বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

শাস্তি পর্ব (৪)

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Md mainul islam (sagor) (০ পয়েন্ট)



X দোলা চুল আঁচড়াচ্ছিল তখনই আকাশ রুমে ঢুকল।বাইরে সব নিরবই দেখে এসেছে।মাও কিছু বলেননি তার মানে দোলা কোন ঝামেলা পাকায়নি।এই ভেবে একটু ভাল লাগছিল।দোলার দিকে একটা ব্যাগ এগিয়ে দিয়ে বলল, -এই নিন আপনার সব জিনিসপত্র। দোলা ব্যাগ খুলে দেখে সব ঠিকঠাকই আছে।সে একটু খুশি হল।তারপর আকাশকে বলল, -ধন্যবাদ।একটা কথা বলার ছিল আপনাকে। -হুম বলুন -আপনাদের বাড়ির কাজের মেয়েটা কোন কাজকর্ম পারেনা।একে বাদ দিয়ে নতুন কাওকে রাখুন। এবার আকাশ একটু চিন্তিত হল।কি কান্ড করেছে কে জানে। -কেন কি হয়েছে আবার? -এক কাপ চা বানাতে বলেছিলাম ঠিকমত বানাতে পারেনি।মেজাজ খারাপ হয়ে গিয়েছিল একদম -তারপর? -পরে কাপটা ঢিল মেরে ভেঙ্গে ফেলেছি। -মানে?মা আর রূম্পা কোথায় ছিল? -ওখানেই ছিল।মাও ফাহিমাকে বকেছেন চা বানাতে পারেনি বলে। আকাশের রাগ উঠছিল খুব।এমনিতেই অনেক ক্লান্ত আবার বাসায় এসে এসব কাহিনী শুনতে হচ্ছে। -আপনার কি মাথাটা গেছে?নতুন বউ আপনি আর এসেই এসব শুরু করেছেন?এক কাপ চাও কি বানাতে শেখায় নি আপনার বাসায়?ফাহিমারটা ভাল না লাগলে নিজেই বানিয়ে খেতেন। মা কতটা কস্ট পেয়েছে তা সম্পর্কে আপনার কোন ধারনা আছে ? -মা মোটেও কস্ট পাননি।আপনি শুধু শুধু ভাবছেন।দরকার হলে মাকে জিগ্যেস করুন গিয়ে। আকাশ বুঝল এই মেয়ের সাথে কথা বলে লাভ নেই।মায়ের সাথে খোলাখুলিই কথা বলতে হবে।ও ব্যাগ থেকে কিছু ফর্ম বের করে দোলার দিকে এগিয়ে দিল, -এগুলো ঠিকঠাকভাবে পূরণ করে কাল আমাকে দেবেন।খেয়াল রাখবেন ফর্ম যেন নস্ট না হয়। -কিসের ফর্ম এগুলো? -কিছু প্রাইভেট ভার্সিটির ভর্তি ফর্ম।এ মাসের শেষের দিকেই ভর্তি পরীক্ষা একটা গাইড বের করে এগিয়ে দিয়ে বলল। -পড়াশুনা শুরু করুন এখন থেকেই দোলা বাকরুদ্ধ হয়ে গেল।কি বলবে বুঝতে পারছে না।আকাশ গাইড বইটা বিছানায় রেখে ফ্রেশ হতে চলে গেল। দোলা ফর্মগুলো হাতে নিয়ে ভাবছে একসময় বাবা মায়ের স্বপ্ন পূরণের তীব্র ইচ্ছা ছিল মনের মাঝে। এস এস সি,এইচ এস সি দুটোতেই গোল্ডেন পেয়েছিল।ডি ইউ তে ফার্মেসি পেয়েছিল।তারপর শুভর ঘটনাটা তাকে পুরোপুরি নাড়িয়ে দিল ।ভর্তি হয়নি আর। ব্যাগ গুছিয়ে বাড়িতে ফিরে গিয়েছিল।বাবা মা অনেক বুঝিয়েছে কিন্তু কঠোর হতে পারেননি মেয়ের অবস্থা দেখে।দোলা বলেছিল, -আমাকে বোঝা মনে হলে বলে দাও আমি বাড়ি ছেড়ে চলে যাব।কিন্তু পড়াশুনা হবে না আমার দ্বারা। সেই থেকে বাসায়ই বসে ছিল। ১বছর এভাবে কাটানোর পর বুঝতে পেরেছিল যে সে ভুল করেছে।কিন্তু সেই ভুল শুধরানোর ক্ষমতা তখন তার ছিল না।একটা প্রাইভেট ভার্সিটির খরচ \বাবা মায়ের পক্ষে বহন করা সম্ভব ছিল না।আজ সুযোগ এসেছে।কিন্তু আকাশ তার জন্য এসব কেন করছে?এর মাঝেই আকাশ ওয়াশরুম থেকে বের হল। -আপনি আমাকে পড়াশুনা কেন করাতে চাইছেন? - আমার ওয়াইফ ইন্টার পাশ এটা মানুষকে বলতে আমার লজ্জা লাগবে তাই চাইছি।একটূ কস্ট করে চেস্টা করুন পড়াশুনার মন মানসিকতা আবার তৈরি করার।যা হেল্প লাগবে তার জন্য আমি আছি।কি?করবেন তো? দোলা মাথা নিচু করে মাথা নেড়ে বুঝাল যে সে চেস্টা করবে।আকাশ কথা শেষ করে মায়ের রুমের দিকে হাঁটা দিল। দোলার কেন যেন কান্না আসছিল।তার জন্য আকাশের লজ্জা লাগবে এই কথাটা শুনে নয় কান্না আসছিল আনন্দে।আকাশ হয়ত নিজেও জানেনা নিজের অজান্তেই সে দোলার স্বপ্ন পূরণের রাস্তাটা তৈরি করে দিচ্ছে।আকাশ বের হতে হতে দোলার কথাই ভাবছিল। দোলার সাথে প্রথমদিন কথা বলেই বুঝতে পেরেছিল যে মেয়েটা বিধ্বস্ত অবস্থায় আছে ।দোলার জরজেট হাতার নিচের ক্ষতবিক্ষত হাতটা সে ঠিকই লক্ষ্য করেছি্ল সেদিন।তমার মুখটা তখন চোখের সামনে বারবার ভেসে উঠছিল।বোকা মেয়েগুলো কেন যে তাদের মত কেয়ারলেস ছেলেগুলোর জন্য নিজের জীবনটা নস্ট করে দেয় এটাই বুঝতে পারে না সে।তমাকে বাঁচাতে পারেনি কিন্তু তমার মত আরেকটা মেয়েকে আলোর পথে আনার চেস্টা অন্তত করতে পারে!যেভাবে চলছিল সেভাবে চলতে থাকলে বাবা মায়ের চাপে পড়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাওকে না কাওকে বিয়ে করে জীবনটা পার করতে হত দোলার।নিজের পায়ে দাঁড়ালে আর কারও উপর নির্ভর করতে হবেনা ওর।কেন যেন মেয়েটাকে সাহায্য করার ভুত চেপেছিল তখন মাথায়। মায়ের রুমে ঢুকেই আকাশ দেখে মা কি যেন সেলাই করছেন।আকাশকে দেখেই উনি বললেন, -ফ্রেশ হয়ে গেছিস দেখা যায়।টেবিলে গিয়ে বস খাবার দিচ্ছি। -খাব তার আগে কিছু কথা আছে -হুম বল - বাসায় এসে দোলার কাহিনী শুনলাম।তুমি কি কস্ট পেয়েছ?ওর রাগ একটু বেশি।আমি ওকে বুঝিয়ে বলব। -ধুর তুই আমাকে এসব বুঝাচ্ছিস?মেয়েটাকে দেখেই বুঝা যায় বাবা মায়ের আদরের মেয়ে।নিজের পরিবার ছেড়ে এখানে এসেছে,এমনিতেই অনেক কস্টে আছে।কাল রুম্পার বিয়ে হয়ে গেলে বাড়িতে আমারও তো একটা মেয়ে লাগবে যে রুম্পার মত করেই আমার সাথে আহ্লাদ করবে।দোলাকে আমার মেয়ে কিভাবে বানাতে হবে তা আমি বুঝব ।মা মেয়ের মধ্যে তোর আসার দরকার নেই। ঠিক আছে? আকাশ মায়ের কোলে মাথা রেখে বলল, -তুমি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মা।এটা তুমি জান? মা হেসে ফেললেন। ঘুমাতে এসে আকাশ দেখে দোলা গাইড বইটা খূলে দেখছে।ভাল লাগল ব্যাপারটা ।আকাশকে দেখেই দোলা বইটা বন্ধ করে ফেলল লজ্জা পেয়ে। -কি হল বই বন্ধ করলেন কেন?পড়ছিলেন পড়ুন। -এমনি দেখছিলাম জাস্ট -শুধু দেখলে তো হবেনা।পড়তে হবে।প্রশ্ন যতটা জানি অনেক সোজা হয়।অঙ্কগুলো সল্ভ করুন বসে বসে। -অঙ্ক আমি একটু কম বুঝি -ঠিক আছে আমাকে দেখান। হেল্প করতে পারি কিনা দেখি বলেই আকাশ দোলার পাশে এসে বসল।দোলা বইটা আকাশের দিকে এগিয়ে দিল। -আরে এগুলো তো অনেক ইজি ম্যাথ।খাতাটা দিন।বুঝিয়ে দিচ্ছি। আকাশ অঙ্ক বোঝাচ্ছে।দোলা অবাক হয়ে খেয়াল করল আকাশ বুঝিয়ে দেওয়ার পর যে অঙ্কগুলো অনেক কঠিন মনে হচ্ছিল সেগুলো এখন পানির মত সোজা মনে হচ্ছে।পড়া শেষে আকাশ বলল -আজ এই পর্যন্তই।আর কাল একটা চার্জলাইট কিনে আনব।আমি ঘুমিয়ে গেলেও আপনি বসে বসে পড়তে পারবেন রাতে।জেনারেল নলেজ আর ইংলিশের দিকেও নজর দিবেন। বলেই ফার্স্ট এইড বক্সটা নিয়ে বসল আকাশ ।তখন দোলা বলল, -আচ্ছা প্রাইভেট ভার্সিটিতে তো অনেক খরচ ।ব্যাপারটা আমার কাছে কেন যেন খারাপ লাগছে । দোলা মাথা নিচু করেই বলল কথাগুলো।আকাশ বুঝল ব্যাপারটা।ও বলল, -আপনি যখন জবে ঢুকবেন তখন আস্তে আস্তে আমার টাকা আমাকে ফেরত দিয়ে দেবেন।আপনার মত বেয়াদব মেয়েকে আমি ফ্রি তে ফ্রি তে পড়াব নাকি?সুদে আসলে সব আদায় করব পরে। হেসে ফার্স্ট এইড বক্স খুলে কপালের ক্ষত পরিস্কার করে মলম লাগাতে লাগল আকাশ। দোলার কেন যেন এখন খারাপ লাগছে অনেক।সে বলল, -আমি আপনার সাথে অনেক খারাপ ব্যবহার করেছি।আমাকে কি মাফ করতে পারেন ? আকাশ বলল, -মাফ করব যদি আমাকে এখন আধা ঘন্টা গীটার বাজানোর অনুমতি দেন। দোলা গীটারটা বের করে এনে আকাশকে দিয়ে বলল, -নিন বাজান।আজ ইচ্ছে হলে সারা রাতই বাজাতে পারেন ।আমার কোন আপত্তি নেই। বলেই হাসল দোলা। (চলবে)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৩৯৪ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...