বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বিকেলে ভোরের চিঠি

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান MD.Belal Hosan (০ পয়েন্ট)



X কাল রাতে আপনাকে স্বপ্নে দেখলাম, মাষ্টারমশাই! সানরুমের দক্ষিণ কোণ ঘেঁসে মেহগনি কাঠের দোলায়মান একখানি রকিং চেয়ারে বসে আছেন আপনি। কোলের ‘পরে আকাশ নীল জ্যাকেটে মোড়া দ্য এলজেব্রা অব ইনফিনিট জাস্টিস, বুকমার্কের নিকেশ করে দেখেছি, বইটির মাঝামাঝি অব্দিও পড়া হয়নি এখনো। পায়ের কাছে ধূপছায়া রঙের কোলাপুরী চপ্পলের একটিতে বুড়ো আঙুল জড়িয়ে আছে আলগোছে, অপর পা’টি চড়ে বসেছে ডান পায়ের ওপর। অরুন্ধতীর লেখা কালো অক্ষরগুলো ছুঁয়ে আছে আপনার করতল, অন্য একটি হাত আলগোছে মাথার পেছনে রাখা। বইয়ের পাতায় মন নেই, পলকহীন চোখে আপনি তাকিয়ে আছেন দূরে কোথাও। বাইরে পাঁচিলবিহীন উঠোনের একপাশে ধবধবে সাদা একটি খরগোশছানা চকিতে এদিক ওদিক তাকিয়ে যখন নিশ্চিত হলো তাকে কেউ দেখছেনা অমনি সে দুটি ঘাসপাতা ছিঁড়ে এমন করে মুখে চালান করে দিল যে মনেহলো ঘোরতর ষড়যন্ত্র শেষে পৃথিবীর নিকৃষ্টতম অপরাধটি মাত্রই সংঘটিত হলো। অনতিদূরে ম্যাগনোলিয়ার সবচেয়ে নিচু ডালের কোটর থেকে একটি চিপমঙ্ক নেমে আসতেই খরগোশছানাটি লুকিয়ে গেল মৃতপ্রায় নীল হারডেঞ্জার ঝোপের আড়ালে। আপনি এসবের কিছুই দেখছেন না বুঝতে পারি। আমরা অনন্তের সন্ধানে চষে বেড়াই পৃথিবীর নানা কক্ষপথে কিন্তু কাছের জিনিসটি আর পাশের মানুষটি চিরকালই আমাদের দৃষ্টির অন্তরালে থেকে যায়! লিভিং রুমে একুইরিয়ামে গোস্ট শ্রিম্পের পাশে নিশ্চিন্তে ঘুরে বেড়াচ্ছে নিয়ন টেট্রার ঝাঁক। দুধের সর রঙা মিহীন পাঞ্জাবীতে আজ আপনাকে মানিয়েছে ভাল। কপালে তিন ভাঁজ ফেলে কী অত ভাবেন বলুন, সারাক্ষণ? দিনশেষে অফিসের দেরাজে কাগজপত্তর রেখে সবাই স্টিয়ারিঙে হাত রাখে। গাড়িতে উঠে পিয়া বাসন্তীরে চাপিয়ে বাড়ির পথে ধাওয়া করে নাগরিক মানুষ। মন উদাস হলে ফিরতি পথে মেলটনস এ্যাপ এন্ড ট্যাপে আখরোট আর কাজু বাদামের সাথে রোজ শ্যাম্পেন হাতে পার্শ্ববর্তিনীর ছত্রিশ-ছাব্বিশ-ছত্রিশে লোভাতুর দৃষ্টি অথবা সামাজিক হাই হ্যালো। পানীয়ের দাম মিটিয়ে ব্যাটে বলে মিললে অচেনা মানবীর প্রতি কোষে ঝড় তুলে পূজো শেষে দেবী প্রতিমার মতই ঝপাস করে গঙ্গা বিসর্জন! তারপর পরিতৃপ্ত ঠোঁট দুটি গোল করে শিস বাজাতে বাজাতে নিজের ডেরায় ফিরে নক্ষত্রের স্মৃতির সাথে নিত্যদিনের গেরস্থালী! জাগতিক মানুষের কোন গুণপনা আপনার কোন কালেই ছিলনা মাষ্টারমশাই, আপনি ভারবাহী পশুর মত অফিসের যাবতীয় কাজকম্ম বাড়ি বয়ে আনেন! তাতে জগতের আলো কতটুকু বাড়ে বলতে পারিনা কিন্তু চরপাড়ায় মেঘের আড়ালে ঢাকা ভোরের সূর্যের মত আপনার ঠোঁটের কোণে লেগে থাকা মৃদু হাসির শেষ রেখাটুকুও যে উবে যায় ঠিক বুঝতে পারি। মা থাকলে ঠান্ডা লেবুর সরবতের গেলাস হাতে বলতেন, এক চুমুকে খেয়ে নে বেটা, ঠাডা পড়া রোদ মাথায় আইলি ঘরে, সারাদিন কাজের চাপ তো কম পড়েনা তোর ঘাড়ে। ছেলেরা প্রথম জীবনে বাবার শাসন মেনে বড় হলেও তারা দিন শেষে ঘরে ফিরে আসে আটপৌরে শাড়িতে ঘোমটা পরা মায়ের টানেই। পরিপাটি দস্তরখানায় সাদা ভাতের থালায় আলু পটলের ঝোলে এক টুকরো কালবাউসের পাশে ডাগর একটি কাঁচা লংকা আর কাগজি লেবুর গারনিশ মা ছাড়া জগতে আর কেউ করে না সেটি আপনার মত আর কে জানে! খাবার ঘরের চৌকো কাঁচের টেবিলে সোনালী ঘেরাটোপে নীল একখানি থালায় ফারফালে উইথ সসেজ রয়েছে ঢাকা। ব্রকোলির সাথে সেখানে সানড্রাইড টমেটো আর ক্যালামাটা জলপাই উঁকিঝুঁকি দিয়ে জানান দিচ্ছে নিজেদের অস্তিত্ব। বাড়ি ফিরে হাত পুড়িয়ে রাঁধতে বসলেন নাকি আজ? আপনি কি জানেন ফারফালে মানে কি, মাষ্টারমশাই? নামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিল ছাপ্পর আঁটা বিশিষ্ট পণ্ডিত আপনি, সমাজ সংসার উদ্ধারকল্পে আপনাদেরই তো আগ বাড়িয়ে নেমন্তন্ন করে বাঘা বাঘা প্রতিষ্ঠানগুলো। চোখে প্রণতির ছাপ এঁকে ডোরাকাটা ধূসর শার্টের কলারে বাঁধা রেকর্ডারটি ঠিক করে দিয়ে যায় আইটির কোন পান্ডা। বাই ফোকাল চশমাটি কপালে তুলে ভারী আলোচনা চলে হিমহিম জলের বোতল পাশে রেখে। পোডিয়ামে তুখোড় বক্তিমা শেষে অতঃপর হোটেলে ফিরে স্কচের বোতলে ধোঁয়াশা স্মৃতির সাঁতার। ফারফালের মত তুচ্ছ কিছুর মানে আপনার না জানলেও চলে, পন্ডিতমশাই! রকিং চেয়ারের অনতিদূরে টিপয়ে রাখা জলের গেলাসের ডয়লিতে ধুলো জমেছে খানিক, কবেকার জল তুলে রাখা আছে কে জানে! বাড়ি জুড়ে ছড়ানো ছিটানো বইপত্তর, হেঁশেলের গ্রানাইটে মুখ থুবড়ে রয়েছেন এলান পো। আম কাঁঠালের ছুটিতে একবার সবাই মিলে ছোট চাচার সাথে তুমুল হুল্লোড় করে আমাদের গ্রামের বাড়ি রঘুনাথপুরে গিয়েছিলাম, মনে পড়ে? বাড়ি থেকে মাইলখানিক হাঁটলে ছোট্ট একটা নদী, কী মিষ্টি নাম তার, সাগরচরা! খালের মত এক চিলতে নদী তার আবার সাগরচরা নাম, ছোটচাচাকে বললেন আপনি। উত্তরে চাচা বললেন, বহুদূরের সাগর থেকে নেমে এসেছে বলেই এর নাম সাগরচরা! নদীর তীর ঘেঁসে ঘন কাশের বন, কাছেই আমাদের পুরনো দোতলা সমান উঁচু কাঠের একচালা একটি ঘর ছিল। সারাবছর সেখানে কেউ থাকতো না, ভরা বর্ষায় নদীতে জোয়ার এলে দাদাজান তার বন্ধুদের নিয়ে বড়শীতে মাছ ধরতেন এই ঘরের কাঠের পাটাতনে বসে। মনে পড়ে মাষ্টারমশাই, একদিন শেষ বিকেলে অস্তায়মান সূর্যটির ছায়া ঘনিয়ে এলে আপনি এনাবেল লী পাঠ করে শুনিয়েছিলেন। আমার ইংরেজী কবিতার পড়া বলতে স্কুল কলেজের পাঠ্য পুস্তকে সোভিয়েত নারীর মলাট দেয়া বইই ছিল একমাত্র সম্বল। পাঠ্য বইয়ের বাইরে আপনার মুখেই আমার প্রথম ইংরেজী কবিতার পাঠ শোনা। এনাবেল লী’র মত অনিন্দ্যসুন্দর প্রেমের কবিতা পড়বার সময়েও মাষ্টারমশাই, আপনার মুখের পেশীতে এতোটুকু টান পড়েনি। দূরে ছইওয়ালা একটা নৌকোর দিকে স্থির দৃষ্টি রেখে ভাবলেশহীন মুখে যখন আপনি পড়লেন, এন্ড দ্য স্টারস নেভার রাইস, বাট আই ফিল দ্য ব্রাইট আইস অব দ্য বিউটিফুল এনাবেল লী, আমার কৈশোরউত্তীর্ণ চোখে তখন এনাবেল লীর জন্য অশ্রু, আপনি সেদিকে ফিরেও তাকালেন না! কবির কলমের টানে আঁকা মানবীর রূপে আমরা মোহিত হই, তার কষ্টে হৃদয় ভেঙ্গে চুরমার হয় সহজেই কিন্তু পার্শ্ববর্তিনীর প্রবাহমান অশ্রুবিন্দু যে চোখ এড়িয়ে যাবে এটিই জগতের রীতি বৈকি! ওপরতলায় বাথটাবের উত্তরে এক ঝুড়ি সী-শেলের পাশে সন্দেশ রয়েছে উলটে, নীলচে সাদা তোয়ালের কোলে কবেকার খুলে রাখা একখানি ক্রিমসন কালারের হাওয়াইন শার্ট, এমনকি কাপড়ের টুপিও আছে দেখি। সে যাক, বাথরুমে সবার অগোচরে হলেও ‘হাঁস ছিল সজারু’ পড়ে এখনো হাসির ভান করেন আপনি! আপনাকে কোনদিন হাসতে দেখিনি, মাষ্টারমশাই। কী যেন ভাবতেন সারাক্ষণ। লম্বাটে ঋজু শরীর আর ম্যাকাডেমিয়ার রঙে খানিক ধ্যানমগ্নতা আর খানিক অন্যমনস্কতার মিশেলে দূর থেকে আপনাকে অনেকটা যীশুর মত দেখাতো। ছোট চাচার সাথে বন্ধুত্বের ছুতোয় আমাদের বাড়ি এলেও আপনার সাথে আমার একটা যোগাযোগ হয়ে গেল মনেমনে। আমরা কেউ কাউকে কিছুই বলিনি কোনদিন কিন্তু আমি জানতাম আপনি আছেন। চাচা ফুপুদের ভর ভরাট সংসারের সকলের চোখ এড়িয়ে আমার হাতে ঠিকই পৌঁছে যেতো আপনার পকেটের ক্যাডবেরি, সুগন্ধি ইরেজার, ক্রিমওয়ালা পাইনআপেল কুকি, ছবি আঁকা রুলার অথবা রেডিয়েন্ট ওয়ের জ্যাক অ্যান্ড জিল। মা ছিলনা ঘরে আমাদের, একান্নবর্তী সংসারের হালটি বাবার কাঁধে, কতদিক তিনি সামলাবেন একাকী। রাতে দাদী এসে যদি দেখতে পেতেন মাথার নীচে তেলচিটে একখানা বালিশ আছে তবে বুঝতেন আমার যত্নের কমতি হচ্ছে না চাচীদের কাছে। ছোটবেলায় আমার একমাত্র বিলাসিতা ছিল কুসুম কুসুম গন্ধমাখা হলুদ রঙের পমেড। যখের ধনের মত আগলে রাখতাম সাড়ে চার আউন্সের পমেটমের কৌটোটি যদিও সেটি ফুরোলে ঠোঁট ফেটে রক্ত না বেরুনো অবধি নতুন পমেড আসে নাই ঘরে। আমাদের সদা হট্টগোলের বাড়ির লোকেদের অবশ্য এসব নিয়ে ভাববার অবকাশ ছিলনা। আমার একমাথা রুখুসুখু কোঁকড়ানো চুলে হাত বুলিয়ে একদিন আপনি বললেন, তুই কি আমার পাখি ছিলি নাকি আগের জন্মে? আপনার মত গুরুগম্ভীর মানুষের মুখে ফুল পাখি লতাপাতার মত অকিঞ্চিতকর বস্তুর উল্লেখে আমি যে খানিক বিহ্বল হয়ে পড়িনি এতোকাল পরে কি করে বলি! শৈশবে যারা মাকে হারায় আজীবন তারা আশ্রয়হীনতায় ভোগে মাষ্টারমশাই, তাই একটু মধুর কথা অথবা সামান্য হাসির মত তুচ্ছ খড়কুটোকেই তারা জীবনের পরম পাওয়া বলে ধরে নেয়! ফ্যামিলি রুমের এক কোণে হলদে একখানা পিকাচু অবহেলায় পড়ে রয়েছে ভারী কাউচের তলায়। বালুচরা একটি পাখি টিটি রব তুলে ঘরে ফিরছে একাকী। অথৈ এর আঁকা বালবুসর দিব্যি রাজত্ব করছে আপনার স্টাডির কোণে, ফাদারস ডে’র উপহার সবুজ নীলের ব্রেসলেটটি পাশেই আছে। আচ্ছা, বাবাকে ছেড়ে অথৈ কেমন আছে তার মায়ের কাছে? সেও কি আপনারই মত একা, মাষ্টারমশাই? আমার ফুপুরা সাজতে ভালবাসতেন। বিকেলে ইয়ার্ডলী রোজে গা মেজে চোখে সুরমা কাজল পরতেন তারা। গ্রীষ্মে গলায় মুখে পাউডার মেখে আমাকে বলতেন পিঠে প্রিকলি হিট পাউডার ঘসে লাগিয়ে দিতে। চাচী ফুপুদের তিব্বত স্নো পাউডার, ঠোঁটের পালিশ আমাকে টানে নাই কখনো। আমি ভালবাসতাম চোখে কাজল পরতে। একদিন বিকেলে আপনি আমার চোখের কাজল দেখে বললেন, কিরে ভূতুনী, তোর চোখে কালির দোয়াত লেপ্টে দিল কে? আমার কী যে অভিমান হলো আপনার কথা শুনে! একছুটে পালিয়ে মল্লিকাদের বাড়িতে চুপ করে বসে রইলাম। আপনি এঘর ওঘর আমাকে খুঁজে না পেয়ে যখন মল্লিকাদের বাড়ি এলেন তখন চোখের জলে নাকের জলে আমাকে সত্যিকারের ভূতুনীর মতই দেখাচ্ছে। অন্য সব মা মরা মেয়েদের মত কি করে যেন সেই ছোটবেলাতেই আমি বুঝে গিয়েছিলাম যে সংসারে আমার লোক দেখানো বাড়তি আদরের মানুষের অভাব নাই বটে কিন্তু সেই আদরের ভিত এতোটাই নড়বড়ে, এতোটাই ঠুনকো যে আমার জ্বরতপ্ত কপালে শীতল পরশ বুলাতে মরেনের মা ছাড়া কাউকেই খুঁজে পাওয়া যেত না। আজ এতোকাল পরে মনেহয়, মানুষ আর কতইবা চোখের কাজল মুছে দেবে বলুন, বিধাতাপুরুষ নিজেই যেখানে কাজলের কারবারী! নিচতলায় লাল উত্তরীয়খানি কোমড়ে জড়িয়ে দুই পায়ে মোটা ঘুঙুর বেঁধে জগাদা নাচ শেখাচ্ছেন অর্পিতাকে। শ্যামলাটে কালো শরীরে পাকানো গোঁফওয়ালা জগাদার মুখ পানের রসে টইটুম্বুর, তাঁর ডান হাতের তর্জনীতে সাদা চুন। পাতলা ফিনফিনে পাঞ্জাবীর হাতা কনুই অব্দি গুটানো, পরিচর্যার অভাবে অমসৃণ হাতের নখ। বাড়িতে সুলতান চাচা স্বদেশী বাজার থেকে বাবা জর্দা আর কাঁচা সুপারী এনে মজুদ করে রাখেন জগাদার জন্য। মুখভরা গান, গালভরা পান আর শরীর জুড়ে নাচ ছাড়া পঞ্চাশ উত্তীর্ণ জগাদার আর কিছু নেই জগতে। একদিন জগাদা বললেন, মা জননী, অরফি বেটি খুব ভাল নাচে। আপনেও তো ঘরেই থাকুইন, মাইয়াটার সাথে যদি আপনেও নাচতেন বড় ভাল দেখাইতোগো! বিষয়বুদ্ধিহীন ভোলাভালা জগাদা কে নিয়ে আড়ালে আবডালে লোকে হাসাহাসি করে আমি জানি। সংসারে থেকেও যে মানুষ সংসারবিবাগীর জীবন বেছে নেয় তাকে যে গৃহবাসী মানুষের কটুকাটব্য সইতে হবে এ আর নতুন কী! হেমন্তের নরম রোদ এসে পড়েছে আমাদের সাদা বাড়ির প্রশস্ত বারান্দায়। পাঁচ বছরের অর্পিতা জগাদার হাতে হাত ধরে কিছু না বুঝেই গাইছে, পাশরিব ভাবনা, পাশরিব যাতনা, রাখিবো প্রমোদে ভরি দিবানিশি মনপ্রাণ! বীণার তানে জনম জনম এই যে প্রমোদের সন্ধান করে মানুষ তা কি মেলে এক জন্মে? খিড়কির দরোজায় কলিং বেল বাজছে মাষ্টারমশাই, উনি এলেন বুঝি! আজ তবে যাই! লেখক: সাবিনা চৌধুরী (৮৩-৮৮)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৬০৭ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...