বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

পাসওয়ার্ড থেকে ভালোবাসা

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Prince (০ পয়েন্ট)



X -ঐ প্লীজ আমার কথাটা একটু বুঝার চেষ্টা কর ( প্রিন্স) -ঐ তোর কথা কি বোঝার চেষ্টা করবো? পাগল কোথাকার।আর যুদি আমার সামনে এইসব কথা বলতে আসিসি তাহলে তোর খবর করে দিব। ( রিমা রেগে কথাগুলো বললো) -এখানে তুই এতো রেগে যাচ্ছিস কেন?আমি কি খারাপ কিছু বলেছি।আমি তোকে ভালোবাসি আর এটা বলেছি তাতে দুষের কি আছে। যার জন্য তোকে রাগতে হবে। আর প্লিজ একটু বুঝার চেষ্টা কর আমি কিন্তু সত্যি তোকে অনেক বেশি ভালোবাসি।(অনুনয়ী স্বরে কথাটি বললো জাকারিয়া) -রাগবো না তো কি তোকে কুলে নিয়ে নাচবো। যখন থেকে বুঝতে শিখেছি তখন থেকেই আমাকে জ্বালিয়ে আসছিস।তোর জন্য কি আমি একটু ও শান্তিতে থাকতে পারবো না।বাসায় গেলে ও তোর প্যারা কলেজে আসলে ও তোর প্যারা।প্রতিদিন এই সব আমার ভালো লাগে না, তুই এতো বেহায়া কেনো?তোর মত বেহায়া আমি জিবনেই দেখিনি নির্লজ্জ কোথাকার। ( রিমা) -এখানে রিমা কিন্তু একটু ও মিথ্যা বলেনি।হ্যা আমি বেহায়া। সেই ছোটবেলা থেকে রিমাকে ভালোবাসি কথাটি বলে আসতেছি। আর তার বিনিময়ে বারবার আমাকে অবহেলিত অপমানিত হতে হয়েছে রিমার কাছে।তবু ও আমি হাল ছেড়ে দেই নি কারণ আমি যে তাকে মন থেকে ভালবেসেছি। কিন্তু এখনো বুঝতে পারিনি রিমা আমাকে ভালোবসে কিনা।কখনও তার আচরণে মনে হয় সে আমাকে তার নিজের থেকে বেশি ভালোবাসে।আর যখন আমি তাকে ভালবাসি কথাটি বলতে যাই।তখনি সে আমার সাথে অন্যরকম আচরণ করে। -(ছোটবেলা থেকে একসাথে দুজনে একসাথে বড় হয়েছি ওর বাবা আর আমার বাবা দুজন খুব ভালো বন্ধু তাই দুজনে মিলে একটি বাসা ক্রয় করে।আর যার কারণে রিমা এবং আমার ফ্যামিলি আমরা সবাই এক সাথে থাকি।) -কি আর করার প্রতিদিনের মত আজ ও খালি হাতে আমাকে ফিরে আসতে হলো। -কলেজ থেকে বাসায় এসে রুমের দরজা -জানালা বন্ধ করে রিমার কথা ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম মনে নেই। -হঠাৎ ঘুম ভাঙলো কারো ফোনে, ফোন রিসিভ করতেই কারো ঝাড়ি শুরু। ঐ ডিনার না করে ছাগলের মত ঘুমিয়ে আছিস কেন?তাড়াতাড়ি নিচে আয় ডিনার করবো। (রিমা) -ঘুম থেকে উঠে হাতমুখ দুয়ে নিচে গিয়ে দেখতে পেলাম সবাই আমার অপেক্ষায় বসে আছে। তখন আমি আর কিছু না বলে খেতে শুরু করলাম। -খেতে খেতে একপর্যায়ে রিমা বলল তার ফেইসবুক আইডিতে নাকি সমস্যা হচ্ছে। তাই আমাকে তার আইডিটি ঠিক করে দিতে হবে। কি আর করার ভালোবাসার মানুষ যা বলে তাই শুনি। আচ্ছা শুন খাওয়ার পর আমার রুমে আসবি আমার ল্যাপটপ দিয়ে ঠিক করে দিব। -খাওয়ার পর তিনি এসে হাজির।শোন তাড়াতাড়ি আইডিটা ঠিক করে দে আমার বি এফ এর সাথে কথা বলবো।(রিমা) -কথাটা শুনার পর আমার অনেক রাগ হলো, তাই বললাম তোর বকবকি শুনার টাইম আমার নাই। পাসওয়ার্ড দিয়ে এখান থেকে যা।কাল সকালে আইডি ঠিক হয়ে যাবে (আমি) -না এখন পাসওয়ার্ড দিতে পারবো না, সমস্যা আছে। তোর যখন পাসওয়ার্ড এর দরকার হবে তখন দিয়ে যাব( রিমা) -তাহলে দূরে গিয়া মর (আমি রেগে কথাটি বললাম) -রেগে যাচ্ছিস কেন?আচ্ছা দিচ্ছি। পাসওয়ার্ড হচ্ছে jakaria (ওয়াহিদা নিচু স্বরে) -কি তুমি আমার নাম পাসওয়ার্ড দিয়েছো। তার মানে তুমি ও আমাকে ভালোবাসো।কারণ আমার গুরু অচেনা লেখক আমাকে বলেছেন যখন কোনো মেয়ে তোমার নাম তার পাসওয়ার্ড কিংবা অন্য কিছুতে ব্যবহার করে তাহলে ভেবে নিও তুমি সেই মেয়েটির কাছে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মেয়েরা এতো সহজে কোনো ছেলের নাম তার এফবি পাসওয়ার্ড, ফোন লক অথবা অন্য কিছুতে ব্যবহার করে না। তারা যাকে ভালোবাসে শুধু তার নামই ব্যবহার করে।তাই তুমি যেহেতু আমার নাম তোমার এফবি তে দিয়েছো,তার মানে তুমি ও আমাকে ভালোবাসো।ওকে বাই দ্যা রাস্তা তাড়াতাড়ি আই লাভ ইউ টু বলে আমার গুরু কথাটি সত্য করে ফেলো।(আমি খুশি হয়ে) -এই যে মিষ্টার আনন্দের সাগরে অনেক ভেসেছেন। এখন একটু আমার কথাগুলো মন দিয়ে শুনো আপনার নাম পাসওয়ার্ড দিয়েচ্ছি তাতে কি। এখন পাসওয়ার্ড দিয়েছি বলে ভালোবাসি এটা কেমন কথা,আর যুদি বেসে ও থাকি তাহলে এটা আমার একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। আর তুই যেরকম নকল করে পরিক্ষায় পাস করিস তোর সেই গুরু ও আমার মনে হয় নকল করে লেখক হয়েছে। (কথাগুলো বলে রিমা চলে গেলো) -রিমার কথাগুলো আমাকে অনেক আঘাত করলো।আমাকে না হয় প্রতিদিন অবহেলা করে ফিরেয়ে দেয়। কিন্তু সে আজ আমার গুরুকে অপমান করলো।এই দুঃখ আমি কোথায় রাখিব। কিছু করার নাই। আপনি যাকে মন থেকে ভালোবাসবেন তার কাছেই আপনি প্রতিনিয়ত অবহেলিত -অপমানিত হবেন। তার কাছে আপনার কোনো মুল্য থাকবে না এটাই বাস্তবতা আর এটাই প্রকৃত ভালোবাসা। -সেদিন রিমার আইডিটি ঠিক করে দিয়ে আমি ফোন বাসায় রেখে দুদিনের জন্য চলে যাই গ্রামের বাড়িতে। কিন্তু সেটা ওয়াহিদা জানতো না।আর আমি তাকে বলতে ও চাই নি।কারণ আমি তার কাছে থাকলে ও কি না থাকলেও কি।আমি তো সর্বদা তার কাছে অবহেলার পাত্র। -দু দিন গ্রামে থেকে যখন বাসায় আসলাম তখন রাত প্রায় ৭ টা ছিল।বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে ফোনটা হাতে নিয়ে ছাদে গিয়ে গুরুকে ফোন দিয়ে সব কিছু জানালাম। গুরু বললেন তুমি তাকে আর জ্বালিয়ো না।কারণ তুমি যুদি তাকে মন থেকে ভালোবেসে থাকো তাহলে আমার বিশ্বাস সে একদিন না একদিন তোমার কাছে চলে আসবে।তুমি শুধু তার জন্য অপেক্ষা করো। -গুরুর কথা শুনে নীরব বসে রয়েছিলাম।হঠাৎ কারো পায়ের আওয়াজ শুনতে পেলাম।বুঝতে আর বাকি রইলো না তিনি আগমন করতেছেন। -রিমা সামনে এসে রেগে আমার শার্টের কলার ধরে আমাকে দাড় করিয়ে বললো হারামি সারাদিন ভালোবাসি ভালোবাসি বলে আমার পিছন পিছন ঘুরে বেড়াস,শত অপমানের পরেও আমার পিছন ছাড়িস নি।আর সেই তুই গ্রামে গিয়ে মেয়েদের সাথে সেলফি তুলিস। আর সেই মেয়ে আমাকে ট্যাগ করে ক্যাপশন দেয় with my bf।হারামি দু দিন আমি সামনে ছিলাম না, আর তুই আমাকে ভুলে অন্য মেয়ের সাথে,,,,,,,,,ছি ছি। -মনে মনে ভাবলাম কি এমন করলাম যার কারণে এতো কিচ্ছু । আমার জানামতে চাচাতো বোনের জন্ম দিন ছিল তখন সে আবদার করলো ভাইয়া তোমার সাথে একটা সেলফি তুলবো,এতে দুষের কি। হ্যা মনে পড়েছে বার্থডে তে কোনো গিফট দেইনি, যার কারণে সে বলেছিলো ভাইয়া শহরে যাও। তোমার জন্য বাশ অপেক্ষা করতেছে।এখনতো দেখতেছি সে আমাকে বাশ নয় বাশ বাগানের মালিক করে দিয়েছে। আর রিমা সেই দুঃখে কেঁদেই চলেছে। -তাই আমি মনে ভাবলাম এত দিন সে আমাকে পাত্তা না দিয়ে অবহেলা অপমান করেছে। আর আজ সে আমাকে ভালোবাসে।তাই এই সুযোগে একটু প্রতিশোধ নেওয়া তো যায়। -তাই আর দেরী না করে বললাম হ্যা ঐ মেয়েটাকে আমি ভালোবাসি।তুই আমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছিস, তোর পিছু অনেক ঘুরেছি আর নয়। তুই কি মনে করিস তোকে না ফেলে আমি আর কোনো মেয়েকে ভালোবাসতে পারবো না।(যুদি ও কথাটা মন থেকে বলিনি) -(আমি মনে করেছিলাম রিমা এখন আমাকে অনুরোধ করবে তাকে ভালোবাসার জন্য, কিন্তু হল তার উলটো) -কি বললি? তোর এত সাহস।ঐ আমি তোকে ভালোবাসবো,তোকে অবহেলা অপমান করবো, আমার মন যেটা চাইবে তাতে তোর কি। যুদি আর কোনোদিন কোনো মেয়ের দিকে থাকাবি তাহলে তোর খবর করে ছারবো।তুই তো আমাকে ভালো করে ছিনিস। এই কথাটা যেন মনে থাকে (রিমা) -জ্বি মনে থাকবে। এখন থেকে প্রয়োজনে সর্বদা মাঠির দিকে চেয়ে থাকবো। আচ্ছা আমি কি তোমাকে একবার জড়িয়ে ধরতে পারি। (জাকারিয়া) -এই এইজন্যই আমি তোকে ভালো যে বাসি সেটা বুঝতে দেই নি। কি বললাম ভালোবাসি আর সাথে সাথে তুই জড়িয়ে ধরার প্রস্তাব করে ফেললি, তুই যে কি?( রিমা) -সরি সরি আর কোনোদিন ও জড়িয়ে ধরার কথা বলবো না। খুশিতো।(জাকারিয়া) -ধুর বোকা মজা করলাম জড়িয়ে ধরতে পারবি,কিন্ত আর কিছুর কথা বলাতো দুরের কথা যুদি মনে করিস তাহলে হাত পা ভেঙে ফেলে রাখবো। ওকে তএখন শুধু জড়িয়ে ধরতে পারো (রিমা) -কি আর করার ভয়ে ভয়ে জড়িয়ে ধরলাম। আহ কি শান্তি! -আপনারা আর নিচে আসবেন না আমরা এখন একটু রোমান্স করবো। (সমাপ্ত)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ১৮১২ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...