বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আপেল

"রহস্য" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Arpon Opu (০ পয়েন্ট)



X অমর বাবুর শরীরটা কয়েক দিন যাবত ভালো যাচ্ছে না।ডাক্তার দেখিয়ে এ বিষয়ে তিনি যা জানতে পেরেছেন তা মোটামুটি ভয়াবহ।ওনার কিডনীতে সমস্যা দেখা দিয়েছে।এটা হওয়ারই কথা বৈকি।কারণ কয়েকদিন যাবত ওনার শরীরে চুলকানি হচ্ছে,চোখে ঝাপসা দেখছেন,মূত্রের রং পরিবর্তন হয়ে গেছে।তাই ডাক্তার ওনাকে ঔষধের পাশাপাশি স্বাভাবিক খাবার চালিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।এ নিয়ে ওনার পরিবারে তুমুল ঝগড়া। ওনার দু'মেয়ে নাতাশা-বিপাশা হুলুস্থুল কান্ড শুরু করে দিয়েছে। বাবা এটা খাবে না ওটা খাবে না এ কথা সে কথা বলে ওনার মাথায় ঝট পাকিয়ে দিয়েছেন। তিনি মুখে ওদের ধমক দিলেও মনে বলছেন অন্য কথা। যেহেতু ওনার কিডনীতে সমস্যা তাই ঘরে এক প্রকার অবরোধ। তেল-ঝোল একে বারে নিষিদ্ধ। তাই ওনার ছোট মেয়ে নাতাশা প্লেটে করে কয়েক টুকরো আপেল নিয়ে এসেছে। "এই নাও বাবা,এগুলো খাও।" "এগুলো কেন?"-চোখ মুখ কুচঁকে প্রশ্ন করলেন তিনি। "বাবা,ইংরেজিতে একটা প্রবাদ আছে 'An apple a day keeps the doctor away' অর্থাৎ, নিয়মিত আপেল খেলে চিকিৎসকের প্রয়োজন হয় না।এছাড়া,এটি তোমার কিডনীর জন্য খুবই উপকারী"-জোর দিয়ে বলল নাতাশা। "জ্ঞান দিচ্ছিস?" " না বাবা,ভারতীয় ওয়েবসাইট এনডিটিভিতে প্রকাশিত হয়েছে এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন"-এতটুকু বলে চলে গেল সে। আপেলে কামড় দিয়ে আনমনে একটি বিষয় নিয়ে ভাবছিলেন তিনি। স্ত্রীর ডাকে হুশ ফিরল ওনার। "কি ভাবছ? " "কিছু না" "ভাত খেতে আসো। " যখন তিনি ভাত খেতে যাওয়ার জন্য দাড়ালেন তখন ওনার মনে হলো যেন চারপাশ ঘুরছে।আর এর পরই উনি ধপাস করে মেঝেতে পড়ে গেলেন। ওনার স্ত্রীর চিৎকারে নাতাশা-বিপাশা সহ পাশের ঘরেরর গনি চাচা, মাহতাব অ্যাঙ্কেল,সুব্রত দা সহ অনেকে ছুটে এলেন। ওনাকে কোনো মতে ধরে বিছানায় নিয়ে যাওয়া হলো।এর পাঁচ মিনিট পরই উনি পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেন। ঘরটা যেন স্তব্ধ হয়ে গেছে।কেউ কোনো কথা বলছে না।সবাই যেন কথা বলতে ভুলে গেছে। হঠাৎ,একটা রিনরিনে কন্ঠের তরুণীর কন্ঠ শুনে সবাই ওর দিকে তাকাল। "আমার মনে হচ্ছে না এটা স্বাভাবিক মৃত্যু" "কেন?"-সবাই একসাথে বলে উঠল "আমি এটা বলতে পারব না।তবে এটা মনে হচ্ছে" ....................... প্রায় পাঁচ মিনিট কথা কাটাকাটি শেষে শখের গোয়েন্দা "বল্টু" সাহেবকে ফোন দেয়া হল। বল্টু সাহেবকে বলা হল যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বাসায় আসতে।ঠিকানাও দেয়া হল। উনি যখন জিজ্ঞেস করলেন কল দাতার নাম তখন উত্তর এলো মিঠু। "আজ্ঞে,আপনি তরুণ না-তরুণী?"-নেকু নেকু গলায় বললেন বল্টু সাহেব। "ফাজলেমি করেন, কন্ঠ শুনে বলতে পারেন না পুরুষ না মহিলা"-খেকিয়ে বলল মিঠু। ................... আধা ঘন্টা হলো তিনি সেই বাসায় এসে পৌছেছেন।এসেই কালক্ষেপণ না করে সবার কাছ টুকটাক তথ্য নোট করে নিয়েছেন।অনেকে চমকানোর মত তথ্যও দিয়েছে।এখন তিনি খুটিয়ে খুটিয়ে ঘর দোর দেখছেন।কোনো ত্রুটিই ওনার চোখ এড়াচ্ছে না। .......................... পরিবারের সদস্যদের মতামত নিয়ে মরদেহ ক্লিনিকে আনতে দেরী হয়ে গেছে।প্রায় এক ঘন্টা লেগেছে এ কাজ সারতে। ক্লিনিকে এসেই অনীশকে দিয়ে পোস্টমর্টেম করাচ্ছেন। আর খুটিনাটি জিজ্ঞেস করছেন। ...................... পোস্টমর্টেম শেষ হতেই দুপুর হয়ে গেল।আর যা জানলেন তা শুনে চক্ষু চড়ক গাছ হয়ে যাওয়ার কথা। সঙ্গে সঙ্গে তিনি অনীশকে বললেন ডেথ সার্টফিকেট রেডি করতে। ডেথ সার্টিফিকেট রেডি হওয়া মাত্রই তিনি অাম্বুলেন্স নিয়ে রাস্তায় বেড়িয়ে পড়লেন। ................................. এক ঘন্টা লাগল বাসায় পৌছাতে।জ্যামে পড়ে এত সময় নষ্ট হয়েছে ওনার। "কি বুঝলেন গোয়েন্দা সাহেব"- বললেন গনি চাচা। "অমর বাবুর খুনি হল নাতাশা"-কথাটি বলার সাথে সাথে ঘর যেন স্তব্ধ হয়ে গেল। " এ কথাটি বলার পেছনে আমার কয়েকটি যুক্তি রয়েছে।আমি জেনেছি যে, অমর বাবু তার সব সম্পত্তি ওনার বড় মেয়ে বিপাশাকে দিয়ে দিচ্ছেন। এজন্য আপনি ওনাকে "সায়ানোজেনিক গ্লাইকোসাইড"নামক বিষ দিয়ে হত্যা করেছেন" " আমি এ বিষ কোথায় পাব?"-চিৎকার করে বলল নাতাশা। "আপনি বায়োলজির স্টুডেন্ট।আপনি জানেন কোনটি কি।তাই আপনি আপনার বাবাকে আপেলের টুকরোর ভিতরে খুব চতুরতার সাথে অনেকগুলো আপেলের বিচি ঢুকিয়ে রেখে ছিলেন"-দম নেওয়ার জন্য থামলেন বল্টু। "আমি যখন আপনার ঘর খুটিয়ে খুটিয়ে লক্ষ করছিলাম তখন আমার চোখে পড়ে আপেলের প্লেটে।আর আপেলে হালকা চাপ দিতেই সেটি দু ভাগ হয়ে যায়।আর ভেতরে দেখতে পাই কয়েকটি বিচি।সাধারণত একটি বিচি খেলে কিছু হয় না।কিন্তু,একের অধিক খেলে যে কেউ মারাও যেতে পারে। অমর সাহেব হয়তো চার থেকে পাঁচটি খেয়েছিলেন। "-এত টুকু বলে থেমে গেলেন তিনি। "এখন দেখেন কি করবেন।আমি আসি"-কাউকে কথা বলার সুযোগ না দিয়ে তিনি ঘর থেকে তৎক্ষনাৎ বের হয়ে এলেন। এখানে থাকতে ওনার আর ইচ্ছে হচ্ছে না। গা গুলাচ্ছে।বৃষ্টিতে ভিজতে ইচ্ছে করছে।ইস,অনেক দিন হলো বৃষ্টিতে ভেজা হয় না।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৬০৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ আপেল কাহিনী
→ একটি বালক ও একটি আপেল গাছ
→ একটি আপেল গাছ ও একটি বালক
→ সোলায়মানি আপেল (পর্ব-৪)
→ সোলায়মানি আপেল (পর্ব-৩)
→ সোলায়মানি আপেল (পর্ব-২)
→ সোলায়মানি আপেল (পর্ব-১)
→ সোলায়মানি আপেল (পর্ব-৪)
→ সোলায়মানি আপেল (পর্ব-৩)
→ সোলায়মানি আপেল (পর্ব-২)
→ সোলায়মানি আপেল (পর্ব-১)
→ একটি বড় আপেল গাছ
→ ঘুসির বিনিময়ে আপেল
→ আপেল গাছ ও এক বালক

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...