বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অামার ভালোবাসা তুমি

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Bad Boy (০ পয়েন্ট)



X আমার ভালবাসা তুমি . written : কল্পনা বিলাসী সাগর . - উঠো না বাবু প্লিজ! - উমমমম, আরেকটু ঘুমাতে দাও না। প্লিজ। - না বাবু আর ঘুমাতে দেওয়া যাবে না। অফিসে দেরী হলে বস বকবে তো। - তাতে কি হইছে? - বাবু তুমি উঠো তো এখন অফিস যাও। - ঘুমাতে দিবা না একটু। - তুমি উঠবে! না আমি এখন চোখে মরিচ দিব। - এই না না। তুমি না আমার লক্ষী সোনা বউ। এ কাজ করতেই পার না। - তাহলে উঠে অফিস যাও। - আচ্ছা। তাহলে একটা পাপ্পি দাও। - না দেব না। তুমি দিন দিন অনেক দুষ্টু হয়ে যাচ্ছ। - দাও না সোনা একটা প্লিজ। - দিলে কিন্তু এখনই উঠবা আর কোনো বাহানা করবা না। - ওকে। - উমমমমা - হি হি হি। - যাও ভাগ এখন। . আকাশ পালারে তাড়াতাড়ি নইলে তোর বউ ক্ষেপে যাবে এবার। মনে মনে এসব বলতে বলতে দৌড়ে ফ্রেস হতে বাথরুমে ঢুকলাম। দাড়ান বাথরুম থেকে এসে পরিচয়টা দেই। . কাজ শেষ এবার পরিচয় দেই। আমি আকাশ। এবার একটা ছোট্ট কম্পানিতে বড় জব করি। আর ওটা হলো আমার বিয়ে করা বউ। নাম জুই। পাগলী একটা, আমাকে অন্নেক ভালবাসে। আমাকে ছাড়া কিচ্ছু বুঝে না। শুধু আমার একটু ভালবাসা পাবার জন্য, গভীর আগ্রহে আমার কাছে আসার চেষ্টা করে। কাছে আসার চেষ্টা করে মানে। আমি তো আর সবসময় ফ্রি থাকি না। অফিসের কাজে ব্যস্ত থাকি। তাই, আমার থেকে আর একটু বেশী সময় পাওয়ার জন্য, নানা ধরনের ছলচাতুরী করে। কিন্তু সকাল হলেই আবার আমাকে অফিসে পাঠানোর জন্য উঠেপরে লাগে। . পাগলীটা কি যে করে না। কিচ্ছু বুঝতে পারি না। ও আমাকে ওর মনের মতো করে গুছিয়ে নিছে। আমার নিত্য দিনের রুটিন জুই আগে থেকেই তৈরি করে দিছে। আমি শুধু এখন জুঁইয়ের রুটিন মাফিক চলি। আর ওকে অনেক ভালবাসি। . অনেক কথা বললাম এখন ক্ষিধে লাগছে নাস্তা করে আসি। . খাবার টেবিলে বসে আছি। সামনে একটা খালি সাদা প্লেট আর একটা চামচ। আর আমার দুই মাএ সম্বল আমার দুই টা হাত। কিন্তু এখন খেতে পারছি না। জুঁইকে খাইয়ে দিতে হচ্ছে। . আমি খাওয়ার আগে ওকে খাইয়ে দিতে হয়। না হলে রাগ করে বসে থাকে। রান্না টা করে জুই। তাই আমাকে সবসময় বলে, যদি নিজের বউকে খাইয়ে দিতে না পার তাইলে নিজে রান্না করে খাবে। আমি রান্না করে দিতে পারব না। তাই কি আর করব? খাইয়ে দেই। কিন্তু এই পাগলীটা আমাকে কখনও খাইয়ে দেয় না। সবসময় আমার হাতে খায়। . নিজের টা নিজে ভালই বুঝে কিন্তু আমার টা বুঝে না। হুহ। বিয়ের আগে আমার কত আশা ছিলো বউয়ের হাতে খাব কিন্তু এখন আমি আমার বউকে খাইয়ে দেই। হায়রে কপাল আমার। . এখন বলি আগের ঘটনা গুলো, কিভাবে আমার আর ওর বিয়ে হইছে। আমার বিয়েটা অবশ্য লাভ ম্যারেজ করেই হইছে। তবুও আমাদের প্রেম কাহিনীটা একটু বলেই দেই। . ৫ বছর আগে। আমি তখন কলেজে পড়ি। . . - আকাশ, আকাশ, দোস্ত দাড়া ( মাহিন, আমার বন্ধু) - কি রে? কি খবর? - জাক্কাস খবর দোস্ত। - কি? খুইলা বল! - দাড়া, আগে শার্ট খুলি তারপর প্যান্ট খুলি। - হারামির বাচ্চা, মাইর খাইছত। কি খবর সেইটা বল। - অক্কে দোস্ত। কালকে পার্টি দিছি আইলি না ক্যান? - কিসের পার্টি? - পরশু দিন, ২৩৮ নাম্বার ছ্যাঁকা খাইছি। তারজন্য বন্ধুদের নিয়ে পার্টি দিছি। - আল্লারে, কেউ আমারে গ্লাসে চুবানি দে। - ক্যান দোস্ত। - তুই কি ছ্যাঁকার দোকান দিছস। - না দোস্ত, তবে শিঘ্রই একটা দিমু। আর উপরে দিমু হইলো ( এখানে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়, নেওয়াও হয়) - তর সাথে প্যাচাল পাড়াই ভুল, আমি গেলাম। . মাহিন পাগলারে বিদায় দিয়ে চলে গেলাম ওখান থেকে। কতখন ক্লাস করলাম। কেমন যেন আজ ক্লাস করতে ভালো লাগছে না। তাই দুইটা ক্লাস করেই বাড়ির দিকে রওনা দিলাম। . না। বাড়িতে এসেও ভালো লাগছে না। তাই ভাবলাম একটু ঘুমায়। বিকেলে ঘুম থেকে উঠে একটু গিটার টা নিয়ে হাটতে বের হলাম। হাটতে হাটতে একটা পার্কে গিয়ে বসলাম। (ওহ্, হ্যাঁ। আমি তো বলিই নাই, আমি তখন মাস্টার্সে পড়ি।) . বসে বসে গিটারে সুর তোলার চেষ্টা করছি। ( এলো মেলো ইচ্ছে যত, ভালবেসেছি তারই মত) কিন্তু কিছুতেই মেলাতে পারছি না। তাই ভাবলাম বাসায় যায়। পার্ক টাও আজ নীরব। বেশী মানুষ দেখছি না। . চেয়ার থেকে উঠে দাড়াবো, আর তখনই এক পলিথিন বাদামের খোসা এসে পড়ল উপরে। মনে হয় পেছনে থেকে কেউ দিছে। রাগ টা চরম শিখরে পৌঁছে গেল। হাত উঠালাম " পেছনে যেই থাকব ঠাস করে একটা মারব। . পেছন দিকে তাকালাম। টুট টুট টুট, আমি কথা বলতে পারছি না, নড়াচড়া করতেও পারছি না। ( ওহ্ হ্যাঁ, আমি তখন হ্যাং হয়ে গেছি) একি দেখলাম আমার পিছনে। এ মানুষ না হুরপরী। আমার পিছনে দাড়িয়ে আছে। একটা মেয়ে, থুক্কু হুরপরী। তবুও আবার মুখটা গুমরা করে। জীবনে ক্রাশ খাই নাই, প্রেম করি নাই। এবার আমি ক্রাশ খাইলাম, প্রেমেও পড়লাম। . - তাহলে বাদামের খোসা গুলো আপনি দিছেন? - ইয়ে, না মানে,,, হুম। - কেন দিছেন? - আমি বুঝতে পারি নাই, ওটা আপনার ওপর যাবে! - বুঝতে পারেন নাই মানে? - আমার বাদাম গুলো খাওয়া শেষ। তাই খোসা ওটায় রেখে হাতে নিয়ে ঘুরাইতেছিলাম। আর তখনই ওটা হাত ফসকে ছুটে গিয়ে আপনার ওপরে যায়। - তো আপনি একা এতগুলো বাদাম শেষ করছেন? - না, আমার বান্ধবী গুলো ছিলো। - ওরা কই? - যখন ওটা আপনার উপরে গেল, তখন ভয়ে পালাইছে। - তো আপনি খুব সাহসী? - না আমি সেটা বলি নাই, আমি সরি বলার জন্য রইছি। - ওহ্, নাম কি? বাড়ি কই? - নাম জুই বাড়ি এখানেই। কলেজের পাশে একটা বাসায় থাকি। - কোন ইয়ার? - অনার্স ফাস্ট ইয়ার। - আচ্ছা বাসায় যান। . জুইকে রেখে বাড়ির দিকে রওনা হলাম। বাড়িতে এসে ইজি চেয়ারটায় বসে ভাবছি। কি সহজ সরল পরীর মতো একটা মেয়ে। ভাবছিলাম এতকিছুর উওর দিবে না কিন্তু বাচ্চাদের মতো গড়গড় করে সব বলে দিল। ওই বাচ্চার মতো মায়ায় ঘেরা মুখটা যে আমার মনটা চুরি করেছে। এখন ফেরত আনতে হবে। যে করেই হোক। না, আমার টা আনব না। ও আমার টা চুরি করছে আমি ওরটা চুরি করব। . পরদিন কলেজে গিয়ে বসে ভাবছি কি করা যায়। আমাদের কলেজ আর জুইদের কলেজ দুই পাশে আলাদা আলাদা ভাগ করা তাই ভাবলাম ছুটির সময় দেখা যাবে। . কলেজ ছুটির পর ওদের কলেজের সামনে দাড়িয়ে আছি। তখন আবার মাহিন হারামজাদা এলো " - কি রে দোস্ত, ভাবীর জন্য দাড়িয়ে আছত? - কিইইই? বুঝলি কেমনে? - এতো গুলো ছ্যাঁকা কি এমনি এমনি খাইছি। অভিজ্ঞতা আছে দোস্ত। ভাবীটা কে রে? - জুই, অনার্স ফাস্ট ইয়ারের ছাএী। - আচ্ছা চেষ্টা কর, হেল্প লাগলে বলিস। . ওকে বিদায় দিয়ে আবার দাড়িয়ে রইলাম। কিছুক্ষণ থাকার পর দেখি, পরীটা কতগুলো পেত্নীর সাথে হাসাহাসি করতে করতে আসছে। তাই কিছু বলতে পারলাম না। দূর থেকে দেখে গেলাম। এতগুলো মেয়ের সামনে থেকে আমি একা একটা ছেলে কথা বলতে যাব, একটা লজ্জা সরমের ব্যপার আছে তো। . রাতে শুয়ে শুয়ে ভাবছি জুঁইয়ের কথা। তখনই মাহিন কে ফোন দিলাম। ও আমার বেস্ট ফ্রেন্ড তাই সবসময় ওরেই কাজে লাগাই। - হ্যালো, মাইিন একটু হেল্প কর! - কি দোস্ত? তোর জন্য আমার জান রেডি! - ডায়লগ কম দে। জুঁইয়ের ফেসবুক আইডি আনার ব্যবস্থা কর। - অক্কে দোস্ত, নো টেনশন। আমার গফের কাছ থেকে আনতেছি। . টুট টুট। . আমি আবার জুঁইয়ের ভাবনায় মগ্ন হলাম। পড়াশুনা করতে ভালো লাগছে না। তাই ওরে নিয়ে ভাবছি। ভাবতে ভালো লাগছে। ক্রিং ক্রিং- - হ্যালো, - ক - পাইছি দোস্ত। - নাম কি - _______ ( আইডির নাম বলব না, আমারে খাইয়া ফালাইবো) - থ্যাঙ্কু দোস্ত। অনেক বড় উপকার করলি। - ধুররর হালা, চুপ কর। তুই আমার বন্ধু না তুই আমার ভাই। - হইছে অনেক বলছত, এখন রাখ। আইডি খুজে নিয়ে রিকুয়েস্ট দিয়ে দিলাম আর সাথে ছোট্ট একটা রিকুয়েস্ট মেসেজ। আমার ছবি আমার প্রোফাইলেই আছে। . পরের দিন আবার দাড়িয়ে রইছি ছুটির সময় জুঁইয়ের কলেজের সামনে। এবারও ওদের সাথেই আসছে। কি যে করি এখন। তাই কোনো কিছু না ভেবে একটু কাছে গিয়ে ওর মায়ায় ঘেরা চোখে আমার চোখ রেখে তাকিয়ে থাকলাম। হটাৎ জুঁইয়ের চোখটা আমার চোখে পড়ল আর দেখল আমি ওর দিকে তাকিয়ে আছি। . কি বুঝলো জানি না একটি রাগি লুক নিয়ে তাকিয়ে চলে গেল। . সেদিন রাতে গিয়ে দেখি রিকুয়েস্ট এক্সেপ্ট হইছে। তাই মেসেজ দিলাম। তখন জুই অনলাইনে ছিলো। - (আমি) hi - hlw - কেমন আছেন? - ভালো। - হুম। আমাকে চিনেছেন? - জ্বী - কিভাবে? - আপনার প্রোফাইলে আপনার পিক আছে। আর সেদিন আমি আপনার উপরে খোসা ফেলেছিলাম। আর এখন আপনি প্রতিদিন কলেজে আমার দিকে তাকিয়ে থাকেন। - বাব্বা, অনেক কিছু খেয়াল করছেন দেখি। - খেয়াল না করার কিছু নেই। - হুম। - ঘুমাবো, বায়। - গুড নাইট। . এটুকু কথা বলে সেদিনের গল্প শেষ। আমার কেমন যেন খুশি খুশি লাগছে ওর সাথে কথা বলে। তাই সারারাত খুশিতে ঘুম হলো না। শুধু জুঁইয়ের কথা মনে আসতে লাগল। . এভাবে প্রতিদিন আমাদের টুকিটাকি কথা হতো। আর আমি কলেজে ওর দিকে ছুটির সময় তাকিয়ে থাকতাম। সামনাসামনি কথা হতো খুব কম, শুধু চোখাচোখি হতো। এভাবে চলতে লাগল দিন। . চলে গেল, ৬ মাস। . আমি জুঁইকে ছাড়া, ওর ভালবাসা ছাড়া থাকতে পারছিলাম না। জীবনটা কেমন যেন অর্থহীন মনে হচ্ছিল। তাই ভাবলাম জুঁইকে প্রপোজ করব। . দিনটা ছিলো শনিবার। আমি পিছনে হাত নিয়ে এক গুচ্ছ গোলাপ ফুল নিয়ে দাড়িয়ে আছে জুঁইয়ের কলেজের সামনে। কলেজ ছুটি হলো, দুপুর ২টায়, একে একে সবাই বের হলো, আমার জুই বের হলো সবার শেষে। . আমি তখন সুযোগ বুজে ওকে প্রপোজ করতে গেলাম। ভালো করে তাকিয়ে দেখলাম আশেপাশে কেউ আছে নাকি। নাহ্, নেই। যারা আছে ওরা আমার পরিচিত। - জুই দাড়াও একটু। - কি আকাশ? কিছু বলবে? - হুম " (ফুল গুলো সামনে এনে হাত বারিয়ে ওর দিকে দিলাম) জুই আমি তোমাকে ভালবাসি। শুধু আজ থেকে নয়, যেদিন তুমি আমার উপর বাদামের খোসা ফেলেছিলে সেদিন থেকে, আমি তোমাকে ভালবাসি। - কিইইইই, ( ঠাস) আকাশ, আমি ভাবতেও পারিনি। তুমি এমন করবে। আমি ভাবছিলাম তুমি অন্য সবার মতো না। কিন্তু তুমিও সেই মেয়ে দেখলে তার পিছনে পরে থাকো ভালবাসি ভালবাসি এসব মিথ্যা কারসাজি নিয়ে। - জুই তুমি যেটা ভাবছো সেটা না। আমি তোমাকে ভালবাসি। আমি সত্যিই তোমাকে খুব ভালবাসি। - চুপ করো তো। যতসব ফালতু বকবক। বন্ধু হয়ে থাকলে থাকবে নাহলে চলে যাও সামনে থেকে। কখনও আসবে না আমার সামনে। . এই বলে জুই চলে গেল সেখান থেকে। আমি কি করব বুঝতে পারছি না। পাথর হয়ে দাড়িয়ে রইলাম সেখানে। আর নিজের চোখ বেয়ে অঝোরে অশ্রু বইতে লাগল। যাকে ভালবাসি, সে এতটা ভুল বুঝলো। আর আমি তো ওকে ভালবাসি। ওর পাশে যদি ভালবাসার ছায়া হয়ে না থাকতে পারি বন্ধু হয়ে নিজের ভালবাসার কাছে থেকে করব কি? শুধু নিজেকে কষ্ট দেওয়া হবে আর আফসোস করা হবে। . সেখানে কতখন দাড়িয়ে ছিলাম জানি না। কোথা থেকে যেন মাহিন আসলো। - আকাশ তুই কাঁদছিস কেন? তোকে তো কোনো দিন কাদতেঁ দেখিনি। - ( তারপর মাহিন কে জড়িয়ে ধরে কেদে দিলাম) - ওই কি হইছে ক - দোস্ত আমি ওরে প্রপোজ করছি কিন্তু ও আমারে ফিরিয়ে দিছে। - আরে আরও কত মেয়ে আছে। - দোস্ত আমি ওরে সত্যিই ভালাবাসি। ওরে ছাড়া বাচবো না রে। - কিইইইইই,? কস কি? - হ্যাঁ রে। তুই কিছু একটা কর। - দাড়া দেখছি কি করা যায়। . সেদিন বাড়ি এসে আর ১ মিনিটের জন্যও ঘরের বাইরে বের হই নি। সারাদিন ঘরের ভেতর লাইট অফ করে বসে ছিলাম। রাতেও ঘুমাতে পারিনি। সারারাত জেগে জুঁইয়ের কথা ভেবে কাটিয়ে দিছি। . তারপর আর ১৫ কোথাও যাই নাই। বাড়ি থেকেই বের হয় নাই। এই কয়দিনে জুঁইকে আর একটাও মেসেজ দেইনি। কল দেই নাই। উল্টো আমার ফোন বন্ধ রাখছি। মাহিন অবশ্য এ কদিন আমার খবর নেওয়ার জন্য আসছিল। কিন্তু জুঁইয়ের কোনো সাড়া পাই নাই। . তার কয়েক দিন পর কলেজে গেলাম। কলেজে গিয়ে একা বসে থাকি বা মাহিনের সাথে কথা বলি। এছাড়া আর কোনো কাজ নাই এখন। কষ্টের সময় একমাত্র মাহিনই আমার পাশে ছিলো ঐ আমাকে সোজা হয়ে দাড়াতে সাহায্য করছিল। . ছুটির সময় আমি আর মাহিন একসাথে বের হলাম। যেহেতু জুইদের কলেজ গেটের সামনে দিয়ে যাব তাই একটু তাড়াতাড়ি বের হতে লাগলাম। এখন আর জুঁইয়ের জন্য দাড়িয়ে থাকব না। কি লাভ দাড়িয়ে থেকে,! যেটা চেয়েছিলাম সেটা পাইনি। এখন শুধু শুধু নিজের জীবন থামিয়ে রাখলে কি চলবে। . ওদের গেট পার হবার সময় দেখি জুই আগে থেকেই দাড়িয়ে আছে। তাই আমি ওকে পাশ কাটিয়ে চলে গেলাম। . এখন কলেজ যাই নিয়মিত। আসার সময় জুঁইকে দেখি। কিন্তু কিছু বলি না ও কিছু বলে না। আমি ওকে দেখলে যতটা সম্ভব দ্রুত চলে আসি। কি হবে, না পাওয়া ভালবাসায় মায়া বাড়িয়ে। . একদিন শুক্রবার, বিকেলে মাহিন আর আমার সেই গিটার নিয়ে পার্কে ঘুরতে গেলাম। পার্কে বসে গিটার না বাজিয়ে, আমি আর মাহিন বাদাম চিবুতে লাগলাম। চেয়ারের দুই দিকে আমরা দুজন মাঝখানে বাদাম। হটাৎ কে যেন বাদামের মধ্যে হামলা চালালো। . তাকিয়ে দেখি অর্ধেক বাদাম উধাও। উপরে তাকিয়ে দেখি জুই, কেমন যেন লুক নিয়ে তাকিয়ে আছে। আর তখনই হারামজাদা মাহিন হাসতে হাসতে উঠে দৌড় লাগাল। তাই আমিও উঠে দাড়ালাম। চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়ালাম। তখনই হ্যাঁচকা এক টানে আবার সেই চেয়ারে বসে পড়লাম। হুম, জুই আমার হাত ধরে টান দিছে। - কি হলো, টান দিলে কেন? - আমার ইচ্ছে। - সরো আমি বাসায় যাব। - যেতে দিব না। - কেন? - বিয়ে করব চল! - মানে? - বাংলা বুঝো না? কাজী অফিস চলো এখনই বিয়ে করব! - কেন? - তুমি না আমাকে ভালবাসো, এতো প্রশ্ন করছো কেন? - আমি ভালবাসলে কি হবে? এক হাতে তো আর তালি বাজে না। - এক হাত কই? আমাদের দু হাতই তো আছে। আর আমি যদি তোমাকে ভালো নাই বাসি তাইলে কি এখন বলতাম বিয়ে করতে? - তাইলে সেদিন? - সেদিন যা হইছে ভুলে যায়, আর এখনই বিয়ে করব চল! - আমি তো চাকরি করি না। - তাতে কি হইছে? এখন শুধু বিয়ে হইবো আর সেটা আমার তোমার আর পাঠকদের মাঝে থাকবো আর কেউ জানব না। চলো এখন। যখন চাকরি পাইবা তখন নাহয় পারিবারিক ভাবে হবে। - তোমার ঘটে বুদ্ধি আছে। তাহলে এতদিন কষ্ট দিলা কেন? - আর দিব না। আমি শুধু এখন তোমাকে ভালবাসব, তোমার যদি আমাকে কোনো কষ্ট বা শাস্তি দেওয়ার থাকে তো দিতে পার, তবুও প্লিজ আমাকে এখন ফিরিয়ে দিও না। ( এই বলে কাদতেঁ লাগল) - এই পাগলী কাঁদছো কেন? কষ্ট দিব না। বিয়ে করতে যাব চল। - হুম। . উফফফ, সেদিন বিয়ে করেই আসলাম। কিন্তু কেউ জানত না এটা, শুধু মাহিন জানত। . তারপর আর কি পড়াশুনা শেষ করে এই ছোট্ট চাকরি। . আপনারা কি ভাবছেন এতদিন ওর বিয়ে হয়ে গেল না কেন? এটা তো খুব সোজা, পাগলীটার পাগলামী শুরু হয়েছিল। যতগুলো সম্বন্ধ আসছিল সবগুলো কোনো না কোনো উপায়ে ঝেড়ে দিছে। আর ও ওর আম্মুকে বলে দিছে আমাকে ছাড়া আর কাউকে বিয়ে করবে না, দরকার হলে সুসাইড করবে। . তাই বাধ্য হয়ে ওর মা বাবাও মেনে নিছে। একমাত্র আদরের মেয়ে বলতে কথা,। . . . আগের কথা অনেক হইছে এখন বর্তমানে আসি। - জান একটু এদিকে আসো তো। - কেন বাবু? আমি এখন কাজ করতেছি। - আসো তো। আমার থেকে কাজ বেশী বড় হয়ে গেল? - এভাবে বলো না প্লিজজজজ। আসছি। ডিম পুরে গেলে কিন্তু আর ভাজতে পারব না। - আচ্ছা, জান এবার আসো। - আসলাম। কি হইছে এবার বলো! - একটু মিষ্টি দাও তো। - মিষ্টি পাব কই? তুমি এ কয়দিনে মিষ্টি আনছো? - সেই মিষ্টি না। - তাহলে??? - তোমার নাকের নিচে ওই লাল টুকটুকে মিষ্টি টা। - কিইইইইই???? দুম দুম। . ইসসিরে, এই মিষ্টি চাওয়ার জন্য এভাবে কিল দিলা। - আমার ডিম ভাজি পুরে গেল। আর শয়তান তুমি মিষ্টি নিয়ে পড়ে আছো। তোমারে তো আরও কিছু দেওয়া উচিত ছিলো। - ওয়াও আরও কিছু, আচ্ছা এখন দেওয়ার দরকার নাই, রাতে দিও। - ও আল্লাহ আমারে এই পোলার হাত থিকা বাচাও।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৩৭৪ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...