গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !
নোটিসঃ কর্টেসি ছাড়া গল্প পাবলিশ করা হবেনা । আপনারা গল্পের ঝুড়ির নিয়ম পড়ে নেন ।

যাদের গল্পের ঝুরিতে লগিন করতে সমস্যা হচ্ছে তারা মেগাবাইট দিয়ে তারপর লগিন করুন.. ফ্রিবেসিক থেকে এই সমস্যা করছে.. ফ্রিবেসিক এ্যাপ দিয়ে এবং মেগাবাইট দিয়ে একবার লগিন করলে পরবর্তিতে মেগাবাইট ছাড়াও ব্যাবহার করতে পারবেন.. তাই প্রথমে মেগাবাইট দিয়ে আগে লগিন করে নিন..

যাদের গল্পের ঝুরিতে লগিন করতে সমস্যা হচ্ছে তারা মেগাবাইট দিয়ে তারপর লগিন করুন.. ফ্রিবেসিক থেকে এই সমস্যা করছে.. ফ্রিবেসিক এ্যাপ দিয়ে এবং মেগাবাইট দিয়ে একবার লগিন করলে পরবর্তিতে মেগাবাইট ছাড়াও ব্যাবহার করতে পারবেন.. তাই প্রথমে মেগাবাইট দিয়ে আগে লগিন করে নিন..

রহস্যময় বই ২

"অদ্ভুতুড়ে" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ♥Imran khan♥ (০ পয়েন্ট)



রহস্যময়_বই_২ রুমি প্লেটে খাবার নিয়ে বসে থাকে। বিষয়টি তৌহি বেশ কিছুক্ষণ পরখ করে। -কী হলো খাবার নিয়ে বসে আছো কেনো? -...! -কী হলো কথা বলছো না যে।সকালে খেয়েছিলে? -...! তৌহি বেশ বিব্রত হলো। রুমি উত্তর দিচ্ছে না কেনো। হঠ্যাৎ তৌহি লক্ষ করলো রুমি টেবিলের উপর রাখা একটি বইয়ের দিকে তাকিয়ে আছে। তৌহি উঠে গিয়ে বইটিতে হাত দেওয়া মাত্রই রুমি চিৎকার দিয়ে, -না ধরবে না বই টিকে একদম হাত লাগাবে না। -কেনো কি হয়েছে! -রেখে দাও তুমি বইটিকে ঠিক আগের জায়গায় রেখে দাও। তৌহি বইটিকে আগের জায়গায় যথারীতি রেখে দেয়। কিন্তু সে বুঝতে পারে না রুমি কেনো এতো অদ্ভুত আচরণ করলো বই টিতে হাত দেওয়ায়।তৌহি বিষয়টিকে এতো বেশি গুরুত্ব না দিয়ে বই নিয়ে বসে পড়ে। বই পড়তে বসলে সময়ের হিসেব টা পাওয়া যায় না। কীভাবে যে সময় কেটে যায় মানুষ বুঝতেই পারে না। বইয়ের শেষ পৃষ্টাটি পড়া শেষে তৌহি তাকিয়ে দেখে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হয়ে গেছে। আজ তার মাথাটা খুব ধরেছে। এক কাপ কফি খেতে হবে। সে রুমিকে ডাক দিলো,"এই রুমি আমাকে এক কফি বানিয়ে দাও তো" কথাটি বলার পর দশ মিনিট কেটে গেলো কিন্তু রুমি কফি নিয়ে এলো না। তৌহি আবার ডাক দিলো কিন্তু বিপরিতে সে রুমির কোন সাড়া পেলো না। তৌহি উঠে গিয়ে দেখে রুমি একটি বই পড়তেছে।দেখে সে মনে মনে খুশি হয়। যাক রুমির অন্তত বইয়ের প্রতি কিছুটা আগ্রহ জন্মেছে।সে রান্নাঘরে গিয়ে দু কাপ কফি বানায়। এক কাপ তার জন্য আর এক কাপ রুমির জন্য। সে নিজ হাতে কফি বানিয়ে রুমিকে খাওয়াবে। তৌহির গিয়ে রুমির দিকে কফির কাপ টা এগিয়ে দিয়ে,"নেও কফি খাও ভালো লাগবে, এবং বইয়ে মনোযোগ দিতে পারবে" রুমি কিছুই বলে না। একদৃষ্টিতে বইয়ের দিকে তাকিয়ে থাকা। তৌহি বুঝতে পারে রুমি বইয়ের গভীরে ডুবে আছে। রুমির আঙুলের ফাঁক দিয়ে তৌহি বইয়ের নাম টা দেখার চেষ্টা করে কিন্তু ব্যর্থ হয়। তৌহি আর কিছু না বলে কফির কাপ রুমির পাশে রেখে চলে যায়।সে রুমির বই পড়ায় বাধা হতে চায় না। কারণ বই পড়ায় কেউ ডিস্টার্ব করলে খুব খারাপ লাগে। সেটা তৌহির চেয়ে ভালো আর কেউ জানে না। তৌহি ফিরে এসে বিশ্রাম নেয়। সারাদিন অফিসে অনেক ধকল গেছে। রাত্রি এগারোটার দিকে তৌহির ঘুম ভাঙে। পাশে তাকিয়ে দেখে রুমি পাশে নেই। উঠে গিয়ে অন্যরুমে চেক করে দেখে রুমি এখনো বই নিয়ে বসে। কিন্তু একটা জিনিষ তৌহি কে খুব অবাক করে। রুমির পাশে তৌহির রেখে যাওয়া কফির কাপ আগের মতোই আছে।রুমি কফি খায় নি। বিষয়টা সন্দেহের মনে হয় তৌহির। তার মানে এতোক্ষণ ধরে কি রুমি বই পড়ছে। না রুমিত এতোক্ষণ ধরে বই পড়ার কথা না। বেশি হলে একনাগাড়ে সে দুই ঘন্টা বই পড়বে।কিন্তু আজ কী এমন খুঁজে পেলো রুমি যে এখনো পড়ছে। তৌহি রুমি কে বেশ কয়েকবার ডাকলেও রুমি কিছুই বলে না।পরে তৌহি রুমির হাত থেকে বই টি রেখে দিতে গেলে ধাক্কা মেরে তৌহি কে রুমি ঠেলে ফেলে দেয়। তৌহি খুব বেশি অবাক হয়। এবং ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে রুমির দিকে। রুমি তাকে ধাক্কা মেরে মাটিতে ফেলে দিয়েছে যে রুমি তৌহির বকা ঝকা ও সহ্য করতে পারে না বাচ্চাদের মতো কান্না করে তৌহি কে জড়িয়ে ধরে । এক মুহুর্তের জন্য সব কিছু থেমে গেলো। রুমি দৌড় দিয়ে গিয়ে তৌহি কে উঠতে সাহায্য করলো। -প্লিজ আমাকে মাফ করে দিও। আমি ইচ্ছে করে তোমায় ধাক্কা মারি নি। -না সমস্যা নেই। বই হাত থেকে কেড়ে নেওয়ায় রাগের চোটে ধাক্কা মেরেছে ধরে নেয় তৌহি।তৌহি এখনো বুঝতেই পারছে না রুমির সাথে কি ঘটছে।বইটির দিকে চোখ পড়লো তৌহির হালকা বাদামী রঙে লেখা "রহস্যময় বই"।বইটি হাতে নিয়ে লেখকের নাম দেখার জন্য তৌহি প্রথম পৃষ্টা উলটাতে গেলেই খপ করে রুমি তৌহির হাত চেপে ধরে। -রেখে দাও,পরে পড়বে। চলো খেতে চলো। খাওয়া শেষে দুজনে শুয়ে পড়ে। মাঝরাতে টপ টপ করে পানি পড়ার শব্দে তৌহির ঘুম ভেঙে যায়। পাশে তাকিয়ে দেখে রুমি পাশে নেই। মনে মনে ধরে নেয় রুমি হয়তো বাথরুমে। তাই কিছু না ভেবে সে শুয়ে পড়ে। হঠ্যাৎ করে গ্লাস ভাঙার একটি বিকট শব্দে তৌহির ঘুম আবারো ভেঙে যায়। তৌহি দেখে রুমি তার পাশে নেই। এবার সে উঠে গিয়ে বাথরুমে চেক করে দেখে রুমি বাথরুমে নেই। রুমি কোথায় গেলো। তৌহি বাকি রুম গুলো ও ঘুরে দেখে কিন্তু কোথাও রুমি নেই। নিজের রুমে ফিরে আসার সময় কেনো জানি তৌহির ষ্টোর রুমের কথা মনে পড়ে। ছুটে চলে যায় ষ্টোর রুমে। সেখানে গিয়ে সে যা দেখে তা দেখার জন্য আদৌ সে প্রস্তুত ছিলো না। রুমি মেঝেতে পড়ে আছে। তার হাতে একটি কাচের গ্লাস। গ্লাসে লাল রক্তের দাগ লেগে আছে। রুমির মাথায় ও একটি ক্ষতের চিহ্ন। ক্ষতটা কি দিয়ে দেওয়া সেটা অনুমান করতে পারছে না তৌহি। রুমি কে নিয়ে তার বড্ড টেনশন হচ্ছে। সাথেই সাথেই রুমিকে নিয়ে সে হসপিটাল এ চলে যায়। তৌহি অশান্ত হয়ে কেবিনের সামনে হাটাহাটি করছে। রুমির অবস্থা কেমন সেটা জানার জন্য তার মন ব্যাকুল হয়ে আছে। কেবিন থেকে ডাক্তার বেরিয়ে এলেন। -ডাক্তার রুমির কি হয়েছে।সে ঠিক আছে তো? -সামান্য রক্তক্ষয় হয়েছে আর কিছু না। আপনার জন্য একটি সু-খবর আছে। আপনি শীগ্রই বাবা হতে চলেছেন। -আমি কি এখন রুমি কে দেখতে পারি! -জ্বী অবশ্যই। সাথে সাথেই তৌহি রুমির কাছে ছুটে যায়। চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে রুমি। পাশে বসে তৌহি তাকিয়ে আছে রুমির ঘুমন্ত চেহারার দিকে। হঠ্যাৎ করেই ঘুম ভেঙে যায় রুমির। তৌহি সেটি দেখে রুমির হাত হাতে নিয়ে আদর বিলিয়ে দিতে থাকে। -জানো আমি আজকে অনেক খুশি! -কেনো! -কারণ আমি বাবা হতে চলেছি। -সত্যি, তুমি সত্যি বলছো। আমি মা হবো। -হ্যা আমি সত্যি বলছি। হঠ্যাৎ করে রুমি মন খারাপ করে ফেলে। -কী বেপার খারাপ লাগছে? -না। -আচ্ছা তুমি ষ্টোর রুমে এতো রাতে কি করতে গিয়েছিলে। -কী বলছো ষ্টোর রুমে রাতে আমি কেনো যাবো। -আচ্ছা বাদ দাও। তৌহি বিষয়টি কে পাশ কাটিয়ে যায়। এখন রুমি কে চাপ দেওয়া ঠিক হবে না। পরিদিন সকালে সিট কেটে তারা বাসায় ফিরে আসে। তিন দিন কেটে গেলো। বাসায় আসার পর থেকেই রুমি কেমন জানি হয়ে যায়, না বাসায় আসার পর থেকে না সেদিন অফিস থেকে আসার পর থেকেই রুমি কেমন হয়ে যায়। বদলে যায় রুমি। কথা বললে সাড়া দেয় না,আজগুবি কথা বার্তা বলে অন্যমনস্ক হয়ে বসে থাকে তার মানে রুমি কি..! না কী সব ভাবছে তৌহি। রুমি একদম সুস্থ। মা হতে চলেছে তাই হয়তো এমন করছে। কিন্তু দিন দিন রুমির আচরণ গুলো আরো পরিবর্তন হতে থাকে।সারাদিন বই নিয়ে বসে থাকে।হ্যা সেই "রহস্যময় বই"টি নিয়েই বসে থাকে। একদিন রাতে রুমি ও তৌহি এক সাথে ঘুমিয়ে আছে।রাত্রি তিনটার দিকে,"কে ওই খানে। আমার সন্তান কে হাত দিচ্ছো কেনো এই এই!!" এই কথাগুলো রুমি জোরে জোরে বলতে শুরু করে।রুমির এসব শুনে তৌহির ঘুম ভেঙে যায়। তোহি উঠে রুমিকে ঝাকি দেয়, -এই রুমি শান্ত হও শান্ত হও।কী হয়েছে। রুমি চোখ মেলে তাকায় চোখ বন্ধ করেই সে ওসব বলছিলো। -আমার সন্তান কে হাত দিচ্ছিলো সে। -তুমি হয়তো কোন দুঃস্বপ্ন দেখেছো। -না আমি স্পষ্ট দেখেছি লোকটা আমার সন্তান কে হাত দিচ্ছিলো। চলবে..!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৫৪০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অ্যামাজনে কয়েকদিন [পর্ব ২২]
→ সাগরকন্যা কুয়াকাটা ভ্রমণ(পর্ব২)
→ অশুভ রাত (পর্ব ০২ এবং শেষ)
→ ভুতুড়ে বাড়ির রহস্য (পর্ব ০২ এবং শেষ)
→ অ্যামাজনে কয়েকদিন [পর্ব ২১]
→ ২২ বছর বয়সের মধ্যে বিয়ে না হলে মেয়েদের ৭ টি সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়
→ টাইটানিক কী আসলেই ডুবেছিল?(পর্ব ২)
→ ♥♥সিয়াম ভাইয়ার বিয়ে♥♥[২য় পর্ব]
→ ভারতের রহস্যময়ী একটি গ্রাম "The Twin Town"(পর্ব ২)
→ দ্যা স্ট্রেঞ্জ হান্টার (পর্ব ০২ এবং শেষ)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...