বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

গল্প : #গুন্ডি_মেয়ের_মিষ্টি_পাপ্পি !!!

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Md : Pantha Shahria(guest) (১৭৩৬ পয়েন্ট)



X গল্প : #গুন্ডি_মেয়ের_মিষ্টি_পাপ্পি !!! Writen by Pantha Shahria !!! - ওহহহহ আজ কালের রিক্সা ওয়ালা গুলার ও রাজার মতো চাহিদা। দুকলা ছাড়া একলা যাবে না ... এখন আমি আর এক জন কই পামু , সবাই তো দুকলা হয়ে ঘুরে আমার কপালে কিচ্ছু জুটল না । দূর আর যদি একটা "গফ" থাকতো তাইলে অন্তত এই রিক্সার চিন্তা করা লাগত না । কী আর করার হেঁটেই কলেজ এর দিকে রওনা দিলাম । হঠাৎ পিছন থেকে অনবরত বাইকের হর্ন এর শব্দ ... একে তো রিক্সা না পাওয়াই, এই রোদের মধ্যে হেঁটে যাচ্ছি তাঁর ওপরে আবার এমন কানের কাছে হর্ন এর শব্দ সহ্য হয় । পিছনে ঘুরতেই দেখি নিধি আপু তাঁর স্কুটি নিয়ে আমার পিছনে এমন হর্ন দিচ্ছে । বলার মতো অনেক কথা ছিল কিন্তুু তাঁকে দেখে সব হাওয়া । কারণ নামটার যত মিষ্টি তাঁর মধ্যে মিষ্টির কোন ছিটাফোঁটা নাই । পুরাই গুন্ডি টইপের একটা মেয়ে , খালি আমি কেন কলেজ এর বড় ভাইয়েরা ও তাঁর সাথে কথা বলতে ভয় । তাঁর মুখ যেমন চলে হাত পা তাঁর থেকে বেশি ছোটাছুটি করে । সবাই তো কাছে যেতেই ভয় পায় , আর এই মেয়ে খালি খালি আমার পিছনে ক্যান পড়ে থাকে আমি বুঝি না । - ওই রিয়া ...একা হেঁটে হেঁটে কই যাস । - মেজাজটা কেমন লাগে বলেন একবার , দেখতেই পাচ্ছে ঘাড়ে ব্যাগ আছে তাও জিজ্ঞেস করছে । কিন্তুু কী আর করার .. তাঁর মুখের উপরে তো আর বলার মতো সাহস আমার নাই । - আপু আমার নাম রিয়া না সাহরিয়া ... নামের লেজটা ধরে ঢাকেন ক্যান । - আমার ইচ্ছা হইছে তাই ... তোর কী এতে কোন প্রবলেম আছে । - না কোন প্রবলেম নাই , কিসের আবার প্রবলেম । - ওকে ... কই যাচ্ছিস । - কলেজে যাইতেছিলাম । - তো রিক্সা করে যাবি । - না মানে রিক্সা ওয়ালা দুকলা ছাড়া একলা নিবে না তাই । - ওহহহহহ আচ্ছা ...তা হলে আমার স্কুটিতে চর । - হি হি হি তোমার ওই বুলেটে চড়ার মতো ক্ষমতা আমার নেহি , এই উঠতে বলবা , আবার উঠতে গেলেই থাপ্পড় দিবা আমি জানি । - কী বললি ... ভালই ভালই উঠে পড় না হলে সত্যি সত্যি থাপড়ানি খাবি । - না মানে বলছিলাম কী তুমি একটা মেয়ে , আর আমি তোমার পিছনে চড়ে গেলে লোকে কী বলবে বলো । হঠাৎ স্কুটি থেকে নামতেছে ... - খবরদার যদি দৌড়ানি দিছিস তাহলে তোরে ওই লেকের পানিতে চুবামু । - কী আর করার মাত্র দৌড় দেয়ার প্লান নিছিলাম ... তাঁর আগেই এমন ওয়ারনিং... আমার বাপরে দেখে না আমি যতটা ভয় করি ... এই মেয়েরে দেখে আমি তাঁর চাইতে শত গুন বেশি করি । স্কুটি থেকে নেমে আমার শার্টের কলার ধরল । - লোকে কী বলবে তাই না , এবার দেখি কোন লোকে আজ তোরে বাঁচাই । - আচ্ছা আচ্ছা তোমার কথায় সই কী করব বলো । - আজকে আমার স্কুটি তে করে কলেজ এ যাবি বুঝলি । - না মানে তুমি চালাবা আর আমি পিছনে থাকবো এটা কেমন লাগে ... তাঁর থেকে আমি চালাই তুমি বসে থাকো । হায় হায় মুখের উপরে কথা বলছি । সরি ... না মানে মুখ ফসকে কথা গুলো বেরিয়ে গেছে । - আচ্ছা আচ্ছা ওকে তুই চালা আমি পিছনে বসছি ... আর ভুলে ও যদি জোরে ব্রেক মেরে গায়ে টাচ করিস ... তাহলে মেরে তোর নাক ফেটে দিমু । - কী মেয়েরে ভাই ... এইটুকু রাস্থার জন্য কতো ভয়ে ভয়ে চলতে হবে , কার কপালে যে এই গুন্ডি মেয়েটা আছে আল্লাহ্‌ জানে তাঁর কী অবস্থা হবে । - ওই বিড়বিড় করে কী বলছিস । - কই কিচ্ছু না তো ... । - হুমমমম ভদ্র পোলার মতো কলেজে যাবি । - আর কলেজে যাওয়া এমনিতেই সবাই যেমন হা করে তাকাই আছে (মনে মনে ) । - আপু কলেজে চলে আসছি । - আচ্ছা এবার নেমে সোজা ক্লাস এ যাবি ... যদি কোন মেয়ের সাথে ট্যাংকি মারতে দেখি না ... তোরে একদম খেয়ে ফেলমু । - ওলে বাবা ... আমি কী তোমারে ভয় পাই নাকি হি হি হি ... বলেই এক দৌড় আমারে এখন আর কে পায় । জীবনে আর নিধি আপুর সামনে পরমু না । আহা কী শান্তি লাগতেছে এখন ... এতক্ষন মনে হয় অক্সিজেন ছাড়া ছিলাম । শার্টের বোতাম খুলে দিয়ে ক্লাস এ যাচ্ছি । - হাই ... সাহরিয়া কেমন আছো (নীলা) । - হ্যালো ... নীলা এইতো ফাটাফাটি তুমি । - আমি ও ভালো ... আচ্ছা তুমি তো ওই নিধি আপুর ভয়ে আর আমাদের সাথে কথায় বলো না । - আরে দূর কে বলল আমি নিধি আপুকে দেখে ভয় করি ... উল্টাে সে আমাকে দেখে ভয় করে বুঝলা । - আচ্ছা আমি গেলাম আমার ক্লাস আছে কেমন ... পরে ওই পুকুর পারে আসবা কেমন । - আরে আমি আসব না তো কে আসবে হা হা হা । উল্টো ঘুরতেই ঠাসসসসসস করে একটা চটকানি খেলাম । - ওহহহহহহহ ... আচ্ছা আপু মারলা ক্যান আর এত্তজোরে কেউ মারে । - তোরে না কোন মেয়ের সাথে কথা বলতে বারণ করছি । - আরে আমি তো কিচ্ছু বলি নাই আমার কাছে নোট চাচ্ছিল । - বাহ ... দুনিয়াই ভালো ছাত্র এর অভাব পড়ছে তো তাই তোর কাছে নোট চাইবে । - হুমমমমম । - ওই হারামি হুমমমম কী হুমমমম ... আমি তোরে দেখে ভয় পাইছি কোনদিন শুনি । বানাই বানাই মিথ্যা কথা বলা তোর ছুটাইতেছি ... আর আহা দরদ কত ক্লাস শেষে পুকুর পারে এসো ... ভুলে ও যদি ওই দিকে যাস তা হইলে তো দুই পা ভেঙ্গে ফেলে দিমু ... এবার ক্লাস এ যা । - বাচ্চা পোলা গো মতো মাথা নাড়াই চলে আসলাম । আমি জানি না আমার সাথেই ক্যান এমন করে । আরো তো অনেক পোলা আছে তাঁদের তো শাষণ করে না । আরে নিধি আপু দেখতে ও কিন্তুু হেব্বি দেখলেই সব পোলার বুকের ধুকধুকানি বেড়ে যাবে হি হি হি । কিন্তুু যে গুন্ডি মেয়েরে বাবা ভালোবাসি তো আমি জীবনে ও বলতে পারমু না । ভবতেছি কী করা যায় , একটা সুযোগ পেলেই কাজে লাগামু । মাত্র ক্লাস থেকে বেড় হতেই দেখলাম নিধি আমি তাঁর এর ক্লাসমেট রিয়াদ ভাইয়ের সাথে কথা বলছে । মনে মনে ভাবছি এটাই সুযোগ , নিধি আপু কে ওনার সাথে কথা বলতে এমন ভাব করলাম যে আমি রেগে গেছি । একবার তাকাই রাগ করে চলে আসার মতো করে চলে আসলাম । মনে হয় কাজ হইছে ... আমাকে কয়েকবার পিছন থেকে সাহরিয়া সাহরিয়া বলতে ডাকতেছে । কিন্তুু কে শুনে কার কথা , এক দৌড় দিয়ে একটা ঝোপের আড়ালে লুকাই পড়লাম । দেখলাম আমাকে কেমন পাগল এর মতো করে খুজতেছে । হি হি হি এবার বুঝবা মনু ... কেমন লাগে । ফোন অফ ফেসবুক অফ সব একে বারে বন্ধ । সাত দিন আরামছে কেটে দিলাম ... না এখন কলেজে যাওয়া দরকার । কলেজে যেতেই সবাই হা করে আছে মনে হয় আমি একজন খুনি কাউকে খুন করে আবার সাত দিন পরে ফিরে আসছি । - সাহরিয়া তুই এতদিন কইছিলি (সজিব) । - সেই কথা আর কইস নারে ভাই এক ঘুমে সাতদিন কাবার । - হারামি ফাজলামি বন্ধ কর ... নিধি আপু তোরে কেমন পাগল এর মতো খুঁজেছে জানিস । - দূর হেতের কথা বাদদে থাপরানি দেওয়ার আর কোন মানুষ পায় নাই তাই । চারিদিকে উকি ঝুকি মাড়লাম না নিধি আপু নাই ...তার মানে আরামছে নীলার সাথে গল্প করা হবে । আহহহহহহা কী মজা । নীলার কাছে যেতেই । - সাহরিয়া কই ছিলা তুমি ... নিধি আপু তোমাকে সত্যি অনেক ভালো বাসে তোমার জন্য প্রতিদিন ওই পুকুর পারে বসে থাকে । - নীলার কথা শুনে আর দেরি করলাম না এক দৌড়ে পুকুর পারে চলে গেলাম । দেখলাম একটা পরী সেখানে শাড়ি পরে বসে আছে । - কাছে যেতেই দেখলাম চোখের নিচে কালি পরে গেছে... মনে হয় অনেক কেঁদেছে আর রাতে ঘুমাই নাই । মাত্র একটু রোমান্টিক ভাবে কাছে যাচ্ছি ... ওমনি দুই গালে ২+২+৪ টা থাপ্পড় এমনিতেই আমার চোখ দিয়ে পানি বাড়াই গেছে । কিসের মধ্যে কী হয়ে গেলো । - এখানে কেন আসছিস হুমমমম যা না যা কয়দিন পরে তো এমনি মরে যেতাম । - ওহহহহহ খালি আমার বেলা সব দোষ তুমি অন্য পোলাদের সাথে কথা বলো তাঁর বেলা কিচ্ছু না তাই না । আমার যখন সব দোষ তাহলে আমি চলে যাচ্ছি । আসলে কষ্টে কাঁদছি নারে ভাই ওই গুন্ডি মেয়েটার হাতে হেব্বি জোর গাল দুইটা লাল হয়ে গেছে । চলে আসতেছি ...। - এমন সময় পিছন থেকে হাত টেনে ধরল ... ওই কই যাস । - এক্কেে বারে চলে যাবো ... তুমি ওই পোলার সাথে কথা বলো যাও । - আচ্ছা বাবা সরি ... আমি রেগে গেছিলাম তোকে ... না মানে তোমাকে কতো পাগলের মতো খুঁজছি জানো । - হুমমমমম ... দুই গালে হাত দিয়ে আছি । - আচ্ছা অনেক জোরে লাগছে তাই না । - না না লাগবে ক্যান একটু ও লাগে নাই । - হি হি হি বোকা ... আসো যতো গুলো মারছি তাঁর চাইতে বেশি পাপ্পি দিচ্ছি ।। ওহহহহহহহহ কী যে কমু ভাই মনে হয় .................. হারাই গেছি । - ওই আর অন্য মেয়ের সাথে কথা বলবা না । - হুমমমমম তুমি ও আর কোন পোলার সাথে কথা বলবা না কিন্তুু । - ওকে ...। - আচ্ছা মেয়েদের সাথে কথা বলব না কিন্তুু একটু একটু মাইয়াদের সাথে কথা বলব কেমন । - কী বললি শয়তান ... দাঁড়া একবার ... - আমারে আর কে ধরে যতো গুলো পাওয়ার ফুল পাপ্পি খাইছি ... হি হি হি ...। >>The End


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ১৭৬৪ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...