বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মদীনা চল ডেকেছে উমর

"ইসলামিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Md Raz Khan (০ পয়েন্ট)



X হযরত উমর রাঃ এর জামানায় ১৮ হিজরীতে সমগ্র আরব উপদ্বীপে এমন দুর্ভিক্ষ ছড়িয়ে পড়ল যে, খাদ্যবস্তু কোন মূল্যেই পাওয়া যাচ্ছিল না ৷ ক্ষুধার তাড়নায় মানুষ মারা যাচ্ছিল ৷ এমন সময় হযরত উমর রাঃ সংবাদ পেলেন যে, মিসরের অভ্যন্তরে পর্যাপ্ত শস্য উৎপাদিত হয় ৷ মিসর ইতিপূর্বে বিজিত হয়েছিল এবং হযরত আমর ইবনে 'আস রাঃ ওখানকার গভর্নর ছিলেন ৷ হযরত উমর রাঃ তাঁকে পত্র লিখলেন: "এখানে হেজাযে খাদ্য একদম নেই ৷ আমি জানতে পেরেছি যে, মিসরে যথেষ্ট খাদ্যশস্য আছে ৷ অতএব, এখানকার জনগণের জন্যে ওখান থেকে খাদ্য পাঠাও" ৷ গভর্ণর সাহেব জবাবে লিখলেন: "আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন ৷ আমি খাদ্য বোঝাই করে এতবড় কাফেলা পাঠিয়ে দেব যে, ওই কাফেলার প্রথম উট মদীনায় অবতরণ করবে তো শেষ উট মিসরে বোঝাই করা হবে" ৷ মিসর থেকে হেজায একমাসের পথ ৷ এই পথ তখন উটের মাধ্যমে অতিক্রম করা হত ৷ এই সমগ্র পথ উট দিয়ে ভরে দেব ৷ তারপর খাদ্য এল এবং ততটাই এল ৷ গ্রামে গঞ্জে ঘোষণা করিয়ে দেয়া হল যে, যার ইচ্ছা হয় উমরের দস্তরখানে বসে খেতে পারবে আর যার মন চায় নিজের রেশন নিজ ঘরে নিয়ে যেতে পারবে ৷ অতএব, হাজার হাজার মানুষ সেই দস্তরখানে খাবার খেল আর অনেকেই বাড়িতে নিয়ে গেল ৷ এক সাহাবী জঙ্গলে বাস করতেন ৷ তিনিও পথচারিদের মুখে শুনলেন পবিত্র মদীনায় খাদ্য এসে গেছে এবং বন্টন করা হচ্ছে ৷ তাঁর কাছে একটি ছাগল ছিল ৷ তিনি ভাবলেন যে, আমি চলে গেলে একা ছাগলটাকে বন্যরা খেয়ে ফেলতে পারে ৷ তার চে' ভালো হবে এটা জবাই করে খেয়ে নিই ৷ অন্ততঃ চলার শক্তি আসবে ৷ অতঃপর বকরী জবাই করলেন ৷ কিন্তু এক ফোঁটা রক্তও বের হল না ৷ এই দৃশ্য দেখে ঐ সাহাবী কান্না আরম্ভ করে দিলেন আর মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লেন এই বলে যে, আমাদের অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে, আমাদের জানোয়ারদের রক্তও শুকিয়ে গেল! সাহাবী মাথায় হাত দিয়ে কাঁদতে কাঁদতে পড়ে গেলেন আর ঘুমিয়ে পড়লেন ৷ ঘুমে দেখলেন রাসূল সঃ তাশরীফ আনলেন এবং বললেন: উমরের নিকট যাও আর আমার পক্ষ থেকে সালাম জানিয়ে বলবে, তুমি তো বড় বুদ্ধিমান ছিলে, তোমার বুদ্ধির কী হল? সাহাবী জেগে উঠলেন ৷ হন্তদন্ত হয়ে কাঁদতে কাঁদতে পৌঁছুলেন মদীনা তায়্যিবায় ৷ হযরত উমর এর দরজায় করাঘাত করে বললেন, রাসূলুল্লাহর সঃ দূত অনুমতি চাচ্ছে ৷ হযরত উমর রাঃ নগ্ন পায়ে বেরিয়ে আসলেন ৷ শুধালেন কী খবর? তিনি পূর্ণ ঘটনার বিবরণ দিলেন ৷ হযরত উমর রাঃ শুনে কেঁপে উঠলেন এবং বলতে লাগলেন আমার কি কোন ভুল হয়ে গেল? তৎক্ষণাৎ মদীনায় যেসব "আহলে রায়" ছিলেন সবাইকে একত্রিত করলেন এবং বললেন: ভাইয়েরা, বারবার আপনাদের একথা বলেছিলাম যে, আমার কোন ভুল হয়ে গেলে সাথে সাথে আমাকে সতর্ক করবেন ৷ কিন্তু আপনারা সতর্ক করেন নি ৷ এখন আমার মওলা হযরত মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ সঃ এই সংবাদ পাঠিয়েছেন ৷ আপনারা বলুন আমার কী ভুল হল? সাহাবায়ে কেরাম বললেন, আমাদের তো কিছুই বুঝে আসছে না ৷ এক সাহাবী দাঁড়ালেন এবং উনি আরজ করলেন: একটি বিষয় আমার বুঝে এসেছে ৷ আপনার রাষ্ট্রে দুর্ভিক্ষ চলছে, খাদ্য নেই ৷ মানুষ ক্ষুধায় মরছে ৷ কিন্তু আপনি আল্লাহ তা'আলার নিকট চাওয়ার বদলে আপনার গভর্ণর এবং আপনার মতই একজন মানুষের কাছে দরখাস্ত করলেন; এটাই সেই ভুল ৷ হযরত উমর রাঃ বললেন: নিশ্চয় এটাই সেই ভুল ৷ তারপর সবাই বললেন, হ্যাঁ এটাই সেই ভুল ৷ হযরত উমর রাঃ তখনই দুআয় মগ্ন হলেন এবং নিজ ভুলের ক্ষমা চাইলেন ৷ তিনি দুআয় নিমগ্ন ছিলেন আর আকাশের মেঘমালায় অস্থিরতা শুরু হয়ে গেল, দৌঁড় শুরু হয়ে গেল আর প্রতিটি মেঘখন্ড একটি আরেকটির আগে ছুটে চলছিল আর বলে যাচ্ছিল: মদীনা চল উমর ডেকেছেন--মদীনা চল উমর ডেকেছেন ৷ (তারীখে কামিল: 2/235) সুবহানাল্লাহ, আল্লাহু আকবার ৷ আজ আমার একীন আরেক ধাপ অতিক্রম করল আলহামদুলিল্লাহ ৷ প্রভূ, সেই সোনালী দিনগুলো আবার ফিরিয়ে দাও ৷ আমীন বিহুরমাতি সায়্যিদিল মুরসালীন।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২৭৯ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...