বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

রক্ত চোষা

"ভূতুড়ে অভিজ্ঞতা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Shayer Ahmed (০ পয়েন্ট)



X তখন আমি সদ্য তরুন। একদিন বন্ধুরা বললো পিকনিক করবে। সবাই রাজি। সবার থেকে টাকা তুলে বাজার করতে গেলাম পরন্তু বিকেল সবাই ছুটে চলেছি ফরিদের বাসার দিকে। আজ যে পিকনিক! সবার হাতে কম বেশি খাবাড়ের সামগ্রী। আমার হাতে ছয়টা বয়লার মরুগী আর ছয়টা লেয়ার মুরগী। তড়িঘড়ি করে ফরিদদের উঠানে রাখলাম। হাত প্রচন্ড ব্যাথা করছি।হাট থেকে বাড়ী পর্যন্ত লম্বা পথ হেটে এসেছি। মাগরিবের আযান দিচ্ছে। আমরা কয়েক জনে কয়েকটা দায়িত্ব ভাগাভাগি করে নিলাম। আমি বনে গেলাম কাঠ আনতে।বাকীরা অন্য কাজে চলে গেলো।প্রায় রাত একটা পর্যন্ত পিকনিকে সময় ব্যায় করলাম।অনেক মজা করলাম।খাওয়া শেষ করে আমি আর সেলিম ভাই বাড়ীর দিকে রওনা হই। বন্ধুরা যেতে বাধা দিলেও আমি শুনিনি।ওরা বললো রাতে শেওরা বিলে শয়তান থাকে আর আমাকে ওই বিলের সামনে দিয়েই যেতে হবে।কে শোনে কার কথা! বাড়ীতে ফিরতেই হবে নয়তো আব্বাজান আমাকে তক্তা বানাবে। সেলিম ভাই মসজিদ বাড়ীর সামনে এসে বিদায় নিয়ে চলে গেলো।আমি একা টুকটুক করতে হেটে চলছি।হাতে ছিলো বড় মাপের টর্চলাইট। চারিদিক নীরব! গ্রামে রাতের বেলায় শিয়ালদের আনাগোনা থাকে। চারিদিকে শিয়ালের ডাক শুনতে পাচ্ছি। আমার একটু ভয় ভয় হচ্ছে। শুনেছি এই বিলের রাস্তায় প্রতিদিন কম বেশি মানুষ ভয় পায়।এসব কথা মনে পরতেই আমি আরো ভীতু হয়ে গেলাম।হাটতে হাটতে তাল বাগানের রাস্তায় এসে পড়ি।এই রাস্তার শেষ প্রান্তে শেওরা বিল।তারপরে মিরা বাড়ীর রাস্তা ফেলে সামনে গেলেই আমার বাড়ী। রাস্তার দুপাশে সাড়ি সাড়ি তাল গাছ।আমি হাটছি, মাঝে মাঝে টর্চলাইট দিয়ে এদিক ওদিক দেখি।হঠাৎ আমার মনে হচ্ছে তাল গাছ গুলো আমার সাথে সাথে হেটে আসছে।মড়াৎ মড়াৎ শব্দে কান ঝালাপালা হয়ে যাচ্ছে।শোশো বাতাস। এ যেনো ঝরো হাওয়া।আমি কিছুতেই ভারসম্য রাখতে পারছিনা। ধুলাবালুতে চারিদিক অন্ধকার আর অন্ধকার!! আমি ভুল করেছি।এ্যাতো রাতে বাড়ী ফেরাটা উচিত হয়নি।এখন কি আর করার।তবে আমি বুঝে গেছি আমার পিছনে শয়তান লেগেছে।আমি চিকন কন্ঠে কান্নার শব্দ শুনতে পাচ্ছি।আজ বাচবো কিনা জানিনা!! এক একটা চিৎকার,এক একটা ভয়াল গর্জনের আওয়াজে আমি কেপে উঠি। কখনো মেয়লি কন্ঠে কখনো বা বাচ্চা কন্ঠের চিৎকারে আমি পাগল প্রায়। আমি যতবারি আয়তাল কুরসি পরতে যাই তত বারি আমার গলা আটকে যায়।আমি শ্বাস নিতে পারি না আমি চিৎকার দিয়ে উঠি। কে আপনি? কেনো আমাকে কষ্ট দিচ্ছেন? আমি আপনার কি ক্ষতি করেছি? হঠাৎ চারিদিকটা স্তব্ধ হয়ে এলো! তারপর যা দেখলাম তা সহ্য করবার মতো নয়!! নীল শাড়ী পরে দাড়িয়ে আছে এক মহিলা আমার পিছনে!তার নিশ্বাস আমার ঘারে এসে পড়ছে। গরম নিশ্বাস!! আমি পিছনে ফিরতেই আতকে উঠি। কি বিশ্রি চেহারা! কি বিদঘুটে গন্ধ তার শরীর জুরে! এটা কল্পনাও করা যাবে না!! ওর মুখে বড় বড় চারটা দাত দেখা যাচ্ছে,দাত গুলো লাল হয়ে আছে। গরররড়ররর গরররড়রর শব্দ বের হচ্ছে ওর মুখ থেকে। আমি ওর দিকে লাইট টা ঘুরাতেই ও সা করে তালগাছের উপরে উঠে গেলো। আমি দৌড় দিলাম। প্রান পনে দৌড়াচ্ছি। মনে মনে নিজেকে গালি দিলাম।এর জন্যতো আমিই দায়ী। আমি দৌড়াচ্ছি কিন্ত টের পাচ্ছি তাল গাছ গুলো তে ঝুপঝুপ শব্দ হচ্ছে।লাইট টা গাছ গুলোর দিকে মারতেই দেখলাম ওই পিচাশটা এক গাছ থেকে অন্য গাছে লাফিয়ে লাফিয়ে আমার সাথে সাথে এগোচ্ছো। আবার বিকট চিৎকার! আমি আর পারছিনা।শরীর ক্লান্তিকর। পিকনিক থেকে পেট ভরে খেয়ে এসেছিলাম আর ভরা পেটে দৌড়ানো অত সহজ না। চোখ থেকে পানি গড়িয়ে গড়িয়ে পরছে। আমি বাচতে চাই। আমার পরিবারের কথা মনে পরছে বার বার। নাছরীনের কথাও মনে পরছে। অনেক ভালোবাসি।ওয়াদা দিয়েছিলাম,ছেড়িডারে আমি বিয়া করুম।ভীষন লাজুক ও।মায়া মায়া চেহারা।কল্পনা থেকে ফিরলাম হোচট খেয়ে।ধুপ করে মাটিতে পরে গেলাম।ব্যাথায় কুকিয়ে উঠতেই আবার উঠে দাড়ালাম। আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি বিশাল শরীরের সেই পিচাশটা দূরে দাড়িয়ে আছে।হয়তো আলোর জন্য কাছে আসতে পারছে না।কিন্ত আমি আয়তাল কুরসী পরতে গেলেই আমার গলা আটকে যায়!! অনেক চেষ্টা করেও আমি ব্যার্থ হচ্ছি। আমি সত্যিই আর পারছি না কারন আমার ডান পাশে শেওরা বিল!!এ বিল নিয়ে অনেক ঘটনা জরিত! আমি আবার দৌড়াতে শুরু করি।রক্তাক্ত পা দুটো কাজ করছে না! বিলের অর্ধেকটা পথ পেড়িয়ে আসতেই আমার লাইট টা নিভে যায়।আমি থেমে পরিনি। নিজেকে বাচাতে ব্যাস্ত এখন কিন্ত চারিদিকটা আরো ভয়ানক হয়ে যাচ্ছে। আমার পিঠে সুচালো কিছু একটা ঢুকলো তারপর আবার বের হলো।আবার ঢুকছে আবার বের হচ্ছে। আমার পিঠ থেকে ঝরঝর করে রক্ত বের হচ্ছে। জানিনা কি হচ্ছে আমার সাথে তবুও আমি দৌড়াতে থাকি। ঠাস করে কেউ একজন আমার গালে থাপ্পর দিতেই আমি মাটিতে লুটিয়ে পরি। অন্ধকারে দেখতে পেলাম,আমি কবরস্থানের পাশে,দেড়ি করিনি দৌড়ে কবরস্থানে ঢুকে পরি। ব্যাথায় সাড়া শরীর জুরে।আমি জানি কবর স্থানে ওরা প্রবেশ করতে পারে না। আমি বাম কানে কিছুই শুনতে পাচ্ছি না।থাপ্পড়টা বাম গালে লেগেছে। গররররররর গরররররর আমি রক্ত চাই একটু রক্ত দে শয়তানটা ন্যাকানো গলায় বললো। আয় আয় আমার কাছে আয় তোকে আমি অনেক ধনী করে দেবো।অনেক টাকা দিবো।আমাকে একটু রক্ত দে,হা হা হা হা হা হা দে দে রক্ত দে আমি অন্ধকারে কবর স্থানে বসে আছি। একটু পরে আমার দিকে বড় বড় ইট মাটির টুকরো ছুড়ে মারছে।সারা শরীর রক্তেমাখা, আমি নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছি। মাথাটা ঘুরপাক খাচ্ছে। কলাগাছ গুলো তে ঠাস ঠাস শব্দ হচ্ছে। তারপর আমি দেখতে পাই আমার বাবাকে।উনি আমার নাম ধরে ডাকছে। আমি সাথে সাথে উত্তর দিলাম আব্বা আমি এদিকে, আপনি এদিক আসেন। তারপর আর কোনো সাড়া শব্দ নাই!! আব্বা আব্বা বলে অনেকবার ডাক দিলাম কিন্তু কোনো সাড়া পেলাম না! হাতের লাইট টা নিয়ে সজোরে মাটিতে আঘাত করতেই জ্বলে উঠলো!লাইটটা এদিক সেদিক ঘুরিয়ে দেখতে লাগলাম শয়তানটা আছে নাকি চলে গেছে, কবরস্থানের শেষ সিমানায় মস্তবড় গলা কাটা মুখ আমার দিকে চেয়ে আছে! চোখ দুটো অনেক বড় ছিলো ঠিক ডিমের মতো! কাটা গলা থেকে ঝরঝর করে রক্ত পরছে। আমার দিকে চেয়ে আছে।আমি লাইট ওর দিকেই তাক করে রেখেছি,কিন্ত এবার ও আলো দেখে পালায়নি। তোর লাইটের আলো আর কতক্ষন জ্বলবেরে? আমার ভীষন ক্ষুধা আজ তোকে ছিড়ে ছিড়ে খাবো আমি অজ্ঞান হয়ে পরি। জ্ঞান ফিরতেই দেখি আমি বাসায়! আব্বা ডাক্টার এনেছেন। আমার শরীরের অনেক জায়গায় ব্যান্ডেজ লাগানো। কিছুক্ষন পর আমার রক্তবমি হয়। তারপর মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয় মেডিকেলে গিয়ে আব্বাকে সব খুলে বলি। ডক্টর আমাকে স্যালাইন দিলেন। রাতে বাসায় ফিরলাম। মসজিদ বাড়ীর ইমাম সাহেব বাবার থেকে সব শুনলেন। তিনি আমাকে ৩২ আয়াতের একটা তাবিজ দিলেন। নিজ হাতে আমার হাতে পরিয়ে দিলেন। কিছুদিন পর আমি সুস্থ হই। সব কিছু স্বাভাবিক হয়ে যায়। আমার বয়স এখন ষাট বছর প্রায়।  ঐ শেওরা বিল আজ আর বিল নেই।ওখানে দালান উঠেছে।অনেক মানুষ সেখানে বসবাস ,,তবে আমি আজো ভুলতে পারিনি সেদিনের কথা। ঐ দিনের কথা আমি মনে করতেও চাইনা আর। এখানেই সমাপ্তি ... আরো সব ভয়ংকর গল্প পরতে এড রিকোয়েস্ট দিয়ে পাসে থাকুন,,,,গল্প পোস্ট করার সাথে সাথে নোটিফিকেশন চলে যাবে।।।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৬১৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ রক্ত চোষা ফ্রাইডে
→ রক্তচোষা পিশাচ(200বছর পর)part#1
→ রক্তচোষা- ১ম পর্ব
→ রক্তচোষা পেত্নী
→ রক্তচোষা
→ -:রক্তচোষা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...