বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

দোস্ত ভূতের কান্ড

"ছোটদের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান সাইমন জাফরি (০ পয়েন্ট)



X দোস্ত ভূতের কান্ড -----লেখক: অজানা ----------------------------- ভূমিকা: আমি যেই ঘটনা টার কথা বলতে যাচ্ছি সেটা ঘটেছে প্রায় ৮-৯ মাস আগে। ঘটনাটা যার সাথে ঘটেছে তিনি আমাদের পাড়াতেই থাকেন। তো সরাসরি ঘটনায় চলে যাই। ঘটনা: আগে তার সম্পর্কে কিছু বলে নেই। ছেলেটির নাম নজরুল। আমরা তাকে কবি ভাই বলেও ডাকি। খুব হাসি খুশি আর মজার মানুষ নজরুল ভাই। আড্ডা দিতে অনেক পছন্দ করেন। আড্ডা জমলে তাকে ১-২ বেলা খাবার না দিলেও চলবে। নাজরুল ভাইয়ের সব চেয়ে প্রিয় বন্ধুর নাম পলাশ। স্কুল লাইফ থেকে উনাদের ফ্রেন্ডশিপ। বলা যায় ১ আত্মা ২ শরীর। পলাশ ভাইও নজরুল ভাইকে ছাড়া কিছু বুঝেন না। মাঝে মাঝে আমাদের বিরক্ত লাগত। সারাদিন সুপার-গ্লু এর মত একজন আরেকজনের সাথে লেগে আছে। আমরা মাঝে মাঝে ফাজলামি করে বলতাম আপনারা মনে হয় জামাই বউ। একজনের জন্ম আরেকজনের জন্য। যাক, এইবার মূল ঘটনায় আসি। আকবর পলাশ ভাই গিয়েছিলেন ময়মনসিংহে উনার এক আত্মীয়ের বাসায়। বলা বাহুল্য, নজরুল ভাইও গেলেন তার সাথে। অজ-পারা- গাঁ। খাবার পানির খুবই সমস্যা। বাজারও বাড়ি থেকে প্রায় ৩ কিমি দূরে। যেদিন গেলেন তার দুদিন পর থেকেই পানির কারনে তাদের পেতে সমস্যা দেখা দিল। তখন তারা ঠিক করলেন বাজার থেকে মিনারেল ওয়াটার কিনে আনবেন। যেই ভাবা সেই কাজ। ২ বন্ধু মিলে রওনা দিলেন বাজারের দিকে। ভাবলেন কথা বলতে বলতে চলে যাবেন। কিন্তু রৌদ্রের মধ্যে ৩ কিমি রাস্তা হেঁটে যাওয়া আসলেই কষ্টের। ২ জনে গরমে ঘেমে অবস্থা করুন। যাক শেষ পর্যন্ত বাজারে পৌঁছলেন। কিন্তু এই এলাকার মানুষ মনে হয় মিনারেল ওয়াটার থেকে পান, বিড়ি, সিগারেট বেশি খায়। যাক অনেক হেঁটে একটা দোকান থেকে মিনারেল ওয়াটারের বোতল পাওয়া গেলো। ২ লিটারের মাত্র ২ টা বোতল ছিল দোকানির কাছে। যাক একটু বেশি দাম দিয়ে ২ টা বোতলই কিনে ফেললেন পলাশ ভাই। একটা তো সাথে সাথে খুলে খাবার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তারা। ঠিক তখন এক মহিলা, বয়স আনুমানিক ৭০-৭৫ বছর হবেন, কোথা থেকে এসে যেনও হাজির হলেন। তিনি নজরুল ভাইয়ের কাছে একটু পানি চাইলেন। একে তো ভর দুপুর তার উপর এতো গরম, নজরুল ভাই একটুবিরক্ত হলেন। মনে মনে ভাবলেন, এতো পানির তৃষ্ণায় নিজেদের জান যায় যায় আবার নিজের কেনা পয়সার পানি ফাউ দিবেন নাকি? মাথা খারাপ? পলাশ ভাই তো বলেই ফেললেন যে, খালাম্মা কোত্থেকে উদয় হলেন? এতক্ষণ তো দেখছিলাম না। মাটি ফুরে বের হলেন নাকি? টাকা পয়সা চাইলে কিন্তু দিতে পারুম না। মহিলাটা বলল, না না বাবা। একটু পানি দাও। আর কিছু লাগব না। নজরুল ভাই বললেন, আমরা আগে খেয়ে নেই এরপর বোতল সহ দিয়ে দিবো। মহিলাটা দাঁড়িয়ে এক দৃষ্টিতে তাদের পানি খাওয়া দেখতে লাগলো। অবশেষে নজরুল ভাই খেয়ে বাকি পানিটা মহিলাকে বাড়িয়ে দিলে পানির বোতলটা নিয়ে মহিলাটা কোথায় যেনও চলে গেলেন।এরপর নজরুল ভাই আর পলাশ ভাই একটা রিকশা ঠিক করে বাড়িতে চলে এলেন। সেখান থেকে ফিরে ১ মাসের মাথায় পলাশ ভাই একটি সি এন জি দুর্ঘটনায় মারা যান। নজরুল ভাইয়ের কান্না সেদিন কেউ থামাতে পারলো না। আমরাও অনেক কষ্ট পেলাম। কয়েকদিন পর আমরা কষ্টটা ভুলে গেলাম। কিন্তু নজরুল ভাই এর পর থেকে প্রায়ই তার কবরের পাশে গিয়ে কাঁদতেন। ২-৩ সপ্তাহ পর থেকে নজরুল ভাই যেনও কেমন হয়ে গেলেন। তার চোখের নিচে কালি পড়ে গেলো। ঘটনা কি জিজ্ঞেস করলে তিনি এড়িয়ে যেতেন। আগে যেই লোকটা রাত ১০ টার আগে ঘরে ঢুকতেন না তিনি এখন সন্ধ্যার পর ঘর থেকে বের হন না। অনেক চাপাচাপির পর নজরুল ভাইয়ের চাচাতো ভাই এর কাছ থেকে জানতে পারলাম, নজরুল ভাই আজকাল প্রায়ই পলাশ ভাইকে দেখতে পান। পলাশ ভাই তাকে ডাকেন। সন্ধ্যার পর একদিন নাকি তিনি সরাসরি নজরুল ভাইয়ের সামনে এসে দাঁড়িয়েছিলেন। এরপর ২-৩ দিন নজরুল ভাইয়ের অনেক জোর ছিল। এই ঘটনা শোনার পর সবাই মিলে পানি পড়া এনে খাওয়ালাম নজরুল ভাইকে। এরপর প্রায় সব ঠিক। মাস দুই পর নজরুল ভাই সুস্থ হতে লাগলেন। কিন্তু পলাশ ভাইকে খুব মিস করতেন। মাস দুয়েক পর তার খালার অসুস্থতার খবর পেয়ে নজরুল ভাইয়ের মা বাবা গেলেন তাকে দেখতে। বাড়ি খালি হয়ে যাবে ভেবে নজরুল ভাই রয়ে গেলেন। রাতে যথারীতি খাওয়া দাওয়ার পর একটু টিভি দেখে নজরুল ভাই শুয়ে পড়লেন। মাঝ রাতে তার ঘুমটা হঠাৎ ভেঙে যায়। উনার নিজের কাছে শরীরটা একটু ভারি ভারি মনে হল। তন্দ্রার ঘোরে তিনি দেখলেন পলাশভাই আসছে। পলাশ ভাই তাকে বললেন, চল, তোকে আমি নিতে এসেছি। আমি আর একা থাকতে পারছি না। আমি আগেও চেষ্টা করছিলাম, তুই আসিস নাই। আজকে তোকে নিয়েই যাবো। নজরুল ভাই বললেন, আমি যাবো না। এরপর অনেকক্ষন টানাটানি চলল। প্রথমে পলাশ ভাই তাকে খাট থেকে টেনে নামালেন, এরপর দরজার দিকে টেনে নিয়ে চললেন। নজরুল ভাই শত চেষ্টা করেও আটকাতে পারলেন না। তার দম বন্ধ হয়ে আসছিলো। শেষ মুহূর্তে নজরুল ভাই যখন বাঁচার আশা ছেড়ে দিলেন তখন কোথা থেকে যেনও সেই মহিলা এসে হাজির হল। মহিলাটা পলাশ ভাইয়ের হাত ছাড়িয়ে দিলেন। সাথে সাথে নজরুল ভাইয়ের শরীরটা হাল্কা হয়ে গেলো। নজরুল ভাই তখন মহিলাটাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি যখন আমাকে বাঁচালে তখন আর আগে বাঁচালে না কেন? এতো কষ্ট তো পেতাম না। তখন মহিলাটা বলল, বাবা তুমিও তো আমাকে পানির কষ্ট দিয়েছিলে। তখন আমি তৃষ্ণায় কষ্ট পাচ্ছিলাম। কিন্তু সাথে সাথে তো দাও নি। মহিলাটি এই বলে গায়েব হয়ে গেলো। নজরুল ভাইয়ের সাথে সাথে ঘর কেটে গেলো। তিনি নিজেকে ঘরের সামনে আবিষ্কার করলেন। তখন আজান হচ্ছিল। তিনি দেখলেন, তার সাড়া গায়ে নখের আঁচড়। এরপর তাবিজ এনে দেয়া হল, এবং সাড়া ঘরে পানি ছিটিয়ে দেয়া হল। মিলাদ পড়ানো হল। অনেকদিন নানাবিধ অসুখে ভোগার পর তিনি সুস্থ হয়ে উঠেন। ‪#‎রায়হান‬


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৯৩৭ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...