বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

একটি দামি উপহার

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান সোমনাথ বিশ্বাস (guest) (৪৪৩ পয়েন্ট)



X একদা এক শহরে দুই পরিবার থাকত ।লুইস পরিবার ও হেনরি পরিবার। এই দুই পরিবারের মধ্যে ছিল খুব ভালো সম্পর্ক। তারা একে অন্যের বাড়ি যেত খাওয়া দাওয়া করত। বিভিন্ন রকম অনুষ্ঠানে তারা একে অপরকে নিমন্ত্রণ দিত। এমন্ই মধুর সম্পর্ক ছিল দুই পরিবারের মধ্যে। এই লুইস পরিবারে জেসিকা লুইস নামে একটা ছোট মেয়ে ছিল। আর হেনরি পরিবারে মার্ক হেনরি নামে একটা ছেলে ছিল। জেসিকা ও মার্ক প্রায় সমবয়সী ছিল। মার্ক একটু বড় ছিল। তারা একসাথে খেলা ধুলা করতো ঘুরতো। আস্তে আস্তে তারা দুজনেই পূর্ণ যুবক যুবতীতে পরিনত হলো। এখন তারা দুজন দুজনকে খুব ভালোবাসে।তাদের বাবা মা ও সেটা জানে। তাদের অবাধ মেলামেশা চলতেই থাকলো। তারা পার্ক ,সিনেমা ,ডিস্কো নানা জায়গা ঘুরে বেড়ায়। তারা দুজনেই সারা জীবন পাশে থাকার কথা দিল। কোন এক দিন জেসিকা মার্ককে বলল তুমি কি আমার নাম তোমার হৃদয়ে লিখছ। মার্ক বলল হ্যাঁ লিখেছি। তুমি কি আমার নাম তোমার হৃদয়ে লিখছ। জেসিকা বলল আমার হৃদয়ে শুধু তুমি। এরকম ভাবে চলল অনেক দিন। একদিন হঠাৎ মার্কের বাবা এক ধোকাবাজের পাল্লায় পড়ে তার কটি টাকার সম্পদ খোয়াল। তারা অনেক গরীব হয়ে গেল ।তারা গরীব হাওয়ায় লুইস পরিবারের সাথে তাদের সম্পর্কে ভাঙন ধরে। এমনকি জেসিকাও মার্কের সাথে দেখা করে না বাবার চাপে। একদিন হঠাৎ জেসিকার বাবা এক বড়লোকের ছেলের সাথে জেসিকার বিয়ে ঠিক করলো। প্রথমে জেসিকা রাজি ছিল না। পরে বাবার চাপে সে রাজি হয়। এ খবর শুনে মার্ক ছুটতে ছুটতে আসলো জেসিকার কাছে। সে তাকে বিয়ে না করতে বললো। কিন্তু জেসিকা বলল সে অপারক। সে তাকে ভুলে গেছে মার্ক যেন তাকে ভুলে যাই। তখন মার্ক কাঁদতে কাঁদতে বললো তুমি না একদিন বলেছিলে আমার নাম তোমার হৃদয়ে লিখছ। তখন জেসিকা বলল মুছে ফেলেছি তুমি ও মুছে ফেল। দেখি মোছা যায় কিনা বলতে বলতে মার্ক চলে গেল। মার্ক বাড়ি গিয়ে অনেক কাদলো। অবশেষে সে সিদ্ধান্ত নিলো আত্মহত্যা করবে। মার্কের এক কাকা ডাক্তার ছিল।মৃত্যুর আগে মার্ক তার কাকাকে একটা চিরকুটে লিখেছিল ইচ্ছাটা পূরন করো কাকা আমার মৃত্যুর পর আমার শরীর থেকে হৃদয় আলাদা করে তাতে জেসিকার নাম লিখে নিচে একটা কাগজে লিখবে নাম কিছুতেই মুছতে পারলাম না। আরো লিখেছিল আমার হৃদয়টা একটা বড় কাগজের বাক্সে পুরে জেসিকার বিয়েতে দিও। তার পর সে আত্মহত্যা করলো। তার বাবা মা ও আত্মীয় স্বজন সবাই কান্নায় ভেঙ্গে পড়ল। তার ডাক্তার কাকা তার শেষ ইচ্ছা পুরনের জন্য তার বুক থেকে হৃদয় বের করে তাতে জেসিকা লিখে বড় একটা কাগজের বাক্সে পুরে জেসিকার বিয়েতে উপহার দিলো এবং তার গায়ে লিখে দিল (একটা দামি উপহার )।বিয়ের দিন দেখল বিশাল এক বাক্সে কিযেন উপহার। আর বাক্সের গায়ে লেখা (একটি দামি উপহার)। অনেক কৌতুহল নিয়ে বাক্সো খুলতেই দেখতে পেল একটা মানুষের কাটা হৃদয় এবং তাতে লেখা জেসিকা। আর নিচে এক টুকরো কাগজে লেখা কিছুতেই নামটা মুছতে পারলাম না। সুখে থেকো, ভালো থেকো, মার্ক। এটা দেখে জেসিকা কান্নায় ভেঙে পড়লো এবং বুঝতে পারলো মার্কের ভালবাসা কত খাটি ছিল। সে কাদতে কাদতে একটা ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিল এবং ওখানে আত্মহত্যা করলো। এভাবে শেষ হলো দুটো জীবনের গল্প।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৫৩২ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...