বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

একজন স্নাইপারের ডাইরী

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান MD.Belal Hosan (০ পয়েন্ট)

X নোমান আহমাদ ---------------------------------------- “বাইরে তখনও বৃষ্টি। মাঝে মাঝে মেঘ গর্জন করে তার উপস্থিতির জানান দিচ্ছে। আর আমি দাঁড়িয়ে আছি গ্রীন টাওয়ার নামে এক বহুতল ভবনের ছাদে। না আমি বৃষ্টিতে ভিজে রোমান্টিকতা দেখানোর জন্য এখানে আসি নি। এসেছি একটি মিশনে। সাথে আমার সবচাইতে প্রিয় সঙ্গি,আমার স্নাইপার রাইফেল। স্টোনার রাইফেল ২৫ বা SR-25 । আমার প্রতিটি কাজের নীরব সঙ্গী। আজ পর্যন্ত আমার প্রতি্টি কাজেই আমার সাথে ছিল আমার এস আর-২ রাইফেলটি। আমি একজন স্নাইপার ছিলাম। ছিলাম বলছি কারণ একবছর আগেই আমি এই প্রফেশন ছেড়ে বের হয়ে গেছি। ডুয়েল লাইফে থাকা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না। কিন্তু আবারো ফিরে আসতে হলো এই লাইফে। আমি নাঈম। নাঈমুর রহমান। পেশায় একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। কিন্তু আমার আরো একটি পরিচয় রয়েছে। আমি বাংলাদেশের সেরা স্নাইপারদের একজন। আর আন্ডারওয়ার্ল্ডের এ জগতে আমি বিস্ট নামেই বেশি পরিচিত। বাইরের জগতে আমি খুবই সাধারন একজন মানুষ। ছোট একটা আই টি কোম্পানীতে চাকরী করি। সকাল দশটা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত চাকরী। এরপরে বাসাতে। খুব একটা বেশী বেতন না। কিন্তু আমার দিন খুব আরাম আয়েশেই কেটে যায়। কারন আমার মাল্টি বিলিওনার পিতা আমার জন্য তার সম্পত্তির পুরোটাই রেখে গেছেন। আমার আন্ডারওয়ার্ল্ডের মত জায়গায় যাওয়ার কোনো কারনই ছিল না। নাহ, ছিলো এবং খুব বড় ধরনের একটা কারণ ছিল। আর তা হলো প্রতিশোধ। আমার জন্মের কয়েকদিনের মধ্যেই মা মারা যায়। তাই বাবাই ছিল আমার জীবনের সব। বাবার মৃত্যুটা সবার কাছেই ছিলো একটা মেজর এক্সিডেন্ট। আমার চোখেও এটা শুধু একটা কার এক্সিডেন্ট ছিলো। আমার চোখের কালো কাপরটা সরে যায় বাবার লেখা ডাইরীটা পড়ার পরে। সেখনে যা লেখা ছিলো তা দেখে আমি স্তম্ভিত হয়ে যাই । না,বাবা নিজে তার মৃত্যুর কথা লিখে রেখে যান নি। কিন্তু তিনি লিখে রেখে গেছেন এক ভয়ঙ্কর সত্যের কথা। বাবার মৃত্যুর আগে বাবার কোম্পানীর একটা ইন্টারন্যাশনাল ডিল করার কথা ছিলো। আর ডিলটা করতে গিয়ে বাবা জেনে যান সরকারের উচ্চপর্যায়ের খুব ভয়ঙ্কর দূর্নীতির কথা । আর সে কথা বাবা গোয়েন্দা বিভাগের প্রধানের কাছে বলতে যাচ্ছিলেন। ঠিক তখনই তার এক্সিডেন্ট হয়। এক্সিডেন্ট টা যে সাজানো নাটক ছিলো,আর আমার বাবার মৃত্যুটা একটা “সরকারি” খুন ছিলো তা বুঝতে গোয়েন্দা হবার প্রয়োজন পড়ে না। এধরনের খবর পেলে মানুষের মাঝে দু ধরনের জিনিস দেখা দেয়। হয়তো সে অধিক পরিমানে মেন্টাল প্রেশারে পরে পাগল হয়ে যায়,নয়তো তার মাঝে জেগে ওঠে প্রতিশোধের স্পৃহা। আমার ক্ষেত্রে দ্বিতীয়টি ঘটেছিলো। কারন এদেশের আইন শৃঙ্খলা ব্যাবস্থার উপর আমার বিন্দু মাত্র আস্থা ছিলো না। তাই আমি নিজেই শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেই। সেদিনই আমি ইউএসএ চলে যাই। সবাই ধারনা করে নেয় পিতৃবিয়োগের শোক আমি সহ্য করতে না পেরে চলে গিয়েছি। কিন্তু না। আমি যাই অস্ত্র চালনায় প্রশিক্ষন নিতে। আর মাত্র এক বছরেই আমি একজন দক্ষ স্নাইপারে পরিনত হই। দেশে ফিরেই আমি কোনো দেরী না করে শুরু করে দেই আমার মিশন। একে একে প্রত্যেককেই শেষ করে দেই। বাবার ডাইরীতে সবার নামই ছিলো। তাই আমার কোনো সমস্যা হয়নি। খুন গুলো করার পরে সারা দেশে হইচই পরে যায়। কারন যাদের খুন আমি করেছি তারা সবাই দেশের উচ্চ পদস্থ মানুষ। আর অল্প কদিনে দেশের কয়েকজন বড় মাথার মানুষের মৃত্যুর পর দেশের আন্ডারওয়ার্ল্ডেও তোলপাড় শুরু হয়ে যায়। কারন দেশে অল্প কয়েকটা স্নাইপিং গ্রুপ আছে। আর তাদের মধ্যে কেউই এই কাজ করেনি। তাই আমার খোজ পাওয়া ছিলো খুবই জরুরী । আন্ডাওয়ার্ল্ড খুব বড় জায়গা। আর এখানে কারা আছে তার সম্পর্কে ধারনা করাও দুস্কর। আর যথেষ্ট তারা মেধাবীও বটে। অন্তত দেশের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারীদের থেকে। তাই দেশের পুলিশ প্রশাসন আমায় খুজে না পেলেও আন্ডারওয়ার্ল্ড এর লোকেরা আমাকে খুব সহজেই বের করে ফেলে। আর আমি প্রস্তাবও পেয়ে যাই একটা স্নাইপিং গ্রুপে কাজ করার জন্য। আমি সাথে সাথেই রাজি হয়ে যাই। কারন প্রথমত সাতটা খুনের পর আমায় খুনের নেশায় পেয়ে বসে। আর তাছাড়া এই গ্রুপটা জানতো যে আমিই খুনি। যদি আমি তাদের প্রস্তাব না মানি তবে তারা যেকোনো সময় আমার কথা ফাঁস করে দিতে পারে। আর তাহলে আমার অবস্থা হবে ভয়াবহ। তাই তাদের সাথে কাজ না করেও উপায় ছিলো না। যোগ দেয়ার কিছুদিনের মধ্যেই আমি হয়ে উঠি ঈগল স্নাইপিং স্কোয়াডের সবচাইতে দূর্ধর্ষ রিক্রুট। কোনো কিছুই আমার সামনে বাধা হয়ে দাড়াতে পারেনি। আন্ডারওয়ার্ল্ডে বিস্টের নাম ছড়িয়ে পড়ে অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই। টানা দুবছর ঈগলসে কাজ করার পর আমি ফ্রিল্যান্সার স্নাইপার হিসেবে কাজ করা শুরু করি। আমি কাজ নিতাম sniperhood.sn নামক একটা স্নাইপিং কমিউনিটি থেকে। এটা অনেকটা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মতো। কারন এখানে হাজারো স্নাইপারের আড্ডাখানা ছিলো। আবার কিছুটা ছিলো upwork.com এর মতো । এখানে ক্লাইন্টরা এসে স্নাইপারদের ভাড়া করতো বিভিন্ন কাজে। কিন্তু এসব সাইটে সাধারন ইউজারদের কোনো এক্সেস নেই। কারন এটা ডিপওয়েব। যদি পুরো ইন্টারনেট জগতকে ১০০% ধরা যায় তবে সাধারন ইন্টারনেট ইউজারদের এক্সেস মাত্র ৪০%। হ্যাকাররা বড়জোর ৯০% পার্সেন্টে এক্সেস করতে পারে। বাকি ১০% পুরোটাই ডিপওয়েব। সাধারন কোনো ব্রাউজার বা অপারেটিং সিস্টেম দিয়েও এতে এক্সেস করা যায় না। প্রয়োজন হয় স্পেশাল ব্রাউজার আর অপারেটিং সিস্টেমের। ধীরে ধীরে আন্ডারওয়ার্ল্ডে আমার চাহিদা বাড়তেই থাকে। আর তা অবশ্যই আমার নিখুদ কাজের কারনে। কিন্তু সব কিছুরই একটা শেষ আছে তেমনি একসময় এ কাজের উপর আমারো বিতৃষ্ণা এসে গেলো। হঠাৎ করে যেমন শুরু করেছিলাম তেমনি হঠাৎ করেই আমি বাদ দিয়ে দিলাম স্নাইপিং। কিন্তু নিজের ফ্যান্টাসির জন্য আমি বিভিন্ন রকম গবেষনা আর অনুসন্ধান চালিয়ে যেতে থাকি আন্ডারওয়ার্ল্ড এর উপর। তখনই আমার সামনে প্রকাশ হয়ে গেলো এক তথ্য যা আমাকে এ জীবনে দ্বিতীয় বারের মতো স্তম্ভিত করে দেয়। আর তা হলো এই যে আমার বাবার হত্যাকারীদের একজন,বলতে গেলে মূল হোতাই এখনো জীবিত আছে। আর সেই লোকটাকে আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি ,তার কাছের মানুষ হয়ে কাজ করেছি কিন্তু আমি এই মানুষটাকে চিনতে পারি নি। সে হলো ঈগল স্নাইপিং স্কোয়াড এর প্রধান নাস.........” “এতো টুকুই ছিলো স্যার। মনে হয় ঈগলের প্রধান ওই ব্যাটাই মেরেছে একে। ডাইরীটা লাশের পাশেই ছিলো। ” কথা গুলো গোয়েন্দা প্রধান নাসিমুজ্জামান কে বললো আযাদ। গত কয়েক বছরে ঘটে যাওয়া বেশ কয়েকটি বড় খুনের আসামী কে ধরেছে তারা। যদিও মৃত। কিন্তু ধরেছে তো। “মনে হয় ডাইরি লেখার সময়ই মেরে ফেলছে স্যার। ” যোগ করলো রফিক। আযাদের সহকারী সেলিম। “আচ্ছা। তাহলে তোমরা ঈগল দলটাকে খুঁজে বের করো । আর হ্যা ডাইরীটা রেখে যাও আমি পড়ে দেখবো। ” আযাদ আর সেলিমকে চলে যেতে ইশারা করলো নাসিমুজ্জামান। তারা চলে যেতেই তার মুখে ছোট্ট একটা হাসি ফুটে উঠলো। সে জানে ঈগলকে খুজে পাওয়া যাবে না। আন্ডারওয়ার্ল্ড বিশাল জায়গা। আর সেখানের লোকেরা মেধাবীও বটে!!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৮ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now