বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অগ্নিকন্যা

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Bad Boy (০ পয়েন্ট)



X অগ্নিকন্যা লিখাঃEvan Adnan Arif(স্বপ্নচোরা) .  আমি ইভান।একটা ভাল কোম্পানিতে চাকরি পেয়ে দিনকাল ভালই কাটছিল।বাবা নেই কিন্তু আমার মা আছে।আর সেই মাকে নিয়েই আমার দুনিয়া।মা অনেক কষ্ট করে আমাকে এই পর্যন্ত নিয়ে এসেছেন তাই মা হল আমার সবকিছু।আমার একজন খালাও ছিল তিনি গ্রামে থাকে।মা বলে আমার খালাও নাকি আমাকে অনেক আদর করত।আমাদের অভাবের সময় যথেষ্ট সম্ভব  উপকার করেছেন। . আজ অফিসে যাওয়ার আগে আম্মু আমাকে ডাকলেন আম্মুর রুমে।আমি আম্মুর রুমে গেলাম। --আম্মু আমাকে ডেকেছ। --হ্যা,বাবা। --কিছু বলবা নাকি। --একটা কথা ছিল। --হুম,বলে ফেল। --তর খালার কথা মনে আছে। --হুম,আছে তো।খালাকে কি করে ভুলি। --খালাতো বোনের কথা মনে আছে। --আজব মনে থাকবে না কেন তামান্নার কথা। --তামান্নার কথা তোর মনে আছে। --হুম,আছে আছে,কি বলবা তাড়াতাড়ি বলো অফিসে লেট হয়ে যাচ্ছে। --তামান্নার তো ইন্টার্ন পরিক্ষা শেষ।বলছিলাম মেয়েটা তো শহর দেখেনি তাই এবার আমাদের বাসায় বেড়াতে আসতে বলেছিলাম আরকি। --হ্যা আসুক।আমাকে জিজ্ঞাস করার কি আছে। --না মেয়েটা তো আমাদের বাসা চিনে না।আবার শহরে নতুন আসবে কিছুই চিনবে না তুই ওকে স্টেশন থেকে নিয়ে আসবি। --আচ্ছা,ঠিক আছে।এখন যাই আমি অফিসে। --ঠিক আছে বাবা সাবধানে যাস। . তিন দিন পরে আম্মু ডেকে বলল।আজ তামান্না আসবে বিকেলে যেন তাকে স্টেশন থেকে রিসিভ করি।আর এজন্য আজ হাফ বেলা ছুটি নিই।আমি রাজি হয়ে অফিসে গেলাম। . বিকেলের দিকে স্টেশনের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম।আম্মু তামান্নার মোবাইল নাম্বার দিয়েছে যেন তাকে খুঁজতে সহজ হয়।আস্তে আস্তে স্টেশন চলে আসলাম তারপর তামান্নাকে ফোন দিলাম। . --হ্যালো,তামান্না। --হ্যা ইভান ভাইয়া। --কোথায় আসছ। --আর মনে হয় ১৫মিনিট লাগবে। --ওকে।আমি স্টেশনে আছি। --ওকে। . ১৫ মিনিট পরে তামান্না আসল।প্রথমে চিনতে পারছিলাম না। তারপর ভাল ভাবে খেয়াল করে বুঝতে পারলাম এটা তামান্না। . --তুমি তামান্না। --হ্যা ইভান ভাইয়া।আমিই তামান্না। --অনেক বড় হয়ে গেছ আর পেকে গেছ তুমি। --সে তো বটেই।আপনিও তো কম না।যেভাবে দাড়ি আর গোফ রাখছেন।কত মাস ধরে সেভ করেন না।(হাসতে লাগল) --আচ্ছা,আচ্ছা আর পাকনামী না করে বাসায় চলো। --ওকে,আসেন। . এই বলে বাসার দিকে রওয়ানা হলাম।আর মনে মনে ভাবতে লাগলাম,,কি দুষ্টু মেয়েরে বাবা।এত্ত দিন পরে দেখা কেমন আছি,কি খবর জিজ্ঞাস না করে সোজাসুজি পাকনামী করা শুরু করল।মেয়েটা সুন্দরই সবচেয়ে বেশি ভাল লাগে ওর গালে টুল পরে। . বাসায় যেতেই আমার মা তামান্নাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগল আর বলতে লাগল,,কত দিন পরে দেখলাম রে মা। খালাকে ভুলে কিভাবে থাকতে পারলি।ছোট বেলায় কত আদর করতাম তোকে।আমি আম্মু কে বললাম,,মা হইছে তামান্না অনেক দুর থেকে আসছে।এখন এই সব না বলে কিছু খেতে দাও।এই বলে আমার রুমে চলে আসলাম। . রাতে ছাদে গিয়ে একটা সিগারেট খাচ্ছিলাম।আজকের চাঁদটা অনেক সুন্দর লাগছে।একটা সিগারেট খাওয়া শেষ আরেকটা ধরিয়ে খেতে লাগলাম।কেন যেন আজকের পরিবেশটা অনেক ভাল লাগছে। . --আপনি সিগারেট খান।(তামান্না) --কে।(তাড়াতাড়ি সিগারেট টা ফেলে দিয়ে বললাম) --আমি তামান্না।আপনি সিগারেট খান। --কই না তো।আমি এইসব ছুয়েও দেখিনা। --দেখলাম তো ছুঁয়েও দেখেন না কিন্তু দুইটা খেয়ে ফেলছেন। --আরে না কে বলল। --আমি নিজের চোখে দেখলাম। --আসলেই আমি সিগারেট খাই না তবে মাঝেমাঝে। --বুঝছি আর খাবেন না।যদি দেখি খালাকে বলে দিব। --আচ্ছা।আর খাব না। --আপনাদের বাসাটা কিন্তু অনেক সুন্দর। --তাই নাকি ভাল তো। --সবচেয়ে বেশি সুন্দর ছাদের এই পরিবেশ টা। --ওও ভালই।এখন চলো বাসায় অনেক রাত হয়েছে। . এই বলে আমি আমার রুমে চলে আসলাম।আর তামান্না গেল আমার আম্মুর রুমে।মনে হয় আম্মুর সাথে থাকবে। . কিছুদিনের মধ্যে আস্তে আস্তে বুঝতে পারলাম তামান্না আমার প্রতি দুর্বল হয়ে পরছে।সাথে সাথে আমিও অর প্রতি দুর্বল হয়ে পরছি।ওর টোল পরা হাসিটাই আমাকে পাগল করে দিয়েছিল। . --ইভান,ইভান বাবা। --হ্যা আম্মু বলো। --বলছিলাম কি এভাবে আর কত্তদিন এবার বিয়ে কর বাবা। --কেন মা আমার বয়স কি খুব বেশি হয়ে গেছে। --না বয়সের ব্যাপার না।আমি চাই মরে যাওয়ার আগে নাতি নাতনীর সাথে খেলা করতে।তাই খুব তাড়াতাড়ি তোমাকে বিয়ে দিতে চাই। --এত তাড়াতাড়ি মেয়ে পাবে কোথায়। --মেয়ে আমি ঠিক করে রেখছি। --কোন মেয়েকে। --তোর জানতে হবে না। --বিয়ের সময় দেখিস। . বিয়ে শেষ হয়ে গেল কিন্তু মেয়ের মুখ এখনো দেখিনি।একটি স্বনামধন্য কমিউনিটি সেন্টারে বিয়ে হল।মনে মনে ভাবতে লাগলাম কে যানে মেয়ে কেমন।একটি সিগারেট ধরিয়ে ছাদে চলে গেলাম।একটা একটা করে চারটা সিগারেট খেলাম। ,,না অনেক রাত হইছে এবার রুমে যাই হয়ত নতুন বউ বিরক্ত হয়ে যাবে।এই বলে রুমের দিকে গেলাম। . রুমে গিয়েই অবাক হয়ে গেলাম।এ তো তামান্না ঘোমটা না দিয়ে একদম সোজা দাঁড়িয়ে আছে দরজার সামনে।মনে হচ্ছে রেগে আগুন হয়ে আছে।একটু পরে তো আরো অবাক হলাম হাতে একটা ছুরি।আর এটা দেখিয়ে বলল,,এত্ত রাতে আসছ আবার সিগারেট খেয়ে আসছ।আজ তুমার একদিন কি আমার একদিন।আমি তাড়াতাড়ি কানে ধরে উঠবস করতে করতে বললাম,,আর এমন হবে না।এই বলে আজকের মত অগ্নিকন্যার হাত থেকে বাঁচলাম।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২৭০ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...