বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

(বুক রিভিউ)পদ্মানদীর মাঝি

"বুক রিভিউ " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ☠Sajib Babu⚠ (০ পয়েন্ট)



X বইয়ের নাম : পদ্মানদীর মাঝি লেখকের নাম : মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বইয়ের ধরন : আঞ্চলিক উপন্যাস প্রকাশকাল: ১৯৩৬ ❐☞ বই পর্যালোচনা: " পদ্মানদীর মাঝি" উপন্যাসে কীর্তিনাশা পদ্মানদী তীর সংলগ্ন কেতুপুর ও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি গ্রামের মানুষের জীবন ও জীবিকার চালচিত্র তুলে ধরা হয়েছে শহর থেকে দূরে দীন-দরিদ্র জেলে ও মাঝিদের হুবুহু মিলে যাওয়া এক বিশ্বস্ত জীবনচিত্র অঙ্কন করেছেন লেখক। মহাজনদের শোষণের চিত্রও ফুটে উঠেছে বইটিতে। উপন্যাসের নায়ক অর্থাৎ প্রধান চরিত্র হতদরিদ্র কুবের পদ্মানদীর মাঝি। অন্যান্য সঙ্গীদের নিয়ে পদ্মা নদীতে মাছ ধরে কুবের। সংসারে তার স্ত্রী মালা, একমাত্র মেয়ে গোপী, তিন ছেলে ও বোনকে নিয়ে অতি কষ্টে তার জীবন চলে। মালা ছিলো খোড়া। একমাত্র মেয়ে গোপী আর কুবেরের বোন ঘরের কাজ সামলায়। স্বামীর বাড়ি থেকে বিতাড়িত হয়ে মালার বোন কপিলা এসে ঠাই নেয় কুবেরে দরিদ্র সংসারে। কপিলা তার রুপ যৌবন দিয়ে কুবেরকে আদিম আকর্ষণে নিজের দিকে আকৃষ্ট করতে চায়। গড়ে তুলতে চায় আদিম, অসংস্কৃত ও নিষিদ্ধ প্রেম। উপন্যাসটির অন্যতম চরিত্র হোসেন মিয়া। কেতুপুর এলাকায় দীনহীন ও কপর্দকশূন্য এই লোকটির হঠাৎ ভাগ্য পরিবর্তন ও জেলে মাঝিদের মাঝে পরম বন্ধুরুপে তার আবির্ভাব এক রহস্যের সৃষ্টি করে। গ্রামের অনেক পরিবার হঠাৎ করে উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনা জেলে মাঝিদের মনে আরো বেশি রহস্যের সৃষ্টি করে। তাছাড়া উপন্যাসের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো ধনঞ্জয়, শীতল, সিধু দাস, রাসু, বৈকুন্ঠ, অধর পীতম, হীরু প্রমুখ। ❐☞ ব্যক্তিগত মন্তব্য : বাস্তবিক অর্থে উপন্যাস হবে উপভোগ্য, আনন্দসঞ্চারী ও আনন্দদানকারী। ঔপন্যাসিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদ্মানদীর মাঝি এমন একটি উপন্যাসের বই যার মধ্যে রয়েছে এই বৈশিষ্ট্যগুলো। বইটি আমি যতবার পড়ি ততই যেন হারিয়ে যাই এর গভীরতায়। আমার কাছে উপন্যাসটির সার্বিক দিক এতটাই প্রাণবন্ত মনে হয় যেন আমি নিজে উপন্যাসের প্রতিটি জায়গায় উপস্থিত থেকে প্রতিটি ঘটনা নিজ চোখে অবলোকন করছি। কপিলা কুবেরের আদিম আকর্ষণে তাদের নিষিদ্ধ প্রেমের সম্মুখে এগিয়ে যাওয়া, হোসেন মিয়াকে ঘিরে জেলে মাঝিদের রহস্যের জালবোনা, শোষক মহাজনদের শোষণের চিত্র সবমিলিয়ে উপন্যাসটির এই প্রাণবন্ত ভাব আমাকে বাধ্য করে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা উল্টিয়ে সামনে যেতে এবং সম্পূর্ণ বইটি উপভোগ করতে। আমার মতে লেখকের সফলতা তখনই আসে যখন পাঠককে সে তার শব্দের মূর্ছনায় বইয়ের ভিতর হারিয়ে যেতে বাধ্য করতে পারে। এক্ষেত্রে পদ্মানদীর মাঝি বইটির লেখক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় তা পেরেছেন। কারণ লেখক জেলেপাড়ার মাঝি ও জেলেদের জীবনের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না,অভাব-অভিযোগ যা কিনা প্রকৃতিগতভাবে সেই জীবনধারার অবিচ্ছেদ্য অংশ তা এমন ভাবে চিত্রিত করেছেন মনে হয় হুবুহু জেলেদের জীবনচিত্রটাই ফুটিয়ে তুলেছেন। উপন্যাসের চরিত্রগুলোর মুখের আঞ্চলিক ভাষা উপন্যাসটিকে আরো বেশি রোমাঞ্চিত করেছে। একটি আঞ্চলিক উপন্যাসের সার্বিক দিক বিবেচনায় পদ্মানদীর মাঝি একটি সার্থক উপন্যাস। আমার পাঠক হৃদয় সার্থক এমন একটি চিরায়ত আঞ্চলিক উপন্যাস পড়তে পেরে। ❐☞ প্রিয় উক্তিঃ ১."ঈশ্বর থাকেন ঐ গ্রামে, ভদ্র পল্লীতে- এখানে তাহাকে খুঁজিয়া পাওয়া দুস্কর।" ২. গরীবের মধ্যে সে গরীব, ছোটলোকের মধ্যে আরও বেশি ছোটলোক। " ☆ আমার দৃষ্টিতে বইয়ের ভালো/খারাপ দিক: পদ্মানদীর মাঝি উপন্যাসটির বড় একটি ভালো দিক হলো সহজ সরল ভাষায় যত্নসহকারে উপন্যাসটির উপস্থাপনা। তাছাড়া বইটিতে রয়েছে কৃত্রিমিতাবিবর্জিত আঞ্চলিক ভাষার সুষ্ঠু প্রয়োগ। উপন্যাসটিতে রয়েছে চিরায়ত বাংলার হতদরিদ্র মানুষের নিখুঁত জীবনচিত্র। তাদের অসহায়ত্বকে আমরা দূর থেকে কখনো উপলব্ধি করতে পারিনা। কিন্তু লেখক বইটিকে এমনভাবে সাজিয়েছেন যাতে আমরা তা খুব সহজে কিন্তু গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পারি। পদ্মানদীর মাঝি উপন্যাসটি বারবার পড়েও আমি বইটির কোনো খারাপ দিক খুঁজে পেলামনা। আসলে কি করে পাবো এটি যে বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য সার্থক উপন্যাস। ❐☞ পাঠক কেন পড়বে বইটি: যে কোনো মহৎ উপন্যাসই পাঠকের হৃদয়কে এক মহৎ আনন্দে আপ্লুত করে, জীবন ও জগৎ সম্পর্কে মহৎ উপলব্ধিতে পরিপূর্ণ করে তোলে। পদ্মানদীর মাঝি উপন্যাসটি সেরকমই একটি উপন্যাস। তাই পাঠকের হৃদয়কে মহৎ উপলব্ধিতে পরিপূর্ণ করতে এই বইটি পড়া উচিৎ। বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ এবং সার্থক উপন্যাসের কথা হলে প্রথমেই বইপ্রেমীদের মুখে আসে পদ্মানদীর মাঝি উপন্যাসটির নাম। কারণ হতদরিদ্র মানুষের জীবনচিত্র, উপন্যাসের চরিত্রগুলোর কৃত্রিমতাবর্জিত আঞ্চলিক ভাষা, উপন্যাসের স্থান কালের বর্ণনা সব মিলিয়ে একটি সার্থক আঞ্চলিক উপন্যাস পদ্মানদীর মাঝি। তাছাড়া উপন্যাসের নায়ক কুবের আর কপিলার আদিম আকর্ষিত প্রেমের শেষ পরিণতি কি হয়? রহস্যময় হোসেন মিয়ার রহস্যের উদঘাটন করতে পাঠককে অবশ্যই পড়তে হবে পদ্মানদীর মাঝি বইটি। ❐☞ রেটিং : পদ্মানদীর মাঝি বইটি আমি যতবার পড়ি ততবারই মুগ্ধ হয়ে যাই। সেই মুগ্ধতার রেশ ধরে আমি বইটির রেটিং দিব ১০/১০


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ১৫৯৬ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...