বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আত্মহত্যা কেনো

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Prince (০ পয়েন্ট)



X আজকের গল্পটি একটি ভালোবাসার গল্প। মেয়েটির নাম মিথি।দশম শ্রেনীর ছাত্রী।দেখতে শুনতে খুবই সুন্দরী এবং মেধাবী।স্কুলের সবাই তাকে এক নামে চিনতো।বাবা মায়ের একমাত্র আদরের মেয়ে সে। . সামনেই তার এস,এস,সি পরীক্ষা।পড়াশুনা নিয়ে বেশ ব্যস্ত ছিলো।তবে হঠাৎ তার জীবনে অন্যরকম কিছু ঘটতে চলেছিলো।স্কুল ছুটি শেষে বাড়ি ফেরার পথে ইদানিং একটা ছেলেকে সে দাড়িয়ে থাকতে দেখে।প্রথমত গ্রাহ্য না করলেও পরে বুঝতে পারে ছেলেটা তার জন্যই দাড়িয়ে থাকে। . মিথি ব্যাপারটা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করতো।তারপর মিথির এস,এস,সি পরীক্ষা শুরু হয়।পরীক্ষা চলাকালীন সময়ও ছেলেটা দাড়িয়ে থাকতো।তবে কখনো মিথির সাথে কথা বলার চেষ্টাও করতো না। ১৪ই ফেব্রুয়ারী, বিশ্বভালোবাসা দিবসের দিন ছিলো মিথির বাংলা পরীক্ষা। সেদিন পরীক্ষা দিয়ে বের হবার পর দেখে ছেলেটা ফুল নিয়ে দাড়িয়ে আছে। . ছেলেটা মিথির কাছে আসে এবং বলে, ছেলে: আমার নাম মেহেদী।অনার্স ফাইনাল ইয়ার।তুমি হয়তো খেয়াল করেছো যে বেশী কয়েক মাস ধরে আমি তোমার পথ চেয়ে দাড়িয়ে থাকতাম।কিন্তু কখনো বলার সাহস হয়নি। (মিথি চুপ) কিন্তু আজ না বলে পারছি না; 'আমি তোমাকে ভালোবাসি' বলেই ফুল গুলো মিথিকে দিলো।মিথি ফুলগুলো নিয়ে বললো, দেখুন আমি বুঝতে পেরেছিলাম আপনি আমাকে পছন্দ করেন।তবে এই মূহর্তে আমি আপনাকে কিছু বলতে পারবো না। . মিথি এটা বলে সেদিন চলে আসে।পরের প্রতিটা পরীক্ষাতেও ছেলেটা এভাবেই দাড়িয়ে থাকতো। চোখে চোখ পড়লেই দুজনে দুজনের দিকে তাকিয়ে হাসতো।মিথিও মনে মনে ছেলেটাকে ভালোবেসে ফেলেছিলো।অতঃপর শেষ পরিক্ষার দিন মিথি নিজে থেকেই ছেলেটা জানিয়ে দেয় যে সেও তাকে ভালোবেসে ফেলেছে। . এভাবেই তাদের ভালোবাসার অধ্যায় শুরু হয়।মিথির পরীক্ষার রেজাল্ট বের হয়।ভালোই রেজাল্ট করে মিথি।তারপর কলেজে ভর্তি হয়।প্রায়ই মেহেদীর সাথে ঘুরতে যেতো মিথি।বেশ ভালোই কাটছিলো তাদের দিনগুলো। কিন্তু হঠাৎ করেই একদিন মিথির বিয়ের কথা ওঠে মিথির বাড়িতে।ভালো ছেলে পাওয়ার কারনে খুব শিঘ্রই তার বিয়ে দেবে বলে ঠিক করে তারা। . এদিকে মেহেদী মিথির বিয়ের কথা শুনেই ছুটে যায় মিথির বাবার কাছে।ভালোবাসার কথা জানিয়ে ভিক্ষা চায় মিথিকে।তবে মিথির বাবা কিছুই করতে পারবেন না।কারন সব আত্মীয় স্বজন মিথির মামা-চাচা কেউই এই ভালোবাসার বিয়ে মেনে নেবে না।তাছাড়া সমাজ কি বলবে? নানা ধরনের যুক্তি শুনিয়ে ফিরিয়ে দেয়ে মেহেদীকে। . দিন ঘনিয়ে আসে।কাল মিথির বিয়ে।আগের সন্ধ্যায় ফোন করে মিথির সাথে শেষ বারের মতো কথা বলে মেহেদী।তারপর ডজন খানেক ঘুমের ওষুধ খেয়ে চলে যায় না ফেরার দেশে। . মিথি এই খবর শুনতে পেয়ে নিজেকে সামলাতে ব্যর্থ হয়।বাকরুদ্ধ হয়ে যায় মেয়েটা।মাকে দেওয়া কথা রাখতে বিয়ে করতে রাজী হয়েছিলো মিথি।তবে মেহেদীর মৃত্যুর খবর পেয়ে ফ্যানের সাথে শাড়ী পেচিয়ে সেও সিদ্ধান্ত নেয় আত্মহত্যার।মিথি একটা সুইসাইড নোট লিখে গেছিলো।যাতে লেখা ছিলো, . "মা-বাবা, ক্ষমা করে দিও আমাকে।আমি পারলাম না তোমাদের দেয়া কথা রাখতে।যে পৃথিবীতে মেহেদী নেই সেই পৃথিবীতে আমি কি করে থাকবো বলো? আমি তো মেহেদীকে অনেক আগেই কথা দিয়েছিলাম যে ওকে ছেড়ে দূরে কোথাও যাবো না।তবে আজ কিভাবে ওকে ছাড়া বেচে থাকতাম বলো? বাবা, তোমাদের এই সমাজ,সংসার আমাদের ভালোবাসা মেনে নেয়নি,তবে পরপারে নিশ্চই এমন বাধা থাকবে না।আমি চলে যাচ্ছি বাবা, মেহেদী কাছে।তোমরা ভালো থেকো। ইতি তোমাদের অবাধ্য মেয়ে, মিথি.....


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৬৪৩ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...