বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

প্রকৃতির প্রতিশোধ

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ⓜⓨⓝⓤⓛ ⓘⓢⓛⓐⓜ ⓡⓐⓕⓘ (০ পয়েন্ট)



X (অনেকদিন পর আর একটা গল্প দিলাম।আসলে সামনে আমার পরিক্ষা।তবুও আপনাদের জন্য একটা ছোট গল্প লিখলাম।কেমন লাগল জানাবেন আর আমাকে কি ভুলে গেছেন আপনারা?) ১ . আজ আবির আর নীলার ব্রেকাপের তৃতীয় দিন।এইতো কয়েকদিন আগেও নীলা আর আবির বেশ চুটিয়ে প্রেম করছিল।কিন্তু এখন তা অতীত।তিনদিন আগে নীলা জানিয়ে দিয়েছিল যে তার বাবা তার বিয়ে ঠিক করে ফেলেছে আর সে পরিবারের বিরুদ্ধে গিয়ে আবিরকে বিয়ে করতে পারবে না।তাই তাদের আর একসাথে থাকা হবে।চলে যাবার আগে অবশ্য প্রত্যেক প্রেমিকার মত সেও এটা জানাতে ভুলে নি যে আবির তার চেয়ে অনেক ভাল মেয়ে পাবে।নীলা নিজেই তার জীবন থেকে আবিরকে সরিয়ে দিতে চেয়েছিল।আবির একজন বেকার যুবক।আবির ভার্সিটি থেকে বের হয়েছে দুই বছর হচ্ছে।এখনও চাকরি পায় নি।কিছুদিন পর হয়ত ভাল চাকরি হবে।কিন্তু নীলা তত দিন অপেক্ষা করতে রাজি নয়।নীলার হাতের কাছে একজন ইঞ্জিনিয়ার বর ছেড়ে সে কিভাবে এক অনিশ্চিত ছেলের হাত ধরবে।তাই সে বাবাকে আর মানা করেনি।আবির কিছুই বলে নি বরং নীল স্নিগ্ধ আকাশের দিকে তাকিয়ে তাচ্ছিল্যের হাসি হেসেছিল।আবির নীলাকে মানা করেনি কারন যে তার জীবন থেকে চলে তাকে সে কিভাবে বাধা দিবে।তার যোগ্যতা এখনো সৃষ্টি হয়নি।আবিরও ভাল ভার্সিটির স্টুডেন্ট।পড়াশোনায় বেশ ভাল।নীলা আবিরের এই গুণ দেখে রিলেশন করতে রাজি হয়েছিল।ব্রেকাপের এই তিনদিন আবিরকে কষ্ট ভুলতে একটি উপায় পেয়েছে তা হল মদ ও সিগারেট খাওয়া।নীলা আবিরকে সিরিয়াসলি ভাল না বাসলেও আবির তাকে নিজের জীবনের চেয়ে বেশি ভালবেসেছে।মদ আর সিগারেট খেলে সে নীলাকে ভুলে থাকতে পারে।আবিরের তেমন কোন বন্ধুও নেই যে তাকে এই কাজ থেকে বাধা দেবে।ওকে জন্ম দিয়েই মা মারা গেছে।বাবার কাছেই মা-বাবা দুইজনেরই ভালবাসা পেয়েছে।বাবার শরীর এখন আর তেমন ভাল নয়।বাবাকে তার সব কথা শেয়ার করে।এইকথাও শেয়ার করল।বাবা ছেলের কষ্ট দেখে নিজেই কষ্ট পেতে লাগল।মদ সিগারেট খাচ্ছে জেনেও ছেলেকে কিছু বলছে না কারণ বেশি কষ্টে যদি ছেলেটা আত্মহত্যা করে সে ভয়ে।তাই তিনি চোখ ভরে ছেলের কষ্ট দেখতে লাগলেন।আবিরের জীবন জুড়ে ছিল শুধু তার বাবা ও নীলা।যে ছেলে সিগারেটকে ঘৃণা করতো তার জীবন মদ আর সিগারেটের মধ্যে আবদ্ধ হয়ে গেছে।আবিরের বাবা নীলার সাথে যোগাযোগ করতে চাইলেও সে বাবাকে যেতে দেয়নি।তার মতে নীলা যার কাছে থাকলে খুশি থাকবে তার কাছেই থাকুক।আজ নীলার বিয়ে বেশ ধুমধামের সাথে হয়ে গেল।আবির নীলাকে লুকিয়ে দেখতে গিয়েছে।নীল শাড়িতে তাকে পরির মত লাগছে।কথা ছিল আবির আর নীলার বিয়ে হবে।নীলার বিয়ে হচ্ছে তবে আবির বরের জায়গায় নেই।একনজর দেখেই চলে আসল।ব্রেকাপের পর আবির কোনদিন কাদে নি।কিন্তু আজ কেদে দিল।আজ খুব কষ্ট হচ্ছে তাই কষ্ট নিবারণের জন্য আবার মদ সিগারেট নিয়ে বসল। একদিকে নীলা তার স্বামীর সাথে বাসর রাত কাটাচ্ছে অন্যদিকে একটা ছেলে তিলে তিলে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।বেশ কয়েকদিন কেটে গেল।একদিন আবির রক্ত বমি করল।তার বাবা তাকে হাসপাতালে ভর্তি করল।ডাক্তারের কথায় আবিরের বাবার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল।ডাক্তারের মতে আবিবের ব্লাড ক্যানসার সে আর বেশি দিন বাচবে না।আবিরের বাবার খুব কষ্ট লাগলো এই কথা শুনে।আবিরের মায়ের মৃত্যুর পর তিনি আবিরের কথা ভেবে আর বিয়ে করেননি কিন্তু সেই আবিরও কিছুদিন পর তাকে ছেড়ে অজানা গন্তব্যে চলে যাবে।ডাক্তার আবিরের বাবাকে আলাদা ভাবে বললেও আবির দরজার আড়াল থাকে সব শুনল।কিন্তু তার একটুও কষ্ট হচ্ছে না বরং খুশি হল যে তার আর এই নিষ্টুর পৃথিবীতে থাকতে হবে না।আবিরের বাবা আবিরের কাছে পৌছাতেই আবির বেশ শান্ত ভাবে বলল,"আব্বা আমি জানি আমি বেশি দিন বাচব না।আমি আড়াল থেকে সব শুনেছি।তোমার পেনশনের টাকা দিয়ে তোমার বাকি জীবন চলে যাবে।আমার একটাই অনুরোধ আমার জন্য কখনো কাদবে না।মনে করবে তোমার কোন ছেলে ছিল না"।আবিরের বাবা আবিরকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে লাগল।আবির বাবাকে জড়িয়ে ধরে বলল,"আমি কোন ভুল করলে আমাকে ক্ষমা করে দিও।আমাকে নিয়ে তোমার স্বপ্নগুলো আমি পূরণ করতে পারলাম না।" আবির তার নীল ডাইরীটা তার বাবাকে দিয়ে বলল,"কোন দিন যদি নীলা আমার খুজে আসে তাহলে তাকে এই ডাইরিটা দিও"।আবিরের বাবা ডাইরিটা নিয়ে কান্না করতে করতে বলল,"তোর মা ও আমাকে ছেড়ে চলে গেছে এখন তুইও চলে যাবি"। -বাবা এই পৃথিবীতে সবাইকে তো মরতেই হয়।আমি নাহয় একটু আগেই মরে গেলাম। ২ . নীলা আর কাব্যের(নিলার স্বামী) সংসারটা ভালো যাচ্ছে না।প্রথম কয়েকদিন কাব্য ওকে অনেক কেয়ার করত এখন আর তেমন গুরুত্ব দেয় না।এখন নীলাকে দেখিয়ে দেখিয়ে অন্য মেয়েদের সাথে কথা বলে।তার নাকি বিয়ের আগে থেকে অন্য একটা মেয়ের সাথে সম্পর্ক ছিল।বাবার কথায় নীলাকে বিয়ে করেছে।কাব্য প্রতিরাতে মদ খেয়ে দেরি করে বাসায় আসে।নিলা কিছু বলতে পারে না।কিছু বললেই কাব্য নিলার গায়ে হাত তোলে।নিলা শুধুই গোপনে কাদে।নীলা ভাবে আজ যদি সে আবিরের সাথে থাকত তবে কি তাকে এত কষ্ট পেতে হত। ৩ . অবশেষে আবির মারা গেল।নীলা জানতে পারল না যে আবির আর এই নিষ্ঠুর পৃথিবীতে নেই।পৃথিবীর সবচেয়ে নির্মম দৃশ্য বাবার কাধে সন্তানের লাশ।আজ এই নির্মম সত্যের কবলে পড়তে হয়েছে আবিরের বাবার।তার ছেলের একটা উজ্জ্বল ভবিষ্যত ছিল।কিন্তু নিষ্ঠুর প্রকৃতি তা হতে দিল না।আবিরের বাবার মুখে আজ জল নেই।প্রতিদিনের কান্নায় তার মুখে আর জল আসে না কিন্তু বুক ফেটে যায়।কষ্টে তার বুক পাথর হয়েছে।সেই পাথরের ভারে যেন আবিরের বাবার দম বন্ধ হয়ে এল। ৪ . কাব্য আজ নীলার কাছে পরকিয়ার ধরা খেল।নীলা কাব্যের মুখে মুখে কথা বললে কাব্য তাকে ইচ্ছামত মেরে বলল,"আমি তোকে ডিভোর্স দিব বলে ভাবছিলাম।কিন্তু কিভাবে বলব তা বুঝতে পারছিলাম না।আজ সুযোগটা এসে গেল।তুই বেরিয়ে যা।আমি ডিভোর্স লেটার পাঠিয়ে দিব।নিলা কাদতে কাদতে তার কাপড় নিয়ে বাইরে চলে গেল।নীলা ঘরে ফিরে এলে তার মা বলল,"না বলে আসলি যে"? -মা আমি একেবারে চলে এসেছি। -মানে? নিলা তার মাকে কাব্যের সব কথা বলল।নিলার মা মুখ নিকৃত করে বলল,"তুই কেমন মেয়ে নিজের স্বামীকে বেধে রাখতে পারিস না।আমি এখন পাড়া-পড়শীকে কিভাবে মুখ দেখাব।ডিভোর্সী মেয়েদের এই সমাজ গ্রহণ করে না "।নীলা মায়ের কথা শুনে আশ্চর্য হয়ে বলল," মা এখানে আমার কি দোষ।তুমি আমাকে এইরকম করছ কেন?" নীলার মা মুখ ভেংচে বলল,"সব দোষ আমার।হায় হায়!!কি পোড়া কপাল আমার"।নীলা বুঝতে পারছে না তার মা কেন তার সাথে এইরকম ব্যবহার করছে।প্রতিবেশীরাও সকলে তারই দোষ ধরছে।পুরো এলাকায় শুধু তার নামে বদনাম হচ্ছে।কাব্যের দোষ তা কেউ ধরছে না।এই কয়দিনে নীলা একেবারে ভেঙ্গে পড়েছি।ব্রেকাপের পর থেকে কখনো সে আবিরের কথা চিন্তা করে নি।এখন তার আবিরকে খুব মনে পড়ছে।তার নিজের দোষেই আজ তার এই পরিণতি।নীলা সিদ্ধান্ত নিল আবিরের কাছে যাবে।আবির যদি তাকে ভালবেসে থাকে তাহলে এখনও তাকে মেনে নেবে।নীলা আবিরের নাম্বারে কল করল কিন্তু নাম্বার বন্ধ দেখাল।নীলা আবিরের ঘর আগে থেকেই চিনত।সে সরাসরি আবিরের ঘরে চলে গেল।আবিরের বাবা তখন একটু একটু পুত্র হারাবার সুখ ভুলছে।তিনি এখন আর পুত্রের শোকে কাদেন না কারণ তার ছেলে মরার আগে পুত্রের কারণে না কাদতে বলে গেছেন।আবিরের বাবা বারান্দায় বসে পেপার পড়ছেন।এমন সময় কলিং বেলের শব্দে দরজা খুলে দেখতে পেলেন একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে।নীলা বলল,"আংকেল আবির আছে বাড়িতে"?আবিরের বাবা বেশ শান্ত ভাবে বলল,"মা তুমি কে?আবিরের খুজ করছ"? -আবিরকে গিয়ে বলুন নিলা ডাকছে। আবিরের বাবা চশমা খুলে বলল,"আবির নেই।তবে আবির তুমি আসলে একটা জিনিস দিতে বলেছে।দাড়াও আমি আনি"। নিলা ভাবছে আবির আবার কোথায় গেল?আর আবির তার বাবাকেই বা কি দিতে বলেছে?নীলা এসব ভাবতে ভাবতে আবিরের বাবার প্রবেশ।আবিরের বাবা আবিরের নীল ডাইরীটা দিয়ে বলল,"মা এটা পড়লে সব জানতে পারবে"।আজকে আবার নীলার জন্য আবিরের আব্বার আবিরের কথা মনে পড়ল।নীলা বাড়ি ফিরে এল।এসেই আবিরের ডাইরীটা পড়তে শুরু করল।সম্পুর্ণ ডাইরী জুড়ে আবির আর নীলার কথা লেখা।তাদের প্রেম থেকে শুরু করে ব্রেকাপের পর পর্যন্ত সবকিছু ডাইরীতে লেখা রয়েছে।একজায়গায় গিয়ে নীলার চোখ আটকে গেল।ডাইরীতে তারিখ লেখা ০৫-১০-২০১৯। "আজ আমার আর নীলার ব্রেকাপ হয়েছে।কত আশা ছিল আমি আর নীলা একসাথে ঘর বাধব।আমাদের দুইটা ফুটফুটে বাচ্চা হবে।আমি আর নীলা সারাদিন খুনসুটিতে মেতে থাকব।কিছু মানুষের আসা কখনো পূরণ হয় না যেমন আমি।নীলা চলে যেতে চাইলে আমিও তাকে বাধা দিলাম না কারণ নিলা যেখানেই থাকুক সে তো অন্তত ভাল থাকবে।কষ্টগুলো শুধু না হয় আমারই হোক। কিছু মানুষের জন্মই তো কষ্ট সহ্য করার জন্য। " ০৭-১০-২০১৯ যে আমি কখনো সিগারেটও খেতাম না সেই আমি আজ সিগারেট আর মদ খাচ্ছি।সিগারেট আর মদ খেলে নাকি দুঃখ ভুলে থাকা যায়।আমি আমার দুঃখগুলোকে ভুলে থাকতে চাই। ১১-১০-২০১৯ আজ আমার নীলার বিয়ে।নীল শাড়িতে নীলাকে যে কত সুন্দর লাগছে তা বলার মত নয়।কথা ছিল আমার আর নীলার বিয়েতে নীলা নীল শাড়ি আর আমি লাল পাঞ্জাবি পড়ব।কিন্তু আমার ভাগ্যে যে নীলা নেই।নীলার কাছ থেকে চোখ ফেরাতে পারছি না।কিন্তু নীলা এখন অন্যের বউ।তার দিকে দৃষ্টি দেওয়ার অধিকার আমার নেই।মনে পাথর রেখে বাড়িতে চলে এলাম।নিলার ব্রেকাপের পর থেকে আমি কখনো কাদিনি।আজ নিজেকে ধরে রাখতে না পেরে কেদে কেদে বালিশ ভেজালাম।পরক্ষনেই মনে পড়ল পুরুষ মানুষের তো কাদতে নেই তবে আমি কেন কাদছি। ১৫-১০-২০১৯ আজ জানতে পারলাম আমার ব্লাড ক্যানসার ধরা পড়েছে।আমি একমাসের বেশি বাচঁব না।আমার জন্য খারাপ লাগছে না।বাবার কথা ভেবে খুব কষ্ট লাগছে।মা মারা যাওয়ার পর আমার দিকে তাকিয়ে বাবা আর বিয়ে করেনি।কিন্তু আমি তার প্রতিদানে বাবাকে কিছু দিতে পারছি না। ২০-১০-২০১৯ এখন আর ভালভাবে ডাইরীও লিখতে পারি না হাত কাপে।মাথা ঝিমঝিম করে কোন কিছুতে মনোযোগ দিলে।বুঝতে পারছি আমার আয়ু ফুরিয়ে আসছে। ২৭-১০-২০১৯ এখন আর পৃথিবীর মায়া আমাকে টানে না।পৃথিবী থেকে চলে গেলেই যেন আমার শান্তি।এখনও আগের মতই নীলাকে মনে পড়ে।খুব জানতে ইচ্ছা করে নীলা কেমন আছে।নিশ্চয়ই ভাল থাকবে ভাল থাকার জন্যই তো আমার কাছ থেকে দূরে চলে গেছে। ০৯-১১-২০১৯ নীলার প্রতি আমার কোন অভিযোগ নেয়।আমি চেয়েছিলাম সে যেন ভাল থাকে।সে যদি অন্য কারো কাছে ভালো থাকে তাহলে আমিও খুশি হব।আমার হাত আর চলছে না।প্রচন্ড মাথা ব্যাথা করছে।শৈশব থেকে এখন পর্যন্ত সব স্মৃতি চোখের সামনে ভেসে আসছে।বাবা,নীলা আর মায়ের কথা মনে পড়ছে।আমি দেখতে পাচ্ছি মা আমাকে বলছে,"আয় বাবা আমার কাছে আয়।" . এর পর ডাইরীতে আর কিছু লেখা নেই।নীলার চোখ থেকে বর্ষার বাদলের মত করে পানি পড়ছে।যে কিনা তাকে এত ভালবেসেছে তার ভালবাসার মূল্য না দিয়ে শুধু মাত্র টাকার লোভে কাব্যের মত অমানুষকে বিয়ে করেছে।নিলা ভাবছে আবিরের সাথে তার করা অন্যায়ের ফল সে এখন পাচ্ছে। . রহমত সাহেব প্রতিদিন সকালের মত আজও পেপার পড়ছেন।হেডলাইনের এক জায়গায় গিয়ে তার চোখ আটকে গেল।বড় অক্ষরে লেখা,"স্বামীর অবহেলা আর প্রতিবেশীদের নিন্দার কারণে আত্মহত্যা এক তরুণীর"।নিচে লেখা আছে,"স্বামীর পরকীয়া ধরা পরার পর প্রতিবাদ করে নীলাঞ্জনা নীলা নামের এক তরুণী।অতঃপর স্বামী তাকে ঘর থেকে বের করে দেয়।নিজ বাড়িতে এসেও শান্তি পায়নি এই তরুণী।চারদিকের সবাই তার নামে নিন্দা করতে থাকে।কেউ কেউ সরাসরি অপয়া আর ভাগ্যহীনা বলে গালি দিতে থাকে।এইসব কথা সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করে নীলা নামের তরুণীটি।পুলিশ বিষয় তদন্ত করছে।"রহমত সাহেব দীর্ঘশ্বাস ফেলে বিরবির করে বললেন,"দেশটা অন্যরকম হয়ে যাচ্ছে"।রহমত সাহেবেরও একটা মেয়ে আছে।তুলনামূলক কম ধনী কিন্তু চরিত্রবান ছেলের সাথে তিনি বিয়ে দিয়েছেন।তার টাকার প্রতি কোন লোভ নেই।তার মেয়ে দাম্পত্য জীবনে বেশ সুখী। (সমাপ্ত)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ১২৭৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ প্রকৃতির প্রতিশোধ

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...