বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কাকাতুয়া

"শিক্ষণীয় গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Zakia Arif Sharna (০ পয়েন্ট)



X একদিন খুব ভোরবেলায় এক ভদ্রলোক এক ব্যাধের বাড়িতে বেড়াতে গেছেন । বাড়ির ভেতরে ঢুকেছেন এমন সময় দেখেন,দরজার পাশে বসে আছে এক সুন্দর কাকাতুয়া। রঙ - সৌন্দর্যে থৈ থৈ করছে কাকাতুয়াটি। দেখে তো তিনি মহাখুশি। বাহ্ ,ভারি সুন্দর তো! বলে তিনি কাকাতুয়াটিকে ভালো ভাবে দেখার জন্য সামনে এগিয়ে গেলেন। ভাবলেন,এত সুন্দর কাকাতুয়া ,হয়তো কত সুন্দর করেই না তার সাথে কথা বলবে। কিন্তু এগোতেই ঘটল বিপরীত ঘটনা। তাকে দেখেই হঠাৎ কাকাতুয়াটি বিশ্রী অশ্লীল অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করল। উনি তো অবাক। "একি! এত সুন্দর পাখি..আর এত কদার্য কথা? না,না, জায়গাটা তো ভালো না । অন্য কোথাও যাই। " এই বলে সেখান থেকে বেরিয়ে ভদ্রলোক গেলেন এক ব্রাক্ষণের বাড়িতে। বাড়ির ভেতরে ঢুকবেন এমন সময় দেখেন ,দরজার পাশে বসে আছে এক কাকাতুয়া। ব্যাধের বাড়িতে যেমন দেখেছিলেন , হুবহু তেমনি । সেই রঙ,সেই রূপ,সেই চেহারা। কাকাতুয়াটিকে দেখেই তিনি পালাতে চেষ্টা করলেন। তাড়াতাড়ি পেছনে ফিরেই দৌড় দিতে গেলেন।. ভাবলেনঃ ওরে বাবা... সেই কাকাতুয়া। আবার না জানি কি বীভৎস কথা শুনতে হয়! কিন্তু আশ্চর্য,তিনি চলে যাচ্ছেন দেখে সেই কাকাতুয়া হঠাৎ সুমিষ্ট কণ্ঠে মধুর ভাষায় তাকে আমন্ত্রন জানাতে শুরু করল। মধুর কন্ঠে বললঃ আসুন,বসুন,অপেক্ষা করুন। আমার গৃহস্বামী বাইরে গেছেন। এক্ষুনি ফিরে আসবেন। অনুগ্রহ করে একটু অপেক্ষা করুন। এ কথা শুনে তো ভদ্রলোক অবাক!একই কাকাতুয়া ,একই চেহারা। অথচ আচরণে কি পার্থক্য!‌ একজনের মুখে অশ্রাব্য অশ্লীল কথা, অন্যজনের মুখে মধুর প্রীতিময় সম্ভাষণ! এ কি করে হলো?? রহস্য জানার জন্য তিনি সেই কাকাতুয়াকে জিজ্ঞেস করলেনঃ কাকাতুয়া,কিছুক্ষণ আগে আমি এক ব্যাধের বাড়িতে গিয়েছিলাম । সেখানে দেখলাম হুবহু তোমার মতোই এক কাকাতুয়া। কিন্তু সে আমাকে কদার্য ভাষায় গালিগালাজ করেছে। অথচ তুমি আমার সাথে কত সুন্দর করে কথা বললে। এমনটা কেন হলো বল তো? কাকাতুয়াটি উত্তরে বলল,"দেখুন,ওই বাড়িতে আপনি যে কাকাতুয়াটি দেখেছিলেন,সে আমার যমজ ভাই। কিন্তু ভাগ্যদোষে সে পড়েছে ব্যাধের বাড়িতে। সকালে ঘুম থেকে ওঠে সে ব্যাধদের অশ্রাব্য কদার্য ভাষার কথা শুনতে পায়। শুনতে শুনতে ওটাই তার ভাষা হয়ে গেছে। আর সৌভাগ্যবশত আমি পড়েছি ব্রাক্ষণের হাতে। ভোরবেলা ঘুম থেকে ওঠে আমি তাই শুনি ব্রাক্ষণদের সুমধুর সামবেদের গান আর তাদের সুমিষ্ট কথাবার্তা। সেসব শুনতে শুনতে আমার ভাষা হয়ে গেছে সুমিষ্ট আর মধুর। সুতরাং,তার কথা যে কদার্য সেটা যেমন তার দোষ নয়,আমার কথা যে সুন্দর এটাও আমার গুণ নয়। " শিক্ষাঃ পরিবেশ যদি সুন্দর হয়,উন্নত হয়; যে মানুষ সে পরিবেশে বেড়ে উঠবে সেও হয়ে উঠবে উন্নত,সুন্দর ও ভালো। কিন্তু পরিবেশে যদি হয় অকর্ষিত বা কদার্য, তাহলে সেখানে মানুষও হয়ে উঠবে কদার্য ও খারাপ......


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৪৫৬ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...