বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

গল্পঃ গুন্ডি ও ধার্মিক বউ

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Niyan Ahmed (০ পয়েন্ট)



X বাসা থেকে বিয়ের জন্যে চাপ দিচ্ছে। কিন্তু এখন আমার বিয়ে করার কোনো ইচ্ছে নেয়। কারণ সবে মাত্র লেখাপড়া শেষ করে একটা চাকুরী শুরু করেছি। তাতেই মা বিয়ের জন্যে অনেক চাপ দিচ্ছে। কি যে করি, মাকে অনেক বার বলেছি যে এখন বিয়ে করব না। কিন্তু কে কার কথা শুনে। একদিন আমার ছোট ভাই ফোন দিয়ে বললো যে মা নাকি খুব অসুস্থ। তাই অফিস থেকে কয়েক দিনের ছুটি নিয়ে বাসায় চলে আসলাম। উফফ সরি, আমার পরিচয় দিতেই ভুলে গেছি। আমি সামিউল ইসলাম।সবে মাত্র লেখাপড়া শেষ করে একটা প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকুরী করছি। . বাসায় এসে দেখি মা ভাই সবাই মিলে মজা করছে। কারো কোনো সমস্যা হয়নি। কেউ অসুস্থ না। আমায় দেখে ওদের মুখে যেনো হাসি ধরছে না। : মা এগুলি কি? আবার ফাজলামি করলা আমার সাথে..(সামিউল) = কেনো করি বুঝিস না। তোকে কতবার বলেছি তুই শুনছিস না কেনো?? (মা) : মা না,,, এখন করব না। তোমায় আগেই বলেছি। = কেনো করবি,, আমি মরার আগে নাতি নাতনীর মুখ দেখে মরতে চাই। হয়ত তোর জন্যে সে আশাও পূরণ হবে না। : কি আজে বাজে কথা বলছ মা। চুপ কর তো। = কেনো ভুল কি বলছি,, তোর বাবা তো অনেক আগেই চলে গেছে। এখন শুধু আমার যাওয়া বাকি আছে। : মা এবার থামো তো। কতদূর থেকো এলাম। এভাবেই থাকবো নাকি। কিছু খেতে দিবে না, অনেক ক্ষুধা লেগেছে। = আচ্ছা, যা। ফ্রেস হয়ে আয়, আমি খাবার দিচ্ছি। খাওয়া দাওয়া সেরে রাত্রি বেলা রুমে বসে ভাবছি, মা আমার সাথেই এমন ফাজলামি করে। কি যে করি। মা বলে আমি নাকি তার দুঃখ বুঝি না। তাই এবার বিয়ে টা করেই ফেলি। এতেই যদি মা খুশি হয়। . আমি মায়ের রুমে গেলাম। দেখি আমার মা, ফুফাতো ভাই ভাবী সবাই মিলে কি যেনো গল্প করছে। আমি রুমে ঢুকতেই সবাই চুপ হয়ে গেলো। এখন মায়ের সাথে কথা বলতে যাবো, এমন সময় ভাবি বলে উঠে,,, ; দেবর সাহেব,, কি খবর? আমরা তোমার জন্যে একটা মেয়ে দেখেছি। চল কালকেই গিয়ে দেখে ডেট ফাইনাল করে ফেলি। : (আমি তো পুরাই আবুল হয়ে গেলাম।) বাহ্ মেয়েও দেখেছ। আগে বলনি তো?? = আগে বললে তুই কি আসতি? (মা) : তোমাদের যা খুশি কর। আর আমার মেয়ে দেখা লাগবে না। তোমরা পছন্দ করছো তাতেই হবে। বিয়ের ডেট ফাইনাল করে ফেলো। সবাই আলহামদুলিল্লাহ বলে উঠলো। সবচেয়ে বেশি খুশি মনে হলো আমার মাকে। যাক এবা তার মনের আশা পূরণ হবে। আমার ভাবি আমাকে একটু সাইটে নিয়ে আসলেন। : কি হয়েছে ভাবী??? = কি দেবর সাহেব,, হঠাৎ করে বিয়ের জন্যে রাজি হয়ে গেলে যে। তাও আবার মেয়েকে না দেখেই। : তো আর কি করব। আর আমার ছুটি বেশি দিন নহে। যা করার তাড়াতাড়ি করুন। = আচ্ছা, দেবর সাহের।একটু তো ধৈর্য ধরো,, ‘‘সবুরে নেওয়া ফলে ''। : আচ্ছা ভাবী,,,,,,,,,, = কি বলে ফেলো?? : মেয়েটার নাম কি??? = ওরে বাবা, হবু বউয়ের নাম শুনার জন্যে মন কেমন কেমন করছে রে। ওর নাম সানজিদা। ওবার অনার্স ৩য় বর্ষে পড়াশুনা করে। আর সবচেয়ে ভালো বিষয় ও খুব ধার্মিক। বলেই হাসতো হাসতে চলে গেলেন। কি আর করব চুপচাপ হয়ে হি করে দাড়িয়ে থাকলো। . আজ আমার বিয়ে হচ্ছে। কেনো জানি না কেমন কেমন লাগছে, এবারে অসহ্য। বিয়ের আনুষ্ঠানিক কার্যকম শেষ হয়ে গেলো। তবুও যার সাথে আমার বিয়ে হয়ে গেলো, সে কেমন এখন পর্যন্ত তার চেহারা দেখতে পেলাম না। কাউকে বলেও সাহস পেলাম না। যে আমার বউ টা দেখতে কেমন। যায় হক, বিয়ের কার্যকম শেষ করে বউ নিয়ে বাসায় আসলাম। তো আজ আমাদের বাসর রাত। ভাবি মিট মিট করে হাসছে, আর বলছে ‘‘বিড়াল মারতে ভুলো না যেনো’’। এটা বলেই আমার রুমে জোর করে পাঠিয়ে দিলেন। আজ নিজের রুমকে চিনতে পারছি না। বেশ সুন্দর করে রুম টাকে সাজিয়েছে। খাটের উপর লম্বা ঘুমটা টেনে একজন বসে আছে। মনে মনে আবিষ্কার করলাম, এটাই আমার বউ। একটু কেশে নিলাম। তাই দেখে আমার কাছে এসে পা ছুয়ে সালাম করলো। : বেঁচে থাকো মা (সামিউল) = কি বললেন? (ঘুমটা টা নামিয়ে দিয়ে) সুবহানআল্লাহ,, কি অপরুপ সৌন্দর্যময় চেহারা। মনে হচ্ছে লাল পরি যেনো আমার ঘরে এসেছে। : এই যে আপনি কি লাল পরী? = কি বলছ এসব, আমি তোমা বউ। আর একবার আপনি করে বললে হাত পা ভেঙে ফেলবো কিন্তু। : (ওরে বাবা, এটাই কি ধার্মিক বউ, যে বাসর রাতে পুরুষ নির্যাতন করছে রে) = এই চুপ কেনো???? একাই একাই কি বিড় বিড় করছ : না, কিছুই তো না। = ভাবীর থেকে শুনছি আমায় না দেখেই বিয়ের জন্যে রাজি হয়েছেন, কেনো?? : আমি মার কথায় রাজি হয়েছি। তাই তার পছন্দই আমার পছন্দ। = আচ্ছা, আমার চেহারা যদি খারাপ হতো, তখন কি করতে??? : তবুও মেনে নিতাম। = মায়ের বাধ্য ছেলে। আজকের পর থেকে আমাদের নতুন জীবন শুরু হতে যাচ্ছে। তাই সেটা শুরু করার আগে আমার কিছু শর্ত আছে। : (বাসায় আসতে না আসতেই অধিকার প্রতিষ্ঠা করা শেষ) কি শর্ত??? = বেশি রাত করে বাড়ি ফেরা যাবো না।। নিয়মিত নামাজ পড়তে হবে,, এক ওয়াক্ত নামাজ না পড়লো তোমার খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দিবো। আর রোজ আমি সকাল বেলা তোমার অফিস যাওয়ার সময় একটা করে গিফট দিবো,, তুমি অফিস থেকে আসার পথে আমার জন্যে গিফট আনতে হবে। গিফট না পেলে তোমার বাসায় উঠা বন্ধ। : আর কিছু??? = ভুলেও অন্য কোনো মেয়ের দিকে তাকাবা না। যদি তাকাও তা হলে চোখ তুলে নিবো। বুঝলে... : হুম বুঝেছি। আর শর্ত গুলা পালন করতে না পারলে তখন কি হবে??? = খুন করে ফেলবো তোমায় । : ওরে বাবা, কি সাঙ্ঘাতিক কাণ্ড নিজের স্বামীকে খুন করতে চাই। = হুম, এবার আই লাভ ইউ বলো.... : কেনো,??? = আমি বলতে বলছি, তাই বলবা..... আর আমি যখনি তোমার কাছে ফোন দেয় না কেনো,, একবার হলেও শুনতে চাই। ওকে.... : ওকে,,, (জীবনে প্রথম কারো বাসর করে বউ স্বামীকে এমন ভাবে নির্যাতন করছে, ) আই লাভ ইউ। = (আমাকে জরিয়ে ধরে) আই লাভ ইউ টু। এবার চল দুজন মিলে নতুন জীব শুরু করছি,তাই দুই রাকাত নফল আদায় করি। এর পর বউয়ের কথা মতো ফ্রেস হয়ে এসে নামাজ পড়ে আমাদের নতুন জীবন শুরু করলাম। জীবনে যেমন মেয়ে চেয়েছি, তেমনি পেয়েছি। যাক অবশেষে বিয়ে টা হয়ে গেছে। দোআ করবেন যেনো, সুন্দর ভাবে সাংসারিক জীবন পরিচালিত করতে পারি।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২৫২৫ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...