বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ট্রেনে একদিন

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Ribo (০ পয়েন্ট)



X ট্রেনের ছাদের উপর কয়েকজন টোকাই দেখতে পেলাম। এক বগি থেকে আরেক বগি লাফিয়ে লাফিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। হাতে হলুদ রঙা পলিথিন। একটু পরপর মুখ চেপে নেশাদ্রব্য টেনে নিচ্ছে। বগিতে পা ফেলার জায়গা না থাকায় ট্রেনের ছাদে করে বাড়ি যাচ্ছিলাম। আমার মতন বেশ কয়েকজন যাত্রী সেখানে ছিলো। টোকাই গুলো দূর থেকে একটু পরপর আমার দিকে তাকাচ্ছে। আমিও তাদের কার্যকলাপ গুলো উপভোগ করছি। . হঠাৎ চোখে পড়লো.. তাদের মধ্য থেকে একজন একটু বেশেই চুপচাপ। সবাই লাফালাফি বাঁদরামি করলেও সেই ছেলেটিকে শান্ত দেখাচ্ছে। বাকিরা তাকে একটু পরপর উত্যক্ত করছে। নেশা দ্রব্যের পলিথিনটা তার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে হাসি তামাশা করছে। বোতলের পানি তাকে দেখিয়ে দেখিয়ে ঢকঢক করে খাচ্ছে। সে রাগ ভরা চোখ নিয়ে অন্য বগির ছাদে চলে যায়। . সন্ধ্যা হতে আরও কিছুক্ষণ বাকি, আকাশটা অসম্ভব সুন্দর রঙ ধারণ করেছে। তাদের ছুটোছুটি দেখে আমারো ট্রেনে হাটার সখ জাগে..। আমিও উঠে গিয়ে অন্য বগিতে হেটে হেটে গেলাম। চলন্ত ট্রেনের ছাদে হাটা যতটা ভয়ের ততটাই আনন্দের। কয়েকবগি পার হয়ে সেই ছেলেটির বগিতে গেলাম। বাকি টোকাইরা তখন অনেক দূরে, ছেলেটা একা ছিলো। পাস কাটিয়ে যেতেই প্রশ্ন করে বসলো... "ভাই ইসতারি আর কতক্ষণ পর?" "ইসতারি" শুনে প্রথমে বুঝিনি পরে বুঝলাম সে ইফতারির কথা বলছে! --- এইতো আর দশ মিনিট পর। কেন রোজা রাখছস নাকি? --- হ, আইজকা রাখছি কিছুটা অবাক হলাম, একেতো বয়স অল্প তার উপর এমন নেশাখোর টোকাইরা রোজা রাখে নাকি! --- আরে বাহ! কয়টা রোজা করলি? ফোকলা দাঁতের হাসি দিয়ে উত্তর দিলো.. --- ১ টা! --- মাত্র ১টা! তা কি মনে করে রাখলি হঠাৎ?! --- কাইল রাইতে এলাকার মাঠে ওয়াজ হইছে, ওনে হজুর মাইকে কইলো রোজা রাখলে নাকি আল্লাহ্‌ নিজ হাতে পুরস্কার দিবো। --- ও আচ্ছা! ভালো, রাখিস নিয়মিত। --- আর মনে হয় রাখা পারুম না, দেখেন না একটা রাখতে গেছি আর সব গুলা আমারে লইয়া মজা করে। তাছাড়া আমরা থাকি দল বাইন্ধা, দল বাইন্ধা ঘুরি.. দল বাইন্দা খাই। আমার একার খাবার কেরা দিবো। --- কেন বাড়িতে থাকস না? বাপ নাই? হেসে দিয়ে বলে.. --- এইটাইতো আমাগো বাড়ি, বাপ মায়েরে চোখেই দেখি নাই। বস্তির বড় ভাইগো লগে বড় হইছি, একত্রে কাম করি। --- কি কাম করস?? ছেলেটার মুখটা চুপসে গেলো! বুঝলাম অবশ্যই খারাপ কিছু। যাইহোক মাগরিবের আজান দিয়ে দিয়েছে, খাবার খেতে সেখানেই ছেলেটিকে নিয়ে বসে পড়ি। মুড়ি বুট যা খাবার সাথে ছিলো পেপার বিছিয়ে সব ঢেলে নিলাম। দেখি ছেলেটাও একটা পোটলা থেকে প্যাকেট করা ইফতারি বের করলো আর বললো.. এগুলাও ঢালি? আমি মনে মনে ভাবছি কইত্থেকে যে খাবার কুড়িয়ে আনছে... ঘেন্না লাগছিলো কিছুটা। ছেলেটা আমার মনের কথা বুঝে ফেলে... নিজ থেকেই বলে উঠে... "ভাই... এইটা পরিষ্কার খাবার.. ফুটপাথ থেকে কিনা আনছি" আচ্ছা ঠিকাছে ঢাল। এভাবে দুজনে ইফতারি শেষ করলাম। ছেলেটা জীবনে প্রথম রোজা রেখেছে। রোদে পুরে রোজা রাখাটা অনেক কষ্টের। খাওয়া শেষে আমাকে প্রশ্ন করে... --- ভাই, আমি যে মাত্র একটা রোজা রাখলাম, আল্লাহ্‌ কি আমারে পুরস্কার দিবো? --- হুম.. আল্লাহ্‌ কবুল করলে অবশ্যই দেবে। --- কাল রাইতে হজুর ওয়াজে কইছিলো.. ইসতারির আগের দোয়া নাকি কবুল হয়.. তাইলে আমার দোয়া কি কবুল হবো? আমিতো ভালা ভাবে দোয়া করবার পারি না। আফনে একটু কইরা দিবেন? --- দোয়া কবুলের মালিক আল্লাহ্‌, মনথেকে করলে তুই করলেও কবুল হয়ে যাবে। তবুও আগ্রহ নিয়ে তাকে জিজ্ঞাস করলাম.. কি দুয়া করলি আল্লাহ্‌ আছে? ছেলেটা শার্টের হাতায় চোখ মুছতে মুছতে বলে.. "মরার পর ঐদুনিয়াতে আমি আমার বাপ মায়ের লগে থাকবার চাই, আমারে যেন আল্লাহ্‌ আমার বাপ মায়ের সাথে মিলাইয়া দেয়! আমি আমার মায়েরে দেখবার চাই!!" আচমকা এমন উত্তর শুনে কলিজায় গিয়ে লাগে। আমিতো কতদিন পর বাড়ি যাচ্ছি বাবা মার সাথে ঈদ করতে। কতদিন পর পর তাদের দেখা পাই তাতেই ভিতরটা হাসফাস করে উঠে। আর এই ছেলেটা তার বাপ মা কে তাই ই জানে না!! তার আর্তনাদ কিছুটা উপলব্ধি করতে পেরে চোখটা ভিজে উঠে। তাকে শান্তনা দেয়ার ভাষা আমার নেই। . কিছু সময়পর গন্তব্যে পৌছে যাই। ট্রেনের ছাদ থেকে নামবো ঠিক সেই মুহুর্তে একদল টোকাই হাত থেকে মোবাইলটা নিয়ে দেয় দৌড়! আমি অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। এই মুহূর্তে না নামলে ট্রেনটাও ছেড়ে দিবে। আর তারা ছিলো সাত আট জন! তাদের সাথে অন্ধকার ছাদে যুদ্ধ করা অসম্ভব। পাশে বসা সেই ছেলেটাও কাছে নেই। সেও দৌড়ে তাদের দলে চলে গিয়েছে। আর কোনো উপায় না পেয়ে ট্রেন থেকে নেমে পড়ি। বুঝলাম তারা অনেকক্ষণ ভরে সুযোগের অপেক্ষায় ছিলো আর এটাই তাদের নিত্যদিনের কাজকর্ম। . স্টেশন থেকে বের হচ্ছি.. ঠিক সেই মুহূর্তে ছেলেটা আমার দিকে ধেয়ে আসে। হাতে আমার সেই মোবাইল! ঠোটের কোনায় কিছুটা কেটে রক্ত বেরুচ্ছে। হাপিয়ে হাপিয়ে মোবাইলটা ফেরত দিয়ে বলে.. আমরা প্রতিদিন এগুলাই করি। কিন্তু আইজ আমি রোজা ছিলাম। হজুর কইছিলো কোনো খারাপ কাম করলে আল্লাহ্‌ রোজা কবুল করবো না। আর আপনি আমারে ইসতারি (ইফতার) করাইছেন,, আপনি আমার মুসলিম ভাই লাগেন। আপনার খারাপ হইতে দিমু না। সহ্য হইলো না, তাই মোবাইলটা কাইড়া নিয়াইলাম। . আমি অবাক হয়ে ছেলেটির দিকে তাকিয়ে ছিলাম। সে একটি রোজা রাখলেও তা সঠিক ভাবে রাখার মত করেই রেখেছে। সে অশিক্ষিত হলেও আমাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো রোজা এভাবেই রাখতে হয়। যে রোজার মাঝে প্রতিনিয়ত থাকে রোজা বিনষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয়। . --- তুই যে মোবাইল কেড়ে আনলি, ওরা তোকে মারবে না? মাথাটা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকে। আমিও দেখতে পাই ট্রেনের উপর টোকাই গুলো জটলা বেধে দাঁড়িয়ে আছে। আমি শিওর, গেলেই ওকে তারা মারবে। কিছুক্ষণ ভেবে জিজ্ঞাস করি... "যাবি আমার সাথে?!" ছেলেটা চোখেমুখে হাসি ফুটিয়ে বলে... "সত্যি আমারে সাথে নিবেন?!" আমার ঢাকায় দুটি দোকান আছে, কর্মচারী হিসেবে তাকে রেখে দেওয়া যায়। তাছাড়া এমন ছেলেকে বিপদে ফেলে আসাটা অন্যায় হয়ে যাবে। যে আমাকে মন থেকে ভাই বানিয়েছে তাকে এভাবে বিপদের মুখে ফেলে আসতে পারি না। শেষপর্যন্ত নিয়ে আসি নিজ বাসায়। collected


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৩০৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ট্রেনে বসে ভাবনার জগতে একদিন

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...