বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

এটাই কি কাম্য ছিল?

"স্মৃতির পাতা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Arpon Opu (০ পয়েন্ট)



X ১. ক্লাস শেষ হতেই আমরা সবাই হুড়মুড়িয়ে রুম থেকে বের হয়ে আসলাম। এসেই আমি দ্বীপের ঘাড়টা মট করে ধরে বললাম, "দোস্ত,কিছু খাওয়া।" দ্বীপ মুখটা হাসি হাসি করে আমার দিকে তাকিয়ে বলল, "দোস্ত,তোমারে খাওয়ামু নাতো কারে খাওয়ামু!" আমি তো 'থ'।কি ব্যাপার! দ্বীপরে আগে বললে সে পালিয়ে যেত।আজ অন্য গান ক্যান? তখন আমি তারে জিজ্ঞেস করলাম,"দোস্ত,ব্যাপার কি?কোন হেল্প লাগবে?" দ্বীপ তখন বত্রিশ পাটি দাঁত বের করে বলল,"দোস্ত,তোমার পাশের বাসায় যে মেয়েটা থাকে তার কাছে এগুলা পৌছাইয়া দাও" বলেই দ্বীপ আমার হাতে একটা খাম ধরিয়ে দিল। "এইটায় কি আছে?" "প্রেমপত্র" তখন আমি আমার বিশ্ব বিখ্যাত ব্যাক্কল হাসি দিয়ে বললাম,"সে তো আমারে ভালোবাসে।" দ্বীপ আমার দিকে তাকিয়ে বলল,"দোস্ত,তুমি কত বড় হারামি আমি জানি।" তার কথা শুনে আমি যেন মিইয়ে গেলাম।তখন আমার মাথায় আসল একটা চমৎকার প্লান। আমি তখন তাকে বললাম,"আমি যদি লাইন লাগিয়ে দেই তাইলে আমারে কি খাওয়াবি?" দ্বীপ তখন তার ক্যাবলা মার্কা হাসি দিয়ে বলল,"তুই যা চাস।" "এখন তুই আমারে বিরিয়ানি খাওয়া নাইলে তোর পার্সেল হোম ডেলিভারি হইব না" সেদিন আমি অনেক কষ্টে দ্বীপের কাছ থেকে বিরিয়ানি আদায় করি। পরের দিন সকালে আমি সোমাকে ম্যানেজ করে তার হাতে দ্বীপের পার্সেল পৌছে দেই।পৌছে দিয়ে দ্বীপকে একটা ফোন দেই যাতে ওর সাথে সোমার দৃষ্টি বিনিময় হয়ে যায়। যথাসময়ে দ্বীপ এসে উপস্থিত। এসেই সে সোমাকে প্রশ্ন করল,"তুমি নাকি রাতুলকে প্রেমপত্র লিখ?" তখন আমি কোনো রকম নিজেকে রক্ষা করে পালিয়ে বাঁচলাম। একটু আগেই স্কুলে আসলাম।এসেই চোখ গেল দ্বীপের দিকে। সে কেমন যেন মনমরা হয়ে বসে আছে। আমি গিয়েই ওর পিঠে দমাদম কিল বসালাম।ও ঘুরে তাকানোর আগেই দু-চারটা পড়ে গেছে! তখন দ্বীপ আমার দিকে তাকিয়ে হাসি মুখে বলল,"দোস্ত,শুভ সকাল!" আমার মাথার টেম্পারেচার তখন হাই।আমি কোনোক্রমে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে বললাম,"তোর শুভ সকালের খেতা পুড়ি!শালা মীরজাফর! " তখন সে আমাকে বলল,"দোস্ত সিরাজ-ঊদ-দৌলা,তোমারে আমি মারাত্মক ভয় পাই।তাই,তোমারে আমি বোল্ড কইরা দিছি।হে হে!" ২. আমি এখন নিউইয়র্কে বাস করি, পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন শেষ।দেশে ফিরবো আগামিকাল।আপাতত স্মিথ নাইন স্ট্রিটে অপেক্ষায় আছি ট্রেনের।পৃথিবীর দীর্ঘতম হাইওয়ে সাবস্টেশনে তখন বৃষ্টি হচ্ছে।আমি তাড়াহুড়ো করে 'ডি' ট্রেনে উঠে বসি।প্রায় পাঁচ বছর পর দেশে ফিরছি। দু'দিন হলো দেশে ফিরলাম।হঠাৎ,একদিন আমাদের বাসায় বেড়াতে এলো সোমা।তার কোলে দুটো যমজ শিশু। আমি তখন তাকে জিজ্ঞেস করলাম,"কেমন আছো,সোমা?" সোমা মাথাটা আস্তে নাড়িয়ে বলল, সে ভালো আছে। তখন আমার মনে পড়ল দ্বীপের কথা।আজ প্রায় চার বছর হলো সে নেই। তার কথা মনে পড়তেই হঠাৎ মনে পড়ল একটা ঘটনার কথা।আমি যেদিন দেশ ত্যাগ করে নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে রওনা দেব, সেদিন সে এয়ারপোর্টের লাউঞ্জে ঢুকে আমাকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কান্না-কাটি শুরু করে।আমি ওকে বলি, "দোস্ত কান্না থামা। তবুও সে কাঁদে। কিন্তু.......আজ ও নেই। ওর দোষ ছিল যে,সে হরতালের সময় ঘর থেকে বের হয়েছিল। সেদিন ওর গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।কেউ এগিয়ে আসে নি ওকে বাঁচাতে।সবাই শুধু চারপাশে ওকে ঘিরে দাড়িয়েছিল। তখন,প্রশাসন দ্বীপের পরিবারকে ত্রিশ হাজার টাকা দিয়েছিল। আচ্ছা,একটা প্রাণের মূল্য কি এতই কম? নাকি,দ্বীপের প্রাণের কোনো মূল্য নেই? আমি নিউইয়র্কে থাকতেই ওর মৃত্যু সংবাদ শুনি। এসব খবর আমি শুনি আম্মুর মুখ থেকে। সেদিন কি বার ছিল তা মনে নেই।শুধু চারদিকে বৃষ্টি পড়ছিল তা মনে আছে। আমি সেদিন একটুও কাঁদতে পারি নি।কেন পারিনি তা জানি না। বুকটা কেমন যেনো ভারি মনে হয়েছিল।হয়তো বুকের ভিতর প্রচুর কষ্ট জমা হয়েছিল!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৪০৩ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...