গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !
জিজে রাইটারদের জন্য সুঃখবর ! এবারের বই মেলায় আমরা জিজের গল্পের বই বের করতেছি ! আর সেই বইয়ে থাকবে আপনাদের লেখা দেওয়ার সুযোগ! থাকবে লেখক লিস্টে নামও ! খুব তারাতারি আমাদের লেখা নির্বাচন কার্যক্রম শুরু হবে

গল্পেরঝুড়িতে স্বাগতম ...

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মুসলীমরা কি বিজ্ঞানকে অস্বীকার করে,ঘৃণা করে?

"ইসলামিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান আহমেদ মূসা[EAGLES OFTHE SEA] (৩০ পয়েন্ট)



রাতে ট্রেন ভ্রমনের অভিজ্ঞতাটা এবার হয়ে গেল।ট্টেন চলছে তার গন্তব্যয়। হালকা আলো আর আধারের মধ্যে দিয়ে ট্রেন চলছে সাথে গায়ে লাগছে হালকা হিমশীতল বাতাস।আকাশে চাদ উকি দিচ্ছে সাথে আকাশ জুরে তারার মেলা।রাতের আকাশ যে এত সুন্দর হয় তা আরেকবার উপলব্দি করলাম।চোখে ঘুম ঘুম ভাব কিন্তুু সুন্দর এই দৃশ্যে রেখে ঘুমোতে ইচ্ছে করছে না এখন। তাই জোর করেই চোখ দুটি খুলা রাখলাম।পাশের ছিটটা খালিই ছিল।এমন সময় জীর্ন-শীর্ন এক ভদ্রলোক ধপাস করে সেখানে বসে পড়ল।চোখে মোটা কালো ফ্রেমের চশমা। আমি বিস্নয়ে লোকটির দিকে তাকিয়ে বলল ট্রেন কী কোথাও থেমেছিল? লোকটি আমার দিকে না তাকিয়েই না সূচক মাথা নাড়ল।আমি বললাম তাহলে এত রাতে আপনি আসলেন কোথা থেকে? লোকটি বিরক্তির সুরে বলল আরে আর বলো না বসেছিলাম ঐ সামনের সিটে সাথে কিছু মহিলা। মহিলাগুলো মিলে এমন আলাপ জুরে দিয়েছে যে শান্তিমতো একটু না পারছি ঘুমোতে না পারছি বই পড়তে।কিছু বলতে যাব অমনিই ঝগড়া করা শুরু করে দিল আমার সাথে।বুঝ না লেডিস ফাস্ট কোনরকমে মানসম্মান নিয়ে বেচে ফিরলাম আর এখানে খালি পেলাম তাই বসেই পড়লাম।তুমি কী কিছু মনে করেছ? আমি বললাম আরে না কি যে বলেন? বসুন।লোকটি মুচকি একটা হাসি দিয়ে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করল।লোকটি এবার একমনে বইয়ের পাতা উল্টাচ্ছে। আমিও আমার কাজে মন দিলাম মানে আকাশের দিকে তাকিয়ে রইলাম।পরক্ষনেই আমার মনে হলো নাহ লোকটি বই পড়ছে আর আমি কী আকাশের দিকে তাকিয়ে আছি। তাই আমিও ব্যাগ থেকে আল কোরআনে বিজ্ঞান বইটা হাতে নিয়ে পাতা উল্টাতে লাগলাম।এমনসময় ভদ্র লোকটি চশমার ফাক দিয়ে এক চোখ দিয়ে আমার বইয়ের দিকে তাকিয়ে অবাকের ভঙ্গিতে বলল আল-কোরআনে বিজ্ঞান?তুমি কী মুসলীম? আমি বললাম হুম আমি মুসলীম।আর আল কোরআনে বিজ্ঞান বইটি দেখে আপনি অবাক কেন হচ্ছেন? লোকটি বলল না এমনিই।মানে মুসলীমরা তো বিজ্ঞানকে অস্বীকার করে ঘৃনা করে আর তুমি আল-কোরআনে বিজ্ঞান খুজছ তাই বললাম। এমনিতেই ঘুমাচ্ছি না তাই ম্যাজাজ খারাপ হয়ে আছে ভদ্রলোকের কথা শুনে ম্যাজাজ এবার হাই পাওয়ার হয়ে গেল।কোন রকমে নিজেকে সামলিয়ে বললাম আচ্ছা কে বলল আপনাকে মুসলীমরা বিজ্ঞানকে ঘৃণা করে? সকল জ্ঞান-বিজ্ঞানের সূচনাকারি মুসলীমরাই।যদি মুসলিমরা বিজ্ঞানকে অস্বিকারই করত তাহলে যুগে যুগে মুসলীমরা বিজ্ঞান নিয়ে এত গভেষনা করত না।তাছাড়াও আমাদের মহাগ্রন্হ আল-কোরআনে বিজ্ঞান সম্পর্কে অসংখ্য আয়াত আছে যেমন:: আলকোরআনের ১৫ নং সূরার ১৪-১৫ আয়াত,সূরা ৩১ আয়াত ১০,সূরা ৭৯ আয়াত ৩২,সূরা ১৬ আয়াত ১০-১১,সূরা ১৩ আয়াত ৪ আরও অসংখ্য আয়াত।তাহলে যেখানে আমাদের পবিএ ধর্মগ্রন্হ আল-কোরআনেই বিজ্ঞান নিয়ে অসংখ্য আয়াত আছে সেখানে এর অনুসারি হয়ে কীভাবে সেই মুসলীমরাই আবার বিজ্ঞানকে অস্বীকার করবে? লোকটি মাথা নেড়ে বলল হুম আছে ঠিক। আর তাহলে জ্ঞান বিজ্ঞানে মুসলীমদের এতো ভূমিকা কোথায়? আমি বললাম আল-রিযা,আল-তাবারি,আল-তামিমি,আল-মাজুসি,আল-রাযী,ইবনে রুশব,জালালউদ্দীন রুমি সহ অসংখ্য মুসলীমদের জ্ঞান-বিজ্ঞানে ভূমিকা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না।আর ইবনে সিনা তো আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের জনকই।তারপর ধরুন the comperehensive book of medicine,liber ad almansorem,De varioliset morbillis,কিতাবুস শিফা,কানুন ফিত-তিব বইগুলো আজও সর্বজন স্বীকৃত। এখন এগুলো কী আপনি অস্বীকার করতে চাচ্ছেন? লোকটি হালকাভাবে তার মাথা ঝাকিয়ে রসিকতার ভঙ্গিতে বলল আচ্ছা সবার নামের সাথে আল কেন? আমি বললাম আচ্ছা সামনের মহিলাগুলোকে কী ডেকে আনব? লোকটির মুখ কালো হয়ে গেল। লোকটি বলল আচ্ছা মানলাম তোমাদের ধর্মগ্রন্হ আইমিন আল-কোরআনে অনেক বিজ্ঞানসম্মত আয়াত আছে এমনকি জ্ঞান-বিজ্ঞানেও মুসলীমদের যথেষ্ঠ ভূমিকা রয়েছে।তাহলে মুসলীমরা কেন বিজ্ঞানকে ঘৃনা করে? আমি বললাম আপনি কোথায় আইমিন কোন গ্রন্হে পেলেন মুসলীমরা বিজ্ঞানকে ঘৃণা করে?লোকটি বলল এই যে আমরা নাস্তিকরা বিজ্ঞান নিয়েই তো কথা বলি বিজ্ঞান দিয়েই তো ধর্মগ্রন্হের সাথে কথা বলি তাহলে তোমরা আইমিন মুসলীমরা আমাদের মতো নাস্তিকদের ঘৃনা কর তাহলে কী এটা বিজ্ঞানকে ঘৃণা করা হয়না? আমিও এখন কিছুটা বিব্রতকর অবস্হায় পড়ে গেলাম সত্যিই তো! পরক্ষনেই নিজেকে সামলিয়ে নিয়ে বললাম আচ্ছা এই যে একটি জাহাজ টাইটানিক যা ১৫ এপ্রিল, ১৯১২ সালে সমুদ্রযাত্রায় সাউথহ্যাম্পটন থেকে নিউইয়র্ক সিটি যাওয়ার পথে হিমশৈলের(আইসবার্গের) সঙ্গে সংঘর্ষে উওর আটলান্টিক মহাসাগরে ডুবে  যায়। অথচ এটা তৈরি করার পর বিজ্ঞানীরা খুব বড় মুখ করে বলেছিল এটা নাকি কখনও ডুববে না কিন্তুু তা প্রথম বাড়েই ডুবে যায়।এখন এটা ডুবে যাওয়ার জন্যে আপনি কী বিজ্ঞানকে দায়ী করবেন? এত এত মানুষ মারা যাওয়ার জন্যে কী আপনি বিজ্ঞানের আবিষ্কার তথা ঐ জাহাজটিকে ঘৃনা করবেন? লোকটি কিছুক্ষন ভেবে উওর দিল না এতে বিজ্ঞানকে কেন দায়ী বা ঘৃনা করব? ঐ হিমশৈলের জন্যেই তো জাহাজটি ডুবে গেল। তাই এতে হিমশৈলই দায়ী বিজ্ঞানের আবিষ্কার কোনভাবেই নয়। আমি বললাম হুম ঠিক তেমনি আমরাও বিজ্ঞানকে ঘৃণা করি না।ঘৃনা করি আপনাদের মতো নাস্তিকদের যারা বিজ্ঞান নিয়ে যওোসব আজগুবি লজিক দেখায় ধর্মের বিরুদ্ধে ঠিক ঐ হিমশৈলের মতোই। লোকটির মুখ এবার কালো মেঘে ছেয়ে গেল যদিও আকাশে কোন মেঘ নেই।তার কিছুক্ষন পরেই দেখলাম লোকটি গভীর নিদ্রায় অচেতন হয়ে পরেছে।আমি মনে মনে ভাবলাম আজব কেরেক্টার তো! পরক্ষনেই আমি আবার আকাশের দিকে তাকালাম।একি! চাদ ডুবে যাচ্ছে সেই সাথে তারাগুলোও আকাশ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে আর ধীরে ধীরে ভোরের আলো ফুটতে শুরু করছে সেই সাথে বইছে হৃদয় জুরে যাওয়া ভোরের সুন্দর বাতাস। ®


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৩৭১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ মধ্যবিত্ত পরিবারে ছেলেদের জীবনে বয়ে যাওয়া কিছু কথা:- ...
→ রহস্যময়ী তাজমহলের অজানা কিছু তথ্য
→ জাযাকাল্লাহু খাইরান - এর অর্থ কি?
→ কীভাবে হারাম সম্পর্ক থেকে বের হয়ে আসবো? এও কি সম্ভব?
→ বিবাহপূর্ব প্রেম ইসলামের দৃষ্টিতে হালাল নাকি হারাম
→ জীবন নাকি মৃত্যু
→ দ্যা হাইস্যকর কিছুমিছু লিমিটেড!!! ধামাকা পর্ব--০১
→ কিয়ামত বেশি দূরে নয়
→ প্রশ্নঃ আল্লাহ কী আসলেই সর্বশক্তিমান?আল্লাহ কী এখানে বিতর্কিত?

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...