বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কেঁচিকল(১ম পর্ব)

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Bad Boy (০ পয়েন্ট)



X গল্পঃকেঁচিকল … প্রথম পর্ব … হৈ চৈ আর হট্টগোল আমার মোটেও ভাল লাগে না।আজকে আবার বিয়ে বাড়িতে আসা।আম্মু আর আব্বুর ভয়ে আসলাম বিয়ে বাড়িতে।না আসলে আব্বু কি যে করবে বলতে পারি না।তবে আব্বুর রাগি চেহারাই আমার ভয় পাওয়ার মুল কারন।আর আব্বুর জন্যই বিয়ে বাড়িতে আসা। .. বিয়েটা হল আমার আব্বুর সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু রহমান চাচার মেয়ে নিধির।নিধি দেখতে অনেক সুন্দর তবে একটু মোটা।আবার খুব বেশি মোটাও না হালকা মোটা বলতে যা বুঝায় সেটাই।তবে নিধিকে আমি একদমই পছন্দ করি না কেমন যেন মেয়েটা শুধু ঝগড়া করে।অন্য কারো সাথে করে কিনা জানি না তবে আমার সাথে দেখা হলেই শুরু হয় তুমুলঝগড়া। .. আমার নাম মিতুল,নিধি আমার থেকে দুই বছরের ছোট।ছোট বেলার আমার খেলার সাথী নিধি।ছোট্ট থেকে এখন পর্যন্ত দুইজনের ঝগড়াই হয়।মনে মনে আজ প্রশান্তি অনুভব করতে লাগলাম কারন আমার চিরশত্রু আজ বিদায় নিবে।বিয়ে হয়ে গেলে আর দেখা হওয়ার সম্ভাবনা নেই।এজন্যই হয়তো আজ নিজেকে হালকা মনে হচ্ছে।যাক বাবা তাড়াতাড়ি বিয়ে টা হলেই বাচি। .. ও নিধির সাথে যে ছেলের বিয়ে ঠিক হয়েছে সেই ছেলেটির নাম শুভ।দেখতে অনেক সুন্দর আর স্মার্ট।আবার শুভ খুব ভাল একটা চাকরী করে।মনে হচ্ছে নিধি খুব সুখেই থাকবে।হাজার শত্রু হোক নিধি এই শত্রুটার সুখের কথা মনে করেও ভাল লাগছে। .. আজকে রহমান চাচাকে অনেক খুশি দেখলাম।মাঝেমাঝে রহমান চাচা নিধি কে নিয়ে খুব টেনশন করতে দেখতাম কারন নিধিকে যদি কেউ বিয়ে না করে আর আমার আব্বু তাকে সবসময় সান্তনা দিতো।আজকের পর হয়তো রহমান চাচার টেনশন কমবে।হয়তো আগের মত বিবর্ণমুখের কপালে ভাজ পরা রহমান চাচাকে দেখব না। .. একটু পরে বাচ্চাদের হৈ হুল্লোর আর চিৎকার চেঁচামেচিতে শুনা গেল বর এসেছে।হ্যা নিধির হবু জামাই এসেছে সাথে অনেক মানুষ নিয়ে এসেছে তারা সবাই হয়তো বরযাত্রী। শুভ কে আমি দুর থেকে দেখার চেষ্টা করছি।কিন্তু দেখতে পারছিনা অনেক মানুষের ভিড়ের জন্য। .. একটু পর ছেলের বাবা আর রহমান চাচার তর্কাতর্কি শুনা গেলো।তারপর আমার বাবাও এগিয়ে গেলেন।কি হচ্ছে বুঝতে পারছি না।আমি তাদের কথা শুনার জন্য কিছুটা এগিয়ে গেলাম। .. এগিয়ে গিয়ে যা শুনতে পেলাম তা আমি জীবনেও আশা করি নি।নিধিকে নাকি শুভ বিয়ে করবে না।নিধিকে শুভর পছন্দ হয়নি,নিধি নাকি অনেক মোটা।আরো কত্ত অভিযোগ আনলো।আর এজন্যই রহমান চাচা আর আমার আমার আব্বু তাদের সাথে তর্কাতর্কি করছে। .. একটু পরে বরযাত্রী সব চলে যেতে থাকলো।রহমান চাচা ধড়াস করে মাটিতে পরে গেলেন।আমার আব্বু আর আর আমি রহমান চাচাকে ধরাধরি করে রুমে নিয়ে এসে মাথায় পানি দিতে লাগলাম। .. একটু পরে রহমান চাচার জ্ঞান ফিরে আসলো।কিন্তু রহমান চাচা কান্না করছে সাথে সাথে নিধির আম্মু মানে রহমান চাচার বউও কান্না করছে।আর বার বার বলছে নিধির তো আর বিয়ে হবে না।তাদের বেচে থেকে আর কি লাভ। আমার আব্বু আর আম্মু তাদের সান্তনা দেয়ার চেষ্টা করছে।কিন্তু সফল হচ্ছে না। .. একটু পরে আব্বু আমার আম্মু কে ডেকে অন্য রুমে নিয়ে গেলেন কথা আছে বলে।আমিও চলে গেলাম নিধির রুমে যদি নিধি আবার কিছু করে বসে।এসে দেখলাম নিধি লালবেনারশী শাড়ী পরে সেজেগুজে বসে আছে।এটাই হয়তো বিয়ের সাজ।কিন্তু নিধি খুব কান্না করছে।আমি গিয়ে কাছে বসতেই আরো বেশি কান্না করতে লাগলো।যেন আমি কিছু করেছি এমন ভাবে কান্না করতে লাগলো।আমি খুব ভয় পেয়ে গেলাম আর অই রুম থেকে চলে আসলাম। .. আমি এখন রহমান চাচার রুমে চাচার পাশে বসে আছি।একটু পরে আমার আব্বু আর আম্মু আসলো।এসে চাচাকে বলল নিধির বিয়ে আজই হবে।তাই চাচাকে কান্না করতে বারন করলেন।চাচা বললেন কে বিয়ে করবে নিধি কে,কেউ করবেনা।আমার আব্বু আমার পিঠে থাপ্পড় দিয়ে বললেন আমার ছেলে বিয়ে করবে যদি তোর কোন আপত্তি না থাকে। .. রহমান চাচা উঠে বসে বললেন,, এটা তে আপত্তির কি আছে তুই আমার ছোট্ট বেলার বন্ধু।এটা আমার ভাগ্য আমার মেয়েকে কেউ বিয়ে করছেনা তোর ছেলে করবে।কিন্তু মিতুল কি নিধিকে পছন্দ করবে আমার দিকে তাকিয়ে রহমান চাচা বললেন।আমার আব্বু বললেন ছোট্ট বেলা থেকে আমার মিতুল আমার সব কথাই শুনেছে কোনোদিন না করে নি।আমি জানি আমার কথাই আমার ছেলে মেনে নিবে। .. কথা গুলো শুনে আমার মাথাটা ঝিমঝিম করতে লাগলো।মনে হচ্ছে কেউ সারা শরীলে আমার আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।কি করব বুঝতে পারছিনা,শেষ পর্যন্ত বলির পাঠা আমি হচ্ছি।আমি আম্মুকে অন্য রুমে ডেকে নিয়ে বললাম এই বিয়ে আমি করতে পারব না।আম্মু বললেন আব্বু কে গিয়ে এই কথাটা বলতে।কিন্তু আমি তো আব্বু কে এই কথাটা বলতে পারবো না।আম্মু ভাল করেই জানে। .. আমি বুঝতে পারলাম বিয়েটা ঠেকানো যাবে না। আর আব্বুকেও কষ্ট দিতে পারব না। তাই আর কোন বোকামি না করে বিয়েতে রাজী হয়ে যাই।(চলবে)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২৩১ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...