বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কামারশালার সাহসী পুরুষ**

"ইসলামিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Md Raz Khan (০ পয়েন্ট)



X উম্মু আনমার দাস কেনা-বেচার ব্যবসা করে।তার নিজের জন্যেও একটি দাসের প্রয়োজন। তাগড়াহৃষ্টপুষ্ট একটি দাস চাই তার জন্য।সে নিজে বাজারে গেল। শত দাসের ভেতর একটি দাসতার খুব পছন্দ হলো। দাসটি যেমন জোয়ান তেমনিতাগড়া।উম্মু আনমার দাসটি কিনে নিয়ে এলো।দাসটির নাম- খাব্বাব।খাব্বাবকে তরবারি তৈরির কলা কৌশল শেখানোরজন্যে উম্মে আনমার তাকে মক্কার এক বিখ্যাতকর্মকারের কাছে পাঠিয়ে দিল।খুব অল্প দিনের মধ্যেই খাব্বাব ভালো এবং উন্নতমানেরতরবার বানানো শিখে গেলেন।দাস হলেও তিনি ছিলেন ছোটকাল থেকেই দারুণমেধাবী। সেই সাথে ছিল তার সততা, নিষ্ঠা এবং সাহস।এ সময়ে নবী (সা) মক্কায় গোপনে ইসলাম প্রচার করতেন।ইসলাম প্রচারের খবর পেয়ে যুবক খাব্বাব অল্পদিনেরমধ্যেই চুপি চুপি নবীর (সা) কাছে গিয়ে ইসলাম গ্রহণকরলেন।ইসলাম গ্রহণের পর থেকেই শুরু হলো খাব্বাবের জীবনেরআর এক অধ্যায়।এই অধ্যায়টি ছিল খাব্বাবের জন্যে অগ্নিপরীক্ষারঅধ্যায়। জুলূম, নির্যাতন আর অত্যাচারের পরেও ঈমানেরপরীক্ষায় ধৈর্যের সাথে টিকে থাকার অধ্যায়।যুবক খাব্বাব ইসলাম গ্রহণ করেছে- এ খবর বাতাসের আগেছড়িয়ে পড়লো চারদিকে। কথাটি উম্মু আনমারের কানেওগেল।সে তার দলবল নিয়ে কামারশালায় এসে কর্মরতখাব্বাবকে জিজ্ঞেস করলো, তুমি নাকি ইসলাম গ্রহণকরেছো?হ্যাঁ।কামারশালায় কাজ করতে করতে খাব্বাব দৃঢ়তার সাতেজবাব দিলেন।কেনা দাসের এই জবাব শুনে আনমারার মাথায় খুন চেপেগেল। সে তার দলবলসহ ঝাঁপিয়ে পড়লো খাব্বাবের ওপর।বললো,তোর এত বড় সাহস! আমার কেনা দাস হয়ে তুই আমার ধর্মত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করেছিস! বলতে লতেকামারশালার হাতুড়ি এবং লোহার পাত দিয়েখাব্বাবকে মারতে শুরু করলো।তাদের আঘাতে আঘাতে খাব্বাব রক্তাক্ত হয়ে গেলেন।তার সমস্ত শরীর দিয়ে রক্তের ধারা গড়িয়ে পড়তেথাকলো। তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেললেন।আর একদিনের ঘটনা।কামারশালায় কাজ করতে করতে খাব্বাব ভাবছিলেনইসলামের কথা। ভাবছিলেন আল্লাহর কথা। ভাবছিলেননবীল (সা) কথা। ভাবতে ভাবতে তিনি আনমনা হয়ে যান।নিজের সাথেই নিজে কথা বলেন।একসময়ে কুরাইশদের কিছু লোক তাদের বায়না দেয়াতরবারি নিতে খাব্বাবের দোকানে এলো। তারাদেখলো, খাব্বাব যেন কার সাথে কথা বলছেন।তারা জিজ্ঞেস করলো, আমাদের তরবারি কি বানানোহয়েছে?খাব্বাব যেন তাদের কথা শুনতেই পপাননি। বরং হেসেবললেন, তোমরা কি তাঁকে দেখেছো?তারা ক্ষেপে গেল ভীষণভাবে। বললো কার কথা বলছো?খাব্বাব খুব শান্তভাবে হেসে বললেন, আমি নবীমুহাম্মদের (সা) কথা বলছি। তিনি এমন একজন মানুষ, যারচারদিক থেকে সত্যের আলো ছিটকে পড়ে। তাঁর চোখেমুখে নূরের চেরাগ। জ্বলতে থাকে জ্বলজ্বল করে। ঠিকনক্ষত্রের মতো। পূর্ণিমার চাঁদের মতো। ভোরের সুর্যেরমতো। তিনি আল্লাহর রাসূল। আমাদেরকে অন্ধকার থেকেআলোয় আনবার জন্যে আল্লাহ তাঁকে পাঠিয়েছেন।তিনি আমাদের সত্যের অগ্রপথিক। সত্য পথের রাহবার।একথা শুনার সাথে সাথে তারা বাঘের মতো ঝাঁপিয়েপড়লো খাব্বাবের ওপর।তাদের নির্মম- নিষ্ঠুর প্রহারে খাব্বাবের শরীর রক্তেভেসে গেল। যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে তিনি এক সময়অচেতন হয়ে গেলেন।ইসলাম গ্রহণের কারণে, নবীকে (সা) ভালোবাসারকারণে খাব্বাকে সহ্য করতে হয়েছে অমানুষিকনির্যাতন।নিষ্ঠুর কাফেররা দুপুরে প্রচণ্ড রোদের তাপের মধ্যেখাব্বাকে টেনে হেঁচড়ে নিয়ে যেত মরুভূমির উত্তপ্তউপত্যকায়। তারপর তাকে সম্পূর্ণ উলঙ্গ করে তার শরীরেলোহার বর্ম পরাতো। এভাবে তাঁকে আগুনের মতো উত্তপ্তউপত্যকায় ফেলে রাখতো সূর্যাস্ত পর্যন্ত।প্রচণ্ড গরমে এবং পিপাসায় কাতর হয়ে পানি-পানি বলেচিৎকার করতেন খাব্বা।কাফেরা তাকে একটুও পানি দিত না। বরং বলতো, এবারবল মুহাম্মদ (সা) সম্পর্কে তোর মন্তব্য কী?খাব্বাবের যন্ত্রণাকাতর মুখ থেকে একফালি হাসিররেখা তখনো ভেসে উঠতো। বলতেন,মুহাম্মাদ (সা) আল্লাহর বান্দাহ এবং রাসূল। তিনি সত্যদ্বীন নিয়ে এসেছেন। তিনি আমাদের মুক্তিরবার্তাবাহক।খাব্বাবের জবাব শুনে তারা আবারও তার ওপর নির্যাতনচালাতো।তারা পাথর গরম করে সেই পাথরের ওপর খাব্বাবকেখালি গায়ে শুইয়ে দিত। তারপর গরম পাথরের ওপর তাঁকেচেপে ধরে রাখতো। গরম পাথরের চাপে খাব্বাবের কাঁধেচর্বি গলে বেয়ে বেয়ে পড়তো। তাঁর পিঠের গোশত উঠেযেত। তিনি যন্ত্রণায় ছটফট করতেন। পিপাসায়কাতরাতেন।নিষ্ঠুর কাফেররা খাব্বাবের যন্ত্রণার মধ্যেও আল্লাহএবং তার প্রিয় নবীকে (সা) ডাকতেন। ডাকতে ডাকতেতিনি এক সময় নির্যাতনের নিষ্ঠুরতার জ্ঞান হারিয়েফেলতেন।অত্যাচারী কাফেরদের নির্যাতনের এরকম শিকর হতেনখাব্বাব। দিনের পর দিন- এভাবে প্রতিদিন চলতো তাদেরনির্মম নিষ্ঠুর অত্যাচার খাব্বাবের ওপর।আমারার এক অত্যাচারী ভাই ছিল। সে প্রতিদিনখাব্বাবের কামারশালার দোকানে আসতো। এসেই সেকামারশালার হাপর থেকে তুলে নিত গনগনে লোহারপাত। উত্তপ্ত-জ্বলন্ত লোহার পাত নিষ্ঠুর কাফের চেপেধরতো খাব্বাবের মাথায়।তীব্র যন্ত্রণায় খাব্বাব কাটা কবুতরের মতো কেবলইছটফট করতেন। এবং ছটফট করতে করতে এক সময় জ্ঞানহারিয়ে ফেলতেন।এসলাম গ্রহণ করার কারণে কাফেররা খাব্বাবের ওপর যেনিষ্ঠুর অত্যাচার আর নির্যাতন করেছে, তা এতই নির্মম-মুখে উচ্চারণ করতে শরীর শিউরে ওঠে।আল্লাহকে ভালোবেসে, নবীকে (সা) ভালোবেসে, সত্যদীনকে ভালোবেসে খাব্বাব শুকনো পাতার দাউ দাউআগুনের মতো শাস্তি ভোগ করেছেন সারাটি জীবন।দাস হওয়া সত্ত্বেও, দরিদ্র এবং দুর্বল হওয়া সত্ত্বেওদুঃসাহসী খাব্বাব কুরাইশদের অহমিকার বিরুদ্ধে, তাদেরমিথ্যার বিরুদ্ধে, তাদের কুসংস্কার এবং বিকৃতিরবিরুদ্ধে পর্বতের মতো রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। তাদেরকাছে, মিথ্যার কাছে মাথানত করেননি কখনোকাফেরদের এত শাস্তি এবং নিষ্ঠুরতার পরও খাব্বাবএকচুল পরিমাণও সত্যের পথ থেকে কখনো দূরে সরেআসেন নি।তাদের হাজারো অত্যাচারেও এতটুকু ঘাবড়ে যাননিকামারশালার সাহসী পুরুষ- হযরত খাব্বাব


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২৬৬ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...