্ষার্থী নয়। কিন্তু তবুও মেয়ে, বিয়ে তো দিতে-ই হবে। তাই তার পরিবার পাত্র খোঁজা শুরু করে। কিন্তু কারোরই শ্যামলীকে পচ্ছন্দ হয় না। চার বোনের মধ্যে শ্যামলী সবার বড়। তাছাড়া শ্যামলীর বাকি তিন বোনের সবাই বেশ সুন্দরী অর্থাৎ ফর্সা। তাই তার মা- বাবার বেশি চিন্তা শ্যামলীকে নিয়ে-ই। আস্তে আস্তে তার বয়সও বাড়তে থাকে কিন্তু পাত্রপক্ষের কারোরই মনোভাব পরিবর্তন হয় না। কিন্তু একদিন পাত্রপক্ষ তাকে পচ্ছন্দ করে। তবে ছেলে না বলে লোক বলাই ভালো। কারণ শ্যামলীর থেকে বয়সে অনেক বেশিই বড়। তাছাড়া শিক্ষাগত যোগ্যতা- এসএসসি পাস। কিন্তু শ্যামলীর পরিবার এতে- ই অনেক খুশি। কারন তাকে বিয়ে করতে রাজি হয়েছে। তাছাড়া পাত্রপক্ষ কোন যৌতুক চায় না তবে তারা অল্প কিছু উপহার চায়। তবে তা শ্যামলীর পরিবারের স্বাধ্যের মধ্যে। তাই দুপক্ষ থেকে সবাই রাজি।তবে শ্যামলীর কোন অনুভূতি নেই। সে শুধু জানে তাকে বিয়ে করতে হবে। অবশেষে বিয়ে হয়ে যায়। শ্যামলী জানে না তার দাম্পত্য জীবনে কোন ভালোবাসা আছে, নাকি সবটাই শুধু দায়িত্ববোধ। তবে সে এতেই সন্তুষ্ট। মাঝে মাঝেই তাকে তার কালো বর্ণের জন্য ছোট হতে হয়, কিন্ত এ সবকিছুতেই সে এখন অভ্যস্ত। তার বিয়ের একবছরের মাথায় ছোট্ট শ্যামলীর জন্ম হয়। হ্যাঁ, সেও তার মায়ের মতোই কালো। তার নাম রাখা হয় মিহা।। মিহার এখন এগারো বছর। পঞ্চম শ্রেনির ছাত্রী সে। মিহা পড়াশোনায় আহামরি রকমের ভালো না হলেও অসাধারণ ছবি আঁকতে পারে সে। তার স্বপ্ন একজন চিত্রশিল্পী হওয়া। আর তাকে সবসময় অনুপ্রেরণা যোগায় তার মা। কারণ তার মা এতটুকু বুঝতে পেরেছে যে- কালো বর্ণের মানুষের প্রতি সমাজের মনোভাব পরিবতর্ন করা কঠিন। কিন্তু আমাদের মধ্যে একটু সাহস আর আপনজনদের অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতা থাকলে স্বপ্নপূরণ করা অনেকটাই সহজ।।।।।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৩৯৪ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...